Categories
লাইফস্টাইল

করোনারোধে ফুসফুসের ঘরোয়া ব্যায়াম

করোনাভাইরাস যুদ্ধটা করে মূলত ফুসফুসের সাথে । যার ফলে আক্রান্ত ব্যাক্তির শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, প্রাথমিক ভাবে হালকা শ্বাসকষ্ট দিয়ে শুরু হলেও আস্তে আস্তে তা ফুসফুসে ক্ষত তৈরী করে । তাই ফুসফুসের ব্যায়াম করাটা খুবই জরুরি । নিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম ফুসফুসকে সুস্থ রাখে ।

ফুসফুসের কর্মক্ষমতা

বিশেষত হাঁপানি বা ক্রোনিক ব্রংকাইটিসের রোগীদের ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়াতে এই ব্যায়াম খুবই কার্যকরী।

১. মেডিটেশন বা ধ্যানঃ

প্রথমেই নিরিবিলি একটা স্থান নির্ধারণ করুন । মেরুদন্ড সোজা করে বসে চোখ বন্ধ করে পরপর কয়েকবার গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নিন। ধীরে ধীরে এর গতি কমে আসবে ।প্রথমে প্রশ্বাস ছাড়ার সময় এক গুনবেন, তার পরেরবার দুই এভাবে পাঁচ পর্যন্ত । পুনরায় আবার এক ‍দিয়ে শুরু করবেন । ব্যায়ামটি দিনে ১০ মিনিট করবেন । 

২.চক্রাসনঃ

সোজা হয়ে শুয়ে পড়ুন । আস্তে আস্তে হাঁটু দুটি ভাঁজ করে দুই হাতের জোরে নিতম্বসহ শরীরটি উপরে তুলুন । হাঁটু যতটা সম্ভব ভাঁজ করে গোড়ালি হাত দিয়ে স্পর্শ করুন । শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে এইভাবে ৩০ সেকেন্ড থাকুন । একই ভাবে ৫ বার করুন । 

৩.বেলো ব্রিদ্রিংঃ

মুখ বন্ধ করে নাক দিয়ে ঘন ঘন শ্বাস প্রশ্বাস নিন। প্রতি সেকেন্ডে তিনবার শ্বাস নেয়া ও ছাড়ার চেষ্টা করুন । শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার সময়টি একই রকম হবে । 

৪. ব্রিদ্রিং এক্সারসাইজঃ                                                     

বুক ভরে লম্বা নিঃশ্বাস নেয়া আর ধীরে ধীরে নিঃশ্বাস ছাড়ার মাধ্যমে ফুসফুসকে মজবুত করা যায় । বুক ভরে শ্বাস নেওয়ার ফলে পাঁজরের হাড় বা রিবস বাইরের দিকে সরে এসে ডায়াফ্রামের পেশি সংকুচিত হয়ে নিচে নেমে যায় । ফলে ফুসফুসের প্রসারণের জন্য যথেষ্ট জায়গা পায় । আবার নিঃশ্বাস ছেড়ে দিলে রিবস এবং ডায়াফ্রমের পেশি পূর্বের অবস্থানে ফিরে আসে । এর ফলে শরীর অতিরিক্ত অক্সিজেন পায় বেশি শক্তি যোগায় ও ক্লান্তি দূর করে ।  

৫.প্রোন পজিশনঃ                                                                 

বুকে বালিশ দিয়ে উপুড় হয়ে শোন । জোরে শ্বাস নিন। ৫-১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন । এবার আস্তে আস্তে ছাড়ুন । বারবার এরকম করুন । এই পজিশন   করোনা রোগীর  জন্য বেশ উপকারী । এটি ফুসফুস থেকে রক্তে অক্সিজেন বিনিময়ে সহায়তা করে ।

৬. বাম নাক আঙ্গুল দিয়ে বন্ধ করে ডান নাক দিয়ে শ্বাস নিন। ৫-১০ সেকেন্ড ধরে রেখে আস্তে আস্তে ডান নাক দিয়ে শ্বাস ছাড়ুন । আবার ডান নাক বন্ধ করে দিয়ে বাম নাক দিয়ে একইভাবে শ্বাস নিন আর ছাড়ুন । এটি শ্বাসযন্ত্রের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে । 

৭. সকাল-বিকাল লম্বা শ্বাস নিয়ে বেলুন ফোলান । এটি শ্বাস – প্রশ্বাসের অন্যান্য সহায়ক পেশীগুলোকে কর্মক্ষম রাখে ।                 

Categories
লাইফস্টাইল

করোনাকালে শিশুকে সুরক্ষিত রাখার উপায়

করোনার আতঙ্ক এখন নিত্যসঙ্গী । বিশ্বের শান্তি ও স্বস্তি কেড়ে নিয়েছে কোভিড -১৯ । আমরা নিজেদের বিষয়ে সচেতন, কিন্ত্ত প্রশ্নটা যদি হয় শিশুদের নিয়ে, তাহলে বাবা-মায়ের চিন্তার শেষ থাকেনা । কেননা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে খুবই কম । আবার মনের মতো না হলে অনেক কিছুই খেতে চায় না বাচ্চারা ।

শিশুকে সুরক্ষিত রাখার উপায়

তাই শিশুদের এমন কিছু খাওয়াতে হবে যাতে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির সাথে সাথে পুষ্টির ঘাটতি ও মিটে যায় ।

যা যা করতে হবে-

১. বুকের দুধ খাওয়ানোঃ

মায়ের বুকের দু্ধের বিকল্প নেই । কেননা এখান থেকেই শিশুরা প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় । বয়স অনুযায়ী শিশুকে অন্য খাবার ও খাওয়ানো যায় । 

২. যথাযথ খাদ্যভ্যাসঃ

জান্কফুডের পরিবর্তে শিশুদেরকে খাওয়াতে হবে টাটকা ও সতেজ খাবার । ভালো খাদ্যাভ্যাসেই পারে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে । 

৩. শাক-সবজি ও ফলমূলঃ

বাচ্চারা শাক-সবজি খেতে তেমন পছন্দ করেনা । কিন্ত্ত মৌসুমি ফল-সবজিতে থাকে রোগ প্রতিরোধের যাবতীয় উপাদান । তাই প্রত্যেক দিনের খাবারের তালিকায় রাখতে হবে – সবুজ শাক-সবজি, পালং শাক, লালশাক ও ভিটামিন ‘‘এ’’ও‘‘সি’’ সমৃদ্ধ পেয়ারা, পেঁপে, কমলা,পেঁয়াজ, কুমড়ো ।

৪. ডিমঃ

ডিম খেতে সব বাচ্চারাই পছন্দ করে । ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল ও প্রোটিন যা শরীরের প্রয়োজনীয় অনেক চাহিদা পূরণ করে। 

৫. ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডঃ

শিশুদের খাবারের তালিকায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার যেমন – আখরোট, কাঠবাদাম, মাছ ইত্যাদি রাখতে পারেন । এগুলো ফুসফুসের সংক্রমন থেকে রক্ষা করে । 

৬. দইঃ

শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টি-ফাংগাল উপকরণ সমৃদ্ধ খাবার দই । এটি সর্দি-কাশি জ্বরের মতো সংক্রমণ থেকে রক্ষার পাশাপাশি হজম সমস্যা দূর করে । টক দেই এ থাকা ভিটামিন সি হাড় ও দাঁত মজবুত করে । 

৭. চিনি  নিয়ন্ত্রণঃ

চিনিযুক্ত খাবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় । তাই খাবারে চিনির পরিমাণ কমাতে হবে ।

৮. মশলাজাতীয় খাবারঃ

বিভিন্ন ধরনের মশলা যেমন- আদা, হলুদ, রসুনে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট । এগুলো সহজেই শরীরেকে জীবাণুমুক্ত করে সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে । 

৯. অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিকঃ

শিশুদের সামান্য অসুখেই পরিচিত কিছু অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো হয় । দ্রুত রোগ সেরে গেলেও শিশুকে ভিতরে ভিতরে দুর্বল করে তোলে। তাই শিশুকে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে সতর্ক হতে হবে । 

এসবের পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য শিশুদের পরিমিত ঘুম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, শরীর চর্চায় দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে ।  

Categories
লাইফস্টাইল

পেয়ারার অবাক করা গুণাগুণগুলো

পেয়ারা র গুণের কথা জানতেন কিন্তু এতগুণের কথা আগে শুনেছেন কি? আসুন জানি গুনগুলো

পেয়ারা ! খুবই পরিচিত একটি দেশীয় ফল পেয়ারা। আমাদের দেশে প্রায় সর্বত্রই পেয়ারা পাওয়া যায়।আর তাই এই ফল বেশ অবহেলিত। কিন্তু আমরা হয়তো অনেকই এর পুষ্টি গুণ সম্পর্কে সঠিক ভাবে হয়তো জানি না।পেয়ারার

পেয়ারায় ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি  ও ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স রয়েছে। রয়েছে যথেষ্ট পরিমাণে বিটা-ক্যারোটিন।আরও রয়েছে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ফলিক অ্যাসিড এবং নিকোটিনিক অ্যাসিডসহ আরও অনেক উপাদান।   

 

★ নিচে পেয়ারার অবাক করা গুণাগুণগুলো দেয়া হলো : 

 

 ১/ পেয়ারায় রয়েছে প্রচুর পরিমান ভিটামিন-সি, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

 

২/ পেয়ারায় রয়েছে ভিটামিন – সি ও পলিফেলন যা অ্যান্টিঅক্সিডেক্ট হিসাবে কাজ করে।আর এইগুলো ক্যান্সার প্রতিরোধে খুবই কার্যকর।

 

৩/ পেয়ারায় ফাইবার বেশি এবং গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। ফলে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়। তাই এটি ডায়বেটিস রোগীদের জ্ন্য খুবই উপকারী খাওয়া।

 

৪/ শরীরে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ব্যালেন্স ঠিক রাখে। কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে ফলে হার্ট থাকে সুস্থ ও সবল।

 

৫/ দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখতে পেয়ারা অব্যর্থ। ভিটামিন-এ প্রচুর পরিমাণে থাকার কারণে চোখ ভালো থাকে।

 

৬/ পেয়ারায় থাকা ভিটামিন – এ-৯, ফলিক এসিড গর্ভস্ত বাচ্চার স্নায়ু বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 

৭/ ভিটামিন – সি ও আয়রন প্রচুর পরিমানে থাকায় পেয়ারা গলায় ও ফুসফুসে জমে থাকা কফ সারাতে সাহায্য করে।     

 

৮/ পেয়ারায় রয়েছে ভিটামিন – বি থ্রি ও বি সিক্স।যা মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং মস্তিষ্ককে করে সুস্থ ও সচল।

 

৯/ পেয়ারা,কেলে হজম শক্তি বাড়ে এবং এতে গ্লুকোজের পরিমানও কম।ফলে ওজনও কমে।   

 

১০/ পেয়ারা পেশীর শিথিলতা বাড়িয়ে শরীরকে রিলাক্স করতে সহায়তা করে। তাই প্রচুর পরিশ্রমের পর পেয়ারা খেলে স্ট্রেস দূর হয়।

 

 ১১/ বয়সের সঙ্গে জরিত নানা রোগ যেমন – আলঝেইমা, চোখে চানি বা আর্থ্রাইটিস  বা হাঁটু ব্যথা প্রতিরোধে সহায়তা করে।      

 

১২/  পেট ভাল রাখতে পেয়ারা খাওয়া যেতে পারে। পেয়ারায় রয়েছে অ্যাস্ট্রিনজেন্ট ও অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল প্রপার্টিস। যা ডায়ারিয়াতে বেশ ভালো কাজ দেয়।

 

১৩/ অনেক নারীদেরই মাসিক কালীন পেট ব্যথ হয়। এই সময় পেয়ারার পাতা চিবিয়ে বা রস খেলে মাসিকালিন ব্যথা থেকে দ্রুত উপসম পাওয়া যায়।

 

সম্প্রতি আমেরিকায় এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, যে কোন ঋতুতে শরীর সুস্থ রাখতে পেয়ারা দারুণ উপকারী। শরীরের অধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সক্রিয় রাখার জন্য এটি একটি প্রাকৃতিক উপাদান। 

 

লিখেছেন –

ত্রোপা চক্রবর্তী

 

 

Read More

সকালে খালি পেটে ফল খাওয়ার উপকারিতা

Categories
লাইফস্টাইল

টক স্বাদের কাঁচা আমের ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেক্ট শরীর জন্য কতটুকু উপকারী?

 ফলের রাজা হলো আম। বড় ছোট এমন কেউ নেই যে আম পছন্দ করে না।

পাকা আমের স্বাদে তো সকলেই বিমোহিত। কাঁচা আমের প্রতিও মুগ্ধতা কম না মানুষের।বিশেষ করে নারীদের খুব পছন্দ কাঁচা আমের ভর্তা, আচার। গর্ভবতী নারীদের বিশেষ পছন্দের তালিকায় রয়েছে কাঁচা আম। কাঁচা আম দিয়ে বিভিন্ন রকমের টক, ঝাল ও মিষ্টি আচার তৈরি করা হয়।

আর এই আচারের চাহিদাও সবচেয়ে বেশি। গরমের মধ্যে কাঁচা আমের টক ডাল ও শরবত বেশ লোভনীয়।

কাঁচা আম দিয়ে মাছও রান্না করা যায়।

কাঁচা আমের

কাঁচা আমে রয়েছে  – পটাশিয়াম, ভিটামিন, মিনারেল, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালশিয়াম, আয়রন, প্রচুর ফাইবার সহ আরও অনেক পুষ্টি গুণ।

নিচে কাঁচা আমের গুনাগুন গুলো দেয়া হলো :

 

কাঁচা আমের ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেক্ট

১/ পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম প্রচুর পরিমানে রয়েছে কাঁচা আমে। ফলে পেশী সংকোচন, মানসিক চাপ সহ নানা রকম শরীরিক সমস্যা দূর করে।

 

২/ কাঁচা আমে রয়েছে প্রচুর আয়রন, যা আমাদের শরীরের রক্তস্বল্পতার সমস্যা দূর করতে খুবই উপকার। 

