• শুক্রবার , ১৪ আগস্ট ২০২০

করোনাকালে শিশুকে সুরক্ষিত রাখার উপায়

করোনার আতঙ্ক এখন নিত্যসঙ্গী । বিশ্বের শান্তি ও স্বস্তি কেড়ে নিয়েছে কোভিড -১৯ । আমরা নিজেদের বিষয়ে সচেতন, কিন্ত্ত প্রশ্নটা যদি হয় শিশুদের নিয়ে, তাহলে বাবা-মায়ের চিন্তার শেষ থাকেনা । কেননা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে খুবই কম । আবার মনের মতো না হলে অনেক কিছুই খেতে চায় না বাচ্চারা ।

শিশুকে সুরক্ষিত রাখার উপায়

তাই শিশুদের এমন কিছু খাওয়াতে হবে যাতে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির সাথে সাথে পুষ্টির ঘাটতি ও মিটে যায় ।

যা যা করতে হবে-

১. বুকের দুধ খাওয়ানোঃ

মায়ের বুকের দু্ধের বিকল্প নেই । কেননা এখান থেকেই শিশুরা প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় । বয়স অনুযায়ী শিশুকে অন্য খাবার ও খাওয়ানো যায় । 

২. যথাযথ খাদ্যভ্যাসঃ

জান্কফুডের পরিবর্তে শিশুদেরকে খাওয়াতে হবে টাটকা ও সতেজ খাবার । ভালো খাদ্যাভ্যাসেই পারে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে । 

৩. শাক-সবজি ও ফলমূলঃ

বাচ্চারা শাক-সবজি খেতে তেমন পছন্দ করেনা । কিন্ত্ত মৌসুমি ফল-সবজিতে থাকে রোগ প্রতিরোধের যাবতীয় উপাদান । তাই প্রত্যেক দিনের খাবারের তালিকায় রাখতে হবে – সবুজ শাক-সবজি, পালং শাক, লালশাক ও ভিটামিন ‘‘এ’’ও‘‘সি’’ সমৃদ্ধ পেয়ারা, পেঁপে, কমলা,পেঁয়াজ, কুমড়ো ।

৪. ডিমঃ

ডিম খেতে সব বাচ্চারাই পছন্দ করে । ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল ও প্রোটিন যা শরীরের প্রয়োজনীয় অনেক চাহিদা পূরণ করে। 

৫. ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডঃ

শিশুদের খাবারের তালিকায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার যেমন – আখরোট, কাঠবাদাম, মাছ ইত্যাদি রাখতে পারেন । এগুলো ফুসফুসের সংক্রমন থেকে রক্ষা করে । 

৬. দইঃ

শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টি-ফাংগাল উপকরণ সমৃদ্ধ খাবার দই । এটি সর্দি-কাশি জ্বরের মতো সংক্রমণ থেকে রক্ষার পাশাপাশি হজম সমস্যা দূর করে । টক দেই এ থাকা ভিটামিন সি হাড় ও দাঁত মজবুত করে । 

৭. চিনি  নিয়ন্ত্রণঃ

চিনিযুক্ত খাবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় । তাই খাবারে চিনির পরিমাণ কমাতে হবে ।

৮. মশলাজাতীয় খাবারঃ

বিভিন্ন ধরনের মশলা যেমন- আদা, হলুদ, রসুনে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট । এগুলো সহজেই শরীরেকে জীবাণুমুক্ত করে সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে । 

৯. অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিকঃ

শিশুদের সামান্য অসুখেই পরিচিত কিছু অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো হয় । দ্রুত রোগ সেরে গেলেও শিশুকে ভিতরে ভিতরে দুর্বল করে তোলে। তাই শিশুকে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে সতর্ক হতে হবে । 

এসবের পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য শিশুদের পরিমিত ঘুম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, শরীর চর্চায় দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে ।  

Related Posts

Leave A Comment