টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রাশিয়া

পুরো খেলায় স্পেন বল দখলে রেখেছিল ৭৪ শতাংশ আর রাশিয়া ২৬ শতাংশ সময়। গোল ছিল ১-০১ সমতায়। তাছাড়া স্বপ্নের মতো প্রথম পর্ব পেরিয়ে নক আউট পর্বে ২০১০ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনের সাথে কঠিন ভাবেননি কেউ। মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের বিপক্ষে কারভায়াল ও ইনেয়েস্তাকে  প্রথমে একাদশে রাখেনি স্পেন। এই আসরে মহাতারকা হয়ে উঠা ডেনিস চেরিশেভকেও বেঞ্চে বসিয়ে রেখেছে রাশিয়া। ডিফেন্সে ৫ খেলোয়াড় নিয়ে খেলেছে তারা। নির্ধারিত সময়ে কেউ কাউকে হারাতে পারেনি।

দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম দুই ম্যাচ নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মধ্যে শেষ হলেও, তৃতীয় ম্যাচে এসেই অতিরিক্ত সময়ের দেখা পেল রাশিয়া বিশ্বকাপ। স্বাগতিক রাশিয়া ও স্পেনের মধ্যকার ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে স্কোর ১-১। অতিরিক্ত আরো ৩০ মিনিটেও সমতা। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে সাবেক চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে বিদেয় করে শেষ আটে স্বাগতিক রাশিয়া।

স্পেন বিশ্বকাপ কিংবা ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে রাশিয়ার বিপক্ষে আটবারের মুখোমুখি লড়াইয়ে কখনোই জিততে পারেনি। এই ম্যাচে স্প্যানিয়ার্ড কোচ ফার্নান্দো হিয়েরো একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনেছেন। নাচো ফিরে এসেছেন রাইট ব্যাকে, কারভায়ালের জায়গায়। কোকে ও আসেনসিও মাঝমাঠে ফিরে এসেছেন ইনিয়েস্তা ও আলকানতাতার জায়গায়। ওদিকে রাশিয়া এই ম্যাচে পুরানো ৫-৩-২ ফরম্যাটে ফিরে গেছে।

ম্যাচের মাত্র ১২ মিনিটেই শেষ ষোলর খেলায় আত্মঘাতী গোলে স্পেন ১-০ গোলের লিড নেয়। আসেনসিও ফ্রি-কিকটা খুব চমৎকারভাবে নিলেন পোস্টের লক্ষ্যে। ইগনাশেভিচ রাগবি স্টাইলে ট্যাকল করে রামোসকে ফেলে দিতে চাইলেন। কামিয়াব হলেও বলটাকে সামলাতে পারেননি। তার ডান পায়ের পিছনে লেগে বলটি ঢুকে গেল নিজেদের জালে। এবারের বিশ্বকাপে এটি দশম আত্মঘাতী গোলের রেকর্ড।

জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রাশিয়া
রুশরা সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখোমুখি হচ্ছিল বাঁয়ে থাকা ইসকো ও ডানে থাকা আসেনসিওর স্কিল ও স্পিডের কাছে। প্রায়ই তাদের আক্রমন কাপিয়ে দেয় রাশানদের। তবে ৩৮ মিনিটে রাশিয়ার একটি আক্রমণ স্প্যানিয়ার্ডদের ডিফেন্স নড়বড়ে করে দেয়। গলোভিনের বাঁকানো শটটা জালে হাওয়া দিয়ে পাশ দিয়ে চলে যায়। এরপর ৪১ মিনিটে রাশিয়ার আরো একটি আক্রমণ। স্পেনের বক্সের মধ্যে বল ফেলেন সামেদভ। দিজুইবা গোলের জন্য হেড করলেন। কিন্তু সেটা গিয়ে লাগলো লাফিয়ে ওঠা পিকের হাতে। রেফারি পেনাল্টি দিলেন হ্যান্ডবলের জন্য। আরতেম ডিজুইবা স্পটকিক থেকে স্প্যানিশ গোলরক্ষক ডেভিড দি গিয়াকে হারিয়ে ১-১ সমতায় স্বস্থি স্বাগতিকদের। এই বিশ্বকাপে ডিজুইবার এটি দ্বিতীয় গোল।

বিরতির পর আরো জমজমাট আক্রমনে যায় উভয় দল। যাকে বলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলেনি। তিনটি ফ্রি কিক পায় স্পেন। কিন্তু সেট পিস থেকে সুবিধা আদায় করতে পারেনি তারা। উজ্জিবীত রাশিয়া নিজেদের পরিবেশে বেশ কয়েকটি আক্রমন চালালেও গোলের দেখা পায়নি। যে কারনে নির্ধারিত সময়ে সমতা।

স্পেন বল নিজেদের দখলে রেখেছে ৭৯ ভাগ এবং রাশিয়া ২১ ভাগ। চাপে থেকেও ভাঙ্গেনি স্বাগতিকরা। তবে ফাউলের আধিক্য দেখিয়েছে তারা। স্পেনের ৪ ফাউলের বিপরীতে রাশিয়ার ফাউল ছিল ১৭ বার। টার্গেটে স্পেন শট নিয়েছে ৯ বার, রাশিয়া মাত্র একবার। অতিরিক্ত সময়ে প্রথমভাগে পুরোটা সময়টাই চেপে ধরেছিল স্পেন। দুটি সুযোগও পেয়েছে গোলের। কিন্তু কীপারের দক্ষতায় গোলবঞ্চিত থাকে স্পেন। ১০৮ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা রদ্রিগো মাঝমাঠ থেকে একাই বল টেনে নেন। পোষ্টে শটও নিলেন। আবারও বাধা রাশিয়ার কীপার আকিনফিভ। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধেও স্পেনের আধিপত্য। রাশিয়া মাত্র একবারই যেতে পেরেছে স্পেনের সীমানায়। শেষ পর্যন্ত ফলাফল নির্ধারনের জন্য আশ্রয় নিতে হয় টাইব্রেকারের। স্পেনের ইনিয়েস্তা, পিকু, রামোস গোল করতে পারলেও কোকি ও লোগো আসপাসের বল ঠেকিয়ে দেন রাশিয়ার কীপার আসপাস। এদিকে রাশিয়ার পক্ষে গোল করেন স্মোলোভ, ইগনাশেভিচ, গোলোভিন ও ডেনিস চেরিশেভ। টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

source-nayadiganta

Leave a comment

Your email address will not be published.