• Tuesday , 22 September 2020

বহুব্রীহি পর্ব (৮)- হুমায়ূন আহমেদ

একটি প্রবন্ধের বই আছেকেউ সেই বই পড়েনা

বহুব্রীহি 

আমার বাড়ি ভাড়া নেওয়ার ইচ্ছা তােমার কেন হলশুনেছি আপনি ভাড়া খুব কম নিতেনএ্যাডভান্সের ঝামেলা ছিল নাতাছাড়া বাড়িটাও আমার পছন্দ হয়েছে” 

তুমি কি ব্যাচেলার? জ্বিনাআমার দুটি বাচ্চা আছেদেশের সমস্যা নিয়ে কি তুমি ভাব? আপনার কথা বুঝতে পারলাম না। 

এই যে দেশে অসংখ্য সমস্যা এই সব নিয়ে কখনাে ভাব? কোন সমস্যার কথা বলছেন? সব রকম সমস্যাজ্বিনা,ভাবিনাতুমি একজন লেখক মানুষ, তুমি এই সব নিয়ে ভাব না? তুমি কি রকম লেখক? খুবই বাজে ধরণের লেখকতুমি এখন যেতে পারতােমাকে বাড়ি ভাড়া দেব না। 

দেবেন না? নাতােমাকে আমার পছন্দ হয় নি। আপনাকেও আমার পছন্দ হয় নিতবে আপনার বাড়ি পছন্দ হয়েছিলআমাকে পসুল না হবার কারণ

আপনি হচ্ছেন এক শ্রেণীর পয়সাওয়ালা অকর্মন্য বৃদ্ধ যারা দেশের সমস্যা নিয়ে ভাবে এবং মনে করে এই ভাবনার কারণে সে অনেক বড় কাজ করে ফেলছেএক ধরণের আত্মতৃপ্তি পায়আসলে আপনার এইসব চিন্তা ভাবনা অর্থহীন এবং মূল্যহীনআপনার যা করা উচিত তা হচ্ছেরগরগে থ্রীলার পড়ামাঝে মাঝে দান দক্ষিণী করা যাতে পরকালে সুখে থাকতে পারেনইহকাল এবং পরকাল দুটিই ম্যানেজ করা থাকে বলে। 

বহুব্রীহি পর্ব (৮)- হুমায়ূন আহমেদ

অভদ্র ছােকরাঔপঔপ। 

আপনি খুব বেশি রেগে যাচ্ছেনআপনার প্রেসার ট্রেসার নেইতাে? প্রেসার থাকলে সমস্যা হয়ে যেতে পারে. বহিষ্কারবহিষ্কারএই মুহূর্তে বহিষ্কার। 

সােবাহান সাহেব প্রচন্ড চিৎকার করতে লাগলেনমিলি বারান্দায় ছুটে এলচোখ বড় বড় করে বলল, কি হয়েছে

এই ছােকরাকে ঘাড় ধরে বের করে দেফাজিলের ফাজিল, বদের বদমিলি কড়া গলায় বলল, আপনি বাবাকে কি বলেছেন

আনিস অবস্থা দেখে পুরােপুরি হকচকিয়ে গেছেকিছু একটা বলতে গিয়েও সে বলতে পারল নামিলি বলল, প্লীজ আপনি এখন কথা বলে আর ঝামেলা বাড়াবেন নাচলে যান। 

আনিস গেট পার হয়ে চলে যাবার পর সােবাহান সাহেব বললেন, কাদের বাসায় আছে? মিলি বলল, আছেকাদেরকে বল ছােকরাকে ধরে আনতেবাদ দাও না বাবাআর কেন? যা করতে বলছি করভদ্রলােক কে? আমাদের নতুন ভাড়াটে। 

তােমার কথা বুঝলাম না বাবা। 

তিনতলার ঘর দুটা তার কাছে ভাড়া দিয়েছিছােকরাকে আমার পছন্দ হয়েছেছােকরার মাথা পরিষ্কার। 

কাদের আনিসকে আনতে গেলসােবাহান সাহেব নিজেই দোতলার ছাদে উঠলেন ঘর দুটির অবস্থা দেখার জন্যেঅনেক দিন তালাবন্ধ হয়ে আছেপরিস্কার টুরিস্কার করানাে দরকার। 

দুটি ঘরএকটা বাথরুম, রান্নাঘরছােট পরিবারের জন্যে খুব ভালই বলতে হবেঘর দুটির সামনে বিশাল ছাদছাদে অসংখ্য টব, টবে ফুলের চাষ হচ্ছেমিলির শখ। 

বহুব্রীহি পর্ব (৮)- হুমায়ূন আহমেদ

মিনু ছাদে উঠে এলেনতার মুখ থমথমেকিছুক্ষণ আগে মিলির কাছে তিনি বাড়ি ভাড়া দেবার খবর শুনেছেনরাগেতার গা জ্বলে যাচ্ছেতুমি নাকি ছাদের ঘর দুটি ভাড়া দিচ্ছ?হ্যাকাকে দিলে? নামটা মনে আসছেনাফাজিল ধরনের এক হােকরাবাড়ি ভাড়া দেয়া কি খুব দরকার ছিল

তাহলে, বাড়ি ভাড়া দিলে কেন? আমার দরকার ছিল না, কিন্তু ফাজিলের দরকার ছিলতুমি হুট করে একেকটা কাজ কর আর সমস্যা হয়!‘ 

সােবাহান সাহেবের মেজাজ চট করে খারাপ হয়ে গেলতিনি থমথমে গলায় বললেন, আমি সমস্যার সৃষ্টি করি? | মিনু চুপ করে গেলেনসােহান সাহেব চাপা গলায় বললেন, আমার জন্য কারাের কোন সমস্যা হােক তা আমি চাই না। 

এই বলেই তিিন নীচে নেমে গেলেনমিনু গেলেন পেছনে পেছনে। 

একতলার বারান্দায় আনিস দাঁড়িয়ে আছেকাদের তাকে নিয়ে এসেছেআনিস খানিকটা শংকিত বােধ করছেবাড়ি থেকে বের করে দিয়ে আবার ডেকে আনার অর্থ সে ঠিক ধরতে পারছে নাসােবাহান সাহেব তার কাছে এসে দাঁড়ালেন এবং শুকনাে গলায় বললেন, এসেছ

আনিস বলল, জ্বিআপনি ডেকে পাঠিয়েছিলেন। 

সােবাহান সাহেব বললেন, তােমাকে বাড়ি ভাড়া দেয়া হবে না এটা বলার জন্যে ডেকে পাঠিয়েছি। 

বহুব্রীহি পর্ব (৮)- হুমায়ূন আহমেদ

সেতাে একবার বলেছেনআবার বললাম, আবার বলায় তাে দোষের কিছু নেইজ্বি না নেইদ্বিতীয়বার বলাটা ভাল হয়েছেএখন কি আমি যেতে পারি? হাঁ যাওস্নামালিকুম। 

আনিস গেটের বাইরে বেরুতেই মিনু বললেন, কাদের যা ভদ্রলােককে ডেকে নিয়ে আয়কাদের সােবাহান সাহেবের দিকে তাকালতিনি কিছু বললেন নামিনু বলল, দাঁড়িয়ে আছিস কেন যাকাদের বিমর্ষ মুখে বের হলবড় যন্ত্রণায় পড়া গেল। 

আনিস বড় রাস্তা পর্যন্ত চলে গিয়েছিলকাদের সেখানেই তাকে ধরল, নিপ্রাণ গলায় বলল, আপনেরে বুলায়। 

আনিস বলল, ঠাট্টা করছ? জিনা৷ আবার যাইতে বলছে। 

আবার যাব?যাইতে ইচ্ছা না হইলে যাইয়েন নাআমারে খবর দিতে কইছে খবর দিলামযাওন না যাওন আফনের ইচ্ছা। 

বহুব্রীহি পর্ব (৮)- হুমায়ূন আহমেদ

নাম কি তােমার? আমার নাম মােহাম্মদ আব্দুল কাদেরসৈয়দ মােহাম্মদ আব্দুল কাদেরসৈয়দ নাকি। 

ঞ্জিবােগদাদী সৈয়দবলকি? বােগদাদী সৈয়দ যখন খবর নিয়ে এসেছে তখন তো যেতেই হয়। 

আনিস তৃতীয়বারের মত নিরিবিলি বাড়ির বারান্দায় এসে উঠলসােবাহান সাহেব তার দিকে না তাকিয়েই বললেন, কাদের ভদ্রলােককে তিনতলার ঘর দুটার চাবি এনে দে। 

আনিসবলল, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ স্যারঅনেক ধন্যবাদরাত আটটার মত বাজে। 

মিলি বিরক্ত মুখে খাতা কলম নিয়ে বসে আছেতার সামনে চার পাঁচটা বইআগামীকাল সকাল নটায় তার টিউটোরিয়েল ক্লাসএসাইনমেন্টের কিছুই এখনাে করা হয়নিবিষয়টাই মাথায় ঢুকছে নাএর আগের টিউটোরিয়েলে বি মাইনাস পেয়েছেএবার মনে হচ্ছে সি মাইনাস হবে

Related Posts

Leave A Comment