কষ্টার্জিত জয় পেল ইংল্যান্ড।

ভুরি ভুরি সুযোগ নষ্ট করে দুর্বল তিউনিশিয়ার বিরুদ্ধে শেষ লগ্নের গোলে কষ্টার্জিত জয় পেল ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে থ্রি-লায়ন্স ব্রিগেডের জয়ের নায়ক হয়ে উঠলেন অধিনায়ক হ্যারি কেন। দলের ২-১ ব্যবধানে জয়ের দুটি গোলই করলেন টটেনহ্যাম হটস্পারের তারকা। যারমধ্যে হ্যারি কেন নিজের দ্বিতীয় তথা দলের জয়সূচক গোলটি করলেন ইনজুরি টাইমে। ডানদিক থেকে মাগুইরের ভাসানো বলে মাথা ছুঁইয়ে দলকে জয় এনে দেন তিনি। তবে ‘জি’ গ্রুপের এই ম্যাচে পুরো তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়লেও দলের আক্রমণভাগের বেহাল দশা চিন্তায় রাখবে ইংল্যান্ড কোচ গ্যারেথ সাউথগেটকে।

শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে প্রথমার্ধ পর্যন্ত ১-১ গোলে ঠেকিয়ে রেখেছিল তিউনিশিয়া। যদিও মাঠে পূর্ণ আধিপত্য ছিল থ্রি-লায়ন্সদেরই। দুর্বল তিউনিশিয়ার বিরুদ্ধে শুরু থেকে দারুণ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে গ্যারেথ সাউথগেটের প্রশিক্ষণাধীন ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধে অন্তত হাফ ডজন গোলের সুযোগ পেয়েও একবারের বেশি লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি তারা। জেসি লিংগার্ড, রহিম স্টারলিং যেভাবে পেনাল্টি বক্সের মধ্যে থেকে একের পর সুযোগ হাতছাড়া করেছেন, তা কোনো বড় দলের কাছ থেকে আশা করা যায় না। খেলার ৩ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল ইংল্যান্ড। গোল পোস্টের একেবারেই কাছ থেকে নেয়া লিংগার্ডের শট দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন তিউনিশিয়ার গোলরক্ষক মুয়েজ হাসেন।

দুই মিনিট বাদেই দিনের সহজতম সুযোগ নষ্ট করেন রহিম স্টারলিং। ফাঁকা গোল পেয়েও জালে বল ঠেলতে ব্যর্থ হন তিনি। গোলের জন্য অবশ্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি ইংলিশদের। ১১ মিনিটে বাঁদিক থেকে অ্যাশলে ইয়ংয়ের কর্নারে জন স্টোনসের হেড দারুণ দক্ষতায় প্রাথমিক ভাবে ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন গোলরক্ষক হাসেন। ফিরতি বলে আলতো পা ঠেকিয়ে দলকে এগিয়ে দেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন। এরপর ২৪ মিনিটে অ্যাসলে ইয়ংয়ের সেন্টার বক্সের মধ্যে ফাঁকায় পেয়েও আবার একটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের ২৫ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড লিংগার্ড।

কষ্টার্জিত জয় পেল ইংল্যান্ড

ম্যাচের ২৭ মিনিটে প্রথম ভালো সুযোগ পায় তিউনিশিয়া। বক্সের সামান্য বাইরে জটলার মধ্যে থেকে ফেরজানি সেসির শট পোস্টের গা ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। এর মিনিট পাঁচেক বাদেই অবশ্য সমতা ফেরানো গোলের দেখা পেয়ে যায় তিউনিশিয়া। ৩৩ মিনিটে ইংল্যান্ডের বক্সের মধ্যে ফখরুদ্দিন বেন ইউসুফকে অবৈধভাবে বাধা দেন কাইল ওয়াকার। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। এবারের বিশ্বকাপে আফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে প্রথম গোলটি করতে ভুল করেননি ফেরজানি সেসি। বিরতির প্রাক্কালে ফের এগিয়ে যাওয়ার ভালো সুযোগ পায় ইংল্যান্ড। ট্রিপার স্কটস ডানদিক থেকে লিংগার্ডকে লক্ষ্য করে লম্বা পাস বাড়ান। তিউনিশিয়ার গোলকিপার এগিয়ে এসে ঠেকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু দারুণ তৎপরতায় গোলকিপারকে বোকা বানিয়েও লক্ষভেদে সফল হননি লিংগার্ড। তার আলতো পুশ গোলপোস্টে লেগে বাইরে চলে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে তিউনিশিয়া নিজেদের রক্ষণ জমাট করে খেলতে থাকে। ফলে প্রথমার্ধের মতো খুব বেশি সুযোগ গড়ে তুলতে পারেনি ইংল্যান্ড। তবু তারা উতরে গেল অধিনায়ক হ্যারি কেনের সৌজন্যেই।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

source-nayadiganta

Leave a comment

Your email address will not be published.