৩৪ বছর পরে ইংলিশদের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জিতার স্বাধ পেলো নিউজিল্যান্ড।

টেস্ট ক্রিকেটের মাহাত্ম প্রতিষ্ঠিত হল আরো একবার। ড্র টেস্টও যে এমন উত্তেজক রূপ নিতে পারে, তা বোঝা গেল হ্যাগলি ওভালে। শেষ দিনে ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট জিতে সিরিজে সমতা ফেরানোর হাতছানি ছিল ইংল্যান্ডের সামনে। তবে কিউই টেলএন্ডারদের চোয়াল চাপা প্রতিরোধ জিততে দিল না ব্রিটিশদের। দিনের শেষ দু’ঘণ্টায় ওয়াগনার-সোধি জুটি গড়ে নিউজিল্যান্ডের পরাজয় রোধ করে। একই সঙ্গে দলের সিরিজ জয় নিশ্চিত করে। পাশাপাশি দীর্ঘ ৩৪ বছর পরে নিজেদের মাঠে ইংলিশদের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জিতার স্বাধ পেলো নিউজিল্যান্ড।

শুরুটা ভালো না হলেও ক্রাইস্টচার্চের প্রথম দিন থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল ইংল্যান্ডের হাতে৷ প্রথম ইনিংসে ৩০৭ রানের জবাবে ব্রিটিশরা নিউজিল্যান্ডকে অলআউট করে ২৭৮ রানে। ২৯ রানের সংক্ষিপ্ত লিড নিয়ে দ্বিতীয় দফায় ব্যাট করতে নামা ইংল্যান্ড ৯ উইকেটে ৩৫২ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংস ডিক্লেয়ার করে দেয়।

জয়ের জন্য ৩৮২ রানের লক্ষ্যমাত্রা সামনে নিয়ে শেষ ইনিংসে ব্যাট করতে নামা নিউজিল্যান্ড চতুর্থ দিনের শেষে বিনা উইকেটে ৪২ রান তুলেছিল। তার পর থেকে খেলতে নেমে পঞ্চম দিনের প্রথম ওভারেই নিউজিল্যান্ড হারিয়ে বসে জিৎ রাভাল (১৭) ও দলনায়ক কেন উইলিয়ামসনের উইকেট৷ টম লাথাম এক প্রান্ত আঁকড়ে ৮৩ রান করলেও রস টেলর (১৩), হেনরি নিকোলস (১৩), বিজে ওয়াটলিংরা (১৯) খুব বেশিক্ষণ ক্রিজে স্থায়ী হতে পারেননি।

টেস্ট সিরিজ জিতার স্বাধ পেলো নিউজিল্যান্ড

তারপরেই দলের হাল ধরেন শেষের দিকের টেলেন্ডার ইশ শোধি। অষ্টম উইকেটের জুটিতে ৩১.২ ওভার অবিচ্ছেদ্য থেকে ওয়াগনার-সোধি যোগ করেন ৩৭ রান। ম্যাচের শেষ ওভারে আউট হওয়ার আগে ১০৩ বলে ৭ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন ওয়াগনার। সোধি ১৬৮ বলে ৫৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। শেষ দিনের নির্ধারিত সময়ে মোট ১০১.৪ ওভার খেলা হয়। ওয়াগনার আউট হওয়া মাত্রই আম্পায়াররা ম্যাচ ড্র বলে ঘোষণা করেন। নিউজিল্যান্ড ৮ উইকেটে ২৫৬ রান তুলে দিনের খেলা শেষ করে।

দুই ইনিংস মিলিয়ে দারুণ অল-রাউন্ডিংয়ের জন্য ম্যাচ সেরা হয়েছেন টিম সাউদি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ফল: ড্র

ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৩০৭

নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ২৭৮

ইংল্যান্ড ২য় ইনিংস: ৩৫২/৯ ইনিংস ঘোষণা

নিউ জিল্যান্ড ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৩৮২) ১২৪.৪ ওভারে ২৫৬/৮

সিরিজ: ১-০ ব্যবধানে জয়ী নিউজিল্যান্ড

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: টিম সাউদি

ম্যান অব দ্য সিরিজ: বোল্ট

উল্লেখ্য, ঘরের মাঠে ১৯৮৪ সালের মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম সিরিজ জিতেছিলো কিউইরা। এরপরে ইংল্যান্ডে সবশেষ ১৯ বছর আগে সিরিজ জিতেছিলো নিউজিল্যান্ড।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *