বৃষ্টি বিলাস (পর্ব-১৮)- হুমায়ূন আহমেদ

ছেলের অপরাধটা ? আমি জানি নাতাের বাবা কিছু বলে নি। 

কাজটা ঠিক করলে না মাহুট করে বিয়ে ঠিক করা, আবার হুট করে বাতিলবিয়ে তাে Play and dust না। 

বৃষ্টি বিলাসপ্লে এন্ড ডাস্ট কী

প্লে হচ্ছে খেলা আর ডাস্ট হচ্ছে ধুলাপ্লে এন্ড ডাস্ট হলােখেলাধুলামা এখন আমার ঘর থেকে যাওতােমার পাথরের মতাে মুখ দেখে আমার মাথা ধরা ছেড়ে যাচ্ছে। 

শামা

তুই কি আমার ওপর খুব বেশি রেগে আছিস, তিন দিন হয়ে গেল এখনাে টেলিফোন করলি নাআমি তাের নিষেধ সত্ত্বেও তােদের বাড়িওয়ালার টেলিফোনে টেলিফোন করেছিলামদুবার করেছিপ্রথমবার তিনি বলেন, রং নাম্বার দ্বিতীয়বারে বললেন, শামারা এই বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেমালিবাগের দিকে বাসা নিয়েছেরেল ক্রসিংএর কাছেবয়স্ক একজন মানুষ মিথ্যা কথা বললে কেমন লাগে বলতােরাগে আমার গা জ্বলে যাচ্ছেএই দ্রলােককেআমি একটা শিক্ষা দেবশামা আমাদের পিকনিকে তুই এই ভদ্রলােককে ভুলিয়ে ভালিয়ে নিয়ে আয় নাতারপর দেখ আমি কী করি । 

বৃষ্টি বিলাস (পর্ব-১৮)- হুমায়ূন আহমেদ

শামা শােন, দিনের ঘটনায় আমি খুব দুঃখিতসামান্য ফান করলামএক বন্ধু আরেক বন্ধুর সঙ্গে ফান করতে পারবে না ? দ্রলােকের চশমা তাের ব্যাগে পাওয়া গেলতাতে ক্ষতি কিছু হয় নিবরং লাভ হয়েছেকী লাভ হয়েছে সেটা বলিমন দিয়ে শােনভদ্রলােকতাে মােটামুটি অন্ধের মতােই হাঁটাহাঁটি করছিলেন, চশমা ফেরত পেয়ে প্রথম তােকে দেখলেন

তুই সবুজ শাড়ি পরে দাড়িয়েছিলি, তােকে দেখাচ্ছিল ইন্দ্রাণীর মতাে (ইন্দ্রাণী জিনিসটা কী আমি জানি নাপ্রায়ই গল্পের বইয়ে পড়ি ইন্দ্রাণীর মতাে সুন্দর কাজেই ধরে নিচ্ছি ইন্দ্রাণী খুবই রূপবতী কেউ)দ্রলােক তােকে দেখে ধাক্কার মতাে খেলেনরবীন্দ্রনাথের ভাষায়— 

বাজিল বুকে সুখের মতাে ব্যথা তুই রাগে দুঃখে কেঁদে ফেললি, তারপর চোখ মুছতে মুছতে চলে গেলিতখন আমি হুক্কা বাবাজিকে আসল ঘটনা 

বললামবললাম যে তুই চশমার ব্যাপারটা কিছুই জানিস 

আমি তাের ব্যাগে চশমা লুকিয়ে রেখেছিলামঘটনা শুনে হুক্কা বাবাজি (বাবাজির আসল নাম আশফাকুর রহমান) খুবই মন খারাপ করলেনতিনি ঠিক করেছেন তাদের বাসায় গিয়ে তাের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। 

আমার ধারণা ইতিমধ্যে তিনি এই কাজটা সেরে ফেলেছেন এবং তাের সঙ্গে হুক্কা বাবাজির কথাবার্তা হয়েছেআমার এই ধারণার পেছনে কারণ আছেহুক্কা বাবাজির মা আজ সকালেই আমাকে টেলিফোন করে তাের সম্পর্কে খোঁজ খবর করছিলেনজানতে চাচ্ছিলেন তুই মেয়ে কেমন, তাের কারাে সঙ্গে এফেয়ার আছে কিনা। 

বৃষ্টি বিলাস (পর্ব-১৮)- হুমায়ূন আহমেদ

কাজেই বুঝতেই পারছিস ঘটনা অনেক দূর গড়িয়েছেএখন শুধু গড়াতেই থাকবেহুক্কা বাবাজিকে যদি বড়শিতে গেঁথে তুলতে পারিস তাহলে বিরাট কাজ হবেওদের গুলশানের তিনতলা বাড়ির ছাদে সুইমিং পুল আছেআমি দেখি নিমীরার কাছে শুনেছিপয়সাওয়ালা স্বামী হলােসােনার চামচকথায় আছে নাসােনার চামচ বাকাও ভালহুক্কা বাবাজি বাঁকা না, সােজাদ্রলােকের ফাইবার অপটিক্সের ওপর পিএইচ.ডি. ডিগ্রি আছেমেরীল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করতেন

তার বাবা খুবই অসুস্থ, নিজে ব্যবসাপাতি দেখতে পারছেন না বলে ছেলে এসেছেবাবাকে সাহায্য করতে| শামা শােন, ভদ্রলােকের সঙ্গে যদি তাের কিছু হয়ে যায় (সম্ভাবনা ৯০ পারসেন্ট), তাহলে তুই কিন্তু প্রতি মাসে একবার তােদের গুলশানের বাড়ির ছাদে পুল সাইড পার্টি দিবিআমরা সবাই সুইমিং পুলে লাফালাফি ঝাপাঝাপি করব আর পার্টি করব। 

মীরার বিয়ের ঘটনা বলে চিঠি শেষ করিএত ঝামেলা করে ভিডিওর ব্যবস্থা করা হলাে, সেই ভিডিও শেষ পর্যন্ত হয় নিবর এসেছে রাত তিনটায়বিয়ে শেষ হতে হতে বেজেছে পাচটাদিনের বেলাতে কি বাসর হয় ? ভদ্রলােক তিনতলা পর্যন্ত উঠলেনই নাআমরা খুবই মন খারাপ 

করেছিসবচেবেশি মন খারাপ করেছেন শাহানা ম্যাডামশেষে ম্যাডামকে বললাম, ম্যাডাম মন খারাপ করবেন নাআমরাতাে অনেকেই আছি বিয়ের বাকিআমাদের যে কোনাে একজনের বাসর রাত ভিডিওর ব্যবস্থা হবে । 

বৃষ্টি বিলাস (পর্ব-১৮)- হুমায়ূন আহমেদ

কে জানে হয়ত তােরটাই হবেকাজেই সাবধান

ভাল থাকিস এবং আমার ওপর থেকে রাগটা দূর করার চেষ্টা করিসতাের নাম রাগকুমারী বলেই সারাক্ষণ রেগে থাকতে হবে নাকি? রাগ মিঃ হুক্কার জন্যে জমা করে রাখ। 

তাের দুষ্টু বন্ধু>ণা 

শামা জেগে আছেএকটু আগে ঘড়ি দেখেছে তিনটা দশচোখ জ্বালা করছেযদিও চোখ জ্বালা করার কোনাে কারণ নেইসে চোখ বন্ধ করে আছেরােদের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখ জ্বালা করার প্রশ্ন আসতঘর অন্ধকারযখন ঘুমুতে গিয়েছিল তখন গরমে শরীর ঘেমে যাচ্ছিলএখন শীত শীত লাগছেমাথার ওপর ফ্যান ঘুরছেরাত যতই বাড়ছে ফ্যানের গতি মনে হয় ততই বাড়ছেদূরে কোথাও বৃষ্টি হচ্ছে কী ? আশেপাশে কোথাও বৃষ্টি না হলে এতটা ঠাণ্ডা লাগার কথা না। 

শামা আবারাে ঘড়ি দেখলরেডিয়ামের ডায়াল দেয়া ঘড়িঅন্ধকারে বিড়ালের চোখের মতাে জ্বলে

এখন বাজছে তিনটা বারমাত্র দুমিনিট পার হয়েছে, শামার কাছে মনে হচ্ছে অনন্তকালঅনিদ্রা রােগ মানুষকে এতটা কষ্ট দেয় তা তার জানা ছিল নাতার ছিল বালিশ ঘুমবালিশে মাথা লাগানাে মাত্র ঘুমআজ কী যন্ত্রণা হলাে ? আগে চোখ জ্বালা করছিল, এখন মুখ জ্বালা করছেএই জ্বলুনি কি শেষ পর্যন্ত সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়বে ? বিছানায় শুয়ে 

থেকে ভেতরের বারান্দায় চলে গেলে কেমন হয়! ভেতরের বারান্দায় কাঠের চেয়ারটা আছেচেয়ারের পায়াটা আবার ভেঙেছেআবদুর রহমান সাহেব আবার ঠিক করেছেনএই নিয়ে তিনবার হলােচেয়ারে বসে সকাল হওয়া দেখা। অনেক দিন সকাল হওয়া দেখা হয় না

Leave a comment

Your email address will not be published.