নকআউট পর্বে পর্তুগাল ইরানের সাথে ড্র করে

নকআউট পর্বে পর্তুগাল ইরানের সাথে ড্র করে

ইরান সমর্থকদের কৌশলটা তাহলে কাজে লেগেছে! অন্তত ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ক্ষেত্রে এ কথা বলাই যায়। আগের রাতে পর্তুগাল দলের হোটেলের নিচে গান-বাজনা করে রোনালদোর ঘুমের বারোটা বাজিয়ে ছেড়েছিলেন তাঁরা। ফলটা মিলেছে হাতেনাতে। ইরানের বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করেছেন রোনালদো। নাটকীয়তায় ভরপুর এই ম্যাচটা পর্তুগালও জিততে পারেনি। রোনালদোদের ১-১ গোলে আটকে দিয়েছে ইরান।

গ্রুপপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে পয়েন্ট ভাগ করলেও ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপ দল হিসেবে শেষ ষোলোয় উঠেছে পর্তুগাল। ৩ ম্যাচে তাঁদের সংগ্রহ ৫ পয়েন্ট। শেষ ষোলোয় পর্তুগালের প্রতিপক্ষ উরুগুয়ে। তবে এই ম্যাচে পর্তুগালের ঘাম ছুটিয়ে ছেড়েছে ইরান। ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের তৃতীয় দল হিসেবে তাঁরা বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও শেষ ষোলোয় ওঠার আশা ছিল। সে জন্য পর্তুগালের বিপক্ষে জয় তুলে নেওয়ার লক্ষ্যে মাঠে নেমে তাঁরা গোল পেলেও সেটা ছিল সমতাসূচক এবং গোলটা এসেছেও যোগ করা সময়ে।

কুসংস্কারবাদীরা বলতে পারেন, রোনালদোর দ্বারা  যে আজ কিছু হবে না সেটা তো ম্যাচের প্রথম ৪ মিনিটের মধ্যেই বোঝা গেছে! পর্তুগালের আগের দুটি ম্যাচেই ৪ মিনিটের মধ্যে গোল করেছিলেন রোনালদো। আজ সেই সময়টুকু পেরিয়ে যাওয়ার পর নিশ্চয়ই পর্তুগিজ সমর্থকদের মনে নিশ্চয়ই কু ডাক দিয়েছে! কিন্তু পর্তুগাল যে শুধু রোনালদো-নির্ভর তা বুঝিয়ে দিয়েছেন রিকার্ডো কারেসমা।

প্রথমার্ধে পর্তুগালের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই খেলেছে ইরান। স্পেনের বিপক্ষে আগের ম্যাচের মতো রক্ষণভাগে ‘বাস পার্ক’ করার ট্যাকটিস বেছে নেননি দলটির কোচ কার্লোস কুইরোজ। রক্ষণেও আঁটসাঁট ছিলেন রোনালদোদের সাবেক এই কোচের শিষ্যরা। কিন্তু প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে এসে তাঁরা পর্তুগিজ আক্রমণভাগকে আর আটকে রাখতে পারেনি। সতীর্থ সেদরিক সোয়ারেসের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে ডান প্রান্ত দিয়ে বক্সের মাথা থেকে ডান পায়ের বাঁকানো শটে দুর্দান্ত এক গোল করেন কারেসমা।

পর্তুগাল ইরানের সাথে ড্র

বিরতির পর ৪৯ মিনিটে নাটকীয়তা ভর করে ম্যাচে। রোনালদোকে বক্সে ফেলে দেন ইরানের মোর্তেজা পাউরিলাগানজি। পেনাল্টির আবেদন করে পর্তুগাল। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সহায়তায় রেফারি পেনাল্টি দিলেও ইরানের খেলোয়াড়েরা প্রতিবাদ জানিয়েছিল। তবে রোনালদো পেনাল্টি মিস করে তাঁদের রাগ কিছুটা কমিয়েছেন! অবশ্য ইরান গোলরক্ষক আলীরেজা বেইরানভান্দের অবদানও কম নয়। রোনালদো স্পটকিক নেওয়ার আগে গোললাইনের পেছনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। পর্তুগিজ তারকা ডান দিকে শট নিলে এক লাফে সামনে এসে দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন বেইরানভান্দ।

যোগ করা সময়ে আবারও নাটক। পর্তুগালের বক্সে ‘হ্যান্ডবল’-করেন সোয়ারেস। এবারও কিছুটা সন্দেহ থাকায় ভিএআর-এর সহায়তা নিয়ে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। এ নিয়ে উত্তেজনা ভর করে দুই দলের মধ্যে। কিন্তু স্পটকিক থেকে ইরানের সমতাসূচক গোল করতে কোনো ভুল করেননি করিম আনসারফিল্ড।

প্রথমার্ধে দুই দল আক্রমণাত্মক খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে বেশি উত্তেজনা ছিল মাঠে। রোনালদো পেনাল্টি মিসের পর লাল কার্ডও দেখতে পারতেন! নির্ধারিত সময়ের ১০ মিনিট আগে ইরানের মোর্তেজা পাউরালিয়াগানজিকে কনুই দিয়ে হালকা গুঁতো মেরেছিলেন রোনালদো। প্যারাগুয়ে রেফারি এনরিক ক্যাকেরেস সিদ্ধান্ত নিতে আবারও ভিএআর-এর দ্বারস্থ হন। তার আগে রোনালদোর সঙ্গে বেশ কথা-কাটাকাটি হয়েছে ইরানের খেলোয়াড়দের। তবে পর্তুগিজ তারকা এ যাত্রায় হলুদ কার্ড দেখেই রক্ষা পান।

 

 

 

 

 

 

 

 

source-prothom alo

Leave a comment

Your email address will not be published.