কবর – হুমায়ূন আহমেদ

ফুলির মা ক্ষীণ গলায় বলল, আফা চাচাজান কি ফিরিজের ভিতরে থাকব? মনিকা দু’টা রিলাক্সিন খেয়ে শুয়েছিল। ফুলির মা’র কথা শুনে উঠে বসলো। চট করে তার মাথায় রক্ত উঠে গেল। রিলাক্সিন মানুষের নার্ভ ঠাণ্ডা করে, তারটাও করেছিল, ঝিমুনির মত এসে গিয়েছিল-ফুলির মা’র কথায় ঝিমুনি কেটে গেল। এই বোকা কাজের মহিলাটা তাকে বিরক্ত করে মা’রছে। অসহ্য। অসহ্য।… Continue reading কবর – হুমায়ূন আহমেদ

সাহিত্য বাসর – হুমায়ূন আহমেদ

বাবার অসংখ্য বাতিকের একটি হল-সাহিত্য-বাতিক। মাসে অন্তত দুবার বাসায় সাহিত্য বাসর নামে কী যেন হত। কী যেন হত বলছি এই কারণে যে, আমরা ছোটরা জানতাম না কী হত। আমাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। সাহিত্য চলাকালীন আমরা হৈচৈ করতে পারতাম না, উঁচু গলায় কথা বলতে পারতাম না, শব্দ করে হাসতেও পারতাম না। এর থেকে ধারণা হত, বসার… Continue reading সাহিত্য বাসর – হুমায়ূন আহমেদ

পারুল ও তিনটি কুকুর – হুমায়ূন আহমেদ

টক-টক করে ঘড়ির শব্দ কিছুক্ষণ আগেও টক-টক করে ঘড়ির শব্দ হচ্ছিল। এখন সেই শব্দও শোনা যাচ্ছে না। পুরো বাড়িটা হঠাৎ করেই যেন শব্দহীন হয়ে গেল। এত বড় একটা বাড়িতে কত রকমের শব্দ হবার কথা–বাতাসের শব্দ, পর্দা নড়ার শব্দ, টিকটিকি ডেকে ওঠার শব্দ। এখন কিছু নেই। এই যে পারুল নিঃশ্বাস ফেলছে সেই নিঃশ্বাসের শব্দও সে নিজে… Continue reading পারুল ও তিনটি কুকুর – হুমায়ূন আহমেদ

একটি মেয়ের আখ‍্যান -রজত বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়

একটি মেয়ের আখ‍্যান   রজত বন্দ‍্যোপাধ‍্যায় ০২/০৫/২০২৪   প্রথম অঙ্ক   বহু বছরের পুরনো এক শীতের সকালে অরুণ একেবারে হতবম্ভ হয়ে গেছিল জীবনে প্রথমবার একজন মানুষের শবদেহ দেখে। দেহটি ছিল তার বাবার। সেদিন থেকে ঠিক ন’দিন পরে ক্লাস সেভেনের ফাইনাল পরীক্ষা। সমীরের সঙ্গে প্রতিবার ফার্স্ট হওয়ার দড়ি টানাটানিটা সেবার অরুণের আর করা হয়ে ওঠেনি। পরীক্ষাটাই… Continue reading একটি মেয়ের আখ‍্যান -রজত বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়

জননী – হাসান আজিজুল হক

কয়েক বছর আগে আমাদের ফ্ল্যাটবাড়িতে মেয়েটি কাজ খুঁজতে আসে, তার রূপ দেখে আমি স্তম্ভিত হয়ে যাই। চৌদ্দ পনেরো বছর বয়স হবে তার, গায়ের রং ধপধপে ফর্সা, টানা টানা টলটলে বিশাল দুটি চোখ, ঈষৎ লম্বাটে মুখে টিকলো ছোটো নাক, তাতে সাদা পাথর বসানো এতটুকু একটা নাকফুল। আমার স্ত্রী তাকে জিগগেস করলে, নাম কি তোর? আয়েশা। কাজ… Continue reading জননী – হাসান আজিজুল হক

