মেসি নেমেই রক্ষা করলেন বার্সেলোনাকে।

তাকে রিজার্ভ বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয়েছিল ৫৭ মিনিট পর্যন্ত। ইঞ্জুরির কারণে তাকে খেলানো হবে কিনা তা নিয়ে দোটানায় ছিল সবাই। কিন্তু সেই তিনি নেমেই রক্ষা করলেন বার্সেলোনাকে। তার জাদুতেই লা লিগায় এখনো অপরাজিত থাকতে পারল দলটি। সবচেয়ে বড় কথা পরাজয়ের আতঙ্ক থেকে বের হতে পেরেছে তারা। আর অনেকটা সময় দুই গোলে এগিয়ে থেকেও ড্র নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে সেভিয়াকে। তবে মেসির সাথে সুয়ারেসের নৈপূণ্যের কথাও বলতে হয়। শেষ দু’মিনিটে তাদের জাদু অনেক দিন মনে থাকবে দর্শকদের।

আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমে উঠা ম্যাচে ২০তম মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন হোয়াকিন কোরেয়া। হেসুস নাভাসের দারুণ ক্রসে ডিফেন্ডারকে এড়িয়ে হেড নিলেও লক্ষ্য রাখতে পারেননি আর্জেন্টাইন এই ফরোয়ার্ড।

৩৬তম মিনিটে এগিয়ে যায় সেভিয়া। ডিফেন্ডারের ভুলে অতিথিদের জালে বল পাঠান অরক্ষিত ফ্রাঙ্কো ভাসকেস। কোরেয়ার দারুণ পাস যখন তাকে ডি-বক্সে খুঁজে পায় তখন আশেপাশে ছিলেন বার্সেলোনার ৫ খেলোয়াড়। কিন্তু কেউই পাহারায় রাখেননি ভাসকেসকে। সুযোগ দারুণভাবে কাজে লাগান তিনি।

৪৪তম মিনিটে সমতা আনার দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেন জেরার্দ পিকে। ফ্লাইট বুঝতে না পারায় গোল লাইনের ঠিক সামনে থেকে বলে শট নিতে পারেননি এই স্প্যনিশ ডিফেন্ডার।

দ্বিতীয়ার্ধের ৫০তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ায় সেভিয়া। এভার বানেগার বুলেট গতির শট টের স্টেগেনের মুখে লেগে ফিরলে পেয়ে যান লুইস মুরিয়েল। কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ডের নিখুঁত শট পোস্টে লেগে খুঁজে পায় ঠিকানা।

রক্ষা করলেন বার্সেলোনাকে

ছয় মিনিট পর গোল করার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন নাভাস। টের স্টেগেনকে একা পেয়েও বল জালে পাঠাতে পারেননি এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। এগিয়ে এসে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে খানিক দেরি করিয়ে দেন বার্সেলোনা গোলরক্ষক। তাকে এড়িয়ে নেওয়া শট গোল লাইন থেকে ফিরিয়ে দেন পিকে।
ফিরতি বলে সুযোগ আসে ভাসকেসের সামনে। তবে বুলেট গতির শট লক্ষ্য রাখতে পারেননি তিনি।

এরপরই উসমানে দেম্বেলের জায়গায় মাঠে নামেন লিওনেল মেসি। তাতে বাড়ে বার্সেলোনার আক্রমণের ধার। ৬০তম মিনিটে সুয়ারেসের শট ব্যর্থ হয় পোস্টে লেগে।

একের পর এক আক্রমণ গড়ে বার্সেলোনা। হাতছাড়া হতে থাকে একের পর এক সুযোগ। গতিশীল প্রতি আক্রমণে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ভীতি ছড়ায় সেভিয়া।

অবশেষে ৮৮তম মিনিটে সাফল্য পায় বার্সেলোনা। কর্নার থেকে বল পেয়ে বাইসাইকেল কিকে বল জালে পাঠান সুয়ারেস। পরের মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির শটে জাল খুঁজে নেন মেসি।
বাকি সময়ে প্রচণ্ড চাপ তৈরি করলেও আর গোলের দেখা পায়নি বার্সেলোনা। তিন পয়েন্টের আশা জাগানো সেভিয়া মাঠ ছাড়ে ১ পয়েন্ট নিয়ে।

৩০ ম্যাচে ৭৬ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে বার্সেলোনা। এক ম্যাচ কম খেলে ৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে আতলেতিকো মাদ্রিদ। দিনের অন্য ম্যাচে লাস পালমাসকে ৩-০ গোলে হারানো রিয়াল মাদ্রিদ ৬৩ পয়েন্ট নিয়ে আছে তিন নম্বরে।

Leave a comment

Your email address will not be published.