সহজলভ্য সবজি কচু শাকের পুষ্টিগুন ও সতর্কতা গুলো কি কি?  

কচু ও কচুর শাক দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার  লোকজনের কাছে অতি পরিচিত একটি সবজি। কচুর পাতা ও কান্ড সব কিছুই পুষ্টি গুন সম্পূর্ণ ও সুস্বাদু। বাংলাদেশে কচুর শাক খুবই পরিচিত শাক। বাড়ির কোনায়, ধান ক্ষেতের আইলে, বিলের ধারে মোট কথায় সর্বত্রই পাওয়া যায় কচুর শাক। চিংড়ি মাছ, ইলিশ মাছ দিয়ে কচুর তারকারি খুবই সুস্বাদ।

কচুর শাকের পুষ্টিগুন

কচু শাকে রয়েছে,  প্রোটিণ, ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট, ডিটারেরী ফাইবার, শর্করা, বিভিন্ন খনিজ ও ভিটামিন এ, বি৬, সি , প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাংগানিজ ও ফসফরাস ইত্যাদি রয়েছে।  

 

★ কচু শাকের উপকারী গুনাগুনগুলো হলো —-

 

১/ কচু শাকে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে তাই রক্তশূন্যতায় ভোগা রোগীদের জন্য কচু শাক খাওয়া একরকম আবশ্যক বললেই চলে।

 

২/ কচুর শাকে ভিটামিন – এ থাকে যা আমাদের রাতকানা, ছানি পড়াসহ চোখের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধসহ দৃষ্টিশক্তি বাড়িয়ে দেয়।

 

৩/ কচু শাকে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ থাকে যা খাবারকে সহজে হজম করতে সাহায্য করে থাকে। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা আছে, তারা কচুশাক খেতে পারেন।

 

৪/ কচু শাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-‘সি’ থাকায় এর লৌহ উপাদান আমাদের দেহে সহজে মিশে যায় । তাছাড়া ভিটামিন সি শরীরের ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। তাই শিশুদের ছোট বেলা থেকেই কচু শাক খাওয়ানো উচিত।

 

৫/ কচুর শাকে প্রচুর পরিমানে রয়েছে আয়রন যা আমাদের শরীরে হিমোগ্লোবিনের পরিমান বাড়াতে সাহায্য করে।ডাক্তারাও হিমোগ্লোবিন বাড়ানোর জন্য কচুর শাক খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

 

৬/ কচুর শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমান ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাংগানিজ যা আমাদের দাঁতের গঠন ও ক্ষয় রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 

৭/ গর্ভবতী মা ও শিশুদের জন্য কচুর শাক খুবই উপকার। কারন কচুর শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমান ভিটামিন ও আয়রন। 

 

৮ / নিয়মিত কচু ও কচুর শাক খেলে ব্রেস্ট ক্যান্সার ও কোলন ক্যান্সার হবার ঝুঁকি কমে। 

 

৯/ উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য কচু খুবই উপকার। কারন কচু ও কচুর শাক খেলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে।     

 

১০/ কচুর শাকে রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখে।ফলে ডায়বেটিস ও হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।   

 

  

★ কচুর শাক খাওয়ার কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে। সেগুলো হলো – 

 

কচুর শাকে রয়েছে,  অক্সলেট নামক উপাদান। যার পলে অনেলের গলা চুলকায়।যদিও লেচু বা,টক জাতীয় কিছু খেলে চুলকানি সেরে যায়। আর যাদের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে তাদের কচু ও কচুর শাক না খাওয়াই ভালো। 

কচুর শাক বাংলাদেশে খুবই সহজলভ্য। তাই আমরা এই শাকের গুরুত্ব বুঝি না।কিন্তু এই কচুর শাকে আমাদের প্রতিদিনের পুষ্টির চাহিদা অনেকাংশেই মেটানো যায়।

 

লেখক

ত্রোপা চক্রবর্তী।

Leave a comment

Your email address will not be published.