• Wednesday , 25 November 2020

মাঝরাতের কল -প্রেমেন্দ্র মিত্র 

মাঝরাতের কল 

প্রেমেন্দ্র মিত্র 

সেদিন রাত্রে শহরের প্রায় বাইরে বহুদূরের একটা কল সেরে একলাই ফিরছিলাম। একে দারুণ শীত এবছর, তার ওপর রাত অনেক হওয়ায় ঠান্ডা 

অত্যন্ত বেশী পড়েছিল। পুরুপুরু গােটা কতক গরমের জামা থাকা সত্ত্বেও সব ভেদ করে মনে হচ্ছিল ঠান্ডা হাওয়া আমার পাঁজরার ভিতরে গিয়ে ঢুকছে। 

আসছিলাম আমার পুরনাে মােটরে। এ মোেটর আমি আজ দশ বছর ধরে একাই চালিয়ে ফিরছি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছিল, সঙ্গে একজন সােফার থাকলেই বুবি ভাল হত। এই দারুণ শীতে ষ্টিয়ারিং হুইল ধরে সমস্তু হওয়ার ঝাপটা সহ্য করার চেয়ে কষ্ট আর কিছু নেই।

আমাদের শহটি অত্যন্ত ছড়ান। বড় বড় কয়েকটি রাস্তাকে আশ্রয় করে চারিধারে অনেক দূর পর্যন্ত সে বিস্তৃত হয়ে আছে। কিন্তু জমাট বাঁধেনি। অনে সময় এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তের মধ্যে শুধু একটি নির্জন রাস্তা ছাড়া আর কোন মােগ নেই। 

যে রাস্তা দিয়ে আসছিলাম সেটিও অত্যন্ত নির্জন। দুধারে মাঝে মাঝে হরতুকি বা মহুয়া,গাছ। আর রাস্তার দুধারে শুধু শূন্য অসমতল মাঠ। তার ভেতর বাড়ি ঘর নেই বলেই হয়। কে বাড়ি করবে এই নির্জন জায়গায়। 

ভয়ঙ্কর ভূতের গল্প

অন্ধকারে অবশ্য এ সব কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। আমার মােটরের মিটমিটে আলােয় সামনের পথের খানিকটা দেখা যাচ্ছিল মাত্র। যেতে যেতে মনে হচ্ছিল, অন্ধকারের সমুদ্রই যেন আমার মােটরের আলােয় কেটে চলেছি কোনরকমে। 

শীতের দরুণ কষ্ট পেলেও বেশ নিশ্চিন্ত মনেই চলেছিলাম। আমার কারটি পুরান হলেও মজবুত। বেয়াড়াপনা সে করে না। আধ ঘন্টার মধ্যেই বাড়ি পৌঁছে 

ভয়ঙ্কর ভূতের গল্প গরম লেপের মধ্যে আরাম করে যে শুতে পাব, এ বিষয়ে কোন সন্দেহ ছিল না। অন্ধকার রাস্তার নিস্তব্ধতার ওপর শব্দের ঢেউ তুলে আমার মােটর চলেছে দ্রুত গতিতে। নিজেকে যথা সম্ভব আবৃত রেখে ভেতরে বসে সমস্ত চিন্তা পরিত্যাগ করে আমি শুধু আমার গরম বিছানাটার আরামের কথাই ভাবছি।

ডাক্তারদের মত পরাধীন আর কেউ নয়। তবু মনে হচ্ছিল, একবার বাড়িতে পৌছতে পারলে প্রাণের দায়ে ছাড়া শুধু পয়সার জন্যে আর আমায় কেউ বার করতে পারবে না। এখন কোন রকমে কুড়ি পঁচিশ মিনিট কাটলেই হয়। 

কিন্তু হঠাৎ অপ্রত্যাশিত এক ঘটনায় সুখস্বপ্ন ভেঙে গেল। আমার একান্ত সুস্থ সবল মােটর থেকে থেকে অদ্ভুত একরকম ধাতব আর্তনাদ করতে শুরু করেছে। মােটরের এ রকম আচরণের কোন কারণই খুঁজে পেলাম না। আজ দুপুরেই আমার মােটবের ভাল রকম সেবা শুশ্রষা হয়ে গেছে। কোন রকম রােগের আভাষ তার ভেতর তখছিল না। হঠাৎ তার এ রকম আকস্মিক বিকারের কারণ তবে কি।

ভয়ঙ্কর ভূতের গল্প

এই দারুণ শীতের রাত্রে অন্ধকার নির্জন এই পথের মাঝে মােটরের এই বেয়াড়াপনায় সত্যিই ভীত হয়ে উঠলাম। এখনও প্রায় সাত আট মাইল পথ বাকী। রাস্তার মাঝে মােটর সত্যি অচল হয়ে গেলে করব কি? এই রাত্রের ডাকেও সঙ্গে লােক না আনার নির্বুদ্ধিতার জন্য এবার নিজের উপরই রাগ হচ্ছিল। সঙ্গে একজন লােক থাকলে তবু বিপদে অনেক সাহায্য পাওয়া যেত। 

দেখতে দেখতে মােটরের আর্তনাদ আরাে বেড়ে উঠল, সঙ্গে সঙ্গে মােটরের বেগও মন্থর হয়ে আসছে বুঝতে পারলাম। মােটর চালনার সমস্ত বিদ্যা প্রয়ােগ করেও সুরাহা কিছু করতে পারলাম না।

কাবাতে কাত্রাতে খানিক দূর গিয়ে আমার মােটর হঠাৎ রাস্তার মাঝে এক জায়গায় একেবারে থেমে গেল। আর তার নড়বার নাম নেই। চেষ্টার আমি তখনও ত্রুটি করলাম না। কিন্তু আমার পীড়নে অস্ফুটভাবে একটু কাতবােক্তি করে ওঠা ছাড়া আর কোন সাড়া সে দিল না। 

ভয়ে দুর্ভাবনায় সত্যিই তখন আমার সমস্ত দেহ আড়ষ্ট হয়ে এসেছে। মােটর ফেলে এই দারুণ শীতের মাঝে সাত আট মাইল জনহীন পথ হেঁটে যাবার কথা তাে কল্পনা করা যায় না।

ভয়ঙ্কর ভূতের গল্প

এই মাঠের মাঝে মােটরে সারা রাত কাটানও অসম্ভব। এখন উপায়। 

“ডাক্তারবাবু।” হঠাৎ বুকের ভেতর হৃদপিন্ডটা যেন লাফিয়ে উঠল। এই জনশূন্য পথে এমন 

সময়ে কে ডাকল? 

আবার শুনতে পেলাম “ডাক্তারবাবু।” 

এদিক ওদিক অন্ধকারে তীক্ষ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে এবার দেখতে পেলাম। পথের ধারে ঝাকড়া একটি গাছের পাশে আবছা একটি দীর্ঘ শীর্ণ মূর্তি দেখা যাচ্ছে। হঠাৎ এমন জায়গায় কেমন করে সে উদয় হল বুঝতে না পারলেও সাড়া দিয়ে বললাম, “কে।

কে তুমি?” মনে তখন আমার একটু আশার রেখাও দেখা দিয়েছে। তার আবির্ভাব যেমন বিস্ময়করই থােক না কেন, লােকটার কাছে সাহায্য পাবার সম্ভাবনা তাে আছে। 

লােকটা সেই জায়গা থেকেই বললে, “আমায় চিনবেন না আপনি। 

চেনবার জন্য আমি তখন ব্যস্ত নই। আমার সাহায্য করবার জন্যে একজন লােক তখন দরকার মাত্র। সেই কথাই তাকে বলতে যাচ্ছি এমন সময় লােকটা আবার বললে, “আপনাকে একটু আসতে হবে ডাক্তারবাবু। ভারী অসুখ একজনের!” 

ভয়ঙ্কর ভূতের গল্প

এমন সময়ে এ অনুরােধে বিরক্ত যেমন হলাম আশ্চর্য হলামও তেমনি। ঠিক এই সময়ে রাস্তার ঠিক এই জায়গায় রুগী কি আমার জন্য তৈরী হয়ে বসেছিল !

