২০৪ রানের লক্ষ্য দিল বাংলাদেশ

test match

তাইজুল ইসলামকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ১২৫ রানে থামালেন রোস্টন চেইস। প্রথম টেস্টে জিততে ২০৪ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য পেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

অফ স্পিনারকে লং অন দিয়ে ছক্কায় উড়াতে চেয়েছিলেন তাইজুল। টাইমিং করতে পারেননি, ধরা পড়েন জোমেল ওয়ারিক্যানের হাতে।

তৃতীয় দিন বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস টিকে দেড় ঘণ্টা। স্বাগতিকরা শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে যোগ করে ৭০ রান। এর মধ্যে শেষ তিন উইকেট হারায় মাত্র ৩ রানে।

লেগ স্পিনার দেবেন্দ্র বিশু ২৬ রানে নেন ৪ উইকেট। চেইস ৩ উইকেট নেন ১৮ রানে।

বিশুই ফেরালেন মাহমুদউল্লাহকে

কি শট খেলবেন আগে থেকেই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। দিতে হল তার মাশুল। দেবেন্দ্র বিশুর দক্ষতার কাছে হার মেনে বিদায় নিলেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। এর আগে এই লেগ স্পিনারের বলেই জীবন পেয়েছিলেন তিনি।

মাহমুদউল্লাহ লেগ স্টাম্পের পাশ দিয়ে পেছনে পাঠাতে চেয়েছিলেন বল। তাকে ব্যাট পেতে রাখতে দেখে শর্ট লেংথে বল করেন বিশু। তাই শট ঠিক মতো খেলতে পারেন মাহমুদউল্লাহ। ব্যাটের কানায় লেগে সহজ ক্যাচ যায় স্লিপে শেই হোপের কাছে।

৪৬ বলে একটি করে ছক্কা-চারে ৩১ রান করেন মাহমুদউল্লাহ। ১২৩ রানে নবম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। স্বাগতিকরা তখন এগিয়ে ২০১ রানে।

বিশুর তৃতীয় শিকার নাঈম

লিড দুইশ ছোঁয়ার পর উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। অভিষিক্ত নাঈম হাসানকে দ্রুত ফিরিয়ে নিজের তৃতীয় উইকেট নিয়েছেন দেবেন্দ্র বিশু।

অফ স্টাম্পের বাইরের ঝুলিয়ে দেওয়া বলে ড্রাইভ করতে চেয়েছিলেন নাঈম। স্পিন করে বেরিয়ে যাওয়া বলে ঠিক মতো শট খেলতে পারেননি। ব্যাটের কানায় লেগে সহজ ক্যাচ যায় প্রথম স্লিপে শেই হোপের কাছে।

২৭ বলে নাঈম করেন ৫ রান। ১২২ রানে অষ্টম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ক্রিজে মাহমুদউল্লাহর সঙ্গী তাইজুল ইসলাম। বাংলাদেশের লিড তখন ২০০ রান।

প্রথম ঘন্টায় মুশফিক-মিরাজের উইকেট

দিনের দ্বিতীয় ওভারে উইকেট হারায় বাংলাদেশ। প্রথম পানি বিরতির আগে দ্বিতীয় শেষ ওভারে আবার হারায় উইকেট। মাঝের সময়টায় মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ।

পানি বিরতির সময় বাংলাদেশের স্কোর ১০৭/৭। মাহমুদউল্লাহ ২০ ও নাঈম হাসান ১ রানে ব্যাট করছেন। স্বাগতিকদের লিড এখন ১৮৫ রান।

প্রথম ঘণ্টায় বাংলাদেশ হারিয়েছে আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজকে। এক ঘণ্টায় যোগ করেছে ৫২ রান।

মিরাজকে থামালেন বিশু

দেবেন্দ্র বিশুর দারুণ এক ডেলিভারিতে থামলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ভাঙল সপ্তম উইকেট জুটির প্রতিরোধ।

লেগ স্পিনারের ঝুলিয়ে দেওয়া ফুল লেংথ বল পা বাড়িয়ে ডিফেন্স করতে চেয়েছিলেন মিরাজ। স্পিন করে বেরিয়ে যাওয়া বল তার ব্যাটের কানা ছুঁয়ে জমা পড়ে কিপার শেন ডাওরিচের গ্লাভসে।

৩৫ বলে তিন চারে ১৮ রান করেন মিরাজ। ১০৬ রানে সপ্তম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ক্রিজে মাহমুদউল্লাহর সঙ্গী প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে দারুণ দৃঢ়তা দেখানো অভিষিক্ত নাঈম হাসান। স্বাগতিকরা এগিয়ে ১৮৪ রানে।

