মেসি বাহিনী ৩-০ গোলে হারল ক্রোয়েশিয়ার কাছে।

 

ম্যাচের দুই অর্ধে দুই চিত্র। প্রথমার্ধে একের পর এক আক্রমণে ক্রোয়েশিয়াকে পাগল করে তোলা আর্জেন্টিনাই যেন দ্বিতীয়ার্ধে ছন্নছাড়া। গোলরক্ষকের ভুলে একটি ও ডিফেন্ডারদের ভুলে আরেকটিসহ মোট তিন গোল খেয়ে মাঠ ছাড়ে মেসি বাহিনী। পুরো ছন্দহীন সেই দ্বিতীয়ার্ধেই হজম করলো একে একে তিনটি গোল। মেসি বাহিনী ৩-০ গোলে হারল ক্রোয়েশিয়ার কাছে। এর ফলে টানা দুই ম্যাচ জিতে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে গেল ক্রোয়েশিয়া। অন্যদিকে বিশ্বকাপে টিকে থাকাই এখন অনিশ্চিত হয়ে গেল আর্জেন্টিনার।

ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচের প্রথমার্ধে যে আর্জেন্টিনা দাপটের সাথে একের পর এক হানা দিয়েছে ক্রোয়েশিয়ার পোস্টে, দ্বিতীয়ার্ধে তারা নিজেদের হারিয়ে খুঁজেছে। লিওনেল মেসিকে খুজেই পায়নি এসময় টিভি ক্যামেরা। একে একে হিগুয়েন, দিবালা ও পাভোনকে মাঠে নামিয়ে আক্রমণের ধার বৃদ্ধি করতে চেষ্টা করেছেন কোচ সাম্পাওলি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

দ্বিতীয়ার্ধের প্রায় শুরুতে(৫৩ মিনিট) গোল করে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। আক্রমণে গিয়েছিলো আর্জেন্টিনা; কিন্তু আগুয়েরো সরাসরি বল মারের ক্রোয়েট গোলকিপারের হাতে। সেখান থেকে পাল্টা আক্রমণে যায় লুকা মরডিচের দল; কিন্তু আর্জেন্টাইন গোলকিপার কাবায়েরোর ভুলের সুযোগ নিয়ে দারুণ এক সাইড ভলিতে গোল করেন মাতেও কোভাচিচ। ব্যাক পাস থেকে বল পেয়ে ডান দিকে থাকা ডিফেন্ডার মারকাদোকে পাস দিতে চেয়েছিলেন কাবায়েরো; কিন্তু বল তার পায়ে ঠিক মতো আসেনি। বল কিছুটা উপরে উঠে নামতে থাকে বক্সের মধ্যে দাড়িয়ে থাকা ক্রোয়েট ফরোয়ার্ড মাতেও কোভাচিচের সামনে। ফাঁকায় দাড়িয়ে থাকা কোভাচিচ উড়ন্ত বলেই বাম পায়ের ভলিতে জলে জড়ান।

মেসি বাহিনী  হারল ক্রোয়েশিয়ার কাছে

গোল খেয়েই যেন পাল্টে যায় আর্জেন্টিনা। যাদের গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠার কথা, তার উল্টো ছন্দ হারিয়ে ফেলে। ৫৬ মিনিটে আরেকটি বিপজ্জনক আক্রমণ করে ক্রোয়েশিয়া। তবে ৬১ মিনিটে গোলে খুব কাছ থেকে ফিরে আসতে হয়েছে মেসিদের। দুর্ভাগ্যই বলতে হবে, ডান পাশ থেকে থিওগোর ক্রসে গোল পোস্টের খুব কাছ থেকে নেয়া প্রথমে মেজা ও পরে মেসির দুটি শট ক্রোয়েট গোলকিপারের গায়ে লাগে।

এর পরের সময়টুকু আবার ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ক্রোয়েশিয়া। ৬৬ মিনিটে মানজুকিচের শট বারের সামান্য বাইরে দিয়ে যায়। ৮০ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে আবার গোল পায় ক্রোয়েশিয়া। এবার বক্সের বাইরে থেকে লুকা মরডিচের বুলেট গতির শটের নাগাল পায়নি আর্জেন্টাই গোলরক্ষক। দুই শূন্য গোলে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া।

