• বুধবার , ২৭ মে ২০২০

কালীপ্রসন্ন ঘোষ এর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম

কালীপ্রসন্ন ঘোষ ছিলেন একজন বাঙালী লেখক, বাগ্মী, পন্ডিত ও সাংবাদিক। কালীপ্রসন্ন মূলত দর্শন ও সমাজ সম্পর্কে লিখতেন। তিনি বাল্যকাল থেকেই বাগ্মিতার পরিচয় দেন। মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি কলকাতার ভবানীপুরে খ্রিস্টধর্ম সম্পর্কে এক বক্তৃতা দিয়ে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ মনীষীর প্রশংসা অর্জন করেছিলেন।কালীপ্রসন্ন ঘোষ এর জীবনী

এরপর থেকেই ব্রাহ্ম সমাজের সঙ্গে তাঁর একটা যোগসূত্র স্থাপিত হয় এবং পরবর্তীতে তিনি ব্রাহ্মসমাজে যোগদান করেন। তিনি ছিলেন পূর্ববঙ্গীয় ব্রাহ্মসমাজের একজন বিশিষ্ট সভ্য। তিনি সমাজ ও দর্শন সম্পর্কে অনেক মূল্যবান প্রবন্ধ ও গ্রন্থ রচনা করেন।

  • বিশিষ্ট এই সাহিত্যিকের জন্ম – ২৩ জুলাই, ১৮৪৩ সালে।
  • তাঁর পৈত্রিক নিবাস – ঢাকা বিভাগের বিক্রমপুরের ভরাকর গ্রামে।
  • অন্যতম এই পন্ডিতের পিতার নাম – শিবনাথ ঘোষ।
  • অন্যতম এই পন্ডিতের শিক্ষাজীবন – তিনি মক্তব, চতুষ্পাঠী ও ইংরেজি স্কুলে অধ্যয়ন করেন। ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে তিনি এন্ট্রান্স পাশ করেন। বাল্যকালেই তিনি সংস্কৃত, ফারসি ও বাংলা ভাষায় পারদর্শিতা অর্জন করেন। পরে ইংরেজি ভাষাও আয়ত্ত করেন।
  • তিনি তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু করেন ঢাকার ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠিত ”ঢাকা শুভসাধিনী সভার” মুখপত্র – “শুভসাধিনী’ সম্পাদনার মাধ্যমে।
  • ঢাকার ব্রাহ্মযুবকদের জন্য তিনি প্রকাশ করেছিলেন – “শুভসাধিনী” পত্রিকাটি।
  • ”শুভসাধিনী” সাপ্তাহিক পত্রিকাটির মূল্যে ছিল – মাত্র এক পয়সা।
  • ”বান্ধব” পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন – কালীপ্রসন্ন ঘোষ
  • ”বান্ধব” পত্রিকাটি ছিল – বঙ্গদর্শনের আদর্শপুষ্ট।
  • তিনি ঢাকার নিম্ন আদালতে পেশকার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন – ১৮৬৫ সালে।
  • তিনি কত বছর বয়েসে ঢাকার নিম্ন আদালতে পেশকার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন – ২২ বছর বয়সে।
  • তিনি ভাওয়াল এস্টেটের প্রধান দেওয়ান হিসেবে যোগদেন – ১৮৭৭ সালে।
  • ’সাহিত্য-সমালোচনী সভা’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করেন – কালীপ্রসন্ন ঘোষ
  • তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ-এর সদস্য ছিলেন – ১৮৯৪ সালে।
  • তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ-এর সহসভাপতির পদ অলঙ্কৃত করেন – ১৮৯৭-১৯০০ সাল পর্যন্ত।
  • তাঁর রচনারীতি অনেকাংশে প্রভাবিত ছিল – বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র এবং ইংরেজ পন্ডিত কার্লাইলের দ্বারা।
  • ’প্রভাত-চিন্তা’ কোন ধরনের রচনা – প্রবন্ধগ্রন্থ।
  • তাঁর রচিত ‘প্রভাত-চিন্তা’ প্রবন্ধগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় – ১৮৭৭ সালে।
  • ’নিভৃত-চিন্তা’ কোন জাতীয় রচনা – প্রবন্ধগ্রন্থ।
  • তাঁর রচিত ‘নিভূত-চিন্তা’ প্রবন্ধগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় – ১৮৮৩ সালে।
  • তাঁর রচিত ‘নিশীত-চিন্তা’ প্রবন্ধগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় – ১৮৯৬ সালে।

কালীপ্রসন্ন ঘোষ এর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম

  • ’প্রভাত-চিন্ত’ এবং ‘নিভূত-চিন্তা’ এবং ’নিশীত-চিন্ত’ প্রভৃতি প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা – কালীপ্রসন্ন ঘোষ
  • ’নারীজাতিবিষয়ক প্রস্তাব’ কোন জাতীয় রচনা – প্রবন্ধগ্রন্থ।
  • তাঁর রচিত ‘নারীজাতিবিষয়ক প্রস্তাব’ প্রবন্ধগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় – ১৯৯৬ সালে।
  • ভ্রান্তিবিনোদ’ গ্রন্থের রচয়িতা – কালীপ্রসন্ন ঘোষ।
  • ’ভ্রান্তিবিনোদ’ গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় – ১৮৮১ সালে।
  • তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে – ‘প্রমোদলহরী’ (১৮৯৫), ‘ভক্তির জয়’ (১৮৯৫), ‘মা না মহাশক্তি’ (১৯০৫), ‘জানকীর অগ্নিপরীক্ষা’ (১৯০৫), ‘ছায়াদর্শন’ (১৯০৫), প্রভৃতি।
  • তাঁর রচিত ”সঙ্গীতমঞ্জরী” কোন জাতীয় রচনা – আধ্যাত্মিক সঙ্গীতসংগ্রহ।
  • ’সঙ্গীতমঞ্জরী’ নামক আধ্যাত্মিক সঙ্গীতসংগ্রহের রচয়িতা – কালীপ্রসন্ন ঘোষ
  • ’সঙ্গীতমঞ্জরী’ আধ্যাত্মিক সঙ্গীতসংগ্রহ প্রকাশিত হয় – ১৮৭২ সালে।
  • ’কোমল কবিতা’ কোন জাতিয় রচনা – শিশুপাঠ্য গ্রন্থ।
  • ’কোমল কবিতা’ শিশুপাঠ্য গ্রন্থের লেখক – কালীপ্রসন্ন ঘোষ।
  • ’কোমল কবিতা’ শিশুপাঠ্য গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় – ১৮৮৮ সালে। 
  • পান্ডিত্যের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বঙ্গের বিবুধমহল কর্তৃক ভূষিত হন – ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধিতে।
  • তিনি ইংরেজ সরকার কর্তৃক ভূষিত হন – ‘রায়বাহাদুর’ ও ‘সি.আই.ই’ উপাধিতে।
  • তিনি ইংরেজ সরকার কর্তৃক ‘রায়বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত হন – ১৮৯৭ সালে।
  • বিশিষ্ট এই সাহিত্যিক মৃত্যুবরণ করেন – ২৯ জুলাই, ১৯১০ সালে।

Related Posts

Leave A Comment