• শুক্রবার , ১৪ আগস্ট ২০২০

গরমকালে চুলের যত্ন ও সমস্যা থেকে রেহায় পেতে কি করনীয়?

গরমকালে চুলের যত্ন

গরমকাল মানেই নানা ফলের সমারহ, কালবৈশাখী ঝড়, প্রচন্ড গরম মোট কথায় প্রকৃতির এক বৈচিত্র্যময় রূপ। এই গরমে সাথে সাথে চুলেরও বিশেষ যত্নের দরকার।কারন গ্রীষ্মকালে গরমে ঘাম, ধুলায় চুল ময়লা হবার সাথে সাথে তেল চিটচিটে ভাব সহ খুশকির সমস্যাও দেখা দেয়। আর খুশকির কারনে চুল পরা, চুলকানি সহ না না সমস্যা দেখা দেয়। তাই এসব থেকে রেহায় পাবার একমাত্র উপায় চুল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা।গরমকালে চুলের যত্ন...

ঢাকা মেডিকেল কলেজের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ মাসুদা খাতুনের মতে, কোনোভাবেই চুল ময়লা রাখা যাবে না। তাহলে চুল পড়া, খুশকিসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। প্রতিদিন শ্যাম্পু করা নিয়ে অনেকের ভুল ধারণা রয়েছে। ভাবেন, এতে চুল রুক্ষ হয়ে যাবে। এটি ঠিক নয়। প্রতিদিন শ্যাম্পু করলে চুলে ময়লা জমতে পারবে না। ফলে চুল নিয়ে বেশির ভাগ সমস্যাই কমে যাবে। কিন্তু শ্যাম্পু করতে হবে সঠিক নিয়মে। একই জায়গায় শ্যাম্পু দিলে সেখানকার চুল পড়তে পারে। তাই প্রথমে শ্যাম্পু ছোট কোনো বাটিতে ঢেলে নিন। সঙ্গে পরিমাণমতো পানি মিশিয়ে নিন। এরপর তেল দেওয়ার মতো করে চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত লাগাতে হবে।

ব্যস্ততা থাকলে পানিমিশ্রিত শ্যাম্পু পেছনের চুল থেকে সামনের চুলে লাগিয়ে শ্যাম্পু করে ফেলুন। এরপর ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। খুব সামান্য পরিমাণ শ্যাম্পুও যেন চুলে না থাকে। অনেকে প্রতিদিন শ্যাম্পু করেন, কিন্তু চুল ভালোমতো না শুকানোর কারণে তেলতেলে হয়ে যায়। এ কারণে চুল পরিষ্কার করার পর তোয়ালে দিয়ে ভালোভাবে মুছে ফেলতে হবে। কেউ কেউ গামছা দিয়ে চুল ঝাড়েন, এটিও ঠিক নয়। এতে চুলের গোড়া নরম হয়ে যায়। পরে চুল পড়ার সমস্যা দেখা দেয়। বাড়িতে টেবিল ফ্যান থাকলে তাতেও চুল শুকিয়ে নিতে পারেন। 

 

গরমে চিলের বিশেষ যত্নে শ্যাম্পু তেল ম্যাসাজ ও ঘরোয়া কিছু উপকর দিয়ে প্যাক তৈরি করে গালাতে পারলে চুল হবে খুশকি মুক্ত, ঝরঝরে, সিল্কি।গরমে চুলের যত্নে করনীয় উপায়গুলো নিম্নে দেয়া হলো :

 

হট ওয়েল ম্যাসাজ :

নারকেল তেল বা ওলিভওয়েল গরম করে আঙ্গুল দিয়ে ঘসে ঘসে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে ভালো করে ম্যাসাজ করে চুলে লাগিয়ে সারা রাত রেখে পর দিন শ্যাম্পু করে নিতে হবে ভালো করে। সারা রাত রাখতে না চাইলে গোসল করার ঘন্টা খানেক আগে তেল লাগিয়ে রেখে শ্যাম্পু করে নিতে হবে এগে চুলের গেড়া শক্ত হয়।সপ্তাহে ৩ দুন এরকম করে হট ওয়েল ম্যাসেজ করতে পারলে ভালো।

