আপন-পিয়াসী – কাজী নজরুল ইসলাম

আমার আপনার চেয়ে আপন যে জন খুঁজি তারে আমি আপনার, আমি শুনি যেন তার চরণের ধ্বনি আমারি তিয়াসী বাসনায়।। আমারই মনের তৃষিত আকাশে কাঁদে সে চাতক আকুল পিয়াসে, কভু সে চকোর সুধা-চোর আসে নিশীথে স্বপনে জোছনায়।। আমার মনের পিয়াল তমালে হেরি তারে স্নেহ-মেঘ-শ্যাম, অশনি-আলোকে হেরি তারে থির-বিজুলি-উজল অভিরাম।। আমারই রচিত কাননে বসিয়া পরানু পিয়ারে মালিকা… Continue reading আপন-পিয়াসী – কাজী নজরুল ইসলাম

মুনাজাত -কাজী নজরুল ইসলাম

আমারে সকল ক্ষুদ্রতা হতে বাঁচাও প্রভু উদার। হে প্রভু! শেখাও – নীচতার চেয়ে নীচ পাপ নাহি আর। যদি শতেক জন্ম পাপে হই পাপী, যুগ-যুগান্ত নরকেও যাপি, জানি জানি প্রভু, তারও আছে ক্ষমা- ক্ষমা নাহি নীচতার।। ক্ষুদ্র করো না হে প্রভু আমার হৃদয়ের পরিসর, যেন সম ঠাঁই পায় শত্রু-মিত্র-পর। নিন্দা না করি ঈর্ষায় কারো অন্যের সুখে… Continue reading মুনাজাত -কাজী নজরুল ইসলাম

হঠাৎ দেখা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রেলগাড়ির কামরায় হঠাৎ দেখা, ভাবি নি সম্ভব হবে কোনোদিন। আগে ওকে বারবার দেখেছি লালরঙের শাড়িতে ডালিম ফুলের মতো রাঙা; আজ পরেছে কালো রেশমের কাপড়, আঁচল তুলেছে মাথায় দোলনচাঁপার মতো চিকনগৌর মুখখানি ঘিরে। মনে হল, কালো রঙে একটা গভীর দূরত্ব ঘনিয়ে নিয়েছে নিজের চার দিকে, যে দূরত্ব সর্ষেখেতের শেষ সীমানায় শালবনের নীলাঞ্জনে। থমকে গেল আমার সমস্ত… Continue reading হঠাৎ দেখা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

পাখির মতো -আল মাহমুদ

আম্মা বলেন, পড়রে সোনা আব্বা বলেন, মন দে; পাঠে আমার মন বসে না কাঁঠালচাঁপার গন্ধে। আমার কেবল ইচ্ছে জাগে নদীর কাছে থাকতে, বকুল ডালে লুকিয়ে থেকে পাখির মতো ডাকতে। সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে কর্ণফুলীর কূলটায়, দুধভরা ঐ চাঁদের বাটি ফেরেস্তারা উল্টায়। তখন কেবল ভাবতে থাকি কেমন করে উড়বো, কেমন করে শহর ছেড়ে সবুজ গাঁয়ে ঘুরবো!… Continue reading পাখির মতো -আল মাহমুদ

ছোটন ঘুমায় -সুফিয়া কামাল

ছোটন ঘুমায় __সুফিয়া কামাল গোল কোরো না, গোল কোরো না ছোটন ঘুমায় খাটে। এই ঘুমকে কিনতে হলো নওয়াব বাড়ির হাটে। সোনা নয় রূপা নয় দিলাম মোতির মালা তাই তো ছোটন ঘুমিয়ে আছে ঘর করে উজালা।

প্রভাতী -কাজী নজরুল ইসলাম

ভোর হলো,দোর খোলো খুকু,মনি ওঠ রে! ঐ ডাকে যুঁই-শাখে ফুল-খুকি ছোটরে! রবি মামা দেয় হামা গায়ে রাঙা জামা ঐ, দারোয়ান গান গায় শোন ঐ, রামা হৈ!’ ত্যাজি নীড় করে ভিড় ওড়ে পাখি আকাশে এন্তার গান তার ভাসে ভোর বাতাসে। চুলবুল বুলবুল শিস্ দেয় পুষ্পে, এইবার এইবার খুকুমনি উঠবে! খুলি হাল তুলি পাল ঐ তরি চললো,… Continue reading প্রভাতী -কাজী নজরুল ইসলাম

যেতে নাহি দিব -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

দুয়ারে প্রস্তুত গাড়ি ; বেলা দ্বিপ্রহর ; হেমন্তের রৌদ্র ক্রমে হতেছে প্রখর । জনশূন্য পল্লিপথে ধূলি উড়ে যায় মধ্যাহ্ন-বাতাসে ; স্নিগ্ধ অশত্থের ছায় ক্লান্ত বৃদ্ধা ভিখারিণী জীর্ণ বস্ত্র পাতি ঘুমায়ে পড়েছে ; যেন রৌদ্রময়ী রাতি ঝাঁ ঝাঁ করে চারি দিকে নিস্তব্ধ নিঃঝুম — শুধু মোর ঘরে নাহি বিশ্রামের ঘুম । গিয়েছে আশ্বিন — পূজার ছুটির… Continue reading যেতে নাহি দিব -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

পাল্কী চলে রে -গোলাম মোস্তফা

পাল্কী চলে রে, পাল্কী চলে রে, ঘোমটা-ঘেরা কে বউ ঝি টলে রে! খোট্রা বেহারা চোট্রা টেহারা, কোন গাঁহতে গো আসছে ইহারা! জুলপি কামানো, নেংটি নামানো, গামছা কোমরে, সব গা ঘামানো। হাইচি মাউচি, খাউচি যাউচি, বলছে কত কি– আউছিঃ! আউছিঃ! খেঁককি কুকুরে, ডাকছে ডুকুরে, আসছে লেলিয়া পাল্কী মুখুরে। বৃক্ষে থাকিয়া, গাত্র ঢাকিয়া, ক্লান্ত কোকিলা, উঠছে ডাকিয়া।… Continue reading পাল্কী চলে রে -গোলাম মোস্তফা

পাঞ্জেরি -ফররুখ আহমদ

রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি? এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে? সেতারা, হেলার এখনো ওঠেনি জেগে? তুমি মাস্তলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে; অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা ঘেরি। রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি? দীঘল রাতের শ্রান্তসফর শেষে কোন দরিয়ার কালো দিগন্তে আমরা পড়েছি এসে? এ কী ঘন-সিয়া জিন্দেগানীর বা’ব তোলে মর্সিয়া ব্যথিত দিলের তুফান-শ্রান্ত খা’ব অস্ফুট হয়ে… Continue reading পাঞ্জেরি -ফররুখ আহমদ

সোনার তরী – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা। কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা। রাশি রাশি ভারা ভারা ধান কাটা হল সারা, ভরা নদী ক্ষুরধারা খরপরশা। কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা। একখানি ছোটো খেত, আমি একেলা, চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা। পরপারে দেখি আঁকা তরুছায়ামসীমাখা গ্রামখানি মেঘে ঢাকা প্রভাতবেলা– এ পারেতে ছোটো খেত, আমি একেলা। গান গেয়ে… Continue reading সোনার তরী – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর