ব্যর্থতার বৃত্তটা ভাঙবে কি ক্রাইস্টচার্চে ইংল্যান্ড।

টেস্টে নিজেদের মাটিতে অপ্রতিরোধ্য ইংল্যান্ড। তবে টানা দুই বছর ব্রিটিশ সিংহের গর্জন শোনা যায়নি বিদেশের মাটিতে। টানা ১২ টেস্ট জয়হীন তারা। ব্যর্থতার বৃত্তটা ভাঙবে কি ক্রাইস্টচার্চে? গতকাল তৃতীয় দিন স্বাগতিকদের অল আউট করেছে ২৭৮ রানে। এরপর জেমস ভিনস আর মার্ক স্টোনম্যানের দৃঢ়তায় দিন শেষ করেছে ৩ উইকেটে ২০২ রানে। তাতে জো রুটের দলের লিড ২৩১ রানের। তাই টানা দুই বছর বিদেশের মাটিতে টেস্ট জিততে না পারার হতাশা কাটানোর স্বপ্ন দেখতেই পারে ইংলিরা।

তিন দিনে ২৩ উইকেট হারিয়েছে দুই দল, আর সব উইকেটই দুই দলের দুই পেসারের। নিউজিল্যান্ডের টিম সাউদি-ট্রেন্ট বোল্টের শিকার ১৩ উইকেট। ইংলিশদের হয়ে ১০ উইকেট ভাগাভাগি করেছেন স্টুয়ার্ট ব্রড ও জেমস অ্যান্ডারসন। বোলারদের এই দাপটের ম্যাচে এরই মধ্যে যতটা এগিয়ে রয়েছে ইংল্যান্ড, তাতেই সফরকারীদের ফেভারিটের মতো দেখাচ্ছে।

নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় দিন শেষ করেছিল ৬ উইকেটে ১৯২ রানে। ৭৭ রান নিয়ে খেলতে নামা বিজে ওয়াটলিং ৮৫ করে বোল্ড অ্যান্ডারসনের বলে। তবে টিম সাউদির ঝোড়ো ফিফটিতে স্কোরটা ২৭৮-এ পৌঁছে স্বাগতিকদের। ৪৮ বলে ৮ বাউন্ডারি ১ ছক্কায় ৫০ করা সাউদিকে বোল্ড করেন অ্যান্ডারসন। প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ড লিড নেয় ২৯ রানে। ব্রড ৫৪ রানে ৬ আর অ্যান্ডারসন ৭৬ রানে নেন ৪ উইকেট।

ব্যর্থতার বৃত্ত

পুরো সিরিজে ব্যর্থ অ্যালিস্টার কুকের ব্যাট হাসেনি দ্বিতীয় ইনিংসেও। ১৪ রানে ট্রেন্ট বোল্টের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই ওপেনার। গত অ্যাশেজে মেলবোর্ন টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করা কুক এবারের সিরিজে চার ইনিংস মিলিয়ে করেছেন মাত্র ২৩। ক্যারিয়ারে এর চেয়ে খারাপ সিরিজ আর আসেনি তাঁর। দ্বিতীয় উইকেটে জেমস ভিনস ও মার্ক স্টোনম্যানের ১২৩ রানের জুটিতে বড় স্কোরের ভিত পায় সফরকারীরা। তবে দুজনই জীবন পেয়েছেন একাধিকবার। ৪৮ ও ৫৭ রানে দুইবার ক্যাচ দিয়েও বেঁচেছেন স্টোনম্যান। লেগ স্পিনার ইস সোধির বলে দুইবার ক্যাচ তুলেও ফিল্ডারের ব্যর্থতায় পার পেয়েছেন ভিনস। জীবন কাজে লাগিয়ে ভিনস ৭৬ ও স্টোনম্যান খেলেন ৬০ রানের ইনিংস। ক্যারিয়ার সেরা খেলায় স্টোনম্যান ফেরেন টিম সাউদির অফস্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে উইকেটরক্ষক বিজে ওয়াটলিংকে ক্যাচ দিয়ে। অনেকটা একইভাবে ট্রেন্ট বোল্টের বলে প্রথম স্লিপে রস টেলরকে ক্যাচ দেন ভিনস। অধিনায়ক জো রুট ৩০ ও ডেভিড মালান আজ ব্যাট করতে নামবেন ১৯ রান নিয়ে। এএফপি

ইংল্যান্ড : ৩০৭ ও ৬৬ ওভারে ২০২/৩ (ভিনস ৭৬, স্টোনম্যান ৬০, রুট ৩০*; বোল্ট ২/৩৮, সাউদি ১/৪২)।

নিউজিল্যান্ড : ৯৩.৩ ওভারে ২৭৮ (ওয়াটলিং ৮৫, গ্র্যান্ডহোম ৭২, সাউদি ৫০; ব্রড ৬/৫৪, অ্যান্ডারসন ৪/৭৬)।

Leave a comment

Your email address will not be published.