• Wednesday , 3 March 2021

জার্মানিতে ‘সাদা সোনা’ আবিষ্কার 

জার্মানিতে ‘সাদা সোনা’ আবিষ্কার 

লিথিয়াম-‘সাদা সোনা’ হিসেবে খ্যাত । বিশ্বে এ খনিজ মজুদের প্রায় ৫০ ভাগ আছে বলিভিয়ার দক্ষিণে আন্দিজ পর্বতমালার একেবারে ওপরের ‍দিকে । পটোসি নামে পরিচিত এ অঞ্চলটি কুইচুরা এবং আমারা আদিবাসীদের একটি গরীব এলাকা ।

এ লিথিয়ামই হতে যাচ্ছে পরবর্তী বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত বস্তুু । মোবাইল থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক কার-আজ ও আগামী ‍দিনের প্রায় সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রের প্রাণভোমরা যে ব্যাটারি, তার প্রধান রসদ লিথিয়াম ।

এতদিন এ লিথিয়াম আমদানি করে নিজের চাহিদা মেটাতো জার্মানি । তবে বিজ্ঞানীদের সাফল্যে এখন সেই লিথিয়াম রপ্তানির স্বপ্নও দেখছে জার্মানি । সম্প্রতি থার্মাল ওয়াটার থেকে লিথিয়াম আহরণের উপায় উদ্ভাবন করেন জার্মানির Karlsruhe Institute of technology (KIT)  এর বিজ্ঞানীরা । জার্মানির দক্ষিণ-পশ্চিমের ওবারাইনগ্রাবেনের (আপার রাইন রিফট ভ্যালি) মাটির গভীর থেকে থার্মাল ওয়াটার তুলে তা থেকে বের করা হয় লিথিয়াম । 

 

এক বিবৃতিতে  KIT বলে ‘প্রতি লিটার (থার্মাল ওয়াটার)

থেকে ২০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত লিথিয়াম বের করতে পারে বিজ্ঞানীরা । মাটির নিচ থেকে লিথিয়াম উত্তোলনের সহজ একটা প্রযুক্তিও উদ্ভাবন করেন KIT’র গবেষক ইয়েন্স গ্রিমার ও তার সহকর্মী ফ্লোরেন্সিয়া সারাভিয়া । গ্রিমার-সারাভিয়া নামে তার পেটেন্টও করা হয় । জার্মান দুই বিজ্ঞানীর উদ্ভাবিত প্রযুক্তির তুলনায় অনেক সহজে এবং কম সময়ে, বেশি লিথিয়াম তোলা যাবে । 

 

লাল সোনা জাফরান 

মসলার রাজা বা লাল সোনা হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ‘জাফরান’ । ওষুধ প্রসাধনী ও খাবার মুখরোচক করতে এটা ব্যবহৃত হয় । বাংলাদেশের অভিজাত রেঁস্তোরায় মিষ্টিজাতীয় খাবারেও জাফরান ব্যবহৃত হয় । নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য না হলেও জাফরান নিয়ে মানুষের আগ্রহের কমতি নেই । কারণ, এর মূল্য মান ভেদে কেজি প্রতি ১-৭ লাখ টাকা । আবার এ মসলা পণ্যের উৎপাদনও বেশি না ।

বিশ্বজুড়ে এখন বছরে বড়জোড় ৪৫০ টনের কম-বেশি উৎপাদন হয় । এর সিংহভাগ বা ৯০ শতাংশের বেশি উৎপাদন হয় ইরানে । উৎপাদিত পণ্যের ১৫-২০ শতাংশ ইরানে ব্যবহার করা হয়। বাকিটুকু রপ্তানি করে । ইরান থেকে জাফরান আমদানি করে পুনঃরপ্তানি করে স্পেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আরও কয়েকটি দেশ । 

২০১৯ সালে জাফরানের বৈশ্বিক বাজার ছিল ৮৮ কোটি ডলার বা প্রায় ৭,৫০০ কোটি টাকা । বিশ্বে গুটি কয়েক দেশের আবহাওয়া জাফরান চাষের উপযোগী । এক্ষেত্রে ইরান ছাড়া অন্যদেশগুলো হলো ভারত, গ্রিস , আফগানিস্তান, মরক্কো, স্পেন ও ইতালি । 

জাফরান চাষের জন্য প্রচুর জমি দরকার হয় ।  ক্ষেত থেকে ফুল তুলে গর্ভকেশর আলাদা করে জাফরান প্রস্তুুত পর্যন্ত সব কাজই করতে হয় হাতে । এক কেজি জাফরানের জন্য গড়ে দেড় লাখের বেশি জাফরান ফুল দরকার । এ মসলাটির বহু গুণ রয়েছে । জাফরানের প্রতিটি দণ্ডে ভিটামিন, খনিজসহ ৩০০টি উপাদান আছে । আবার জাফরান গাছে ফল হয় না । গাছের মূলে থাকা ‘বালব’ বা ক্রোম নিয়ে রোপণ করতে হয় । 

২৭ জুলাই ২০২০ বিশ্ববাজারে সোনার আউন্স প্রতি দাম ছিল ১৯৩১.১১ মার্কিন ডলার । এতে পেছনে পড়ে যায় স্বর্ণের দামের আগের রেকর্ডটি , যেটি হয়েছিল ৬ সেপ্টেম্বর ২০১১ । ঐদিন প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ১৯২৩.৭০ ডলার । স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ৪ আগষ্ট ২০২০ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বর্ণের দাম ২০০০ ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে ।

Related Posts

Leave A Comment