• শুক্রবার , ১৯ জুলাই ২০১৯

ইংলিশদের উচ্চকিত কণ্ঠ, ঘরে ফিরছে বিশ্বকাপ।

ক্রিকেটের আঁতুড়ঘর ইংল্যান্ড। যাদের দেশে ক্রিকেটের জন্ম, তাদের তো কৃতিত্ব দেয়া যেতেই পারে। সেই তারাই ৪৪ বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখনও ট্রফিটা ছুঁয়ে দেখতে পারেনি। এবার ইংলিশদের উচ্চকিত কণ্ঠ, ‘ঘরে ফিরছে বিশ্বকাপ।’ যদিও সব সময় ইংরেজদের বাড়াবাড়ি মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। এই যেমন ফুটবল বিশ্বকাপের সময়ও তারা আওয়াজ তুলেছিল, ‘ফুটবল বিশ্বকাপ ঘরে ফিরছে।’

শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে বিদায় নেয় ইংল্যান্ড। ক্রিকেট বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তোলার খুব কাছে তারা। আর মাত্র একটি জয়। তাহলেই প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতবে ইংল্যান্ড। সব জায়গায় যখন ‘ঘরে ফিরছে বিশ্বকাপ’ সুর, তখন সাবধানী ইংল্যান্ড অধিনায়ক ইয়ন মরগ্যান। তিনি বলেন, ‘এখনই অতি উচ্ছ্বাসে ভেসে যাচ্ছি না। সেটা ঠিকও হবে না। অবশ্যই সময়টা খুবই রোমাঞ্চকর। ইংল্যান্ডের সবার জন্য। আমাদের জন্যও।’

একটা সময় ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালে ওঠা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে গিয়েছিল। ভারত ও নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে তারা শেষ চারে জায়গা করে নেয়। এরপর টুর্নামেন্টের আরেক ফেভারিট, অস্ট্রেলিয়াকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে উঠেছে স্বাগতিকরা। মরগ্যান বলেন, ‘আমরা যে ফাইনালে উঠে ট্রফি জয়ের সুযোগ পেয়েছি, এটি অবশ্যই দারুণ। তবে কাজ এখনও বাকি। ফাইনালে জিততে আমরা যা করতে পারি, নিজেদের উজাড় করে তার সবটুকু করব।’

বিশ্বকাপ এবার নতুন চ্যাম্পিয়ন পেতে যাচ্ছে। যে দু’দল ফাইনালে উঠেছে তারা কখনও শিরোপা জেতেনি। এর আগে ইংল্যান্ড তিনবার এবং নিউজিল্যান্ড একবার ফাইনালে উঠেও রানার্সআপ হয়েছে। আগামীকাল লর্ডসে ফাইনাল। বিশ্বকাপের শুরু থেকে ইংল্যান্ডকে অন্যতম ফেভারিট বলা হয়েছে। তবে নিউজিল্যান্ড যে ফাইনালে যেতে পারে, বোদ্ধারাও ভাবেননি। ইংল্যান্ড এখন বাড়তি আত্মবিশ্বাস পেতে পারে ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড হওয়ায়।

এদিকে পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন ইংল্যান্ডের তরুণ পেসার জফরা আর্চার। সেই আর্চারই কল্পনা করেননি যে, তিনি এবার ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপ খেলবেন। সেমিফাইনালে জয়ের পর আর্চার বলেন, ‘আমি সুযোগ পাওয়ার আগে কখনই ভাবিনি যে, ইংল্যান্ডের হয়ে এবার বিশ্বকাপ খেলব। তেমনি ভাবিনি ফাইনালে খেলব।’ সেমিফাইনালে দুর্দান্ত বোলিং করা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন লেগ-স্পিনার আদিল রশিদ। রশিদ বলেন, ‘আমাদের আরও একটি জয় পেতে হবে। উত্তেজিত হওয়া ঠিক হবে না। আমরা আমাদের লক্ষ্যেই আছি।’

ফুটবলের মতো ক্রিকেট অতটা জনপ্রিয় নয় ইংল্যান্ডে। তাই ‘ইটস কামিং হোম’ জোয়ারের তীব্রতা ফুটবলের তুলনায় কম। ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে ওঠার পর যারা খেলা দেখেন তারা এ সুর তোলা শুরু করেছেন। ফাইনালে ওঠার পর কিছুটা তীব্র হয়েছে যা। যদি নিউজিল্যান্ড হিসাব বদলে দেয়, তখন কী বলবেন ইংলিশরা!

Related Posts

Leave A Comment