আমি হব- কাজী নজরুল ইসলাম

আমি হব সকাল বেলার পাখি সবার আগে কুসুম-বাগে উঠব আমি ডাকি। সূয্যিমামা জাগার আগে উঠব আমি জেগে, ‘হয়নি সকাল, ঘুমো এখন’- মা বলবেন রেগে। বলব আমি, ‘আলসে মেয়ে ঘুমিয়ে তুমি থাক, হয়নি সকাল- তাই বলে কি সকাল হবে না ক? আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে? তোমার ছেলে উঠলে গো মা রাত পোহাবে… Continue reading আমি হব- কাজী নজরুল ইসলাম

“গোপন প্রিয়া” —কাজী নজরুল ইসলাম।

“পাইনি ব’লে আজো তোমায়, বাসছি ভালো, রাণি, মধ্যে সাগর,এ-পার ও-পার করছি কানাকানি! “আমি এ-পার,তুমি ও-পার মধ্যে কাঁদে বাধার পাথার ও-পার হ’তে ছায়া-তরু দাও তুমি হাত্ছানি, আমি মরু,পাইনে তোমার ছায়ার ছোঁওয়াখানি। “নাম-শোনা দুই বন্ধু মোরা হয়নি পরিচয়! আমার বুকে কাঁদছে আশা, তোমার বুকে ভয়! “এই-পারী ঢেউ বাদল-বায়ে আছড়ে পড়ে তোমার পায়ে, আমার ঢেউ-এর দোলায় তোমার ক’রলো… Continue reading “গোপন প্রিয়া” —কাজী নজরুল ইসলাম।

কারার ঐ লৌহ-কপাট – কাজী নজরুল ইসলাম

১ কারার ঐ লৌহকপাট, ভেঙ্গে ফেল, কর রে লোপাট, রক্ত-জমাট শিকল পূজার পাষাণ-বেদী। ওরে ও তরুণ ঈশান! বাজা তোর প্রলয় বিষাণ! ধ্বংস নিশান উড়ুক প্রাচীর প্রাচীর ভেদি। ২ গাজনের বাজনা বাজা! কে মালিক? কে সে রাজা? কে দেয় সাজা মুক্ত স্বাধীন সত্যকে রে? হা হা হা পায় যে হাসি, ভগবান পরবে ফাঁসি! সর্বনাশী শিখায় এ… Continue reading কারার ঐ লৌহ-কপাট – কাজী নজরুল ইসলাম

গরিবের ব্যথা –কাজী নজরুল ইসলাম

এই যে মায়ের অনাদরে ক্লিষ্ট শিশুগুলি, পরনে নেই ছেঁড়া কানি, সারা গায়ে ধূলি, − সারাদিনের অনাহারে শুষ্ক বদনখানি, খিদের জ্বালায় ক্ষুণ্ণ, তাতে জ্বরের ধুকধুকানি, অযতনে বাছাদের হায়, গা গিয়েছে ফেটে, খুদ-ঘাঁটা তাও জোটে নাকো সারাটি দিন খেটে, − এদের ফেলে ওগো ধনী, ওগো দেশের রাজা, কেমন করে রোচে মুখে মণ্ডা-মিঠাই-খাজা? ক্ষুধায় কাতর যখন এরা দেখে… Continue reading গরিবের ব্যথা –কাজী নজরুল ইসলাম

প্রতিদান – জসীম উদ্‌দীন-

আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা, আমি বাঁধি তার ঘর, আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর। যে মোরে করিল পথের বিবাগী, – পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি। দীঘল রজনী তার তরে জাগি ঘুম যে হরেছে মোর ; আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর। আমার এ কুল ভাঙিয়াছে যেবা আমি তার… Continue reading প্রতিদান – জসীম উদ্‌দীন-

আমার পণ -মদনমোহন তর্কালঙ্কার

সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি। আদেশ করেন যাহা মোর গুরুজনে, আমি যেন সেই কাজ করি ভালো মনে। ভাইবোন সকলেরে যেন ভালোবাসি, এক সাথে থাকি যেন সবে মিলেমিশি। ভালো ছেলেদের সাথে মিশে করি খেলা, পাঠের সময় যেন নাহি করি হেলা। সুখী যেন নাহি হই আর কারও দুখে, মিছে কথা… Continue reading আমার পণ -মদনমোহন তর্কালঙ্কার

মেঘনার ঢল – হুমায়ুন কবির

শোন্ মা আমিনা, রেখে দে রে কাজ ত্বরা করি মাঠে চল, এল মেঘনায় জোয়ারের বেলা এখনি নামিবে ঢল। নদীর কিনার ঘন ঘাসে ভরা মাঠ থেকে গরু নিয়ে আয় ত্বরা করিস না দেরি- আসিয়া পড়িবে সহসা অথই জল মাঠ থেকে গরু নিয়ে আয় ত্বরা মেঘনায় নামে ঢল। এখনো যে মেয়ে আসে নাই ফিরে- দুপুর যে বয়ে… Continue reading মেঘনার ঢল – হুমায়ুন কবির

বনলতা সেন -জীবনানন্দ দাশ

হাজার বছর ধ’রে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে, সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে; আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন, আমারে দু-দণ্ড শান্তি দিয়েছিলো নাটোরের বনলতা সেন। চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা, মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য;… Continue reading বনলতা সেন -জীবনানন্দ দাশ

“তোমায় আমি” -জীবনানন্দ দাশ

তোমায় আমি দেখেছিলাম ব’লে তুমি আমার পদ্মপাতা হলে; শিশির কণার মতন শূন্যে ঘুরে শুনেছিলাম পদ্মপত্র আছে অনেক দূরে খুঁজে খুঁজে পেলাম তাকে শেষে। নদী সাগর কোথায় চলে ব’য়ে পদ্মপাতায় জলের বিন্দু হ’য়ে জানি না কিছু-দেখি না কিছু আর এতদিনে মিল হয়েছে তোমার আমার পদ্মপাতার বুকের ভিতর এসে। তোমায় ভালোবেসেছি আমি, তাই শিশির হয়ে থাকতে যে… Continue reading “তোমায় আমি” -জীবনানন্দ দাশ

‘‘আয় খুকু আয়’’ -পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়

কাটেনা সময় যখন আর কিছুতে বন্ধুর টেলিফোনে মন বসে না জানালার গ্রীলটাতে ঠেকাই মাথা মনে হয় বাবার মত কেউ বলে না আয় খুকু আয় খুকু আয় আয়রে আমার সাথে গান গেয়ে যা নতুন নতুন সুর নে শিখে নে কিছুই যখন ভাল লাগবে না তোর পিয়ানোয় বসে তুই বাজাবিরে আয় খুকু আয় খুকু আয় । সিনেমা… Continue reading ‘‘আয় খুকু আয়’’ -পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়