লােকটা আমার মনের কথাই যেন আঁচ করে বললে, “ এ ভগবানের দয়া। ডাক্তারবাবু! এমন সময় আপনাকে এখানে পাব স্বপ্নেও ভাবিনি, অথচ না পেলে কি বিপদই যে হত।” 

 বেশী কথাবর্তা তখন আর ভাল লাগছিল না। একটু বিরক্ত হয়েই বললাম “কোথায় তােমার রুগী ?”।  লােকটা এবার নিঃশব্দে অন্ধকারের ভেতর একদিকে হাত বাড়িয়ে নির্দেশ করল। সেদিকে চেয়ে দেখলাম সত্যি দূরে একটা বাড়ির আলাে যেন দেখা যাচ্ছে।

এ রকম নির্জন প্রান্তরের মাঝে এ রকম বাড়ি খুব কমই থাকে। হঠাৎ এ রকম জায়গায় এমন সময়ে যাওয়াও একটু বিপজ্জনক। তবে শত্রু আমার কেউ 

ততা নেই এবং সঙ্গে টাকা কড়িও নিতান্ত সামান্য এই যা ভরসা! 

একটু ভেবে নিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম “কি অসুখ?” 

ভয়ঙ্কর ভূতের গল্প

উত্তর এল “জানি না ডাক্তারবাবু, কিন্তু অত্যন্ত সঙ্গীন অবস্থা, তাড়াতাড়ি না গেলে বােধহয় বাঁচান যাবে না। দোহাই আপনার, চলুন ডাক্তারবাবু।” 

কোথায় নিজের বিপদ সামলাব, না হঠাৎ রাস্তার মাঝে মাঝ রাত্রে যেতে হবে ভয়ঙ্কর ভূতের গল্প পরের চিকিৎসায়। তবু ডাক্তার মানুষ — জীবন মরণের সমস্যা শুনলে চুপ করে বসে থাকতে পারা যায় না। বাধ্য হয়েই তাই বললাম চল। 

মাঠের ওপর দিয়ে সরু একটু পথ। অন্ধকারে ভাল করে দেখাই যায় না। তাই ধরে লােকটার পিছু পিছু মিনিট পাঁচেক হেঁটে একটি বাড়ির উঠানে এসে দাঁড়ালাম। সামনে একটি ঘরের দরজা থেকে আলাে দেখা যাচ্ছে। সেই দিকে দেখিয়ে লােকটা বললে, “ওই ঘরেই রুগী বাবু, আপনি যান, আমি এখনি আসছি!”  অন্ধকারের ভেতরই বুঝতে পারছিলাম, বাড়িটি বিশেষ সমৃদ্ধ চেহারার নয়।

গুটি চার পাঁচেক ঘর এবং একটুখানি ঘেরা উঠান। ঘরগুলিও সব পাকা স্থদের নয়, দু পাশে খােলার ছাউনি। লােকটার কথা মত সামনের ঘরে এবার গিয়ে ঢুকলাম। ঘরটি আয়তনে বিশেষ বড় নয়, তার ওপর নানান আকারের বাক্স পেটরায় বােৰাই বলে ভেতরে নড়বার চড়বার স্থান অত্যন্ত অল্প। দরজার মুখােমুখি একটি জানালা।

ভয়ঙ্কর ভূতের গল্প

সেই জানলার ধারে মিটিমিট করে একটি কেরাসিনের লণ্ঠন জ্বলছে। সেই আলােতেই অস্পষ্টভাবে দেখা গেল, দরজার বাঁ ধারে একটি চারপায়ায় অত্যন্ত শীর্ণ এক ভদ্রলােক শুয়ে আছে। 

আমি ঘরে ঢুকতেই ক্ষীণ স্বরে তিনি বললেন, “এসেছেন ডাক্তারবাবু। আপনার দয়া কখনও ভুলব না, বসুন।” 

ঘরের ভিতর এদিক ওদিক চেয়ে বসবার জায়গা একটিই দেখতে পেলাম। জানালার কাছে গিয়ে চারপায়া থেকে অনেক দূরে একটি বেতের মােড়া। সেইটেই টেনে চারপায়ার কাছে আসবার উদ্যোগ করতেই ভদ্রলােক আবার ক্ষীণ স্বরে বললেন, “বসুন বসুন এইখানেই বসুন, আগে আমার রােগের কথা বলি 

