বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই মাগো, আমার শোলক-বলা কাজলা দিদি কই? পুকুর ধারে, নেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাই জ্বলে, ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে রই; মাগো, আমার কোলের কাছে কাজলা দিদি কই? সেদিন হতে দিদকে আর কেনই-বা না ডাকো, দিদির কথায় আঁচল দিয়ে মুখটি কেন ঢাকো? খাবার খেতে আসি যখন দিদি বলে… Continue reading কাজলা দিদি -যতীন্দ্রমোহন বাগচী
কপোতাক্ষ নদ – মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সতত, হে নদ তুমি পড় মোর মনে সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে। সতত যেমনি লোক নিশার স্বপনে শোনে মায়া যন্ত্র ধ্বনি তব কলকলে জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে। বহু দেশ দেখিয়াছি বহু নদ দলে কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মেটে কার জলে দুগ্ধস্রোতরূপি তুমি মাতৃভূমি স্তনে। আর কি হে হবে দেখা যত দিন যাবে… Continue reading কপোতাক্ষ নদ – মাইকেল মধুসূদন দত্ত
কাজের লোক – নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্য
মৌমাছি, মৌমাছি কোথা যাও নাচি নাচি দাঁড়াও না একবার ভাই। ওই ফুল ফোটে বনে যাই মধু আহরণে দাঁড়াবার সময় তো নাই। ছোট পাখি, ছোট পাখি কিচিমিচি ডাকি ডাকি কোথা যাও বলে যাও শুনি। এখন না কব কথা আনিয়াছি তৃণলতা আপনার বাসা আগে বুনি। পিপীলিকা, পিপীলিকা দলবল ছাড়ি একা কোথা যাও, যাও ভাই বলি। শীতের সঞ্চয়… Continue reading কাজের লোক – নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্য
তারাবি -জসীম উদ্দীন
তারাবি নামাজ পড়িতে যাইব মোল্লাবাড়িতে আজ, মেনাজদ্দীন, কলিমদ্দীন, আয় তোরা করি সাজ। চালের বাতায় গোঁজা ছিল সেই পুরাতন জুতা জোড়া, ধুলাবালু আর রোদ লেগে তাহা হইয়াছে পাঁচ মোড়া। তাহারি মধ্যে অবাধ্য এই চরণ দুখানি ঠেলে, চল দেখি ভাই খলিলদ্দীন, লুন্ঠন-বাতি জ্বেলে। ঢৈলারে ডাক, লস্কর কোথা, কিনুরে খবর দাও। মোল্লাবাড়িতে একত্র হব মিলি আজ সার গাঁও।… Continue reading তারাবি -জসীম উদ্দীন
ঠিকানা -সুকুমার রায়।
ঠিকানা ___সুকুমার রায়। আরে আরে জগমোহন- এস, এস, এস- বলতে পার কোথায় থাকে আদ্যানাথের মেশো ? আদ্যানাথের নাম শোননি ? খগেনকে তো চেনো ? শ্যাম বাগ্চি খগেনেরই মামাশ্বশুর জেনো । শ্যামের জামাই কেষ্টমোহন, তার যে বাড়ীওলা- (কি যেন নাম ভুলে গেছি), তারই মামার শালা ; তারই পিশের খুড়তুতো ভাই আদ্যানাথের মেশো- লক্ষ্মী দাদা, ঠিকানা তার… Continue reading ঠিকানা -সুকুমার রায়।
শিশুর পণ- গোলাম মোস্তফা
এই করিনু পণ মোরা এই করিনু পণ ফুলের মতো গড়ব মোরা মোদের এই জীবন। হাসব মোরা সহজ সুখে গন্ধ রবে লুকিয়ে বুকে মোদের কাছে এলে সবার জুড়িয়ে যাবে মন। নদী যেমন দুই কূলে তার বিলিয়ে চলে জল, ফুটিয়ে তোলে সবার তরে শস্য, ফুল ও ফল। তেমনি করে মোরাও সবে পরের ভাল করব ভবে মোদের সেবায়… Continue reading শিশুর পণ- গোলাম মোস্তফা
সাহিত্যের ২০০ বছরের ইতিহাসে প্রভাবশালী ২০০ বই
গত ২০০ বছরে প্রকাশিত অসংখ্য বইয়ের মধ্যে কিছু বই বদলে দিয়েছে পাঠের ধরন, তৈরি করেছে নতুন সাহিত্যধারা এবং সমাজ ও সংস্কৃতিতে ফেলেছে গভীর প্রভাব। 📖 ‘দ্য সেন্টার ফর ফিকশন’ প্রকাশ করেছে এমন ২০০টি প্রভাবশালী বইয়ের তালিকা—যেখানে রয়েছে জেন অস্টেন, চার্লস ডিকেন্স, ভিক্টর হুগো, দস্তয়েভস্কি, লিও তলস্তয়, জর্জ অরওয়েল, গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস, টনি মরিসনসহ বিশ্বসাহিত্যের… Continue reading সাহিত্যের ২০০ বছরের ইতিহাসে প্রভাবশালী ২০০ বই
আমার খোদারে দেখিয়াছি আমি -জসীম উদ্দীন
আমার খোদারে দেখিয়াছি আমি গরীবের কুঁড়ে ঘরে, দীন দুঃখীর নয়নের জল যেথায় অঝোরে ঝরে। অথ্যাচারীর পীড়নের ঘায়, কত ব্যথাতুর কাদে নিরালায়; তাদের অশ্রু গড়ায়ে পড়িছে খোদার মাটির পরে। তাইত আমরা পড়িনে নামাজ একা ঘরে নির্জনে, লোকালয়ে মোরা মসজিদ গড়ি সব ভাই একাসনে; জায়নামাজের পাটি আমাদের, আকাশের চেয়ে বিসতৃত ঢের, তাই ত আকাশ লুটায়েছে ছের দুনিয়া… Continue reading আমার খোদারে দেখিয়াছি আমি -জসীম উদ্দীন
“কথায় কথায়” -তারাপদ রায়
“কথায় কথায়” -তারাপদ রায় ছবির মতো আকাশ, আর আকাশের নিচে সেই বোকা মানুষ যার কথায় কথায় চোখে জল আসে। আর যখন চোখে জল নেই, তখন চোখের মণিতে এক ছায়াভরা বুড়ো আম গাছের নীচে বিরাট দুপুর, আটচালা ঘরের বারান্দায় মানুষজন রং-বেরং বিড়ালের ছানা উঠোন থেকে খড়ের টুকরো মুখে করে ছুটে পালাচ্ছে ছাই ছাই ধানি ইঁদুর ।… Continue reading “কথায় কথায়” -তারাপদ রায়
আদর্শ ছেলে – কুসুমকুমারী দাশ
আমাদের দেশে সেই ছেলে কবে হবে কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে? মুখে হাসি বুকে বল, তেজে ভরা মন ‘মানুষ হইতে হবে’- এই তার পণ। বিপদ আসিলে কাছে হও আগুয়ান নাই কি শরীরে তব রক্ত, মাংস, প্রাণ? হাত পা সবারই আছে, মিছে কেন ভয়? চেতনা রয়েছে যার, সে কি পড়ে রয়? সে ছেলে কে… Continue reading আদর্শ ছেলে – কুসুমকুমারী দাশ