• Monday , 18 January 2021

মাতাল হাওয়া -পর্ব-২৪-হুমায়ূন আহমেদ

আপনার বাড়ি আমি কিনতে রাজি আছি। আপনারা তো একই জায়গা তিনচারজনের কাছে বিক্রি করেন। আপনার জমি আর কার কার কাছে বিক্রি করেছেন? আমি দুপুর তিনটায় ছাড়া পেয়েছি। সরাসরি আপনার কাছেই এসেছি।দাম কত চান?

আপনি নগদ যা দিতে চান তা-ই আমি নিব। স্ট্যাম্পে সই করে বাড়ি আপনার নামে লিখে দিব।মেয়েটাকে সঙ্গে নিয়ে যাবেন না

নিয়ে যাব। ওই দেশে আমার মেয়ের বিষয়ে কেউ কিছু জানে না।হাবীব বললেন, চার হাজার টাকা নগদ দিতে পারব। এতে চলবে?কিছুক্ষণ চুপ থেকে নারায়ণ বললেন, চলবে। পানির দাম বলেছেন, কিন্তু চলবে।হাবীব বললেন, চেম্বারে স্ট্যাম্প পেপার আছে। প্রণব লিখে ফেলবে। আমি টাকাটা নিয়ে আসি। মেয়েটাকে কি আজই নিয়ে যাবেন? আজ না, যেদিন শিলচর যাব সেদিন নিয়ে যাব।তার সঙ্গে কথা তো বলবেন। নাকি কথাও বলবেন না?

কথা বলব।হাবীব, প্রণবকে পাঠালেন পদ্মকে নিয়ে আসার জন্যে।পদ্ম বলল, আমি বাবার সঙ্গে দেখা করব না। তার সঙ্গে যাবও না।নাদিয়া বলল, কেন যাবে না?

পদ্ম বলল, বাবা-মা দুজনেই আমাকে ত্যাগ করেছে। আমি তাদের ত্যাগ করেছি।নাদিয়া বলল, তারা ভুল করেছে বলে তুমি ভুল করবে?পদ্ম কঠিন গলায় বলল, আপনি যা-ই বলেন আমি যাব না। আপনার স্যার যদি এসে আমাকে বলেন তারপরেও যাব না।নারায়ণকে টাকা দেওয়া হয়েছে। হাবীব বললেন, টাকা গুনে নিন।নারায়ণ বললেন, প্রয়োজন নাই।অবশ্যই প্রয়োজন আছে। টাকা গুনুন।

নারায়ণ টাকা গুনছেন, তাঁর হাত সামান্য কাঁপছে। প্রণব স্ট্যাপ পেপারে লিখছে। হাবীব বললেন, প্রণব! বাড়িটা লিখবে নারায়ণ বাবুর মেয়ের নামে। সীতা নামে না, নাদিয়া যে নাম দিয়েছে সেই নামে—পদ্ম। মেয়েটার তো কিছুই নাই—বাড়িটা থাকুক। নারায়ণ অবাক হয়ে তাকিয়ে আছেন। বিস্ময়ে তিনি বাক্যহারা। প্রণব স্বাভাবিক। শেষ মুহূর্তে এরকম একটা কাণ্ড যে ঘটবে তা তিনি জানতেন। হাবীব নামের মানুষটির মধ্যে খারাপ অংশ যতটা প্রবল, ভালো অংশও ঠিক ততটাই প্রবল। প্রণবের প্রধান সমস্যা, কোনো মানুষের খারাপ অংশ তার চোখে পড়ে না। ভালোটাই পড়ে।

মাতাল হাওয়া -পর্ব-২৪

অনেক রাত হয়েছে, হাবীব ঘুমাতে এসেছেন। স্ত্রীর জন্যে অপেক্ষা। স্ত্রী শোবার পর তিনি শোবেন। লাইলী পানের বাটা নিয়ে ঢুকলেন। হঠাৎ নিচু হয়ে স্বামীকে কদমবুসি করলেন।হাবীব বললেন, ঘটনা কী?

