হেরে গেল মোস্তাফিজের মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স।

এবারের আইপিএলে প্রথম দিনই মহানায়ক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল মোস্তাফিজুর রহমানের। কিন্তু পারলেন না। শেষ ওভারে তার বল থেকেই একটি ছক্কা আর একটি চার নিয়ে ম্যাচ ছিনিয়ে নিলো চেন্নাই সুপার কিংস। হেরে গেল মোস্তাফিজের মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স।

এবারের আইপিএল-এর উদ্বোধনী ম্যাচে টানটান লড়াইয়ের পর মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে এক উইকেটে হারিয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ঘটাল চেন্নাই সুপার কিংস। জয়ের নায়ক ডোয়ন ব্র্যাভো (৬৮) ও কেদার যাদব (২৪ অপরাজিত)। শেষ ওভারে চাপের মুখে মাথা ঠান্ডা রেখে ছক্কা ও চার মেরে দলকে জেতালেন কেদার। ফলে ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচেই হারের মুখ দেখতে হল মুম্বইয়ের অধিনায়ক রোহিত শর্মাকে।

এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাটিং করে ৪ উইকেটে ১৬৫ রান করে মুম্বই। ঈশান কিষাণ ৪০, সূর্যকুমার যাদব ৪৩ ও ক্রুণাল পাণ্ড্য ৪১ রান করেন। হার্দিক পাণ্ড্য ২২ রানে অপরাজিত থাকেন। রোহিত করেন ১৫ রান। মুম্বইয়ের ইনিংসের শুরুটা মোটেই ভালো হয়নি। শেষ দিকে ক্রুণাল ২২ বলে ৪১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলায় মুম্বই লড়াই করার মতো রান তুলতে পারে।

রান তাড়া করতে নেমে পরপর উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল চেন্নাই। ১১৮ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে বসে মহেন্দ্র সিংহ ধোনির দল। হার্দিক পাণ্ড্য ও ময়ঙ্ক মার্কণ্ডে তিনটি করে উইকেট নেন। এর আগে চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চলে যেতে বাধ্য হন কেদার। ব্র্যাভো আউট হওয়ার পর ফের ক্রিজে আসেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। শেষ ওভারে জয়ের জন্য চেন্নাইয়ের দরকার ছিল ৭ রান। বল করতে আসেন বাংলাদেশের বাঁ হাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। প্রথম তিনটি বলে রান করতে না পারলেও, চতুর্থ বলে ছক্কা মারেন কেদার। পরের বলেই বাউন্ডারি মেরে দলকে দুর্দান্ত জয় এনে দেন তিনি।

নাইটদের সামনে আজ বিরাটই বড় চ্যালেঞ্জ

নাইটরা যেন নিজভূমে পরবাসী। আর যাবতীয় আকর্ষণ একাই শুষে নিচ্ছেন বিরাট কোহলি। রবিবাসরীয় ইডেনে একাদশ আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ম্যাচে ইডেনের দর্শকরা যে বিরাটের হয়েও গলা ফাটাবেন, তা নিশ্চিত করে বলা যায়।

সাফল্যের নিরিখে কেকেআরের ঝুলি কিন্তু পূর্ণ। রয়েছে জোড়া সাফল্য। হয়তো এবারের নাইট রাইডার্স দলটি তারকাহীন। গৌতম গম্ভীরকে ছেড়ে দিয়ে নতুন নেতা হিসাবে নাইটরা বেছে নিয়েছে দীনেশ কার্তিককে। তারুণ্যে ভরসা রেখেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। শ্রীলঙ্কার মাটিতে ত্রিদেশীয় টি-২০ সিরিজের ফাইনালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কার্তিকের ৮ বলে ২৯ রানের ঝোড়ো ইনিংসের সুবাদে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। আপাতত এই রেকর্ডই বাজছে চারদিকে। সাফল্য পেলে ভালো, পর পর কয়েকটা ম্যাচ হারলে চাপে পড়ে যাবেন ডিকে।
ইডেনের উইকেট দেখে খুশি দুই দলই। বিরাট সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘বড় রান ওঠার সম্ভাবনা প্রবল। দুই দলের স্পিন আক্রমণ বেশ শক্তিশালী। ব্যাটসম্যানদের কাছে তাই কঠিন পরীক্ষা। লড়াই উপভোগ্য হবে।’ ৪৯-এর কলঙ্ক মুছতে চান বিরাট। তার কথায়, ‘একটা খারাপ দিন ছিল। আমরা সেদিন রাতেই সব ভুলতে চেয়েছিলাম। আমরা যে খারাপ দল নই, সেটা এবার প্রমাণ করে দেখাতে হবে।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *