• শুক্রবার , ১৪ আগস্ট ২০২০

সকালে খালি পেটে ফল খাওয়ার উপকারিতা

শরীর থেকে টক্সিক দূর করতে এবং দীর্ঘ দিন সুস্থ থাকার মূলমন্ত্র হলো সকালে খালি পেটে ফল খাওয়া।কিভাবে সেটা?খালি পেটে ফল খাওয়ার উপকারিতা

সকালে খালি পেটে ফল খাওয়া! খালি পেটে ফল খাওয়া কি ঠিক? এতে অ্যাসিডিটির সমস্যা হবার সম্ভাবনা থাকে। সকাল  সকাল ফল খাওয়া কি ঠিক? ইত্যাদি নানা রকম প্রশ্ন আমাদের মনে প্রায়ই আসে আর এটা অতি প্রাচীনকাল থেকেই এই ভ্রান্ত ধারণাগুলো চলে আসছে, যে সকাল বেলা বিশেষ করে খালিপেটে ফল খাওয়া একেবারেই ঠিক নয়।

তবে বর্তামানে একাধিক গবেষণায় এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, সকালে নিয়মিত খালি পেটে ফল খাওয়ার অভ্যাস করলে শরীরের ভেতরে জমে থাকা টক্সিক বা ক্ষতিকর উপাদান বেরিয়ে যেতে শুরু করে। আর খালি পেটে ফল খেলেই তা শরীরের বিশেষ উপকারে আসে।

 

চলুন জেনে নেই সকালে খালি পেটে ফল খাওয়ার নানা উপকারিতা গুলো-

 

১/ দীর্ঘদিন যারা সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকতে চায় তাদের সকালের নাস্তায় অবশ্যই কোন না কোন ফল অবশ্যই থাকা জরুরী। নিয়মিত খালি পেটে ফল খেলে শরীরে উপকারী ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও মিনারেলের মাত্রা বাড়তে শুরু করে, যা খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমানোর পাশাপাশি ব্লাড প্রেসারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হার্টের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়।

 

২/ সকাল ১১ পর্যন্ত শরীর নিজের ভিতরে জমে থাকা টক্সিক উপাদানদের বের করে দেওয়ার প্রক্রিয়া চালায়। তাই এক বাটি ফল খেলে শরীর থেকে বেশি মাত্রায় বিষাক্ত উপাদান বেরিয়ে যেতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই টক্সিক উপাদানের প্রভাবে নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস কমে।

 

৩/ সকালে খালি পেটে ফল খেলে ফল থেকে শর্করা রক্তের সাথে মিশে শরীরকে করে কর্মক্ষম এবং মগজকে করে সতেজ ও সচল।

 

৪/ সকালবেলা ফল খেলে ফলের মধ্যে থাকা ভিটামিন-সি, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ইত্যাদি উপাদান শরীরের ভিতরে গিয়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।  

 

৫/ নিজেদের অতিরিক্ত ওজন নিয়ে খুবই চিন্তিত তাদের জন্য প্রতিদিন  সকালের নাস্তায় ফল রাখা খুবই উপকারী। কারন একদিকে ফল যেমন শরীর থেকে টক্সিক উপাদান বের করে দেয়, অন্য দিকে পেটকে অনেকক্ষণ ভরিয়ে রাখে ফলে সহজে খিদা লাগে না। আর এতে ওজন কমে।

 

৬/ খালি পেটে ফল খেলে তা মধ্যে থাকা ফাইবার শরীরে প্রবেশ করে এতে হজম শক্তি বাড়ে আর এতে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা অনেকাংশে দূর হয়।

 

৭/ শরীরে বিভিন্ন পুষ্টির ঘাটতি কমাতে সকালে  ফল খেলে তা আমাদের শরীরের পুষ্টির ঘাটতি কমায় আর অ্যানিমিয়ার মত রোগ থেকেও বাঁচা যায়।

 

৮/ শরীরকে সচল রাখতে ভিটামিন ও খনিজের  জোগার দিতে ফল খাওয়ার কোন বিকল্প নাই। 

 

★ যে সব ক্ষেত্রে ফল খাওয়া যাদের জন্য মোটেও উচিত নয় সেগুলো হলো :

 

১/ কিডনি রোগীদের খাবার ব্যাপারে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা রয়েছ।  তেমনি ফল খাবার ব্যাপারেও আছে নিষেধাজ্ঞা । যেমন- কলা, ডাবের পানি, আঙ্গুর এই সব ফল কিডনি রোগীদের একেবারেই খাওয়া উচিত নয়।   

 

২/ যাদের এসিডিটির সমস্যা রয়েছে তাদের কালি পেটে টক জাতীয় ফল খাওয়া একেবারেই ঠিক নয়। কারন  টক ফলগুলোতে এসিড ধর্মী কিছু ফাইটোকেমিক্যাল থাকে, যা এসিডিটি বাড়ায়।

 

৩/  বেশির ভাগ ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের রান্না করা ছাড়া খাবার খাওয়া নিষে।  তাই তাদের ফল খাওয়াও নিষেধ।  

 

সুস্থ শরীরের জন্য শুধু ফল খেলেই চলবে না। তার জন্য অবশ্যি সুষম খাবার অর্থাৎ আমিষ, শর্করা, স্নেহ জাতীয় খাবারও দরকার। আর ফল আমাদের শরীরে শুধুমাত্র ভিটামিন ও মিনারেলের চাহিদা পূরণ করে।     

 

তবে বর্তমানে চিকিত্‍সকেরা ব্রেকফাস্টের আগে প্রতিদিন এক বাটি ফল খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

 

 

লিখেছেন –

ত্রোপা চক্রবর্তী 

  

Related Posts

Leave A Comment