৫ উইকেটে হারতে হল নাইটদের।

দ্বিতীয় ম্যাচেই মুখ থুবড়ে পড়ল কলকাতা নাইট রাইডার্স। চিপকে চেন্নাই সুপার কিংসের সামনে ২০৩ রানের টার্গেট খাড়া করেও ৫ উইকেটে হারতে হল নাইটদের। প্রশ্ন উঠছে, বিনয় কুমারের মতো বোলারকে কি দলে রাখা হয়েছে বিপক্ষকে ম্যাচ ‘উপহার’ দেয়ার জন্য? গত ম্যাচেও ভালো বল না করা সত্বেও কেন তাঁকে দলে রাখা হয়েছিল? এর পরেও কি কমলেশ নাগারকোটির মতো তরুণ পেসাররা সুযোগ পাবেন না? একই সঙ্গে দীনেশ কার্তিকের নেতৃত্বগুণ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য সিএসকে’র দরকার ছিল ১৭ রান। বিনয় কুমারের প্রথম ডেলিভারি কোমরের ওপরে থাকায় নো বল হয়। তাতে অবশ্য ছক্কা হাঁকাতে ভোলেননি ডোয়েন ব্র্যাভো। শেষ পর্যন্ত পঞ্চম বলে ওভার বাউন্ডারি হাঁকিয়ে চেন্নাইকে জয়ের কড়ি এনে দেন রবীন্দ্র জাদেজা। দু’জনেই ১১ রানে অপরাজিত থাকেন। সিএসকের জয়ের আসল কারিগর কিন্তু স্যাম বিলিংস। ২৩ বলে তার ঝোড়ো ৫৬ রানের ইনিংসই কেকেআরের জয়ের আশায় জল ঢেলে দেয়।

টার্গেট কঠিন হলেও চেন্নাই সুপার কিংসের দুই ওপেনার শেন ওয়াটসন ও অম্বাতি রায়াডু দ্রুত গতিতে রান তোলার চেষ্টা করেন। ৫ ওভারে ৬৩ রান পৌঁছে যায় সিএসকে। বিনয় কুমার প্রথম ওভারেই দেন ১৬ রান। স্পিনার পীযূষ চাওলাও সুবিধা করতে পারেননি। শুরুতে বেশ চাপে ছিল কেকেআর। টম কুরান নাইট রাইডার্সকে প্রথম সাফল্যটি এনে দেন। তার বলে তুলে মারতে গিয়ে ওয়াটসন ৪২ রানে আউট হন। অষ্টম ওভারে রান চেক দেন সুনীল নারিন। পরের ওভারে কুলদীপের বলে আউট হন অম্বাতি রায়াডু (৩৯)। ফলে সিএসকের আস্কিং রেট আরো বেড়ে যায়। মহেন্দ্র ধোনিও ব্যাটে-বলে ঠিকমতো সংযোগ ঘটাতে পারছিলেন না। তার মধ্যে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান রায়না। শেষ পর্যন্ত ১২ বলে ১৪ রান করে নারিনের বলে ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়েন রায়না। তার আগে ৬ রানে রায়নার ক্যাচ ফেলে কুরান।

হারতে হল নাইটদের

প্রথম দিকে বেশ ঢিমে তালেই ব্যাট করছিলেন ধোনি। চাপের মুখে তিনিও চালিয়ে খেলতে বাধ্য হন। হঠাৎ করে তিনি জ্বলে ওঠায় ম্যাচে ফেরে সিএসকে। দুরন্ত ব্যাটিং করেন স্যাম বিলিংসও। শেষ চার ওভারে জয়ের জন্য সিএসকে’র দরকার ছিল ৫১ রান। কিন্তু ১৭তম ওভারে চাওলার বলে ধোনির ক্যাচ ধরেন উইকেটরক্ষক দীনেশ কার্তিক। ২৮ বলে ২৫ রান করে মাঠ ছাড়েন মাহি।

অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন ম্যাচটা নাইটদের হাতের মুঠোয়। কিন্তু স্যাম বিলিংস বিধ্বংসী ব্যাটিং করে কেকেআরকে পালটা চাপে ফেলে দেন। তিনি ২১ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ৯ বলে যখন ১৯ রান দরকার, তখন ছক্কা মারতে দিয়ে বিলিংস আউট হন। তিনি ২৩ বলে ৫৬ রান করেন। বিলিংসের ইনিংসে রয়েছে পাঁচটি ছক্কা ও দু’টি চার।

টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং নেন চেন্নাই সুপার কিংসের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। ইডেনে যেখানে শেষ করেছিলেন, চিপকে সেখান থেকেই শুরু করেন সুনীল নারিন। প্রথম ওভারে চাহারের শেষ দু’টি ডেলিভারিতে ছক্কা হাঁকান তিনি। নাইটরা ওই ওভারে তোলে ১৮ রান। যদিও পরের ওভারে হরভজন সিংকে আক্রমণ শানাতে গিয়ে ১২ রানে ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়েন নারিন। ২২ রানে আউট হন ক্রিস লিন।

আট ওভারে কেকেআর ৮০ রান তুলে ফেলেছিল। কারণ, ঝোড়ো ব্যাটিং করছিলেন রবীন উথাপ্পা। তিনটি বিশাল ছক্কা হাঁকান তিনি। ২৯ করে উথাপ্পা রান আউট হতেই কেকেআরের রানের গতি মন্থর হয়ে পড়ে। তার আগেই অবশ্য মাঠ ছাড়েন নীতিন রানা (১৬)। দীনেশ কার্তিক উইকেটে টিকে থেকে দলকে ভদ্রস্থ জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাকে যোগ্য সঙ্গত দেন ক্যারিবিয়ান তারকা অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল। তাঁরা যোগ করেন ৭৬ রান। চিপকের গ্যালারিতে বসে গলা ফাটান কলকাতা নাইট রাইডার্সের অন্যতম মালিক শাহরুখ খান। মিডল অর্ডারে কেকেআর কিছুটা চাপে পড়ে যাওয়ার পর শাহরুখকে বেশ উদ্বিগ্ন দেখাচ্ছিল। পরে শাহরুখের মুখে হাসি ফোটান আন্দ্রে রাসেল।

হারতে হল নাইটদের

তার ঝোড়ো ব্যাটিং দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন কিং খান। ছক্কা হাঁকিয়ে ২৬ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন রাসেল। ১৯তম ওভারে ডোয়েন ব্র্যাভোর পর পর তিনটি বলে ছক্কা হাঁকিয়ে রাসেল বুঝিয়ে দিলেন তিনি এখনও গেম চেঞ্জার। ইনিংসটার রং একাই বদলে দেন তিনি। পঞ্চাশ পেরোনোর পর তার ব্যাটে যেন ঝড় ওঠে। ১১টি ছক্কা হাঁকিয়ে সেঞ্চুরির আশা জাগিয়ে তুলেছিলেন তিনি। কিন্তু কুরান দু’টি বল ব্যাটে লাগাতে পারেননি। পঞ্চম বলে কোনোরকমে সিঙ্গলস নেন কুরান। শেষ বলে ফের ছক্কা হাঁকিয়ে ইনিংসের পরিসমাপ্তি ঘটান রাসেল। ৩৬ বলে ৮৮ রানে অপরাজিত থাকেন রাসেল। ৬ উইকেটে কলকাতা নাইট রাইডার্স তোলে ২০২ রান।

নির্বাসন কাটিয়ে মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বেই দু’মরশুম পর চিপকে ফিরল চেন্নাই সুপার কিংস। তাই বাঁধ ভাঙা আবেগ ছিল সমর্থকদের মধ্যে। গায়ে হলুদ জার্সি আর মুখে মহেন্দ্র সিং ধোনির নামে জয়ধ্বনি। কাবেরী জলবণ্টন বিতর্ক নিয়ে তামিলনাড়ুর বেশ কিছু রাজনৈতিক দল আইপিএলের ম্যাচ পণ্ড করার হুমকি দিয়েছিলেন। ফলে কড়া নিরাপত্তা ছিল মাঠে।

Leave a comment

Your email address will not be published.