 

৩/ ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ হওয়ায় শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে এবং প্রচন্ড গরমে অনেক সময় দেখা যায় সর্দি কাশি। আর এই সমস্যা  খুবই উপকারী কাঁচা আম।

 

৪/ আম হলো প্রচুর ফাইবার সমৃদ্ধ।তাই কাঁচা আম খেলেও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হয়।  

 

৫/ রক্ত ঘটিত এক প্রকার রোগ হচ্ছে স্কার্ভি। কাঁচা আম এই স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধে দারুণ কার্যকরী।কাঁচা আম শুকিয়ে গুড়া করে প্রতওদিন ১ চামচ খেলে স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ হয়।

 

৬/ ভিটামিন ও ক্যারটিন সমৃদ্ধ কাঁচা আম চোখের জন্য খুবই উপকারী।    

 

৭/ কাঁচা আমে পাকা আমের চেয়ে বেশি ভিটামিন- সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে প্রচুর পরিমানে। তাই  এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার এবং কার্ডিওভাসকূলার রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে। এটা মর্নিং সিকনেস চিকিৎসার সহায়ক হিসাবে কাজ করে।

 

৮/ গ্রীষ্মকালীন ডায়ারিয়া, আমাশয়, পাইলস, দীর্ঘস্থায়ী এঁড়ে, বদহজম এবং কোষ্টকাঠিন্য রোগের জন্য ওষুধ হিসাবে খুব কার্যকর হিসাবে কাজ করে কাঁচা আম।

 

৯/  কাঁচা আমের সঙ্গে চিনি, জিরা এবং এক চিমটি লবন মিশিয়ে সিদ্ধ করে জুস বানিয়ে খেলে ঘামাচি রোধে সাহায্য করে এবং গ্রীষ্মকালে স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমে।

 

১০/ যকৃতের রোগ চিকিৎসায় সাহায্য করে এই কাঁচা আম ও পিত্ত অ্যাসিড কমায় এবং ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ থেকে লিভারকে রক্ষা করে।

 

আরও অনেক অনেক উপকারিতা রয়েছে সুস্বাদু টক স্বাদের কাঁচা আমের।  

তবে কিছু কিছু সমস্যায় এটি না খাওয়াই ভালো। যেমন – 

★ অতিরিক্ত কাঁচা আম না খাওয়াই ভালো।এতে পেটের অসুখ যেমন ডায়রিয়া হবার সম্ভাবনা থাকে।

 

★ কাঁচা আমপর কষ মুখে লাগলে ঘাঁ হবার সম্ভাবনা থাকে এবং পেটে গেলে তা গলায় ও পেটেও সংক্রমিত হয়।

 

পুষ্টিবিদেরা মতে,  কাঁচা আম  বা পাকা আম দুই ধরনের আমই শরীরের জন্য ভালো ৷

আম কাঁচা বা পাকা যে অবস্থায়ই থাকুক না কেন, শরীরের জন্য এর কোনো নেতিবাচক দিক নেই বললেই চলে।

তাই আমের মৌসুমে আমটাকে ইচ্ছা মত মজা করে কাঁচা বা পাকা খাওয়া শরীরে জন্য ভালো। 

 

লিখেছেন –

ত্রোপা চক্রবর্তী 

 

Read More

সকল ধরণ চিকিৎসায় দারুণ জনপ্রিয় জামের উপকারী গুনাগুন গুলো জানেন কি?

Categories
লাইফস্টাইল

সকল ধরণ চিকিৎসায় দারুণ জনপ্রিয় জামের উপকারী গুনাগুন গুলো জানেন কি?

জামের উপকারী গুনাগুন

গ্রীষ্মকালীন যে সকল ফলগুলো রয়েছে জাম তার মধ্যে অন্যতম।কিন্তু গ্রীষ্মকালীন ফল হলেও খুব কম সময়ের জন্য এই ফলটি পাওয়া যায়। মিষ্টি অথবা টক মিষ্টি স্বাদযুক্ত এই ফলটি খুবই পুষ্টিগুন সম্পূর্ণ।ডিম্বাকার এই পলটি কাঁচা থাকতে সবুজ হয় এবং পাকলে কালচে বেগুনি রঙ্গের হয়ে থাকে।জামের উপকারী গুনাগুন

নানা দেশে নানা নামে পরিচিত এই জাম।যেমন – জাম্বুল, জাম্বু, জাভা প্লাম, পান্ডু, পাজহাম, ডুহাট ইত্যাদ। সর্বপ্রথম ভারতবর্ষ থেকেই এই ফল পুরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পরে।   জামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, জিংক, কপার, গ্লুকোজ, ডেক্সট্রোজ ও ফ্রুকটোজ, ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও স্যালিসাইলেটসহ অসংখ্য উপাদান। যা স্বাস্থ্যের জন্য ভিষণ  উপকারী। হেকিমী, আয়ুর্বেদী এবং ইউনানী চিকিৎসাতেও জাম ব্যবহার করা হয় ।

জামের উপকারী গুনাগুন  নিম্নে দেয়া হলো :

 

১/ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে জাম খুবই উপকারী।এটি রক্তে চিনির মাত্রা কমায়।জামের সাথে সাথে জামের বিচির গুড়া প্রতিদিন খালি পেটে খেলে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।      

 

২/ জামে রয়েছে ভিটামিন – সি।ফলে এই ফল খেলে ভিটামিন – সি অভাব জনিত রোগ দূর হয়। 

 

৩/  জাম খাওয়ার ফলে মুখের দুর্গন্ধ রোধ, দাঁত মজবুত এবং মাড়ির ক্ষয়রোধেও জামের কোন জুড়ি নেই । 

 

৪/ জামা রয়েছে মিনারে, পটাসিয়াম, লবনের মত উপাদান যা গরমে আমাদের শরীরকে ঠান্ডা করে এবং শারীরিক দূর্বলতা দূর করে।

  

৫/  মানুষের শরীরের রক্তস্বল্পতা দূর করতে জাম খুবই কার্যকর।কারন এতে রয়েছে আয়রন। 

 

৬/ জাম শরীরের কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমান কমিয়ে শরীরের প্রত্যেক প্রান্ত অক্সিজেন পৌছায় এবং কোলেষ্টরলের পরিমান কমায়। এতে হার্ট ভালো থাকে।

 

৭/ শরীরের বিভিন্ন রকম ক্যান্সার প্রতিরোধে জাম খুবই উপকারী। মুখের ভিতরের ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য মুখের ভিতরের ব্যাকটেরিয়া প্রভাব দূর করে এবং এই ফলের মধ্যে যে যৌগিক উপাদান রয়েছে তা সুস্বাস্থ রক্ষা করে এবং জরায়ু, ডিম্বাশয় ও মলদ্বারের ক্যান্সার প্রতিরোধেও কার্যকর।

 

৮/ জামের কচি পাতার রস গরম করে দিনে ৩-৪ বার খেলে রক্ত আমাশয় দূর হয়।

 

৯/ জামে যে উপাদান রয়েছে তা ক্ষতিকর আলট্রা-ভায়োলেট রশ্মির প্রভাব থেকে ত্বক ও চুলকে রক্ষা করে। এ অ্যালার্জিক এসিড ক্ষতিকর ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাশ প্রতিরোধেও কার্যকর।

 

১০/ জামে রয়েছে গ্যালিক এসিড,ম্যালিক এসিড, ট্যানিনিসের মত যৌগিক উপাদান।যা শরীরের বিষাক্ত উপাদান দূর করে বিভিন্ন ইনফেকশন প্রতিরোধে সহায়তা করে।    

 

অনেক উপকারী গুনাগুন থাকা শর্তেও জামের কিছু কিছু পাশ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। যেমন- 

 

★আধাপাকা  জাম খাওয়া উচিত নয় এবং খালি পেটে জাম খাওয়া ঠিক না।এতে জ্বীভের স্বাদ নষ্ট হতে পারে এবল পেট বয়থা হবার সম্ভাবনা থাকে।  

 

 ★জাম খাওয়ার পর দুধ না খাওয়াই ভালো । পাকা ফল ভরা পেটে খেলে অতিরিক্ত অ্যাসিডিটি ও গ্যাস্ট্রিকভাব হতে পারে।ইত্যাদি 

 

জামে কম পরিমাণে ক্যালোরি থাকে, যা ক্ষতিকর তো নয়ই বরং স্বাস্থ্যসম্মত। ত্বক চুল ও সম্পূর্ণ শরীরের জন্য উপকারী জাম মৌসুমি ফল হিসাবে অবশ্যই খাওয়া উচিত।

 

লিখেছেন –

ত্রোপা চক্রবর্তী 

 

 

Read More

পেয়ারার অবাক করা গুণাগুণগুলো

Categories
লাইফস্টাইল

সকালে খালি পেটে ফল খাওয়ার উপকারিতা

সকালে খালি পেটে ফল খাওয়ার উপকারিতা

শরীর থেকে টক্সিক দূর করতে এবং দীর্ঘ দিন সুস্থ থাকার মূলমন্ত্র হলো সকালে খালি পেটে ফল খাওয়া।কিভাবে সেটা?খালি পেটে ফল খাওয়ার উপকারিতা

সকালে খালি পেটে ফল খাওয়া! খালি পেটে ফল খাওয়া কি ঠিক? এতে অ্যাসিডিটির সমস্যা হবার সম্ভাবনা থাকে। সকাল  সকাল ফল খাওয়া কি ঠিক? ইত্যাদি নানা রকম প্রশ্ন আমাদের মনে প্রায়ই আসে আর এটা অতি প্রাচীনকাল থেকেই এই ভ্রান্ত ধারণাগুলো চলে আসছে, যে সকাল বেলা বিশেষ করে খালিপেটে ফল খাওয়া একেবারেই ঠিক নয়।

তবে বর্তামানে একাধিক গবেষণায় এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, সকালে নিয়মিত খালি পেটে ফল খাওয়ার অভ্যাস করলে শরীরের ভেতরে জমে থাকা টক্সিক বা ক্ষতিকর উপাদান বেরিয়ে যেতে শুরু করে। আর খালি পেটে ফল খেলেই তা শরীরের বিশেষ উপকারে আসে।

 

সকালে খালি পেটে ফল খাওয়ার উপকারিতা গুলো-

 

১/ দীর্ঘদিন যারা সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকতে চায় তাদের সকালের নাস্তায় অবশ্যই কোন না কোন ফল অবশ্যই থাকা জরুরী। নিয়মিত খালি পেটে ফল খেলে শরীরে উপকারী ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও মিনারেলের মাত্রা বাড়তে শুরু করে, যা খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমানোর পাশাপাশি ব্লাড প্রেসারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হার্টের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়।

 

২/ সকাল ১১ পর্যন্ত শরীর নিজের ভিতরে জমে থাকা টক্সিক উপাদানদের বের করে দেওয়ার প্রক্রিয়া চালায়। তাই এক বাটি ফল খেলে শরীর থেকে বেশি মাত্রায় বিষাক্ত উপাদান বেরিয়ে যেতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই টক্সিক উপাদানের প্রভাবে নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস কমে।

 

৩/ সকালে খালি পেটে ফল খেলে ফল থেকে শর্করা রক্তের সাথে মিশে শরীরকে করে কর্মক্ষম এবং মগজকে করে সতেজ ও সচল।

 

৪/ সকালবেলা ফল খেলে ফলের মধ্যে থাকা ভিটামিন-সি, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ইত্যাদি উপাদান শরীরের ভিতরে গিয়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।  

 

৫/ নিজেদের অতিরিক্ত ওজন নিয়ে খুবই চিন্তিত তাদের জন্য প্রতিদিন  সকালের নাস্তায় ফল রাখা খুবই উপকারী। কারন একদিকে ফল যেমন শরীর থেকে টক্সিক উপাদান বের করে দেয়, অন্য দিকে পেটকে অনেকক্ষণ ভরিয়ে রাখে ফলে সহজে খিদা লাগে না। আর এতে ওজন কমে।

 

৬/ খালি পেটে ফল খেলে তা মধ্যে থাকা ফাইবার শরীরে প্রবেশ করে এতে হজম শক্তি বাড়ে আর এতে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা অনেকাংশে দূর হয়।

 

৭/ শরীরে বিভিন্ন পুষ্টির ঘাটতি কমাতে সকালে  ফল খেলে তা আমাদের শরীরের পুষ্টির ঘাটতি কমায় আর অ্যানিমিয়ার মত রোগ থেকেও বাঁচা যায়।

 

৮/ শরীরকে সচল রাখতে ভিটামিন ও খনিজের  জোগার দিতে ফল খাওয়ার কোন বিকল্প নাই। 

 

★ যে সব ক্ষেত্রে ফল খাওয়া যাদের জন্য মোটেও উচিত নয় সেগুলো হলো :

 

১/ কিডনি রোগীদের খাবার ব্যাপারে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা রয়েছ।  তেমনি ফল খাবার ব্যাপারেও আছে নিষেধাজ্ঞা । যেমন- কলা, ডাবের পানি, আঙ্গুর এই সব ফল কিডনি রোগীদের একেবারেই খাওয়া উচিত নয়।   

 

২/ যাদের এসিডিটির সমস্যা রয়েছে তাদের কালি পেটে টক জাতীয় ফল খাওয়া একেবারেই ঠিক নয়। কারন  টক ফলগুলোতে এসিড ধর্মী কিছু ফাইটোকেমিক্যাল থাকে, যা এসিডিটি বাড়ায়।

 

৩/  বেশির ভাগ ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের রান্না করা ছাড়া খাবার খাওয়া নিষে।  তাই তাদের ফল খাওয়াও নিষেধ।  

 

সুস্থ শরীরের জন্য শুধু ফল খেলেই চলবে না। তার জন্য অবশ্যি সুষম খাবার অর্থাৎ আমিষ, শর্করা, স্নেহ জাতীয় খাবারও দরকার। আর ফল আমাদের শরীরে শুধুমাত্র ভিটামিন ও মিনারেলের চাহিদা পূরণ করে।     

 

তবে বর্তমানে চিকিত্‍সকেরা ব্রেকফাস্টের আগে প্রতিদিন এক বাটি ফল খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

 

 

লিখেছেন –

ত্রোপা চক্রবর্তী 

 

 

Read More

সকল ধরণ চিকিৎসায় দারুণ জনপ্রিয় জামের উপকারী গুনাগুন গুলো জানেন কি?

  

Categories
লাইফস্টাইল

এমন একটি গাছ যার ডাল, পাতা, গাছের ছাল সব কিছুই উপকারী ।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি নিমের রয়েছে নানা রকম উপকারী গুন সহ এইডস, ত্বকের নানা সমস্যা দূর করার গুনাগুন।গুনগুলো কি কি? 

 নিম! খুব পরিচিত ও উপকারী একটি গাছ।এটি এমন একটি গাছ যার ডাল, পাতা, গাছের ছাল সব কিছুই উপকারী । কথিত আছে যে বাড়িতে একটি নিম গাছ থাকলে অনেক রোগ বালাই দূরে চলে যায়। এই ঔষধি গুন সম্পূর্ণ গাছটি বহু বর্ষজীবি এবং একটি চিরহরিত গাছ। এই গাছ উষ্ণ অঞ্চলে বেশি জন্মে।বাংলাদেশের আবাহওয়া নিম গাছ জন্মানোর জন্য খুবই উৎকৃষ্ট। নিমের

নিম পাতা তেঁতো স্বাদ যুক্ত কিন্তু আর্য়ুবেদীক শাস্ত্রে নিম পাতা, ডাল,ছালের যথাযথ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা ও প্রসাধনী সামগ্রিতেও নিম পাতার যথার্থ ব্যবহারের কথা করা হয়।

 

নিম পাতা, ডালই নয় নিম কাঠের আসবাবপত্র খুবই মজবুত হয় এবং সহজে ঘুন ধরে না, পোকা বাসা বাঁধে না। বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বানাতে নিম কাঠই ব্যবহার করা হয়।বেশ মজবুত ও টেকসই হয় নিম কাঠের আসবাবপত্র। 

 

প্রচুর ঔষধি গুণ সম্পূর্ণ নিমের উপকারিতা আসুন যেনে নেই :

 

১/ ত্বকের যত্নে :

প্রাচীনকাল থেকে ত্বকের যত্নে নিম পাতার ব্যবহার হয়ে আসছে।রূপচর্চায় ও প্রসাদনী ব্যবহারে নিমের ব্যবহার হয়ে আসছে। ত্বকের দাগ দূর করতে নিম খুব ভালো কাজ করে। এছাড়াও এটি ত্বকে ময়েশ্চারাইজার হিসেবেও কাজ করে। নিয়মিত নিমপাতার সাথে কাঁচা হলুদ পেস্ট করে লাগালে ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধি ও স্কিন টোন ঠিক হয়।তবে অনেকেই হলুদ ব্যবহার করতে চান না।তারা শুধু নিমপাতা বেটে ব্যবহার করতে পারেন এতে ত্বকের ফাঙ্গাস ও ব্যাকটেরিয়া রোধ হয়। তাই ত্বকের যত্নে নিম পাতার ব্যবহার খুবই কার্যকরী। 

 

২/ ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে :

প্রতিদিন সকালে নিমের কচি পাতার রস খালি পেটে খেলে খুবই উপকার পাবে ডায়বেটিস রোগীরা। নিম ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চমৎকার ভাবে কাজ করে। নিমের পাতা রক্তের সুগার লেভেল কমতে সাহায্য করে। এছাড়াও রক্ত নালীকে প্রসারিত করে রক্ত সংবহন সচল ও ঠিকঠাক রাখে। 

 

৩/ দাঁতের যত্নে :

সেই প্রাচীনকাল থেকে নিম গাছের ডাল ব্যবহার হয়ে আসছে দাঁতের যত্নে। নিমের পাতা ও ছালের গুড়া কিংবা নিমের ডাল দিয়ে নিয়মিত দাঁত মাজলে দাঁত হবে মজবুত, দাঁতের পচন, রক্তপাত ও মাড়ির ব্যথা কমে যায়। কচি নিম ডাল দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁত ভাল থাকে।

 

৪/ চুলের যত্নে ও খুশকি দূর করতে:

চুলপর যত্নে ও খুশকি দূর করতে নিম পাতার ব্যবহার খুবই কার্যকরী। চুলের খুসকি দূর করতে শ্যাম্পু করার সময় নিমপাতা সিদ্ধ জল দিয়ে চুল ম্যাসেজ করে ভালোভাবে ধুয়ে ফেললে খুসকি দূর হয়ে যাবে। তাছাড়া এখন শেম্পুতেও নিমপর বয়বহার হয়ে থাকে।

 

৫/ উকুন বিনাশে :

নিমের পেস্ট তৈরি করে মাথার তালুতে ম্যাসাজ করে, তারপর মাথা শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেললেএবং কয়েকবার এই পদ্ধতিতে চুল শ্যাম্পু করলে উকুন নাশে ভালো উপকার পাওয়া যায়।

 

৬/ কৃমিনাশক :

বাচ্ছাদের পেটে কৃমি নির্মূল করতে নিমের পাতার জুড়ি নেই। শিশুরাই বেশি কৃমি আক্রান্তের শিকার হয়। 

৭/ ভাইরাসের আক্রমন রোধে :

নিমপাতার রস ভাইরাস নির্মূল করে। চিকেন পক্স, হাম ও অন্য চর্মরোগ হলে নিমপাতা বাটা লাগানো হয়।  এছাড়াও নিমপাতা জলতে সিদ্ধ করে সে জল দিয়ে স্নান করলে ত্বকের জ্বালাপোড়া ও চুলকানি দূর হয়।

 

৮/ বই পত্রের পোকা রোধে   :

অনেক পুরান বইও পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে মিম পাতার জুড়ি হয় না।কয়েকটি নিম পাতা বিয়ের পৃষ্ঠার ভিতর রেকে দিলে পাকা কাটে না বিয়ের পৃষ্ঠ।    

 

৯/ ছত্রাকের ইনফেলকান দূর করতে :

নিমে রয়েছে নিম্বিডল এবং জেডুনিন, যা ফাঙ্গাস ধ্বংস করতে পারে। ছত্রাক আক্রন্ত স্থানে নিম পাতার পেষ্ট   ৩/৪ বার লাগালে বেশ ভালো উপকার পাওয়া যায়।

 

১০/ ব্রণের সমস্যা সমাধান:

ব্রণের সমস্যা দূর করার জন্য নিম খুবই কার্যকরী একটি ভেষজ উপাদান। নিক পাতার পেষ্ট ব্রণের মধ্যে লাগালে ব্রণ তো যাই সাথে ব্রণের জন্য যে জ্বালা পোড়া হয় সেটাও দূর হয়। 

 

১১/ চোখের চিলকানিতে :

অল্যার্জির জন্য নিম তো খুবই উপকার। তাই চোখেও যদি কোন চুকাকি হয় বা লাল হয়ে যায় নিম পাতা সেদ্ধ করা পানি ঠান্ডা করে লাগালে চুলাকানি দূর হয়। 

 

১২/ অ্যালার্জি নিরাময় :

অ্যালার্জি নির্মূলে নিম শতভাগ কার্যকর। নিম পাতা সেদ্ধ জল দিয়ে স্নান করলে অ্যালার্জি দূর হয়। এনজিমা, ফোঁড়া বা ত্বকের যে কোন সমস্যা সমাধানে নিম পাতার পেষ্ট বা নিম পাতা দিয়ে সেদ্ধ পানি খুবই উপকারী।

 

১৩/ ঠান্ডা জনিত সমস্যা নিরসনে :

ঠান্ডা বেশি লাগলে বুকে কফ জমে অস্বস্থির সৃষ্টি করে। কয়েক ফোঁটা নিমপাতার রস গরম পানিতে মিশিয়ে  দিনে ৩/৪ বার খেলে বুকের ব্যথা কমে যায়।

 

১৪/ ক্ষত নিরাময়ে :

নিমে রয়েছে অ্যান্টিমাক্রোবাইয়াল উপাদান ক্ষত নিরাময়ে দ্রুত কাজ করে।তাই ক্ষত স্থানে নিম পাতা বেটে পেষ্ট করে লাগালে উপকার পাওয়া যাবে। 

 

১৫ / বাতের চিকিৎসায়:

বাতের ব্যথা মারাত্মক হয়।অনেক সময় ব্যথা এতটাই বেশি হয় যে নড়াচড়া করাও সমস্যা হয়ে যায়।   নিমপাতা, নিমের বীজ ও বাকল বাতের ব্যথা সারাতে ওষুধ হিসেবে কাজ করে। বাতের ব্যথায় নিমের তেলের ম্যাসাজও বেশ উপকারী। মোট কথায় বাতের ব্যথা সারাতে ওষুধ হিসেবে কাজ করে নিম। 

 

১৬/ ম্যালেরিয়া ব্যবহার 

নিম পাতায় রয়েছে গ্যাডোনিন জাতীয় উপাদান  যা ম্যালেরিয়া রেগের মহা ঔষধ হিসাবে বিবেচিত।  

এছাড়াও নিমপাতা সিদ্ধ জল ঠাণ্ডা করে প্রতিদিন ঘরে স্প্রে করলে মশার উপদ্রব কমে যাবে। যাবে নানা রকম পোকার উপদ্রবও কমে।

 

১৭/ পোকামাকড় কামড়ালে :

যেকোন পোকামাকড় কামড় দিলে নিম পাতার পেষ্ট বা নিম গাছের ছালপর পেষ্ট ক্ষত সৃথানে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।      

 

১৮/ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে :

 রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে  নিমপাতা গুড়া করে এক গ্লাস পানির সঙ্গে মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে পান করলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। তেঁতো স্বাদের হলেও এটি সবার খাওয়া উচিত। 

 

১৯/ আঁচিল দূর করে :

আঁচিল হলে এবং তা,চিরতরে দূর করতে প্রতিদিন ১/২ ফোঁটা নিমের তেল আঁচিলে লাগালে চিরতরে দূর হয় কালো আঁচিল।

 

২০/ মানসিক চাপ দূর : 

 মানসিক চাপ দূর করতে নিম পাতার রস খুবই উপকারী। তাই নিয়মত  নিম পাতার রস সেবন করলে মানসিক অবসাদ ও মানসিক অশান্তি দূর হয়।

 

২১/ এইডসের মহা ঔষধ :

অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য যে, এইডসের মহা ঔষধ নিম গাছের ছাল। এই ছালের রস এইডস রোগ নিরাময়ে খুবই উপকার। এইডসের ভাইরাস মারতে সক্ষম এর রস । নিমের পাতার চাও এি ভাইরাস মারতে সক্ষম।

 

২২/ অন্যান্য : 

বিভিন্ন প্রসাধনীতে  যেমন – সাবান, শ্যাম্পু, চুলের তেল, হ্যান্ডওয়াশ, ফেসওয়াশ, মুখের মাক্স, স্কীন টেনার ইত্যাদিতে নিম পাতা বা নিমের তেলের ব্যবহার হয়  যা ত্বকের জন্য খুবই উপকার। জন্ম নিয়ন্ত্রণেও খুবই  কার্যকরী।  আলসার, স্কিন ক্যান্সার, টিউমার, রাতকানা রোগ, বমি বমি ভাব, দেহের যে কোন রকমের ইনফেকশান দূর করা সহ আরও নানা রোগের নিরাময়ে নিম পাতা ও নিমের ছালের কোন তুলনা হয় না।

 

★ এত এত উপকারিতা থাকা স্বত্বেও নিমের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে।যদিও তা খুবই সামান্য। তারপরও এগুলো আমাদের জেনে রাখা আবশ্যক।  যেমন —

 

১/ মাত্রাতিরিক্ত নিম খাওয়ার ফলেও পেটে জ্বালা হতে পারে। সুতরাং, এটি ব্যবহারের আগে এর পরিমাণের দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিত।

 

২/ ছোট বাচ্চাদের কিডনি ও লিভারে সমস্যা হতে পারে খাওয়ানোর ফলে।তাই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খাওয়ানো উচিত না।  

 

৩/ নিম তেল অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহন করলে  শরীরে অসাড়তা অনুভব হতে পারে এবংএতটাই খারাপ হতে পারে যে রোগী  কোমায় যেতে পারে।

 

 নিমের এই গুনাগুনের কথা বিবেচনা করেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘ একুশ শতকের বৃক্ষ’  বলে ঘোষনা করেছে। নিমের কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তাই নিমে গাছের গুনাগুন ও উপকারিতার কথা চিন্তা করে প্রত্যেকের বাসায় একটি করে নিম গাছ লাগানো উচিত। নিমের উপকারিতার শেষ নাই। নিমের পাতার বড়ি বানিয়ে রেখে দিয়েও ব্যবহার করা যায়।নিমের পাতা, ডাল ও ছাল দিয়ে তৈরি হয় নিম তেল, মাজন, চা।  তাই এত উপকারী গাছটি যাতে কাঁটা থেকে সকলেই বিরত থাকি তাই সবাইকেই সচেতন হতে হবে। 

 

লিখেছেন –

ত্রোপা চক্রবর্তী 

Categories
লাইফস্টাইল

কাঁঠালের বীজের উপকারিতা জানেন কি ?