 

মেথির ব্যবহার :

মেথি যেমন একটি রান্নার উপকরন তেমনি চুলে এপ্লাই করলে চুল পরা রোধ হয়, চুলের গ্রোথ ভালো হয় ও অকাল পক্কতা রোধ করে।কারন  মেথিতে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন, মিনারেল, জিংক, কপার, ফলিক এসিড, আয়রন ইত্যাদি। যা চুলপর রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। মেথির ব্যবহারের নিয়ম —

১/ নারিকেল তেলের সাথে মেথি গরম করে লাগালে উপকার পাওয়া যা।   

২/ ২ চা চামচ মেথি সারারাত পরিমান মত পানিতে ভিজিয়ে রেখে পর দিন পানি সহ মেথি পেসৃট করে তার সাথে তেল মিশিয়ে ব্যবহার করা খুবই উপকার। 

 

ভিটামিন – E ক্যাপসুল :

ভিটামিন – ই ক্যাপসুল স্কিনের জন্য যেমন উপকারী তেমনি চুলের জন্যও খুবই উপকার। আগা ফাটা রোধে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে এটি।এই ক্যাপসুলের ব্যবহার —-

১/ আগা ফাটা রোধে ১ চামচ তিল তেলের সাথে ২ চামচ ক্যাস্টার ওয়েল ও ১ একটি ভিটামিন – ই ক্যাপসুল মিশিয়ে নিয়ম করে চুলপর তলায়,দিলে আগা ফাটা রোধ হয়।

২/এটি হেয়ার প্যাক হিসাবেও ব্যবহার করা যায়। আর প্যাক বানাতে প্রয়োজন টক দধি, ২ টা ক্যাপসুল ও তিলের তেল ভালো করে মিশিয়ে পুরো চুলে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে নিতে হবে।সপ্তাহে ১ দিন এই প্যাকটি ব্যবহার করলেই চুল হয়ে উঠে স্বাস্থ্য উজ্জ্বল।   

 

এলোভেরা জেল :এলোভেরা জেল

এলোভেরা আমাদের শরীরের জন্য খুবঔ উপকার। চুলের যত্নে তো এর গুরুত্ব বলারই নেই। এটি ব্যবহারের নিয়ম —-

 

★ বাজারেই এলোভেরা জেল কিনতে পাওয়া যায় বা নিজেরাই এলোভেরা থেকে জেল বের করে নিতে পারি। ২ চামচ এলোভেরা জেল পরিমান মত পানির সাথে মিশিয়ে একটি বোতলে ভরে নিতে হবে না।এরপর রাতে ঘুমাতে যাবার আগে এলোভেরা মেশানো পানিটা সারা মাথায় স্প্রে করে নিতে হবে। আর সেটা সম্ভব না হলে গোসল করতে যাবার আগে সারা মাথায় মেখে ৩০ মিনিটের মত রেখে ধুয়ে নিতে হবে।এতে চুলের গ্রোথ ভালো হয় এবং চুল সিল্কি হয়।

 

টক দধি :

চুলের যত্নে টক দধির উপকার অনস্বীকার্য। এটি চুলের খুশকি দূর করে, চুলকে করে স্লিকি ও চুলের গ্রোথও বাড়ায়ও চুল কালো হয়। এর ব্যবহার হলো —

 

★ চুল লম্বা হলে ১ কাপ দধির সাথে ১ চামচ আমলা পাউডার মিশিয়ে ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়।এটিও সপ্তাহে একদিন লাগালেই হবে। 

 

ডিম : চুলের যত্নে ডিমের ব্যবহার খুবই উপকার।  যেমন _—

★ একটি ডিম পুরোটা, মধু ও ওলিভ ওয়েল মিশিয়ে পুরো মাথায় লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে নিতে হবে।

 

পেয়াজের রস :  চুলের যত্নে পিয়াজের রস খুবই উপকার। এটি ব্যবহারে নতুন চুল গজায়, চুলের গ্রোথ বাড়ায়। এর ব্যবহার —-

★ পেয়াজের রসের সাথে সামান্য লেভেনন্ডার ওয়েল মিশিয়েন৩০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।পেয়াজের ঝাঝালো গন্ধ কমানোর জন্য লেয়ভেন্ডার ওয়েল মিশাতে হবে তবে না থাকলে দরকার নাই।

 

আপেলসিডার ভিনেগার :

এক কাপ পানির সাথে ২ চামচ আপেলসিডার ভিনেগার মিশিয়ে  শ্যাম্পু করার পর ব্যবহার করলে চুল হয় উজ্জ্বল ও সিল্কি হয়।এটি কন্ডিশনারের কাজ করে।

 

জবা ফুল :

চুলের যত্নে জবা,ফুলের ব্যবহার যুগ যুগ ধরে হয়ে আসছে। এটি চুল কালো করে, যাদের চুলের গ্রোথ একে বাড়েই হয় না, তাদের জন্য বেশ উপকারি।ব্যবহার —-

★৩/৪ টা জবা ফুল, ৩/৪ টা জবা গাছের কচি পাতা  একসাথে পপষ্ট করে নিতে হবে। এই ওেষ্টের সাথে ১/২ কাপের মত নারকেল তেল ভালো করে ফুটিয়ে রাতে  চুলে ব্যবহার পরেী দিন শ্যাম্পু করে নিতে হবে।

★যারা তেল ব্যবহার করতে পারে না তারা  জবা ফল ও পাতার পেষ্টের সাথে টক দধি মিশিয়ে তার সাথে যদি থাকে আমন্ড পাউটার মিশিয়ে চুলে দিয়ে ৩০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে নিতে হবে।

এই উপকরন গুলো যথাযথ ভাবে ব্যবহার করলে গরমেও চুল হবে উজ্জ্বল ও ঝলমলে। 

 

গরমকালে চুল ভালো রাখতে সতর্কতা :গরমকালে চুলের যত্ন

  • গরমে চুল ভালো রাকতে কিছু নিয়ম মানতেই হবে।শুধু তেল ও প্যাক ব্যবহারপই চুলের যত্ন নেয়া শেষ নয়। সেগুলো হলো —-
  • চুল অবশ্যই পরিস্কার রাখতে হবে।সপ্তাহে ২/৩ দিন শ্যাম্পু করতে হবে। 
  •  শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে।খেয়াল রাখতে হবে চুলের গোড়ায় যেন কন্ডিশনার না লাগে।
  •  গরমের দিনে এক দিকে প্রোখর রোদ তার থাকে ধূলাবালিও। তাই চুলটা খুলে না রেখে বাহিরে বের হলে বেধে নেয়াই শ্রেয়।
  • ভেজা চুল বেঁধে রাখা যাবে না।তাই চুলকে ভালো করে বাতাসে শুকিয়ে তার পর বাধঁতে  হবে।
  •  রেদের প্রকোপ থেকে চুলকে বাঁচাতে ছাতা বা স্কার্প  ব্যবহার করা উচিত। 

 

উপরে উল্লেখ্য উপায়ে সহজেই চুলের যত্ন নেয়া সম্ভব।কারন চুল যে কোন মানুষের সুন্দর্য্যের একটি বিশেষ অংশ। তাই এর সঠিক যত্ন ও পরিস্কার ও পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজন।কারন ধুলাবালও চুলে বসে গেলে চুল রুক্ষ হয়ে যায় আর খুশকিও হয়।গরমে চুল ঘেমে গিয়ে ধুলাবালি আটকায়,যায় আর ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস এর ইনফেকশন হয় এতে চুলে ফুসকুরি হয় ও এগুলো চুলকাতে চুলকাতে ক্ষতের সৃষ্টি হয়।আর খুশকি করো চুলকে মলিন ও রূক্ষ।এতে চুলের নানা রকম সমস্যা হতে পারে।তাই সববঋতুর মত গরমেও চুলের যথাযথ পরিচর্চা করতে হবে।তবেই চুলমথাকবে স্বাস্থ্য উজ্জ্বল ও ঝলমলে।  

 

 

BY

ত্রোপা চক্রবর্তী

 

 

 

 

Related Posts

Leave A Comment