• শুক্রবার , ১৪ আগস্ট ২০২০

আইএসপি কি? ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডার এর কাজ কি?

আইএসপি
বুঝাই যায়, আইএসপি এর সম্পূর্ণ অর্থটি হচ্ছে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডার; যদি বাংলায় আরো পরিষ্কার করে বলি তো, ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী কোম্পানি, যাদের কাছে আমরা টাকা দিয়ে বা সাবস্ক্রিপশন কিনে ইন্টারনেট ব্যবহার করি। তাহলে এই আইএসপি’রাই কি ইন্টারনেটের মালিক? — ওকে, একটু অপেক্ষা করুণ আর আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ে ফেলুন, আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।

আইএসপি

তো যারা ইন্টারনেট প্রদান করে, সেটা হোক কপার ক্যাবল, বা ডায়ালআপ কানেকশন, অথবা ফাইবার অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে — প্রত্যেকেই ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডারের ভূমিকা পালন করে। আপনার বাড়িতে যতো টাইপের কম্পিউটিং ডিভাইজ রয়েছে, আইএসপির কাজ হচ্ছে সেই ডিভাইজ গুলোকে ইন্টারনেটের সাথে কানেক্টেড করা। অর্থাৎ আপনার ডিভাইজ এবং দুনিয়ার বাকী ইন্টারনেটের মধ্যে আপনার আইএসপি মাঝখানে বসে থাকে। আপনি কোন ওয়েব সার্ভার থেকে ওয়েবপেজ ডাউনলোড করেন অথবা যেকোনো ইমেজ বা ভিডিও, অবশ্যই সেটা ইন্টারনেট থেকে আপনার আইএসপি হয়েই তারপরে আপনার কম্পিউটার বা মোবাইলে চলে আসে।

চলুন প্রথমে ইউজারের (ইন্টারনেট ক্লায়েন্ট) সাইডের কাহিনী জেনে নেওয়া যাক, পরে ইন্টারনেট সার্ভার বা আইএসপিদের ব্যাপার জানবো। ধরুন আপনি ইন্টারনেটের সাথে কানেক্টেড হয়ে “ওয়্যারবিডি ডট নেট” অ্যাক্সেস করার চেষ্টা করছেন। প্রথমে আপনার রিকোয়েস্টটি ডোমেইন নেম সার্ভারের কাছে যাবে (ডিএনএস) এবার এখানে আপনার প্রবেশ করানো অ্যাড্রেসের পেছনের আইপি অ্যাড্রেস খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করা হবে। আইপি অ্যাড্রেস পেয়ে গেলে আপনার আইএসপি ইন্টারনেটের মধ্যে সেই আইপি অ্যাড্রেসের কোন ওয়েব সার্ভার রয়েছে কিনা সেটা খুঁজে দেখবে, যদি খুঁজে পাওয়া যায় তার কাছে আপনার রিকোয়েস্ট করা ওয়েবপেজ চাওয়া হবে। এবার ঐ পেজটি অ্যাক্সেস করার জন্য যদি পারমিশন থাকে, সার্ভার থেকে পেজটি আপনার আইএসপির কাছে পাঠানো হবে, আপনার আইএসপি আপনার রাইটারের কাছে বা মডেমের কাছে পেজটি পাঠিয়ে দেবে এবং আপনার হোম রাউটার ভালো করেই জানে কোন ডিভাইজ থেকে সাইটটির জন্য রিকোয়েস্ট করা হয়েছিলো, সেই ডিভাইজকে পেজটি সরবরাহ করে দেবে। যদিও এই প্রসেস পড়তে অনেক লম্বা মনে হলো, কিন্তু সাধারণত সেকেন্ডের মধ্যে সকল কাজ হয়ে যায় এবং আপনার কাছে রিকোয়েস্ট করা ওয়েবপেজটি চলে আসে।

আইএসপি কিভাবে কাজ করে?

এখন চলুন কথা বলা যাক আইএসপিদের দিয়ে, তারা কিভাবে কাজ করে। দেখুন এখানে আপনাকে মূল ইন্টারনেটের বিশিষ্ট বুঝতে হবে। ইন্টারনেট এমন একটি প্লেস যেখানে কোটিকোটি কম্পিউটার একই নেটওয়ার্কের সাথে কানেক্টেড থাকে। কিন্তু এই কম্পিউটার গুলোকে একই নেটওয়ার্কে কানেক্টেড করে কে? চলুন একদম শুরু থেকে বিষয়টি আলোচনা করা যাক। প্রথমত চিন্তা করুণ, আপনার বাড়িতে ১০টি কম্পিউটার রয়েছে এবং প্রত্যেকটি কম্পিউটার আপনি একে অপরের সাথে লোকাল নেটওয়ার্কে কানেক্টেড করে রেখেছেন। এবার ধরুন আপনি এর মধ্যে কোন একটি কম্পিউটারে নিজের ওয়েবসাইট হোস্ট করে রেখেছেন। এখন ধরুন কোন কোম্পানি আপনার লোকাল নেটওয়ার্ক এবং আপনার পাড়ার যতো কম্পিউটার লোকাল নেটওয়ার্ক রয়েছে প্রত্যেকের মধ্যে তার দিয়ে হোক বা ওয়্যারলেস ভাবে সংযুক্ত করে দিয়েছে। এর মানে আপনার এক একটি কম্পিউটার আপনার বাড়ির আশেপাশের প্রত্যেক জনের কম্পিউটারের সাথে কানেক্টেড রয়েছে, রাইট?

আইএসপি কিভাবে কাজ করে?

এখন কল্পনা করুণ আরেকটি কোম্পানির কথা যে বাড়ি বাড়ি নেটওয়ার্কিং করে না, বরং সম্পূর্ণ শহরের ঐ কম্পিউটার নেটওয়ার্কে আরেকটি শহরের নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করে দেয় (ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক)। তো এভাবে তো আপনার কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কতিপয় শহরের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লো, তাই না? মানে আরেক শহর থেকে আপনার ওয়েবসাইট ঢুকতে চাইলে সে আরামে ঢুকতে পারবে, কেনোনা সে তো আপনার নেটওয়ার্কের সাথেই কানেক্টেড রাইট? এবার কিছু বড় কোম্পানি মনে করুণ কয়েকটি শহরের নেটওয়ার্ক লাইন গুলোকে একত্র করে সম্পূর্ণ দেশ সেই কানেকশন ছড়িয়ে দিলো এবং তারের মাধ্যমে বা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বিদেশেও সেই কানেকশন ছড়িয়ে দিলো। এখন যে দেশে কানেকশন পাঠানো হলো, সেখানেও তো ঐ দেশের নিজের নেটওয়ার্ক রয়েছে রাইট? যেমনটা আপনার নেটওয়ার্ক রয়েছে, তারপরে সেটা যেভাবে ছড়ালো, ঐ দেশেরও একই উদাহরণ মনে করুণ। তাহলে এখানে কি এসে দাঁড়ালো? এভাবে আপনার বাড়ির লোকাল নেটওয়ার্ক পুরো পৃথিবীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়লো। মানে দুনিয়ার যে কেউ সেই নেটওয়ার্কের সাথে কানেক্টেড হলে যেকোনো ওয়েবসাইট খুলতে পারবে এবং যেকোনো কম্পিউটারের সাথে কানেক্টেড হতে পারবে।

তো এখানে লক্ষ্য করে দেখুন, যারা এক লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কে থাকা কম্পিউটার গুলো কানেক্ট করেছিলো তারা এক প্রকারের প্রভাইডার, আবার যারা পুরো শহর বা দেশের নেটওয়ার্ক গুলোকে একত্র করেছিলো তারা এক প্রকারের প্রভাইডার। তো এভাবেই বড় থেকে ছোট ছোট ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডার হয়ে শেষে আপনার কাছে ইন্টারনেট কানেকশন এসে পৌছায়। ইন্টারনেটে যেমন আপনি কনটেন্ট ডাউনলোড করার জন্য বা আপলোড করার জন্য কানেকশন গ্রহন করেছেন, ঠিক ডাটা সেন্টার গুলোতে, যেখানে ওয়েব সার্ভার থেকে সেগুলো আপনাকে ওয়েবপেজ সেন্ড করার জন্য শুধু ইন্টারনেট কানেকশন নিয়ে রাখে। তো এভাবেই প্রত্যেকটি কম্পিউটারকে অবশ্যই আইএসপির সাথে কানেক্টেড থাকতে হয়, তবেই ইন্টারনেটে সেগুলোকে অ্যাক্সেস করা সম্ভব হয়ে যায়। তো প্রকৃতপক্ষে দেখতে গেলে এখানে ইন্টারনেটের মালিক কেউই নয়। কেনোনা কোটি ডিভাইজ, লাখো আইএসপি একত্রে মিলে সম্পূর্ণ ইন্টারনেট তৈরি করে।

তাহলে এখন প্রশ্ন, যদি ইন্টারনেট এভাবেই কাজ করে, তাহলে আমরা টাকা কাকে দেই? যদি মালিক না থাকে, তো টাকা যায় কোথায়? দেখুন যারা অনেক বিশাল এরিয়া বা কয়েকটি দেশ জুড়ে ইন্টারনেট ছড়িয়ে রাখে এরা আসলে টপ লেভেলের আইএসপি হয়, এরা কাউকে টাকা দেয় না। কিন্তু তাদের এই সার্ভিস দিতে অবশ্যই টাকা খরচ হয়, তারপরে তাদের কাছ থেকে আরেক আইএসপি কানেকশন গ্রহন করে এবং হতে পারে পুরা শহর এরা কানেকশন কভার করে, তাদের থেকে আপনার এলাকার আইএসপি কানেকশন কিনে আপনার বাড়ি পর্যন্ত পৌছিয়ে দেয়, তো এগুলো তো আর ফ্রীতে হয় না, এজন্যই আপনাকে ইন্টারনেটের বিল প্রদান করতে হয়। আর এই সমস্ত টাকা গুলো বড় বড় আইএসপি যারা কয়েক দেশ মিলে বিশাল ইন্টারনেট জাল বিছিয়ে রেখেছে তাদের কাছে গিয়ে পৌছায়। আর এখানে যেহেতু অনেক হাত হয়ে তারপরে ইন্টারনেট এসে আপনার কাছে পৌছায়, এর মানে প্রত্যেক স্টেপে বিভিন্ন টাইপের টাকার অংক থাকে। ফাইনালি আপনাকে সবচাইতে বেশি টাকা দিয়ে ইন্টারনেট কানেকশন গ্রহন করতে হয়।

নেটওয়ার্ক প্রবলেম

উপরের বিস্তারিত আলোচনা থেকে তো বুঝতেই পাড়ছেন, সম্পূর্ণ ইন্টারনেট তৈরি করতে বিভিন্ন টাইপের নেটওয়ার্কিং জড়িত থাকে। প্রথমে আপনার লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক, মানে আপনার বাড়ির ডিভাইজ। এর পরে আপনার এলাকার সকল ডিভাইজ, তারপরে আপনার শহরের সকল ডিভাইজ, তারপরে দেশের ডিভাইজ এভাবে বিষয়টি দুনিয়ার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। যেহেতু ইন্টারনেটে লাখো ছোট বড় সার্ভিস প্রভাইডার রয়েছে তাই নেটওয়ার্ক প্রবলেম একেবারেই স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু কিভাবে বুঝবেন, আপনার আইএসপির সমস্যা নাকি আপনার নিজের লোকাল নেটওয়ার্কের সমস্যা? আগেই তো আপনার আইএসপিকে দোষারোপ করতে পাড়বেন না, তাই না?

নেটওয়ার্ক প্রবলেম

দেখুন, আপনার লোকাল নেটওয়ার্কের সমস্যা কিনা সেটা বোঝা অনেক সহজ। যদি কোন ওয়েবসাইট না খোলে তো আরেকটি ওয়েবসাইট ওপেন করে দেখুন, যদি অন্য ওয়েবসাইট অ্যাক্সেস হয়, তো সেটা না তো আপনার কম্পিউটারের সমস্যা আর নাইবা আইএসপির, যে সাইট অ্যাক্সেস হচ্ছে না, সেটা তার সার্ভারের সমস্যা। যদি কোন ওয়েব সাইটই অ্যাক্সেস না হয়, তাহলে আরেক কম্পিউটার বা আরেক মোবাইল থেকে চেষ্টা করে দেখুন। যদি একটি ডিভাইজ থেকে অ্যাক্সেস হচ্ছে কিন্তু আরেকটি থেকে হচ্ছে না, হতে পারে ঐ ডিভাইজের সমস্যা রয়েছে। যদি কোন ডিভাইজ থেকেই অ্যাক্সেস না হয়, তো আপনার হোম রাউটার বা মডেম রিস্টার্ট করে দেখুন। সাধারণত রাউটার রিস্টার্ট করার মাধ্যমে বেশিরভাগ নেটওয়ার্কিং প্রবলেম সমাধান হয়ে যায়। যদি কম্পিউটার রিস্টার্ট, রাউটার রিস্টার্ট না করেও কোন কাজ না হয়, তাহলে এবার আপনার আইএসপির সাথে যোগাযোগ করুণ। এক্ষেত্রে আপনি চাইলে মোবাইল নেটওয়ার্ক মানে ৩জি, ৪জি ব্যবহার করেও ইন্টারনেট অ্যাক্সেস পেতে পারেন।

আইএসপির সমস্যা হলে, আপনার কিছুই করার নেই, আপনাকে জাস্ট অপেক্ষা করতে হবে ঠিক না হওয়া পর্যন্ত। তবে আপনি চাইলে নতুন কোন আইএসপিতে ট্র্যান্সফার হয়ে যেতে পারেন। বা মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন।

বেশিরভাগ আইএসপি ডাইন্যামিক আইপি অ্যাড্রেস প্রদান করে, এর মানে আপনি প্রত্যেকবার ইন্টারনেট কানেক্ট বা ডিস্কানেক্ট করার পরে আপনার আইপি অ্যাড্রেস পরিবর্তন হয়ে যায়। তবে সার্ভারে ইন্টারনেট কানেকশন প্রদানকারী আইএসপিরা স্ট্যাটিক আইপি প্রদান করে, এতে ঐ ওয়েবসাইট একই আইপি থেকে ভিজিট করা যায়, সেটা পরিবর্তিত হয় না। স্ট্যাটিক আইপি সাধারণত দামী হয়ে থাকে।

Related Posts

Leave A Comment