ঔষধি গুন সম্পূর্ণ কাঠালের বিচি! অবাক হচ্ছেন? আসুন জেনে নেই এর গুণাগুণ সম্পর্কে

জাতীয় ফল কাঁঠাল শুধু আমাদের দেশেই নয় পুরো এশিয়া মহাদেশই এটি একটি পরিচিত ফল। গ্রীষ্মকালীন ফল কাঁঠালের খোসার নিচের কোয়া যেমন খাওয়া হয় তেমনি বিডিও খাওয়া যায়।এই কাঁঠাল বিচি খুবই সুস্বাদু এবং এই কাঁঠাল বিচি নানা রকম সবজি রান্না করা যায়।কাঁঠালের বিচির গুন

পুষ্টিগুনে ভরপুর কাঁঠাল বিচির যে যে গুনাগুন রয়েছে সেগুলো হলো :  প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও আঁশ, ভিটামিন – এ ও বি, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াস, জিংক, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন ও কপার। এগুলো চোখ, ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে কাজ করে।

আসুন জেনে নেঔ কাঁঠাল বিচির গুনাগুন কি কি এবং আমাদের কি কি উপকার করে :

১/  কাঁঠালের বিচিতে রয়েছে প্রচুর পরিমান ভিটামিন-এ।ফলে রাত কানা বা অন্ধত্ব প্রতিরোধেও সহায়তা করে।  

 

২/ নিয়মিত কাঁঠাল বিচি খেলে ত্বক হবে ভিতর থেকে উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত। কারন এতে রয়েছে ফাইবার। এটি ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

 

৩/ কাঁঠালের বিচি ত্বকের ভিতরের টক্সিন বের করে ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।  

 

৪/ এতে রয়েছে অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল উপাদান।যা বিভিন্ন রকমের জীবানুকে দূরে রাখে এবং হজমে সহায়তা করে। 

 

৫/ কাঁঠালের বিচি ক্যান্সার প্রতিরোধেও কার্যকরী।কারণ কাঁঠালে  বিচি নিয়মিতভাবে খেলে দেহের ভেতরে বেশ কিছু শক্তিশালী ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট্রসের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে ক্যান্সার সেল জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।

 

৬/ কাঁঠাল বিচি শুকিয়ে গুড়া করে রাখলে, সেই গুড়া গ্যাস বা অম্বল হলে খেলে চট জলদি উপকার পাওয়া যায়। 

 

৭/ কাঁঠাল বিচিতে রয়েছে ডায়াটারি ফাইবার। তাই কাঁঠাল বিচির গুড়া খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও দূর হয়।

 

৮/ কাঁঠাল বিচিতে রয়েছে প্রচুর পরিমান প্রোটিন এবং উপকারী নানা রকমের    মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস। এগুলো আমাদের মস্তিষ্কের ক্যামিকেল ব্যালেন্স ঠিক রাখতে সহায়তা করে।ফলে বিষন্নতা দূর করতেও কাঁঠাল বিচি কার্যকর।

 

৯/ মাছ মাংস যারা কম খান বা একেবারেই খান না তাদের জন্য কাঁঠালের বিচি আমিষের চাহিদা মেটায়। কাঁঠাল বিচিতে রয়েছে প্রচুর পরিমান প্রোটিন।

 

১০/  কাঁঠাল বিচিতে রয়েছে পটাশিয়াম যা ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

 

১১/ কাঁঠালের বিচিতে রয়েছে আয়রন যা মানব শরীরের রক্তস্বল্পতা দূর করতে সহায়তা করে।  

 

উপরের আলোচনায় এটা স্পষ্ট যে কাঁঠালের বিচি ঔষধিগুন সম্পূর্ণ। তাই যারা এখনও কাঁঠালের বিচি না খেয়ে ফেলে দেন তাদের এটি খাওয়া শুরু করা উচিত।

 

লিখেছেন –

ত্রোপা চক্রবর্তী 

      

 

 

Categories
লাইফস্টাইল

আয়ুর্বেদীক শাস্ত্রের মহৌষধ হরতকির নানা গুন ও উপকারিতা 

আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে হরতকি খুবই পরিচিত একটা নাম এবং এর নানা উপকারিতা ও গুনের বর্ণনা আছে। তেঁতো স্বাদের এই ফলটির নানা রকম গুনাগুন রয়েছে এবং এই গুন গুলো আমাদের শরীরের জন্য মহৌষধ হিসাবে কাজ করে। অনেক প্রচীনকাল থেকেই মাবন দেহের নানা সমস্যা সমাধানে হরতকির ব্যবহার হয়ে আসছে।হরতকির নানা গুন ও উপকারিতা  

এতে রয়েছে ট্যানিন, অ্যামাইনো এসিড, ফ্রুকটোজ ও বিটা সাইটোস্টেবল সমৃদ্ধ উপাদান। 

 

হরতকি কেন খাওয়া উচিত , খেলে কী কী উপকার হবে? সেসব সম্পর্কেই আলোচনা করা হলো-

 

১/  হরতকি বদহজম, আমাশয়, এবং জন্ডিস নিরাময়ে ভিষন উপকারী।

 

২/ অনেকের ঋতুস্রাবের সময় পেটে প্রচন্ড ব্যথা হয়। এই সময় হরতকি ভেজানো পানি খেলে উপকার পাওয়া যায়।

 

৩/ মূত্রনালীর অসুখে ও বাত ব্যথায় হারতকির রসের  তুলনা হয় না।

 

৪/ এই ফলের রস জ্বর, কাশি, হাঁপানি, পেট ফাঁপা, ঢেকুর উঠা, বর্ধিত যকৃত ইত্যাদি সমস্যার মহৌষ। 

 

৫/  বার বার বমি হলে এবং ঘন ঘন পানির তৃষ্ণা পেলে হরতকি ভিজানো পানি খেলে উপকার পাওয়া যাবে। 

 

৬/ ফুসফুস ও শ্বাসনালী ঘটিত যে কোন সমস্যা হরতকির ব্যবহার অতি প্রচীনকাল থেকে হয়ে আসছে । বর্তমানে আধুনিক চিকিৎসা শাস্ত্রে এই সব রেগের চিকিৎসায় হরতকির ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে । 

 

৭/ যাদের অশ্ব রোগ আছে এবং তাদের জন্য হরতকি গুড়া মহৌষধ। কারন প্রতিদিন ১ চামচ হরতকি গুড়া ঘোলের সাথে মিশিয়ে খেলে নিশ্চিত উপকার পাওয়া যায়।

 

৮/ হুট করে চোখে কোন সমস্যা দেখা দিলে হরতকি থেতো করে পানিতে ভিজিয়ে রেখে সেই পানি দিয়ে বার বার চেক ধুয়ে নিলে চোকের সমস্যাও দূর হয়।

 

৯/  হঠাৎ গলার স্বর বসে গেলে মুথা ও হরিতকি গুড়া মধুর সঙ্গে বেটে অথবা যোয়ান ও হরতকি গুড়া পানির সাথে মিশিয়ে  পান করলে স্বর স্বাভাবিক হয়। 

 

১০/ পিত্তে হঠাৎ করে ব্যথা শুরু হলে সামান্য ঘিয়ের সাথে হরতকি গুড়া মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যা। 

 

১১/ ত্রিফলা বলতে বোঝায় আমলকি, হরতকি ও বহেরাকে।এগুলো গুড়া প্রতিদিন খেলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে । আধুনিক যে কোন এ্যালোপ্যাথিক ঔষধের তুলনায় ত্রিফলা কোলেস্টেরল কমাবার ক্ষেত্রে অনেক বেশি কার্যকর।

 

১২/ শুধু মাত্র কোলেস্টেরলই নয় প্রসার ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও হরতকি গুড়া খুবই উপকারী।

 

১৩/ হরতকির গুঁড়া পানিতে মিশিয়ে খেলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে।

 

১৪/ গলা ব্যথা বা মুখ ফুলে গেলে হরিতকি পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি দিয়ে গার্গল করলে আরাম পাবেন।

 

১৫/ দাঁতে ব্যথা হলে হরতকি গুঁড়া লাগান, ব্যথা দূর হবে।

 

এখন পর্যন্ত হরতকির তেমন কোন প্বার্শপ্রতিক্রিয়ার কথা জানা যায়নি। এটি পরজীবীনাশক, পরিবর্তনসাধক, অন্ত্রের খিঁচুনি রোধক  স্নায়ুবিক শক্তিবর্ধক ইত্যাদি রোগের নিরাময়ে খুবই কার্যকর। যুগে যুগে বিভিন্ন চিকিৎসা শাস্ত্র হরতকির ব্যবহার হচ্ছে এবং কার্যকরী ভাবে উপকৃতও হচ্ছে মানুষেরা।

 

লিখেছেন –

ত্রোপা চক্রবর্তী 

 

Categories
লাইফস্টাইল

কাঁচা পেঁপের নানা রকম উপকারিতা ও অপকারিতাগুলো হলো   

বহুমাত্রিক পুষ্টিগুন সম্পূর্ণ উপাদান হলো কাঁচা পেঁপে । কাঁচা পেঁপে সবজি হিসাবে ও পাঁকা পেঁপে পল হওসাবে খুবই সমাদৃত। কাঁচা পেঁপে দিয়ে নানা রকমের সুস্বাদু তরকারি রান্না করা যায়।পেটের যে কোন সমস্যায় সবুজ পেঁপে যেমন কার্যকরী, তেমনি যে কোন রোগ নিরাময়েও এই পেঁপে কার্যকরী।কাঁচা পেঁপের

কাঁচা পেঁপে আমাদের দেশের বেশ পরিচিত একটি সবজি । 

কাঁচা পেঁপের উপকারিতাগুলো নিম্নে দেয়া হলো:   

 

১/ ডায়বেটিসের রোগীদের জন্য পেঁপে খুবই উপকারী সবজি।কারন কাঁচা পেঁপে বা এর জুস রক্তে চিনির পরিমান কমায় এবং ইনসুলিনের পরিনাম বাড়ায়।

 

২/ প্রতিদিনের খাবার তালিকায় কাঁচা পেঁপে রাখা উচিত।কারন পেঁপে আমাদের ত্বক উজ্জ্বল করে ও যে কোন রকমের দাগ দূর করে। ব্রণ খুবই কমোন একটি সমস্যা।এই ব্রণ থেকে মুখে দাগ পড়লে, মেছতা, ফুস্কুরির সহ আরও নানা রকমের দাগ দূর করতে পেঁপে খুবই কার্যকর।

 

৩/ ” নিউট্রিশন ব্রিটিশ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, কাঁচা পেঁপেতে অনেক বেশি পরিমানে ক্যারটিনয়েডস রয়েছে।যা গাজর ও টমেটোর চেয়ে অনেক বেশ। কাঁচা পেঁপেতে যে ক্যারটিনয়েডস রয়েছে তা আমাদের মানব শরীরের জন্য খুবই উপকার।   

 

৪/ কাঁচা পেঁপে আমরা শুধুরান্না করেই খাইনা, এটিকে আমরা সালাদ হিসাবেও খেয়ে থাকি। আর পেঁপেতে রয়েছে  ভিটামিন-এ ও ভিটামিন-সি আর ক্যালোরি একেবারে নেই বললেই চলে। যা আমাদের ওজন কমতে সহায়তা করে।

 

৫/ প্রতিদিন দুপুরে খাবার পর ও রাতে খাবার খাওয়ার পর এক টুকরো কাঁচা পেঁপে ভালো করে চিবিয়ে খেলে পেট পরিস্কার হয় এবং গ্যাসটিক ও বদ হজমের সমস্যা দূর হয়।

 

৬/ পেঁপে কাটলে এক রকমের সাদা রস বা আঠা বের হয়।এটিও আমাদের শরীরের জন্য উপকার। আমাশয় ও পেটের যন্ত্রণায় কাঁচা পেঁপের আঠা ৩০ ফোঁটা ও এক চামচ চুনের পানি মিশিয়ে দুধের সাথে খেলে পেট ব্যথা ও আমাশয়ের যন্ত্রণা দূর হয়।

 

৭/ পেঁপের মাঝে বিদ্যমাণ আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য, অ্যাসিডিটি, ডায়রিয়া, পাইলস ইত্যাদি দূর করে। আমাদের পেটকে ভিতর থেকে পরিস্কার করে। 

 

৮/ কাঁচা পেঁপে উচ্চরক্তচাপের হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করে এবং সঠিক ভাবে শরীরে রক্ত সরবরাহ হয়। এতে করে রক্ত থেকে সোডিয়াম দূর করে হার্টকে সুস্থ করে এবং হার্টের সকল ধরনের সমস্যা নিরসন হয়।

 

৯/ উঁকুন নাশে পেঁপের আঠা খুবই কার্যকর।১ চামচ পেঁপে আঠার সাথে ৭/৮ চামচ জল ভালো করে মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে নিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে নিতে হবে।এ রকম ১/২ দিন পর পর করলে উঁকুন নির্মূল হয়।

১০/ কাঁচা পেঁপেতে সাইমোপ্যাপিন ও প্যাপিন নামে ২ ধরনের এনজাইম থাকে যা আমাদের শরীরের প্রোটিন চর্বি ও কার্বোহাইড্রেট ভাঙ্গতে সহায়তা করে।   

কাঁচা পেঁপে কিছু অপকারিতাও বিদ্যামান নিম্নে সেগুলে তুলে ধরা হলো –      

১/ কাঁচা পেঁপের বোটা থেকে বের হওয়া সাদা তরল আঁঠা আমাদেী শরীরে এলার্জির সৃষ্টি করতে পারে।

২/ গর্ভাবস্থায় কাঁচা পেঁপে না খাওয়াই ভালো।কারন কাঁচা পেঁপেতে রয়েছে লেটেক্স। আর এই লেক্টেস এ বিদ্যমান উপাদান পেপেইন এটি আমাদের জরায়ুতে রক্তপাত সহ নানা রকমের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

৩/ পেঁপে রক্তে শর্করার পরিমান কমায়। পলে যারা উচ্চরক্তচাপের ওষুধ খান তাদের জন্য পেঁপে বিপদজন। 

৪/ যাদের অ্যালার্জির জন্য  শ্বাস কষ্ট হয় ও অ্যাস্থেমা রয়েছে তাদের ভুলেও পেঁপে খাওয়া উচিত নয়।

৫/ পেঁপেতে প্রচুর ভিটামিন-সি রয়েছে।তাই প্রতিদিন বেশি বেশি পেঁপে খেলে ভিটামিন- সি এর পরিমান বেড়ে যায়। ফলে কিডনিতে পাথর হবার সম্ভাবণা থাকে।

কোন কিছুই অতিরিক্ত পরিমানে শরীরে  প্রবেশ করানো উচিত নয় তা,সে যতই পুষ্টিকর উপাদানই হোক না কেন। কাঁচা পেঁপের যেমন প্রচুর পুষ্টিমান রয়েছে তেমনি শরীর সুস্থ রাখতেও এটি খুব উপকারী।

 

লিখেছেন – ত্রোপা চক্রবর্তী