নিয়তি – হুমায়ূন আহমেদ

আমরা থাকি এক মহারাজার বসতবাড়িতে, যে-বাড়ির মালিক অল্প কিছুদিন আগেই দেশ ছেড়ে ইন্ডিয়াতে চলে গেছেন। বাড়ি চলে এসেছে পাকিস্তান সরকারের হাতে। মহারাজার বিশাল এবং প্রাচীন বাড়ির একতলায় আমাদের থাকার ব্যবস্থা। দুতলাটা তালাবদ্ধ। শুধু দুতলা নয়, কয়েকটা ঘর ছাড়া বাকি সবটা তালাবদ্ধ কারণ মহারাজা জিনিসপত্র কিছুই নিয়ে যাননি। ঐসব ঘরে তাঁর জিনিসপত্র রাখা। ঐ মহারাজার নাম… Continue reading নিয়তি – হুমায়ূন আহমেদ

খান ব্রাদার্স অ্যান্ড কোম্পানি – হুমায়ূন আহমেদ

খান ব্রাদার্স অ্যান্ড কোম্পানির মালিক খান সাহেব আমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন। তাকে যথেষ্ট বিরক্ত মনে হলো। তিনি নন্দিত নরকে উপন্যাসের প্রুফ আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন, বই ছোট হয়েছে। বড় করতে হবে। আমি বললাম, আমার গল্পটাই তো এতটুকু। খান সাহেব বললেন, উপন্যাস ফর্মা হিসেবে লিখতে হয়। ফর্মা বুঝেন তো? ষোল পৃষ্ঠায় এক ফর্মা। আপনি একটা উপন্যাস… Continue reading খান ব্রাদার্স অ্যান্ড কোম্পানি – হুমায়ূন আহমেদ

হোটেল আহমেদিয়া – হুমায়ূন আহমেদ

আমি একবার একটা ভাতের হোটেল দিয়েছিলাম। নিজের নামের সঙ্গে মিলিয়ে হোটেলের নাম–আহমেদিয়া হোটেল। আসুন, আপনাদের সেই হোটেলের গল্প বলি। ১৯৭১ সনের কথা। মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়। রোজার মাস। থাকি মহসিন হলে ৫৬৪ নম্বর রুমে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলি তখন ছাত্রদের জন্যে নিরাপদ বলে ভাবা হত। কারণ যারা এই সময়ে হলে থাকবে তারা অবশ্যই পাকিস্তান অনুরাগী। হলে থেকে… Continue reading হোটেল আহমেদিয়া – হুমায়ূন আহমেদ

মাছ – হুমায়ূন আহমেদ

পৃথিবীর সবচে’ ছোট সাইজের মাছের নাম জানেন? মলা মাছ? মলা মাছ তো অনেক বড় মাছ। পৃথিবীর সবচে ছোট সাইজের মাছ এক ইঞ্চির তিন ভাগের এক ভাগ। বলেন কি? মিসির আলি চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে বললেন, এই মাছের নাম Paedocypris fish. বিজ্ঞানীরা এই মাছের সন্ধান পান সুমাত্রার জঙ্গলের জলাভূমিতে। মাছটা কাচের মতো স্বচ্ছ। আমি বললাম,… Continue reading মাছ – হুমায়ূন আহমেদ

ওমেগা পয়েন্ট – হুমায়ূন আহমেদ

০১. ইয়াসিন সাহেব বারান্দায় অজু করতে এসে দেখেন ইয়াসিন সাহেব বারান্দায় অজু করতে এসে দেখেন শশা-মাচার নিচে লাল শাড়ি পরা বউ মত কে যেন ঘুরঘুর করছে। শশা-মাচা তো বেড়ানোর জায়গা না। কে ওখানে? শশা তুলছে নাকি? তাই তো, শশাই তো তুলছে। কোঁচড়ভর্তি শশা। সূর্য ডোবার পর ফলবতী গাছের ফল ছেঁড়া যায় না—এই সত্যটা কি লাল… Continue reading ওমেগা পয়েন্ট – হুমায়ূন আহমেদ