শুনুন।” 

একটু হেসে এবার সেইখানেই বসলাম। রুগীদের নানা অদ্ভুত বাতিকের সঙ্গে আমার যথেষ্ট পরিচয় আছে। বুঝলাম, খানিকক্ষণ ধরে নিজের রােগ সম্বন্ধে ভদ্রলােকের নানা মতামত এখন আমায় শুনতে হবে। না শুনলে নিস্তার নেই। 

ক্ষীণস্বরে প্রথমেই তিনি আরম্ভ করলেন, “আমার বােগ সারাতে আপনি পারবেন না ডাক্তারবাবু। বাঁচাতে পারেবেন ডাক্তারবাবু?” একটু হেসে বললাম, “সেই চেষ্টা করাই ভাে আমাদের কাজ। আর বাঁচবেন নাই বা কেন?” 

ভয়ঙ্কর ভূতের গল্প

একটু অদ্ভুত হাসির আওয়াজ এল খাট থেকে বাঁচতেও পারি ডাক্তারবাবু। 

 কেমন?” 

বললাম, “পারেন বই কি! কি তেমন আর হয়েছে আপনার?” 

“না তেমন আর কি হয়েছে!” ভদ্রলােক আবার যেন হাসলেন, তারপর বললেন, “ডাক্তারদের অনেক ক্ষমতা কেমন না! কিন্তু ধরুন তাতেও যদি না বাঁচি, যদি আজ রাত্রেই মারা যাই?” 

বােগীর এই অধোন্মত্ত প্রলাপের উত্তরে কি যে বলবাে কিছুই ভেবে পেলাম । মনে মনে তখন এই বিলম্বে অস্থির হয়ে উঠছি। 

বােগীই আবার বললেন, “যদি আপনি থাকতে থাকতেই মারা যাই ডাক্তারবাবু, কি হবে তাহলে? কে আপনার ফী’ দেবে?” 

আচ্ছা পাগল রােগীর পাল্লায় তাে পড়া গেছে। বললাম, “যদি নেহাই তাই হয়, তাহলে ‘ফী’ নাই পেলাম। আমরা শুধু ফীর জন্যই সব সময়ে আসি না।” | “তা বটে তা বটে” পৃথিবীতে ভাল লােক, পৃথিবীতে মনুষ্যত্ব এখনও আছে, তাই না ডাক্তারবাবু।

কিন্তু আপনার ফীর ব্যবস্থা আমি করে রেখেছি ডাক্তারবাবু। হঠাৎ যদি মরে যাই ওই বাক্স খুলে ফেলবেন, বুঝেছে ডাক্তারবাবু ~~ ওই বেতের ছােট্ট বাক্সটি।” ভদ্রলােকের স্বর আরাে মৃদু হয়ে এল “ওই বাক্স থেকে আপনার প্রাপ্য টাকা নেবেন। আরও একটা জিনিষ নেবেন ডাক্তারবাবু! বলুন! নেবেন তাে?” 

ভয়ঙ্কর ভূতের গল্প

একটু বিরক্ত হয়ে বললাম, “কি ?” 

“কিছু না ডাক্তারবাবু একটা কাগজ। কিন্তু ভয়ানক দরকারী কাগজ। এ কাগজ ওখানে আছে শুধু আপনি আর আমি জানি। আর কেউ জানে না। জানলে আর ওখানে ওটা থাকত না।” 

ভদ্রলােক একটু চুপ করে থেকে একটু হেসে আবার বললেন, “এ বাড়ীতে কাউকে দেখতে না পেয়ে ভাববেন না যেন আমার কেউ নেই। আমার অনেক আত্মীয় আছে—ওৎ পেতে আছে আমার মরার অপেক্ষায়। শুধু তাদের বিশ্বাস আজ আমি হয়ত মরব না, তাদের বিশ্বাস মরবার আগে আর আমি কিছু করব না। তারাই সব পাবে।” 