লাইলী বললেন, প্রণব বাবুর কাছে শুনেছি পদ্ম মেয়েটার নামে আপনি বাড়ি কিনেছেন। আমি মন থেকে আপনার জন্যে আল্লাপাকের দরবারে দোয়া করেছি।ভালো।আপনার মেয়ে কী যে খুশি হয়েছে। সে কাদতেছিল। মাশাল্লাহ, আল্লাপাক আপনাকে একটা ভালো মেয়ে দিয়েছেন।

হাবীব বললেন, আমি মনস্থির করেছি হাসান রাজা চৌধুরীর সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে দিব। তারিখ ঠিক করেছি ২৫ ফেব্রুয়ারি। গভর্নর সাহেব ওই তারিখ দিয়েছেন। তিনি নানান ঝামেলায় আছেন। তার জন্যে সময় বার করা কঠিন।

বলো, আলহামদুলিল্লাহ।লাইলী বললেন, আলহামদুলিল্লাহ।তোমার মেয়ে কি জেগে আছে? মনে হয় জেগে আছে। সে অনেক রাতে ঘুমায়।রাত জেগে কী করে? তার দাদির বিষয়ে কী যেন লেখে।হাবীব উঠে দাঁড়ালেন। লাইলী বললেন, কোথায় যান?

তোমার মেয়ের কাছে। বিয়ের তারিখ হয়েছে এটা তাকে বলি।সকালে বলুন।হাবীব বললেন, রাতে বলতে অসুবিধা কী? নাদিয়া পদ্মকে ম্যাজিক দেখাচ্ছিল। এন্টিগ্র্যাভিটি ম্যাজিক। পদ্ম মুগ্ধ হয়ে দেখছে। নাদিয়া বলল, এর কৌশলটা আমি তোমাকে শেখাব না। নিজে নিজে বের করতে পারো কি না দেখো। এই নাও বোতল, এই নাও দড়ি।

মাতাল হাওয়া -পর্ব-২৪

হাবীবকে ঘরে ঢুকতে দেখে পদ্ম বের হয়ে গেল। নাদিয়া অবাক হয়ে বলল, বাবা, এত রাতে তুমি? একটা সুসংবাদ দিতে এসেছি রে মা। কী সুসংবাদ? তোর বিয়ের তারিখ ঠিক হয়েছে। ২৫ ফেব্রুয়ারি। গভর্নর সাহেব ওই দিন সময় দিয়েছেন। উনাকে ছাড়া বিয়ে হয় কীভাবে? তুই ঝিম ধরে আছিস কেন? কিছু বলবি?

একজন বুনির সঙ্গে আমার বিয়ে? হাসান রাজা চৌধুরী কোনো খুন করে নাই। যে খুন করেছে তার ফাঁসির হুকুম হয়েছে।নাদিয়া মাথা নিচু করে হাসল।হাসছিস কেন?

এমনি হাসলাম। তুমি ২৫ ফেব্রুয়ারি বিয়ে ঠিক করেছ। আমি ওইদিন বিয়ে করব। আমি কখনো তোমাকে ছোট করব না। আমার যখন এগারো বছর বয়স, তখন প্রণব কাকা তোমার বিষয়ে একটা গল্প বলেছিলেন। তখন ঠিক করেছি, আমি কখনো তোমার অবাধ্য হব না।গল্পটা কী?

আমার টাইফয়েড় হয়েছিল। এক রাতে এমন অবস্থা হলো, সবাই ভাবল আমি মারা যাচ্ছি। তুমি আমাকে কোলে করে বাগানে চলে গেলে। চিৎকার করে বললে, আল্লাপাক তুমি আমার জীবনের বিনিময়ে আমার মেয়ের জীবন রক্ষা করো।

হাবীব বললেন, সব বাবাই এরকম করবে।তা হয়তো করবে। পরের অংশটা করবে না। চার দিন চার রাত তুমি আমাকে কোলে নিয়ে বসে রইলে। পঞ্চম দিনে আমার জ্বর কমল। তুমি আমাকে মায়ের পাশে রেখে ঘুমাতে গেলে।

হাবীব বললেন, ঘুমের কথা বলায় ঘুম পাচ্ছে। মা উঠি। বাবা একটু বসো।হাবীব বসলেন। নাদিয়া বলল, আমার মনে মস্ত বড় একটা কনফিউশন আছে। কনফিউশন দূর করো।কী কনফিউশন? নাদিয়া ইতস্তত করে বলল, সফুরা নামের মায়ের কাজের মেয়ের একটা ছেলে আছে। ছেলেটা কি আমার ভাই?

