• শুক্রবার , ১৪ আগস্ট ২০২০

সকল ধরণ চিকিৎসায় দারুণ জনপ্রিয় জামের উপকারী গুনাগুন গুলো জানেন কি?

গ্রীষ্মকালীন যে সকল ফলগুলো রয়েছে জাম তার মধ্যে অন্যতম।কিন্তু গ্রীষ্মকালীন ফল হলেও খুব কম সময়ের জন্য এই ফলটি পাওয়া যায়। মিষ্টি অথবা টক মিষ্টি স্বাদযুক্ত এই ফলটি খুবই পুষ্টিগুন সম্পূর্ণ।ডিম্বাকার এই পলটি কাঁচা থাকতে সবুজ হয় এবং পাকলে কালচে বেগুনি রঙ্গের হয়ে থাকে।জামের উপকারী গুনাগুন

নানা দেশে নানা নামে পরিচিত এই জাম।যেমন – জাম্বুল, জাম্বু, জাভা প্লাম, পান্ডু, পাজহাম, ডুহাট ইত্যাদ। সর্বপ্রথম ভারতবর্ষ থেকেই এই ফল পুরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পরে।   জামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, জিংক, কপার, গ্লুকোজ, ডেক্সট্রোজ ও ফ্রুকটোজ, ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও স্যালিসাইলেটসহ অসংখ্য উপাদান। যা স্বাস্থ্যের জন্য ভিষণ  উপকারী। 

 

হেকিমী, আয়ুর্বেদী এবং ইউনানী চিকিৎসাতেও জাম ব্যবহার করা হয়।জামের নানা উপকারিতা নিম্নে দেয়া হলো :

 

১/ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে জাম খুবই উপকারী।এটি রক্তে চিনির মাত্রা কমায়।জামের সাথে সাথে জামের বিচির গুড়া প্রতিদিন খালি পেটে খেলে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।      

 

২/ জামে রয়েছে ভিটামিন – সি।ফলে এই ফল খেলে ভিটামিন – সি অভাব জনিত রোগ দূর হয়। 

 

৩/  জাম খাওয়ার ফলে মুখের দুর্গন্ধ রোধ, দাঁত মজবুত এবং মাড়ির ক্ষয়রোধেও জামের কোন জুড়ি নেই । 

 

৪/ জামা রয়েছে মিনারে, পটাসিয়াম, লবনের মত উপাদান যা গরমে আমাদের শরীরকে ঠান্ডা করে এবং শারীরিক দূর্বলতা দূর করে।

  

৫/  মানুষের শরীরের রক্তস্বল্পতা দূর করতে জাম খুবই কার্যকর।কারন এতে রয়েছে আয়রন। 

 

৬/ জাম শরীরের কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমান কমিয়ে শরীরের প্রত্যেক প্রান্ত অক্সিজেন পৌছায় এবং কোলেষ্টরলের পরিমান কমায়। এতে হার্ট ভালো থাকে।

 

৭/ শরীরের বিভিন্ন রকম ক্যান্সার প্রতিরোধে জাম খুবই উপকারী। মুখের ভিতরের ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য মুখের ভিতরের ব্যাকটেরিয়া প্রভাব দূর করে এবং এই ফলের মধ্যে যে যৌগিক উপাদান রয়েছে তা সুস্বাস্থ রক্ষা করে এবং জরায়ু, ডিম্বাশয় ও মলদ্বারের ক্যান্সার প্রতিরোধেও কার্যকর।

 

৮/ জামের কচি পাতার রস গরম করে দিনে ৩-৪ বার খেলে রক্ত আমাশয় দূর হয়।

 

৯/ জামে যে উপাদান রয়েছে তা ক্ষতিকর আলট্রা-ভায়োলেট রশ্মির প্রভাব থেকে ত্বক ও চুলকে রক্ষা করে। এ অ্যালার্জিক এসিড ক্ষতিকর ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাশ প্রতিরোধেও কার্যকর।

 

১০/ জামে রয়েছে গ্যালিক এসিড,ম্যালিক এসিড, ট্যানিনিসের মত যৌগিক উপাদান।যা শরীরের বিষাক্ত উপাদান দূর করে বিভিন্ন ইনফেকশন প্রতিরোধে সহায়তা করে।    

 

অনেক উপকারী গুনাগুন থাকা শর্তেও জামের কিছু কিছু পাশ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। যেমন- 

 

★আধাপাকা  জাম খাওয়া উচিত নয় এবং খালি পেটে জাম খাওয়া ঠিক না।এতে জ্বীভের স্বাদ নষ্ট হতে পারে এবল পেট বয়থা হবার সম্ভাবনা থাকে।  

 

 ★জাম খাওয়ার পর দুধ না খাওয়াই ভালো । পাকা ফল ভরা পেটে খেলে অতিরিক্ত অ্যাসিডিটি ও গ্যাস্ট্রিকভাব হতে পারে।ইত্যাদি 

 

জামে কম পরিমাণে ক্যালোরি থাকে, যা ক্ষতিকর তো নয়ই বরং স্বাস্থ্যসম্মত। ত্বক চুল ও সম্পূর্ণ শরীরের জন্য উপকারী জাম মৌসুমি ফল হিসাবে অবশ্যই খাওয়া উচিত।

 

লিখেছেন –

ত্রোপা চক্রবর্তী 

Related Posts

Leave A Comment