আমি এবার বলতে যাচ্ছিলাম, “আপনার অসুখটা সম্বন্ধে —” | “হ্যা, অসুখ তাে দেখবেনই, তার আগে আর একটা কথা বলে নিই ওই কাগজটি আমার উইল, ডাক্তারবাবু। আমার ছেলের নামে উইল। সে ছেলেকে আমি ত্যজ্যপুত্র করেছিলাম একদিন, কোথায় আছে তাও জানি না। কিন্তু জানেনই তাে রক্ত জলের চেয়ে ধন।” 

 আর বেশীক্ষণ অপেক্ষা করা যায় না। মােড়া থেকে উঠে পড়ে আমি বললাম, “এইবার আমি দেখতে পারি!” 

খাট থেকে আওয়াজ হল “দেখুন।”  আমি খাটের কাছে এগিয়ে গিয়ে রােগীর নাড়ি দেখবার জন্যে হাতটা তুলে ধরলাম এবং পরমুহূর্তেই সেই দারুণ শীতের ভেতরেও আমার সমস্ত দেহ ঘেমে উঠল। 

ভয়ঙ্কর ভূতের গল্প

সে হাত বরফের মত ঠান্ডা। রােগী মৃত। শুধু মৃত হলে এতখানি আতঙ্কের আমার বােধহয় কারণ থাকত না। কিন্তু ব্যাপার যে আলাদা! ডাক্তারী শাস্ত্রে যদি কিছু সত্য থাকে, তাহলে এ রােগী এইমাত্র কখনই মারা যায় নি। তার মৃত্যু হয়েছে অনেক আগে, কয়েক ঘন্টা আগে। সমস্ত দেহ, তার কঠিন। 

উন্মাদের মত আরাে খানিকক্ষণ পরীক্ষা করলাম। না, ভুল আমার হতেই || পারে না। কিন্তু তাহলে কি এ ব্যাপারের অর্থ? 

 তখন কিন্তু স্থিরভাবে কোন চিন্তা করবার আর আমার ক্ষমতা নেই। আতঙ্কে আমার বুকের স্পন্দন পর্যন্ত যেন থেমে আসছে। হঠাৎ জানালার কাছে বাতিটা দপ দপ করে নেচে উঠল। সেটা একবার নেড়ে দেখলাম তাতে তেল এক ফোট নেই।

প্রান্তরের মাঝে নিস্তব্ধ নির্জন বাড়িতে এই ভয়ঙ্কর অবস্থায় আমি একা, এই বাতির আলােটুকুই যেন আমার একমাত্র সহায় ছিল। তাও নিভতে চলেছে দেখে, আমি দ্রুত পদে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়লাম। বুঝতে পারলাম পিছনে আলােটা আর কয়েকবার নেচে নিভে গেল। তখন আমি উঠান ছাড়িয়ে এসেছি প্রায়।

ভয়ঙ্কর ভূতের গল্প

কিভাবে তারপর অন্ধকার প্রান্তরের ভেতর দিয়ে ছুটতে ছুটতে এসে মােটরে উঠেছিলাম তা আমার মনে নেই। মােটর চালিয়ে শহরের মাঝ বরাবর আসবার পর আমার যেন স্বাভাবিক জ্ঞান ফিরে এল।

সবচেয়ে আশ্চর্য ব্যাপার মনে হল, মােটরের এই চলা। খানিক আগে অদ্ভুতভাবে যে মােটর বন্ধ হয়ে গিয়েছিল হঠাৎ এবার বিনা চেষ্টায় আপনা হতে সে মােটর এমন শুধরে গেল কি করে? 

তার পরদিন দিনের আলােকে লােক সঙ্গে করে নিয়ে সেই প্রান্তরের মাঝেকার বাড়ির নিঃসঙ্গ বােগীর শেষ ইচ্ছা পূর্ণ করার ব্যবস্থা করেছিলাম। তার ছেলেই আজকাল সমস্ত বিষয়ের মালিক। 

সেদিনকার রহস্যের স্বাভাবিক মীমাংসা আমি এখনও করতে পারিনি। 

 

Read more

ওয়ারিশ-লীলা মজুমদার 

 

Related Posts

Leave A Comment