ফাহিম সালেহর হত্যায় গ্রেফতার খুনি হাসপিল

পাঠাওয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা, নাইজেরিয়ার রাইড শেয়ারিং ‘গোকাডা’ ও কলম্বিয়ায় এমন একটি রাইড শেয়ারিং অ্যাপের কোম্পানির মালিক মেধাবি প্রযুক্তিবিদ ফাহিম সালেহ। তিনি চট্রগামে ১৯৮৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন । তিনি ইনফরমেশন সিস্টেম নিয়ে আমেরিকার বেন্টলি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন । নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে থাকতেন ফাহিম । বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ এই উদ্যোক্তাকে নির্মমভাবে খুন করা হয় তার নিজ অ্যাপার্টমেন্টে ।

গত ১৪ জুলাই বিকালে ফাহিম সালেহর নিজের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তার খন্ড বিখন্ড মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ । গোয়েন্দাদের দাবি, ১৩ জুলাই স্থানীয় সময় দুপুরের পর তিনি নির্মম হত্যার শিকার হন । হত্যা করে প্রথম দিন হত্যাকারী চলে যায়। পরদিন আবারো ঐ অ্যাপাটমেন্টে ফিরে আসে । এরপর ইলেকট্রিক করাত দিয়ে ফাহিম সালেহের মরদেহ কয়েক – টুকরা করে সেগুলো ব্যাগে ভরার চেষ্টা করে । ঐ মুহুর্তে ফাহিমের বোন সেই বাড়িতে এসে লবি থেকে কলিংবেল বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে পেছনের সিঁড়ি দিয়ে নেমে যান হাসপিল । 

অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিসট্রিক্ট অ্যাটর্নি লিন্ডা ফোর্ড আদালতে বলেন, টাইরেস ডেভো হাসপিলই যে ফাহিমকে খুন করেছেন সে বিষেয়ে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে । ম্যানহাটনের ওয়েস্ট হত স্ট্রিটের হোম ডিপো নামে একটি বড় চেইন স্টোরে যাওয়ার জন্য নিজের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে গাড়ি ভাড়া করেন হাসপিল । সেখান থেকেই একটি ইলেকট্রিক করাত এবং পরিষ্কার করার জিনিসপত্র কেনেন তিনি । সকাল ৯ টার দিকে ঐ স্টোরের সার্ভিলেন্স ক্যামেরায় হাসপিলকে এসব জিনিস কিনতে দেখা গেছে । 

ফাহিম সালেহ হত্যার ঘটনায় তার ব্যাক্তিগত সহকারী হাসপিলকে শুক্রবার গ্রেফতার করেছে পুলিশ । শনিবার সন্দেহভাজন খুনি হাসপিলের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়েছে । এদিন হাসপিলকে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে হাজির করা হয় । বিচারক জোনাথান সভেটকি জামিনের সুবিধা ছাড়াই হাসপিলকে আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন । আগামী ১৭ আগষ্ট আবারো তাকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক । 

ফাহিম সালেহর হত্যায় গ্রেফতার খুনি হাসপিল

অ্যাটর্নি লিন্ডা ফোর্ড ভিডিও কনফারেন্সে আদালতকে বলেন, সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যাওয়া সন্দেহভাজন খুনির পোশাক হাসপিলের ব্রুকলিনের বাড়িতে পাওয়া গেছে । তিনি আরো বলেন, হাসপিল তরুণ প্রযুক্তিবিদ ফাহিম সালেহর অন্তত ৯০ হাজার মার্কিন ডলার চুরি করেছিলেন । তার বিরুদ্ধে পুলিশ বা আইনি আশ্রয় না নিয়ে ফাহিম কিস্তিতে অর্থ ফেরত দেয়ার সুবিধা করে দিয়েছিলেন । গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান রডনি হ্যারিসন বলেন, অভিযুক্তব্যাক্তি ফাহিম সালেহর আর্থিক ও ব্যাক্তিগত তত্ত্বাবধান করতেন ।

আসামিকে ধরতে পারায় পরিবারে কিছুটা স্বস্তি এসেছে । আসামীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন তারা । পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় করোনা পরিস্তিতির কারণে স্বল্প পরিসরে সামাজিক দুরুত্ব মেনে রবিবার নামাজের জানাযা শেষে দাফন সম্পন্ন করা হবে । 

Leave a comment

Your email address will not be published.