মাতাল হাওয়া -পর্ব-২৪

না। আমার অনেক ত্রুটি আছে। এ ধরনের ত্রুটি নাই।দাদি এ রকম কথা কেন বলে?জানি না কেন বলে।নাদিয়া ছোট্ট নিঃশ্বাস ফেলে বলল, হাসান রাজা চৌধুরী বিষয়ে তুমি যে কথা বলেছ সেটা মিথ্যা বলেছ। সফুরার ছেলের বিষয়ের কথাটা সত্যি বলেছ। বিদ্যুত স্যার আমাদের শিখিয়েছেন মিথ্যা বলার সময় মানুষের মধ্যে কী ধরনের পরিবর্তন হয়। এই বিদ্যার একটা নাম আছে—Physiognomy analysis. বাবা! ঘুমাতে যাও।

হাবীব উঠে দাঁড়ালেন। নাদিয়া বলল, যার সঙ্গে তুমি আমার বিয়ে ঠিক করেছ আমি তাকেই বিয়ে করব। তুমি জেনেশুনে একজন খুনির সঙ্গে আমার বিয়ে দিতে চাচ্ছ, নিশ্চয়ই তোমার কোনো কারণ আছে।

 

আমি এবং আনিস সাবেত মহসিন হলের ছাদে পা ঝুলিয়ে বসে আছি। ছাদে রেলিং নেই। দমকা বাতাস দিলে নিচে পড়ে যাব। এই নিয়ে আমাদের তেমন মাথাব্যথা আছে বলে মনে হচ্ছে না। নিজেদের খুব এলোমেলো লাগছে। এলোমেলো যে লাগছে তার প্রমাণ আমাদের কথাবার্তা। কথাবার্তার নমুনা

আনিস : হুমায়ুন, লাফ দিতে পারবে? আমি : পারব। আনিস : তুমি পারবে না, আমি পারব।আমি : লাফ দিয়ে দেখান যে আপনি পারবেন। আনিস : দু’জন একসঙ্গে লাফ দিলে কেমন হয়? আমি : ভালো হয়। আনিস : তোমাকে লাফ দিতে হবে না। তুমি ওয়ান টু থ্রি বলো।

আনিস সাবেত উঠে দাঁড়ালেন। তাকে দাঁড়াতে দেখেও আমার কোনো ভাবান্তর হলো না। আমি ওয়ান টু থ্রি না বলা পর্যন্ত তিনি লাফ দেবেন না, এটা নিশ্চিত। তিনি আবার বসলেন। আমি বললাম, চলুন ঘরে যাই। আনিস সাবেত বললেন, তুমি যাও। আমি সারা রাত ছাদে বসে থাকব।আমি নিজের ঘরে চলে এলাম। আনিস ভাই ছাদে বসে রইলেন।

মাতাল হাওয়া -পর্ব-২৪

আনিস সাবেত ছিলেন অত্যন্ত রাজনীতি সচেতন মানুষ। মিটিং মিছিল কোনো কিছুই বাদ নেই। লন্ডনপ্রবাসী পশ্চিম পাকিস্তানের ছাত্রনেতা তারিক আলি যখন ঢাকায় আসেন, তখন আনিস সাবেত ফুলের মালা নিয়ে এয়ারপোর্টে যান তাকে অভ্যর্থনা জানাতে।রাজনীতির মাতাল হাওয়া দেখে আনিস সাবেত ভেঙে পড়েছিলেন। কোনো কিছুই তখন কাজ করছে না।

গোলটেবিল বৈঠকের ফলাফল শূন্য।সম্মিলিত বিরোধী দলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেছে আওয়ামী লীগ। কী কারণ তা স্পষ্ট না।ছাত্র সংগঠনগুলির ভেতর নানা ঝামেলা, অবিশ্বাস, নেতৃত্বের লড়াই।মাওলানা ভাসানী হঠাৎ লাহোরে যাবার জন্যে বিমানে উঠলেন। কেন এই সময় তাঁর লাহোর যাত্রা কেউ জানে না। তিনি বললেন, পশ্চিম পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন।

শোনা যাচ্ছে শিগগিরই আরেক যুদ্ধ হবে ভারতের বিরুদ্ধে। ভারত শায়েস্তা হলেই পূর্বপাকিস্তান ঠান্ডা হবে। এবার যুদ্ধ করতে সমস্যা নেই। পাকিস্তানের বন্ধুরাষ্ট্র মহান চীন। পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের প্রকাশ্য এবং গোপন দু’ধরনের সামরিক চুক্তি নাকি আছে। এই আঁতাতের প্রধান কারিগর নাকি মাওলানা ভাসানী।

দেশ চরম অনিশ্চয়তায়। অনিশ্চয়তার ছাপ ভয়ঙ্করভাবে পড়েছে আনিস সাবেতের ওপর। তার কাজকর্ম অপ্রকৃতস্থ মানুষের মতো।রাত তিনটার দিকে আমি আবার ছাদে গেলাম। আনিস সাবেত বললেন, অদ্ভুত কাণ্ড। আমি জেগে থেকেই একটা স্বপ্ন দেখে ফেলেছি।আমি বললাম, কী স্বপ্ন দেখেছেন? পাশে এসে বসো। বলব। স্বপ্ন বলা শেষ করে হয় আমি ছাদ থেকে লাফ দেব নয়তো তোমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলব।

আনিস ভাই, ঘরে চলুন। আপনাকে চা বানিয়ে খাওয়াব। হিটারের তার কেটে গেছে, আপনাকে শুধু তার ঠিক করে দিতে হবে।আনিস ভাই চিন্তিত গলায় বললেন, হিটারের তার কেটে গেছে আমাকে বলবে না? আশ্চর্য! তিনি উঠে দাঁড়ালেন। ব্যস্ত ভঙ্গিতে হাঁটা ধরলেন। যেন হিটারের তার কেটে যাওয়া ভয়ঙ্কর কোনো ঘটনা। এখনই ঠিক করতে হবে।

মাতাল হাওয়া -পর্ব-২৪

তার ঠিক হলো। আমরা চা খেলাম। আনিস ভাই তার স্বপ্ন বললেন। তিনি স্বপ্নে দেখেছেন, পূর্বপাকিস্তান স্বাধীন হয়েছে। সবাই মহাসুখে আছে। শুধু তিনি নেই।তাঁর স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। সবাই মহাসুখে না থাকলেও দেশ স্বাধীন হয়েছে।স্বাধীন দেশে বাস করার আনন্দ আনিস ভাই পাননি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই তিনি Ph.D করার জন্যে কানাডা গিয়েছিলেন। সেখানেই ক্যান্সারে মারা যান।থাক এই প্রসঙ্গ। নাদিয়ার অদ্ভুত চিঠির কথাটা বলি। রেজিষ্ট্রি করা একটা চিঠি নাদিয়ার কাছ থেকে পেয়েছি। চিঠি না বলে সংবাদ বলা উচিত। সংবাদের শিরোনাম—

বিবাহ বিলাস
ফেব্রুয়ারি মাসের পঁচিশ তারিখ আমার বিয়ে।

পাত্র : হাসান রাজা চৌধুরী। পাত্রের রূপ বিচার : কন্দর্প কান্তি (কন্দর্প কান্তির মানে জানো? না জানলে ডিকশনারি দেখো।) পাত্রের গুণ বিচার ; একটি খুন করেছেন। একটি যখন করেছেন, আরও করার সম্ভাবনা আছে। পাত্রের অর্থ বিচার : তার বিষয়আশয় কুবেরের মতো। (কুবের কে জানো না? অর্থের দেবতা।)

পাত্ৰ-বিষয়ে ঠাট্টা করছি না। যা লিখেছি সবই সত্যি। জেনেশুনে এমন কাজ কেন করছি জানো? রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্যে করছি তিনি জেনেশুনে বিষ পান করতে বলেছেন। তার মতো মহাপুরুষের কথা অগ্রাহ্য করি কীভাবে? যাই হোক, তুমি বিয়েতে আসবে। সব বন্ধুবান্ধব নিয়ে আসবে। আমাদের অতিবাড়ির পুরোটা তোমার এবং তোমার বন্ধুদের জন্যে ছেড়ে দেব।

বজরা নিয়ে তোমরা ব্রহ্মপুত্রে নৌবিহার করবে। পাখি শিকার করতে চাইলে তোমাদের নিয়ে যাব ভাটিপাড়ায় আমার শ্বশুরবাড়িতে। ওই বাড়িটার নাম—কইতরবাড়ি। কইতর কী জানো তো? কইতর হচ্ছে কবুতর।

রাগ করো না, তোমাকে একটা কথা বলি। তুমি হাত দেখতে জানো না। আমার প্রসঙ্গে যা যা বলেছ তার কোনোটাই সত্য হয়নি। কাজেই হাত দেখা হাত দেখা খেলা আর খেলবে না। এখন থেকে মন দেখা খেলা খেলবে। মনে করো কেউ তোমাকে বলল, আপনি হাত দেখতে পারেন? তুমি বলবে, হাত দেখতে পারি না তবে মন দেখতে পারি।

মাতাল হাওয়া -পর্ব-২৪

ভালো কথা, আমি দাদিজান হাজেরা বিবিকে নিয়ে ৭৮ পৃষ্ঠা লিখেছি। দাদি অতি নোংরা যেসব কথা বলেন তাও লিখেছি। পড়ে দেখতে চাও? না, পড়তে দেব না। নোংরা অংশগুলি না থাকলে পড়তে দিতাম।

ইতি
নাদিয়া, দিয়া, তোজল্লী।

 

হঠাৎ করে কুয়াশা পড়েছে। এমন কুয়াশা যে এক হাত দূরের মানুষ দেখা যায় না। নাদিয়া কুয়াশা গায়ে মাখার জন্যে দোতলা থেকে নামল। কুয়াশা হচ্ছে মেঘের এক রূপ। কুয়াশা গায়ে মাখা এবং মেঘ গায়ে মাখা একইরকম। সিঁড়ির গোড়ায় প্রণব দাঁড়িয়ে ছিলেন। নাদিয়াকে দেখে বললেন, একজন দ্রলোক তোমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন।

নাদিয়া বলল, কে? তাকে অতিথঘরে বসিয়েছি। নিজে গিয়ে দেখো কে? পরিচিত কেউ?প্রণব হাসতে হাসতে বললেন, পরিচিত কেউ না। আমরা তাকে চিনি না।হাসান রাজা চৌধুরী? হুঁ।আশ্চর্য! কুয়াশার অতিথি! হাসান রাজা নাদিয়াকে ঘরে ঢুকতে দেখে উঠে দাঁড়াল। নাদিয়া বলল, কেমন আছেন?

ভালো আছি। আপনার জন্যে একটা টেলিস্কোপ এনেছি। তারা দেখতে পারবেন।ও আচ্ছা।হাসান কাঠের বাক্স এগিয়ে দিল। নাদিয়া টেলিস্কোপ বের করেছে। আগ্রহ নিয়ে দেখছে। নাদিয়া বলল, এমন দিনে টেলিস্কোপ এনেছেন যে আকাশ থাকবে কুয়াশায় ঢাকা।কুয়াশা কেটে যাবে। কীভাবে জানেন কুয়াশা কেটে যাবে?

 

Read more

মাতাল হাওয়া -শেষ পর্ব-হুমায়ূন আহমেদ

Related Posts

Leave A Comment