এই যে মায়ের অনাদরে ক্লিষ্ট শিশুগুলি, পরনে নেই ছেঁড়া কানি, সারা গায়ে ধূলি, − সারাদিনের অনাহারে শুষ্ক বদনখানি, খিদের জ্বালায় ক্ষুণ্ণ, তাতে জ্বরের ধুকধুকানি, অযতনে বাছাদের হায়, গা গিয়েছে ফেটে, খুদ-ঘাঁটা তাও জোটে নাকো সারাটি দিন খেটে, − এদের ফেলে ওগো ধনী, ওগো দেশের রাজা, কেমন করে রোচে মুখে মণ্ডা-মিঠাই-খাজা? ক্ষুধায় কাতর যখন এরা দেখে… Continue reading গরিবের ব্যথা –কাজী নজরুল ইসলাম
প্রতিদান – জসীম উদ্দীন-
আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা, আমি বাঁধি তার ঘর, আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর। যে মোরে করিল পথের বিবাগী, – পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি। দীঘল রজনী তার তরে জাগি ঘুম যে হরেছে মোর ; আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর। আমার এ কুল ভাঙিয়াছে যেবা আমি তার… Continue reading প্রতিদান – জসীম উদ্দীন-
আমার পণ -মদনমোহন তর্কালঙ্কার
সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি। আদেশ করেন যাহা মোর গুরুজনে, আমি যেন সেই কাজ করি ভালো মনে। ভাইবোন সকলেরে যেন ভালোবাসি, এক সাথে থাকি যেন সবে মিলেমিশি। ভালো ছেলেদের সাথে মিশে করি খেলা, পাঠের সময় যেন নাহি করি হেলা। সুখী যেন নাহি হই আর কারও দুখে, মিছে কথা… Continue reading আমার পণ -মদনমোহন তর্কালঙ্কার
মেঘনার ঢল – হুমায়ুন কবির
শোন্ মা আমিনা, রেখে দে রে কাজ ত্বরা করি মাঠে চল, এল মেঘনায় জোয়ারের বেলা এখনি নামিবে ঢল। নদীর কিনার ঘন ঘাসে ভরা মাঠ থেকে গরু নিয়ে আয় ত্বরা করিস না দেরি- আসিয়া পড়িবে সহসা অথই জল মাঠ থেকে গরু নিয়ে আয় ত্বরা মেঘনায় নামে ঢল। এখনো যে মেয়ে আসে নাই ফিরে- দুপুর যে বয়ে… Continue reading মেঘনার ঢল – হুমায়ুন কবির
বনলতা সেন -জীবনানন্দ দাশ
হাজার বছর ধ’রে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে, সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে; আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন, আমারে দু-দণ্ড শান্তি দিয়েছিলো নাটোরের বনলতা সেন। চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা, মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য;… Continue reading বনলতা সেন -জীবনানন্দ দাশ
“তোমায় আমি” -জীবনানন্দ দাশ
তোমায় আমি দেখেছিলাম ব’লে তুমি আমার পদ্মপাতা হলে; শিশির কণার মতন শূন্যে ঘুরে শুনেছিলাম পদ্মপত্র আছে অনেক দূরে খুঁজে খুঁজে পেলাম তাকে শেষে। নদী সাগর কোথায় চলে ব’য়ে পদ্মপাতায় জলের বিন্দু হ’য়ে জানি না কিছু-দেখি না কিছু আর এতদিনে মিল হয়েছে তোমার আমার পদ্মপাতার বুকের ভিতর এসে। তোমায় ভালোবেসেছি আমি, তাই শিশির হয়ে থাকতে যে… Continue reading “তোমায় আমি” -জীবনানন্দ দাশ
‘‘আয় খুকু আয়’’ -পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়
কাটেনা সময় যখন আর কিছুতে বন্ধুর টেলিফোনে মন বসে না জানালার গ্রীলটাতে ঠেকাই মাথা মনে হয় বাবার মত কেউ বলে না আয় খুকু আয় খুকু আয় আয়রে আমার সাথে গান গেয়ে যা নতুন নতুন সুর নে শিখে নে কিছুই যখন ভাল লাগবে না তোর পিয়ানোয় বসে তুই বাজাবিরে আয় খুকু আয় খুকু আয় । সিনেমা… Continue reading ‘‘আয় খুকু আয়’’ -পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়
হাসি- রোকনুজ্জামান খান
হাসতে নাকি জানেনা কেউ কে বলেছে ভাই? এই শোন না কত হাসির খবর বলে যাই। খোকন হাসে ফোঁকলা দাঁতে চাঁদ হাসে তার সাথে সাথে কাজল বিলে শাপলা হাসে হাসে সবুজ ঘাস। খলসে মাছের হাসি দেখে হাসে পাতিহাঁস। টিয়ে হাসে, রাঙ্গা ঠোঁটে, ফিঙ্গের মুখেও হাসি ফোটে দোয়েল কোয়েল ময়না শ্যামা হাসতে সবাই চায় বোয়াল মাছের দেখলে… Continue reading হাসি- রোকনুজ্জামান খান
দারিদ্র্য – কাজী নজরুল ইসলাম
হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান্। তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রীষ্টের সম্মান কন্টক-মুকুট শোভা।-দিয়াছ, তাপস, অসঙ্কোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস; উদ্ধত উলঙ্গ দৃষ্টি, বাণী ক্ষুরধার, বীণা মোর শাপে তব হ’ল তরবার! দুঃসহ দাহনে তব হে দর্পী তাপস, অম্লান স্বর্ণেরে মোর করিলে বিরস, অকালে শুকালে মোর রূপ রস প্রাণ! শীর্ণ করপুট ভরি’ সুন্দরের দান যতবার নিতে যাই-হে… Continue reading দারিদ্র্য – কাজী নজরুল ইসলাম
মানুষ – কাজী নজরুল ইসলাম
গাহি সাম্যের গান- মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান! নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্ম জাতি, সব দেশে, সব কালে, ঘরে ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।- পূজারী, দুয়ার খোলো, ক্ষুধার ঠাকুর দাঁড়ায়ে দুয়ারে পূজার সময় হলো!’ স্বপন দেখিয়া আকুল পূজারী খুলিল ভজনালয়, দেবতার বরে আজ রাজা-টাজা হ’য়ে যাবে নিশ্চয়!- জীর্ণ-বস্ত্র শীর্ণ-গাত্র, ক্ষুধায় কন্ঠ ক্ষীণ… Continue reading মানুষ – কাজী নজরুল ইসলাম