ক্রিকেটারদের আন্দোলন নিয়ে সাবেকদের অভিমত

সাবেক ক্রিকেটার, অধিনায়ক ও কোচ- সবাই মনে করছেন ক্রিকেটাররা যৌক্তিক দাবিতেই ধর্মঘট ডেকেছেন। আর বিসিবিরও ক্রিকেটারদের সন্তানের মতো ভেবে বুকে টেনে নিয়ে এর সমাধান করা উচিত ছিল।

রকিবুল হাসান : ক্রিকেটাররা দাবি করতেই পারে। তারা মনে করছে, এই সমস্যাগুলো রয়েছে। কিন্তু তারা যেভাবে দাবি করেছে সেটা হয়তো ঠিক হয়নি। আর বিসিবিরও সেখানে খারাপ লেগেছে। এখন দু’পক্ষই বসে নিজেদের অবস্থানটা বুঝে নিতে হবে। দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।

খালেদ মাসুদ পাইলট : ক্রিকেটাররা যে দাবি করেছে তার সঙ্গে আমি একমত। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটাই যৌক্তিক ও সঠিক দাবি। তারা বলেছে মাঠকর্মীদের কথা। একজন মাঠকর্মী কীভাবে আট হাজার টাকা বেতনে ঢাকা শহরে থাকবেন? তারাই তো খেলার জন্য মাঠ ঠিক করে দেন। আর বিপিএল হবে ফ্র্যাঞ্জাইজিভিত্তিক, এটাই তো স্বাভাবিক।

সাবেকদের অভিমত

কিন্তু বোর্ডে কিছু সুবিধাবাদী লোক রয়েছে। যারা সব সময়ই নিজেদের সুবিধা নিয়েই চিন্তা করে। বিসিবিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ফায়দা লুটে নেয়। এসব লোকজন বিসিবি সভাপতিকে হয়তো উল্টাপাল্টা বুঝিয়েছে।

শুধু আমি নয়, দেশের সব মানুষই জানে ক্রিকেটে কী হচ্ছে। ক্যামেরা বসানো হয়েছে বলা হচ্ছে কিন্তু তাতেই কি সব ঠিক হয়ে যাবে? দিচ্ছি, দেব এসব বলে বলে তো বছরের পর বছর পার করা যায় না।

সব সময় দাবিগুলোকে নেতিবাচক না ভেবে ইতিবাচক ভাবাও দায়িত্ব। ভালো খেলোয়াড় হলে বিসিবিও বেশি আয় করতে পারবে। ক্রিকেটাররা ভালো করলেই তো দেশের নাম হবে। বিসিবির নাম হবে। ক্রিকেটারদের ঘিরেই তো সবকিছু। ক্রিকেটও যদি ফুটবলের মতো অবস্থায় যায় তাহলে বাংলাদেশের ক্রীড়া কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?

সাবেকদের অভিমত

নাজমুল আবেদিন ফাহিম : ক্রিকেটাররা এখানে সামগ্রিক বিষয়টা নিয়ে এসেছে। তারা ঘরোয়া ক্রিকেট, স্টাফ, আম্পায়ার, ঘরোয়া ক্রিকেটের খেলার স্বচ্ছতা সবকিছু নিয়েই বলেছে। তারা বাংলাদেশের সামগ্রিক ক্রিকেটের কথাই তুলে ধরেছে।

এদিকে বোর্ড মনে করছে, এখানে তৃতীয় কোনো পক্ষের হাত রয়েছে। যদি সত্যিই সেটা থেকে থাকে তাহলে দ্রুতই সেটা উদ্ধার করে সামনে আনতে হবে। সামনেই ভারতের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ। তবে বিসিবি যেভাবে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে সেটা সত্যিই হতাশাজনক। বলা হচ্ছে, ক্রিকেটাররা যেভাবে বিষয়টা উপস্থাপন করেছে সেভাবে না করে অন্যভাবে আসতে পারত। আসলে তারা নিশ্চয়ই তাদের সমস্যার কথা সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছে।

কারণ বাসের সমস্যা, খাওয়ার সমস্যা নিশ্চয়ই বিসিবি সভাপতিকে বলবেন না ক্রিকেটাররা। যখন তাদের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বলে লাভ হয়নি তখনই এই বিষয়টি নতুন করে জানানোর প্রয়োজন মনে করেনি ক্রিকেটাররা। এছাড়া ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথাবার্তার ক্ষেত্রে আসলেই সম্মানজনক হতে হবে। সেটাও তারা পায়নি বলেই তো দাবি তুলেছে।

Leave a comment

Your email address will not be published.