৮৬ মিনিটে লুকা মরডিচের আরেকটি ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে বাইরে চলে যায়। নইলে ব্যবধান তখই বাড়তে পারতো। তবে তাতে দমে যায়নি ১৯৯৮ বিশ্বকাপে প্রথম খেলতে এসে চমক দেখানো ক্রোয়েশিয়া। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে আরেকটি গোল করে ম্যাচ ‘শেষ’ করে দেন রাকিটিচ। এখানেও ক্রোয়েশিয়াকে সাহায্য করেছে আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের বোকামি। তারা অফসাইডের আবেদন করে যখন দাড়িয়ে আছেন। বামপ্রান্ত থেকে কোভাচিচের দেয়া বল জালে পাঠিয়ে দেন রাকিটিচ। এর মধ্যে আর্জেন্টাইনরা দু’একটা আক্রমণ করলেও তাতে গোল করার মতো কোন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারেনি তারা।

যদিও এই ম্যাচের শুরুটা ছিলো অন্যরকম। ম্যাচের শুরু থেকেই এদিন দেখা গেছে অন্য আর্জেন্টিনাকে, যারা জয়ের জন্য মরিয়া। প্রতিটি খেলোয়াড় যেন জয়ের নেশায় মত্ত্। বারবার আক্রমণ করে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগকে পাগলপ্রায় করে তুলেছে তারা। তবে লিওনেল মেসিকে খুব একটা খেলার সুযোগ দেয়নি ক্রোয়েটরা। কড়া পাহারায় রাখা হয়েছে তাকে। সারাক্ষণ মেসির গা ঘেঁষে থাকেন একজন মার্কার। আর আর্জেন্টিনার পায়ে বল গেলেওই মেসিকে কয়েক পাশ থেকে ঘিরে রাখা হয় যাতে তাকে পাস না দিতে পারে সতীর্থরা।

মেসি বাহিনী ৩-০ গোলে হারল

১২ মিনিটে প্রথম গোলের সুযোগ তৈরি আর্জেন্টিনা। বিগলিয়ার উচু করে দেয়া বলে অল্পের জন্য পা ছোয়াতে পারেননি মেসি। পরের মিনিটে সালভিওর ক্রসে ম্যাক্সিমিলিয়ানো মেজার মাটি কামড়ানো শট এক ক্রয়েট ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে বাইরে চলে যায়। ২১ মিনিটে আবার বাম প্রান্ত দিয়ে মেজার ক্রস ক্রসবারে লেগে চলে যায় বাইরে। ২৬ মিনিটে বিপজ্জনকভাবে বল নিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন সার্জিও আগুয়েরো। তার ক্রস কর্নারের বিনিময়ে ক্লিয়ার করেন এক ক্রয়েট ডিফেন্ডার। দুই মিনিট পর আবার একই ভাবে বাম প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন প্রথম ম্যাচের গোলদাতা আগুয়েরো। তার ক্রস এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে আসে এনজো পেরেজের পায়ে। পেরেজের বুলেট গতির মাটি কামড়ানো শট যায় গোলপোস্টের বাইরে দিয়ে।

ম্যাচের প্রথম আক্রমণটি অবশ্য করেছিলো ক্রয়েশিয়া। পঞ্চম মিনিটে বাম প্রান্ত দিয়ে ইভান পেরিসিচের ক্রস আর্জেন্টাই গোলরক্ষক কাবায়েরোর হাত ছুয়ে পোস্টের পাশ ঘেঁষে চলে যায়। ২০ মিনিটে আর্জেন্টাই ডিফেন্সর ভুলে প্রায় গোল করেই ফেলেছিলো ক্রয়েশিয়া। তবে শেষ পর্যন্ত বিপদ হয়নি মেসিদের। ৩২ মিনিটেও বারের সামনে ক্রয়েট ফরোয়াড মারজুকিচ বলে হেড করতে পারেনি অল্পের জন্য। আর প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে আন্তে রেবিচ এক বল নিয়ে আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারদেরে আগে দৌড়ে গেলেও পোস্টে শট নিতে পারেননি।

source-nayadiganta

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *