• শুক্রবার , ২২ নভেম্বর ২০১৯

এভাবে আর কতদিন!

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ১৪.৬ মিলিয়ন মানুষ বসবাস করে শুধুমাত্র ৩২৫ বর্গকিলোমিটারে। অর্থাৎ প্রতি বর্গকিলোমিটারে  ১১,৫০০ জনের বসবাস। এসব শুধুই কিছু সংখ্যা মনে হতে পারে, কিন্তু ঢাকার বাসিন্দারা প্রতিদিনই এই সংখ্যাগুলো  কেন এতটা চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, টের পাচ্ছেন। ঢাকায় বসবাসকারী সকলের জীবনের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর মাঝে এটি অন্যতম।

পৃথিবীর কোন শহর তার প্রতিটি জায়গার  ব্যবহার এতটা পরিপূর্ণভাবে করেনি যতটা ঢাকা করছে। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা, হংকং এর তুলনায় ৭৫ শতাংশ বেশি ঘনত্ব নিয়ে বসবাস করছে। হ্যাঁ, এইসব সমস্যা পুরনো, কিন্তু আজও রাজধানীর বাসিন্দারা ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তার যানজটে মাথায় উচ্চ তাপমাত্রা নিয়েই কাজে যায়, আবার সেই তাপমাত্রা নিয়েই বাড়ি ফেরে। একই সময়ে শতাধিক মানুষের একই রাস্তায় প্রতিদিন আটকে থাকাটা ঢাকার নতুন সমস্যা নয়। তবুও প্রত্যেকের মন আজও এ সমস্যার সমাধান খোঁজে। এই বিরাট সমস্যার সমাধানের জন্য বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন স্থানে ফ্লাইওভার নির্মাণ তার মাঝে অন্যতম একটি।

২০১৩ সালে বাংলাদেশ সরকার জাপানের সাথে মেট্রোরেল নির্মাণে চুক্তিবদ্ধ হয়। ২.৮ বিলিয়ন অর্থের এ চুক্তিটি হয় ২০.১ কিলোমিটার লাইনের, আর রেললাইনের সূচনা হওয়ার কথা ঢাকার পল্লবী থেকে অর্থাৎ ঢাকার উত্তরাংশ থেকে দক্ষিণাংশে যাতায়াতের উদ্দেশ্যে। চুক্তিমতে ২০১৯ সালের মধ্যে ১,৮০০ যাত্রী বহন করে ৫৬ টি ট্রেনের যাত্রা শুরু হওয়ার কথা। এ চুক্তিতে ঢাকাবাসীদের মাঝে অনেকটা স্বস্তি ও মনে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখা আরম্ভ হয়। অর্থাৎ এখানেই সমস্যার অবসান ঘটার কথা ছিল, কিন্তু তা হলো না।

দুই বছর পর যে রেললাইনের সূচনা ঘটার কথা, সেই লাইনের নির্মাণ কাজে আজকের ঢাকাবাসী ভয়ানক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। রেললাইন নির্মাণের জন্য দুপাশের রাস্তা আরো সরু হয়ে গেছে এবং অনন্ত জ্যামের মাঝে অনন্ত সময়ের জন্য আটকে থাকতে হচ্ছে ঢাকাবাসীকে। এমনিতেও দূষিত বায়ু ও পরিবেশের জন্য বসবাসে দ্বিতীয় অযোগ্য শহর হিসেবে ঢাকার নাম এসেছে, তার ওপর এই নির্মাণ কাজে যত প্রকার ধুলাবালি তৈরী হচ্ছে তা বেশিরভাগ বাসিন্দাকে চিকিৎসকের শরণার্থী করে তুলছে। অর্থাৎ অল্প অল্প করে সকলেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে, কাজ শুরু হওয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই ছোট ছোট সমস্যা দেখা দিতে থাকে, সমস্যাটি হয় রাস্তা কিছুটা সরু হওয়ার কারণে। রাস্তা কিছুটা সরু হওয়ায় সমস্যাও ছোট লাগছিল। কিন্তু সমস্যার আকার বাড়তে থাকে দিন যেতে যেতে। শুরু হয় শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া থেকে মিরপুর ১০ পর্যন্ত। মিরপুর ১০ এর গোলচক্করের জ্যাম পুরনো। কিন্তু রেললাইনের নির্মাণ কাজের কারণে এক মহাযানজটের সুত্রপাত শেওড়াপাড়া থেকেই ঘটে। সামনের দিনগুলোতে এ জ্যাম হয়তো আরো আগে থেকেই শুরু হবে। ঘন্টার পর ঘন্টা জ্যাম এ বসে থাকার জন্য যে সমাধান তৈরী করা হচ্ছিল, আজ তার নির্মাণ কাজ আরও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানেই শেষ নয়। ঢাকার শেওড়াপাড়া ও কাজীপাড়া এলাকাসমূহে বছরে প্রায়  বারো মাসই রাস্তা ঠিক করতে দেখা যায়, এসব এলাকার বাসিন্দারা এমনিতেও শুধুমাত্র গলি ছোট হওয়ার কারণে ভোগান্তিতে থাকে, এর ওপর এসব সরু ও ছোট গলি বারবার কাটা হলে তাদের ভোগান্তি কল্পনারও বাইরে চলে যায়।

এখন এই রেললাইনের নির্মাণ কাজের উদ্দেশ্যে মাটির নিচে বিভিন্ন বৈদ্যুতিক , গ্যাসীয় ও পানির তারের কাজের কারণে রাস্তা প্রায় সব দিক দিয়েই কাটা থাকে। আবার বিভিন্ন বাসায় টেলিফোনের তার বা গ্যাস বা পানি অথবা বিদ্যুৎ এর তারের কাজের কারণে হঠাৎ বিদ্যুৎ বা পানি বা গ্যাস না থাকাটা এসব এলাকায় বসবাসকারীদের জীবনের একটি দৈনন্দিন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০১৯ সালের মধ্যে যে সুবিধা ও উন্নত জীবনের স্বপ্ন আমরা বুনছি, সে স্বপ্ন পূরণ হোক আমরা সবাই চাই। কিন্তু এ স্বপ্ন পূরণের স্বার্থে আজ আমরা অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। ঢাকাবাসী তাই আবার ওই প্রশ্নেই ফিরে এসেছে– এভাবে আর কতদিন!

Related Posts

Leave A Comment