এশিয়া কাপ জয় করল বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল

১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জিতে বাংলাদেশের ক্রিকেটের মানচিত্র বদলে দিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই কীর্তিগাথা রচিত হয়েছিল কিন্তু এই কুয়ালালামপুর শহরে। এরপর থেকে শহরটা বাংলাদেশের জন্য বিশেষ কিছু। তা হয়তো অজানা ছিল না বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের।

সাবেক লিজেন্ড আকরাম-নান্নুদের সেই স্মৃতি দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দিলেন তাদেরই বোন সালমা-রোমানারা। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জয় করলেন এশিয়া কাপ। যদিও আজকের ম্যাচে ভারতের তুলনায় বাংলাদেশ মিনোসই। কারণ নারী এশিয়া কাপের ছয়-ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। টানা সপ্তমবারের মতো ফাইনালে উঠেছে তারা। প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রথমবার খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ।

সে আর যাই হোক, রোববার (১০ জুন) কুয়ালালামপুরের কিনরানা ওভাল স্টেডিয়ামে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১১২ রান করে শক্তিশালী ভারত। ম্যাচের চতুর্থ ওভারেই ভারতীয় ওপেনার স্মৃতি মন্দনাকে(৭) রান আউট করেন সালমা। ভারতের রানের চাকাও শুরুতে ভালোই আটকে রাখে বাংলাদেশ। প্রথম ৫ ওভারের মধ্যে ২৩টি বল ‘ডট’ দিয়েছে বোলারেরা। রান তোলার চাপে পড়ে সপ্তম ওভারে দীপ্তি শর্মাকেও (৪) হারায় ভারত। তাকে সরাসরি বোল্ড করেন জাহানারা। ভারতের স্কোর তখন ৬.৪ ওভারে ২ উইকেটে ২৬। এখান থেকে ৬ রানের ব্যবধানে ভারতের আরও ২টি উইকেট তুলে নিয়েছে মেয়েরা। সাত, আট ও নয়-এই তিন ওভারে ৩ উইকেট হারায় ভারত।

দীপ্তি ফিরে যাওয়ার পরের ওভারেই ওপেনার মিতালি রাজকে (১১) তুলে নেন খাদিজা। নবম ওভারে আনজুয়া পাতিল (৩) আউট হয়েছেন নিজের কৃতকর্মের মাশুল গুণে। ৮.২ ওভারে রান নিতে গিয়ে নিজের প্রান্তে ফেরার সময় উইকেটরক্ষকের থ্রো দেখে তিনি উইকেট ঢেকে দৌড়ান। সালমারা ‘অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড’ আউটের আবেদন করলে টেলিভিশন রিপ্লে দেখে আউট ঘোষণা করেন থার্ড আম্পায়ার। ১৩তম ওভারে ভেদা কৃঞ্চমূর্তিকেও তুলে নেন অধিনায়ক সালমা। তাকে বোল্ড আউট করেন এই স্পিনার। এরপর ১৫তম ওভারে পর পর দুই উইকেট তুলে নেন রোমানা।  সর্বশেষ নির্ধারিত ২০ ওভারে ১১২ রান সংগ্রহ করে ভারত।

এশিয়া কাপ জয় করল বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল

জবাবে বাংলাদেশের হয়ে ওপেনিংয়ে নামেন শামীমা সুলতানা ও আয়েশা রহমান।  শুরু থেকেই তারা বেশ দেখে শুনে পা পেলেন। স্বভাব দেখে বুঝাই গেল, ইতিহাস গড়ার তাড়না বেশ পোড়াচ্ছে তাদের।  তবে ইনিংসের ৬ষ্ঠ ওভারের পঞ্চম ও শেষ বলে পর পর দুই উইকেট তুলে বাঘিনীদের চিন্তায় ফেলে দেন ভারতীয় স্পিনার পুনম যাদব।  অর্থাৎ দলীয় ৩৫ রানের মাথায় চুপিসারে মাঠ ছাড়েন আয়েশা ও শামীমা। এরপর সেই পুনম ঝুলে থাকা বলে কাবু করেন নারী ব্যাটসম্যান ফারজানা হককে।  অফে কাট করতে গিয়ে ভারতীয় উইকেটরক্ষক বাথিয়ার গ্লাভস বন্ধী হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।

আয়েশা-ফারজানা ও শামীমার বিদায়ে দলের ইতিহাস গড়ার দিনে হাল ধরেন নিগার সুলতানা ও ফারজানা। তবে ৫৫ রানের মাথায় ফারজানা ও দলীয় ৮৩ রানের মাথায় নিগারকে হারিয়ে কিছুটা বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। আর সে যাত্রাটা কঠিন নয় বরং সহজতর করে তুলেন রোমানা। দলকে শেষ পর্যন্ত সাপোর্ট দিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ জিততে সাহায্য করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের হয়ে  খাদিজা ও রুমানা দুটি করে উইকেট তুলেন। অন্যদিকে ভারতের হয়ে হয়ে পুনম চারটি এবং কাউর দুটি উইকেট লাভ করেন।

বিস্তারিত স্কোরকার্ড

 

 

 

 

source-gonews

Leave a comment

Your email address will not be published.