২৫ রানে ম্যাচ জিতে ফাইনাল নিশ্চিত করল কলকাতা।

শুরুটা ভালো হয়নি মোটেও। তবে কথায় আছে, ‘শেষ ভালো যার, সব ভালো তার’। রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে এলিমিনেটরের শুরুটা ভালো না হলেও শেষমেশ ব্যাটে-বলে দুরন্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাল কলকাতা নাইট রাইডার্স। রাজস্থান রয়্যালসকে একাদশ আইপিএল থেকে ছিটকে দিয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারের টিকিট নিশ্চিত করল নাইটরা।

বুধবার (২৩ মে) প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৬৯ রান তোলে কেকেআর৷ জবাবে ব্যাট করতে নামা রাজস্থানকে ৪ উইকেটে ১৪৪ রানে আটকে রাখে তারা। ২৫ রানে ম্যাচ জিতে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার লড়াইয়ের ছাড়পত্র আদায় করে নেয় কলকাতা।

ইডেনের পিচে সুবজের আভা ও মেঘাচ্ছন্ন পরিবেশের কথা মাথায় রেখে টসে জিতে কেকেআরকে প্রথমে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান ক্যাপ্টেন রাহানে। রাজস্থান অধিনায়কের পরিকল্পনা সার্থক প্রমাণিত হয় কেকেআর শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ায়।

ম্যাচটিতে কৃষ্ণাপ্পা গৌতমকে দিয়ে বোলিং আক্রমণ শুরু করেন রাহানে৷ প্রথম বলেই বাউন্ডারি মারেন ক্রিস লিনকে সঙ্গে নিয়ে ওপেন করতে নামা সুনীল নারিন। দ্বিতীয় বলে স্টেপ আউট করে স্ট্যাম্প আউট হন ক্যারিবিয়ান তারকা। তৃতীয় ওভারে বল করতে এসে গৌতম তুলে নেন রবিন উথাপ্পার (৩) উইকেট।

পাওয়ার প্লে’তে আরও একটি উইকেট হারায় কেকেআর। চতুর্থ ওভারে জোফ্রা আর্চারের বলে জয়দেব উনাদকাটের হাতে ধরা দেন নীতিশ রানা (৩)৷ ক্রিস লিন পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। ২২ বলে ১৮ রান করে শ্রেয়াস গোপালের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে বসেন তিনি।

দীনেশ কার্তিকের সঙ্গে জুটি বেঁধে পঞ্চম উইকেটে ৫৫ রান যোগ করেন শুভম্যান গিল। শেষে ১৭ বলে ২৮ রান করে আর্চারের বলে ক্লাসেনের দস্তানায় ধরা দেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের অন্যতম সদস্য।

ফাইনাল নিশ্চিত করল কলকাতা

শুভম্যান ফেরার পর আন্দ্রে রাসেলের সঙ্গে জুটি বাঁধেন নাইট অধিনায়ক৷ আইপিএল ক্যারিয়ারের ১৬ নম্বর হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করে সাজঘরে ফেরেন কার্তিক৷ ৪টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ৩৮ বলে ৫২ রান করে লাফলিনের শিকার হন তিনি৷ জ্যাভন সার্লস মাত্র ২ রান করে লাফলিনের দ্বিতীয় শিকার হন৷ ২৫ বলে ৪৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে অপরাজিত থেকে যান রাসেল। তিনি তিনটি চার ও পাঁচটি ছক্কা মারেন।

রাজস্থানের হয়ে দু’টি করে উইকেট নেন কৃষ্ণাপ্পা গৌতম, জোফ্রা আর্চার ও বেন লাফলিন। একটি উইকেট দখল করেন শ্রেয়াস গোপাল। উইকেট না পেলেও অত্যন্ত কৃপণ বোলিং করেন ইশ সোধি। ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান খরচ করেন তিনি।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে রাজস্থান ইনিংসের শুরুটা মন্দ করেনি। তবে পাওয়ার প্লের পরে রান তোলার গতি বাড়াতে না পারায় চাপ বাড়তে থাকে রাহানেদের উপর। প্রথম পাঁচ ওভারে ওপেনিং জুটিতে ৪৭ রান তোলেন রাহানে-ত্রিপাথি জুটি। ১৩ বলে ২০ রান করে চাওলার বলে ত্রিপাথি কট অ্যান্ড বোল্ড হলে সঞ্জু স্যামসনের সঙ্গে জুটি বাঁধেন অজিঙ্ক৷ দু’জেন মিলে রাজস্থানকে একশো রানের গণ্ডি পার করান।

রাহানে ৪১ বলে ৪৬ রান করে কুলদীপ যাদবের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে বসেন। ব্যক্তিগত হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেই ড্রেসিংরুমের পথে হাঁটা লাগান স্যামসন।  ৩৮ বলে ৫০ রান করে চাওলার দ্বিতীয় শিকার হন সঞ্জু।  খাতা খোলার আগেই স্টুয়ার্ট বিনিকে ফিরিয়ে দেন প্রসিধ কৃষ্ণ।  কৃষ্ণাপ্পা গৌতমকে নিয়ে হেনরিচ ক্লাসেন শেষ চেষ্টা করলেও রাজস্থানকে জয় এনে দেয়ার পক্ষে যথেষ্ট ছিল না তাদের প্রয়াস।

কলকাতার হয়ে ২৪ রানের বিনিময়ে ২ উইকেট নেন চাওলা। ১৮ রানে ১ উইকেট নিয়েছেন কুলদীপ। বিশেষ রান খরচ করেননি রাসেল-প্রসিধরাও। ব্যাটে বলে সফল রাসেল ম্যাচের সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন।

 

source-gonews

Leave a comment

Your email address will not be published.