আমি মেঘনা পাড়ের ছেলে আমি মেঘনা নদীর নেয়ে। মেঘনা নদীর ঢেউয়ের বুকে তালের নৌকা বেয়ে আমি বেড়াই হেসে খেলে- আমি মেঘনা পাড়ের ছেলে। মেঘনা নদীর নেয়ে আমি মেঘনা পাড়ে বাড়ি ইচ্ছে হ’লেই এপার থেকে ওপারে দেই পাড়ি। তালে তালে তালের নৌকা দু’হাতে যাই বেয়ে আমি মেঘনা নদীর নেয়ে। পাহাড় সমান ঢেউয়ের বুকে নৌকো আমার ভাসে… Continue reading মেঘনা পাড়ের ছেলে – আহসান হাবীব
পন্ডশ্রম -শামসুর রহমান
এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে, চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে। কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে, আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে। দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা গেল উড়ে, কান না পেলে চার দেয়ালে মরব মাথা খুঁড়ে। কান গেলে আর মুখের পাড়ায় থাকল কী-হে বল? কানের শোকে আজকে সবাই… Continue reading পন্ডশ্রম -শামসুর রহমান
জন্মেছি এই দেশে -বেগম সুফিয়া কামাল
……………….. অনেক কথার গুঞ্জন শুনি অনেক গানের সুর সবচেয়ে ভাল লাগে যে আমার ‘মাগো’ ডাক সুমধুর। আমার দেশের মাঠের মাটিতে কৃষাণ দুপুরবেলা ক্লান্তি নাশিতে কন্ঠে যে তার সুর লয়ে করে খেলা। মুক্ত আকাশে মুক্ত মনের সেই গান চলে ভেসে জন্মেছি মাগো তোমার কোলেতে মরি যেন এই দেশে। এই বাংলার আকাশ-বাতাস এই বাংলার ভাষা এই বাংলার… Continue reading জন্মেছি এই দেশে -বেগম সুফিয়া কামাল
আমাদের ছোটো নদী -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
আমাদের ছোটো নদী চলে বাঁকে বাঁকে বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে। পার হয়ে যায় গোরু, পার হয় গাড়ি, দুই ধার উঁচু তার, ঢালু তার পাড়ি। চিক্ চিক্ করে বালি, কোথা নাই কাদা, একধারে কাশবন ফুলে ফুলে সাদা। কিচিমিচি করে সেথা শালিকের ঝাঁক, রাতে ওঠে থেকে থেকে শেয়ালের হাঁক। আর-পারে আমবন তালবন চলে, গাঁয়ের বামুন… Continue reading আমাদের ছোটো নদী -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কাজলা দিদি -যতীন্দ্রমোহন বাগচী
বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই মাগো, আমার শোলক-বলা কাজলা দিদি কই? পুকুর ধারে, নেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাই জ্বলে, ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে রই; মাগো, আমার কোলের কাছে কাজলা দিদি কই? সেদিন হতে দিদকে আর কেনই-বা না ডাকো, দিদির কথায় আঁচল দিয়ে মুখটি কেন ঢাকো? খাবার খেতে আসি যখন দিদি বলে… Continue reading কাজলা দিদি -যতীন্দ্রমোহন বাগচী
কপোতাক্ষ নদ – মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সতত, হে নদ তুমি পড় মোর মনে সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে। সতত যেমনি লোক নিশার স্বপনে শোনে মায়া যন্ত্র ধ্বনি তব কলকলে জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে। বহু দেশ দেখিয়াছি বহু নদ দলে কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মেটে কার জলে দুগ্ধস্রোতরূপি তুমি মাতৃভূমি স্তনে। আর কি হে হবে দেখা যত দিন যাবে… Continue reading কপোতাক্ষ নদ – মাইকেল মধুসূদন দত্ত
কাজের লোক – নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্য
মৌমাছি, মৌমাছি কোথা যাও নাচি নাচি দাঁড়াও না একবার ভাই। ওই ফুল ফোটে বনে যাই মধু আহরণে দাঁড়াবার সময় তো নাই। ছোট পাখি, ছোট পাখি কিচিমিচি ডাকি ডাকি কোথা যাও বলে যাও শুনি। এখন না কব কথা আনিয়াছি তৃণলতা আপনার বাসা আগে বুনি। পিপীলিকা, পিপীলিকা দলবল ছাড়ি একা কোথা যাও, যাও ভাই বলি। শীতের সঞ্চয়… Continue reading কাজের লোক – নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্য
তারাবি -জসীম উদ্দীন
তারাবি নামাজ পড়িতে যাইব মোল্লাবাড়িতে আজ, মেনাজদ্দীন, কলিমদ্দীন, আয় তোরা করি সাজ। চালের বাতায় গোঁজা ছিল সেই পুরাতন জুতা জোড়া, ধুলাবালু আর রোদ লেগে তাহা হইয়াছে পাঁচ মোড়া। তাহারি মধ্যে অবাধ্য এই চরণ দুখানি ঠেলে, চল দেখি ভাই খলিলদ্দীন, লুন্ঠন-বাতি জ্বেলে। ঢৈলারে ডাক, লস্কর কোথা, কিনুরে খবর দাও। মোল্লাবাড়িতে একত্র হব মিলি আজ সার গাঁও।… Continue reading তারাবি -জসীম উদ্দীন
ঠিকানা -সুকুমার রায়।
ঠিকানা ___সুকুমার রায়। আরে আরে জগমোহন- এস, এস, এস- বলতে পার কোথায় থাকে আদ্যানাথের মেশো ? আদ্যানাথের নাম শোননি ? খগেনকে তো চেনো ? শ্যাম বাগ্চি খগেনেরই মামাশ্বশুর জেনো । শ্যামের জামাই কেষ্টমোহন, তার যে বাড়ীওলা- (কি যেন নাম ভুলে গেছি), তারই মামার শালা ; তারই পিশের খুড়তুতো ভাই আদ্যানাথের মেশো- লক্ষ্মী দাদা, ঠিকানা তার… Continue reading ঠিকানা -সুকুমার রায়।
শিশুর পণ- গোলাম মোস্তফা
এই করিনু পণ মোরা এই করিনু পণ ফুলের মতো গড়ব মোরা মোদের এই জীবন। হাসব মোরা সহজ সুখে গন্ধ রবে লুকিয়ে বুকে মোদের কাছে এলে সবার জুড়িয়ে যাবে মন। নদী যেমন দুই কূলে তার বিলিয়ে চলে জল, ফুটিয়ে তোলে সবার তরে শস্য, ফুল ও ফল। তেমনি করে মোরাও সবে পরের ভাল করব ভবে মোদের সেবায়… Continue reading শিশুর পণ- গোলাম মোস্তফা