জীবন পেলেন মাহমুদউল্লাহ

দেবেন্দ্র বিশুর লেগ স্পিন ভোগাচ্ছে মাহমুদউল্লাহ। সামনে খেলবেন না পিছিয়ে গিয়ে সামলাবেন তা নিয়ে যেন দ্বিধায় এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। বারবার লাইন, লেংথ পরিবর্তন করে মাহমুদউল্লাহকে চাপে রাখা বিশু তৈরি করলেন সুযোগ, কিন্তু সহজ ক্যাচ মুঠোয় নিতে ব্যর্থ হলেন শেই হোপ।

স্পিন করে বেরিয়ে যাওয়া বল মাহমুদউল্লাহর ব্যাটের কানা ছুঁয়ে সহজ ক্যাচ স্লিপে। বুক উচ্চতার বল মুঠোয় নিতে পারেননি হোপ। সে সময় ১৫ রানে ব্যাট করছিলেন মাহমুদউল্লাহ।

২৭ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১০২/৬। মাহমুদউল্লাহ ১৮ ও মেহেদী হাসান মিরাজ ১৮ রানে ব্যাট করছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ এগিয়ে ১৮০ রানে।

টিকলেন না মুশফিক

দিনের দ্বিতীয় ওভারে প্রথম উইকেট হারাল বাংলাদেশ। শ্যানন গ্যাব্রিয়েল বোল্ড করে ফিরিয়ে দিয়েছেন একবার জীবন পাওয়া মুশফিকুর রহিমকে।

ডানহাতি পেসারের শর্ট লেংথের বল ব্যাটসম্যান যতটা ভেবেছিলেন ততটা উঠেনি। একটু নিচু হয়ে দ্রুত গতিতে ভেতরে ঢোকা বল সামলাতে মুশফিক ছিলেন মন্থর। জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে গিয়ে করতে পারেননি বলে-ব্যাটে, ফিরে যান বোল্ড হয়ে।

৩৯ বলে বলে ১ চারে ১৯ রান করেন মুশফিক। ৬৯ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে স্বাগতিকরা এগিয়ে গেছে ১৪৭ রানে। ক্রিজে মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গী মাহমুদউল্লাহ।

শুরুতেই জীবন পেলেন মুশফিক

তৃতীয় দিনের শুরুতে ক্ষ্যাপাটে ব্যাটিং করা মুশফিকুর রহিম জীবন পেলেন দিনের প্রথম ওভারে।

জোমেল ওয়ারিক্যানের করা দিনের তৃতীয় বলে প্রথম ঝুঁকি নেন মুশফিক। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে করেন সুইপ, পান বাউন্ডারি। এক বল পর আবার একই ধরনের বলে করেন সুইপ এবার টাইমিং করতে পারেননি। তবে মিড অন থেকে ছুটে গিয়ে হাত ছোঁয়ালেও ক্যাচ মুঠোয় জমাতে রোস্টন চেইস। মুশফিক তখন ১৫ রানে ব্যাট করছিলেন।

ওভারের ষষ্ঠ বলে মিডল স্টাম্পের বলে করেন রিভার্স সুইপ। ঝুঁকিপূর্ণ সেই শট ঠিকমতো খেলতে না পারলেও বেঁচে যান কোনোমতে।

দেড়শ রানের লিড যথেষ্ট?

উইকেট থেকে যথেষ্ট সহায়তা পাচ্ছেন স্পিনাররা। কখনও বল থামছে কখনও স্কিড করছে। কখনও লাফিয়ে উঠছে তো কখনও নিচু হচ্ছে। টিকে থাকাই যেন দায় হয়ে উঠছে। নাঈম হাসান মনে করেন, এমন উইকেটে চতুর্থ ইনিংস দেড়শ রান নিয়েই লড়াই করা সম্ভব।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শনিবার সকালে সাড়ে নয়টায় শুরু হবে তৃতীয় দিনের খেলা।

দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৫৫/৫। প্রথম ইনিংসে ৭৮ রানের লিড পাওয়া স্বাগতিকরা এগিয়ে রয়েছে ১৩৩ রানে। মুশফিকুর রহিম ১১ ও মেহেদী হাসান মিরাজ শূন্য রানে অপরাজিত।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিপার ব্যাটসম্যান শেন ডাওরিচ মনে করেন, দুইশ রানের নিচে যে কোনো লক্ষ্য তাড়া করে জেতা সম্ভব। কিন্তু লক্ষ্য দুইশ ছাড়ালে ব্যাটসম্যানদের জন্য কাজটা হয়ে যাবে অনেক কঠিন।
 
দ্বিতীয় দিন শেষে সংক্ষিপ্ত স্কোর:
 
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৩২৪

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ২৪৬

বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ১৭ ওভারে ৫৫/৫ (ইমরুল ২, সৌম্য ১১, মুমিনুল ১২, মিঠুন ১৭, সাকিব ১, মুশফিক ১১*, মিরাজ ০*; রোচ ১-০-১১-০, ওয়ারিক্যান ৮-০-২২-২, চেইস ৫-১-১৬-২, বিশু ৩-০-৫-১)

 

 

source-bdnews

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *