কারও সঙ্গে নিজের তুলনা করতে নারাজ মুমিনুল

mominul

‘বৃক্ষ তোমার নাম কী? ফলে পরিচয়’, বাংলা এই প্রবাদ বাক্যটি রূপক অর্থে ব্যবহার করা যায় ক্রিকেটার মুমিনুল হকের সঙ্গে। ডাক নাম তার সৌরভ। সে সৌরভ ছড়ায় ব্যাটে,  সৌরভ ছড়ায় সবুজ মাঠে আরও যদি বিশেষ ভাবে বলা হয় তবে চট্টগ্রামের সাগরিকায়।সাগর পাড়ের মানুষদের বুক চিতিয়ে লড়াই করার ইতিহাস পুরনো। নির্ভয় ভাবে সকল ঝড়, ঝাপটা সামাল দিয়ে দিন শেষে নির্লিপ্ত থাকতে হয় তাদের। মুমিনুলও ঠিক তাই। দলের অনেক খারাপ সময়ে ব্যাটকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে রয়ে যান আড়ালে। তাই শুধু টেস্ট তকমা লেগে গেছে শরীরে।তবে সেই টেস্টই বাংলাদেশের হয়ে সৌরভ ছড়ানোর দায়িত্ব নিয়েছেন ছোট্ট কাঁধটাতে। সাদা পোশাকে লাল বলের ক্রিকেটে বুক চিতিয়েই লড়েন এই বাঁহাতি।

ট্রেন্ট বোল্ট, সুরাঙ্গা লাকমল থেকে শুরু করে কেমার রোচ কিংবা শেনন গ্যাব্রিয়েলের বুলেট গতির বলের পাশাপাশি ইশ শোধি, রঙ্গনা হেরাথ, দেবেন্দ্র বিশুর ঘূর্ণি সামলেছেন সোজা ব্যাটে।নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তুলে নিয়েছে এক এক করে ৮ টি সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরির অংকের হিসেবে এবছর ৪টি সেঞ্চুরি করে ছাড়িয়ে গেছেন বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাটসম্যান ভিরাট কোহলিকে।মোট ৮টি সেঞ্চুরি করে ছুঁয়েছেন স্বদেশের দেশ সেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবালকে। ৮ সেঞ্চুরির ৬ টিই আবার সেই চট্টগ্রামের সাগরিকায়। এই রেকর্ডে তার পাশের নামগুলো ক্রিকেটের জন্যই এক একটি বড় নাম। রিকি পন্টিং, ম্যাথু হেইডেন, গ্রাহাম গুচ, মাইকেল ভনদের পরেই আসবে মুমিনুল হকের নাম।

তুলনা করতে নারাজ মুমিনুল

আজ বৃহস্পতিবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনে এত সব রেকর্ড গড়েও বরাবরের মত নির্লিপ্ত তিনি।  মানতে নারাজ তামিম কিংবা কোহলির সঙ্গে তুলনা।‘তামিম ভাইয়ের সঙ্গে তুলনার কোন প্রশ্নই আসে না, তিনি বিশ্ব ক্রিকেটের অন্য লেভেলের। ভিরাট কোহলি আরও উপরে। এগুলো নিয়ে চিন্তা করি না।’ক্যারিয়ারের আশি শতাংশ অর্জন চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। এটাকে অনেকটা ভাগ্যের ছোঁয়া মনে করেন বাংলাদেশ দলের এই পকেট ডায়নামো।মুমিনুল সেঞ্চুরি হাঁকাবে কিন্তু হাতুরুসিংহের নাম আসবে না, তা হয় না।

যে হাতুরাসিংহের জন্য প্রথম দল থেকে বাদ পড়তে হয়েছে তাকে, শরীরে লেগে গেছে টেস্ট স্পেশালিষ্ট তকমা। আজও সাংবাদিকদের এই প্রশ্ন মোকাবেলা করলেন সোজা ব্যাটেই।মুমিনুল জানান, এভাবে চিন্তা কখনোই করি না যে হাতুরুসিংহেকে দেখাতে হবে। দিন শেষে আমারই মাঠে নামতে হবে, দেশের হয়ে খেলতে হবে।শত রানের ইনিংস খেলার পরও চট্টগ্রামের উইকেট নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন ২৭ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান।‘অন্য উইকেটের তুলনায় এই উইকেটে একটু স্লো ও টার্ন রয়েছে।

source-rtv

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *