নিশিকাব্য – হুমায়ূন আহমেদ

পরী মেয়েকে ঘুম পাড়িয়ে বাইরে এসে দেখে চমৎকার জোছনা হয়েছে। চিকমিক করছে চারদিক। সে ছোট্ট একটি নিশ্বাস ফেলল। এরকম জোছনায় মন খারাপ হয়ে যায়।বেশ রাত হয়েছে। খাওয়াদাওয়ার পাট চুকেছে অনেক আগে। চারদিক ভীষণ চুপচাপ। শুধু আজিজ, সাপ-খেলানো সুরে পরীক্ষার পড়া পড়ছে। পরীর এখন আর কিছুই করার নেই। সে একাকী উঠোনে দাঁড়িয়ে রইল। কী করছ ভাবী?… Continue reading নিশিকাব্য – হুমায়ূন আহমেদ

অচিন বৃক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

ইদরিশ বলল, ভাইজান ভালো কইর‍্যা দেহেন। এর নাম অচিন বৃক্ষ।বলেই থু করে আমার পায়ের কাছে একদলা থুতু ফেলল। লোকটির কুৎসিত অভ্যাস, প্রতিটি বাক্য দুবার করে বলে। দ্বিতীয়বার বলার আগে একদলা থুতু ফেলে।।ভাইজান ভালো কইরা দেহেন, এর নাম অচিন বৃক্ষ। অচিন পাখির কথা গানের মধ্যে প্রায়ই থাকে, আমি অচিন বৃক্ষের কথা এই প্রথম শুনলাম এবং দেখলাম।… Continue reading অচিন বৃক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

সাদা গাড়ি – হুমায়ূন আহমেদ

আমি যাদের পছন্দ করি না তাদের সঙ্গেই আমার ঘুরেফিরে দেখা হয়। হয়তো খুব জমিয়ে গল্প করছি–কাজের ছেলেটি এসে বলল, কে জানি আইছে, আপনারে বুলায়। বাইরে উঁকি দিলে এমন একজনকে দেখা যাবে যার সঙ্গে একসময় খাতির ছিল। এখন নেই। তবু হাসির একটা ভাব করে উল্লাসের সঙ্গে বলতে হবে, আরে-আরে কী খবর? তারপর কেমন চলছে? একসময় হয়তো… Continue reading সাদা গাড়ি – হুমায়ূন আহমেদ

জুতো ও যুদ্ধ -ঋভু চট্টোপাধ্যায়   

জুতোর সাথে আমার সম্পর্ক যে ভালো হবে না সেটা বড় হবার সঙ্গে সঙ্গেই বুঝে গেছিলাম। অন্তত পুজোর সময় নতুন জামা প্যান্ট পরে যখন নতুন জুতোর ভালোবাসাতে খোঁড়াতে খোঁড়াতে রাস্তাতে হাঁটতাম আর আমার দিকে বাকি সবাই করুণার চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করত, ‘আহা রে নতুন জুতো পরে পা কেটে গেছে, কি কষ্ট না ! ’ মাথাটা গরম হয়ে যেত। কিন্তু কিছু করবার… Continue reading জুতো ও যুদ্ধ -ঋভু চট্টোপাধ্যায়   

বন্দুক-মানব – হুমায়ূন আহমেদ

গানম্যানের বাংলা করলাম ‘বন্দুক-মানব’। ঘন বাংলা হয় নি, পাতলা বাংলা হয়েছে। ‘গানম্যানে’ যে কঠিন ভাব আছে, ‘বন্দুক-মানবে’ তা নেই। এখানে মানব শব্দটাই প্রাধান্য পেয়েছে। বন্দুক হয়েছে গৌণ। বাংলা ভাষার এ এক মজার খেলা।অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি যেমন, মন্ত্রী-মিনিস্টার, দেশের প্রধান, রাজনৈতিক নেতাদের সরকার গানম্যান দেয়। গানম্যানরা শাদা পোশাকে থাকে। তাদের পকেটে থাকে আধুনিক মারণাস্ত্র।বিজ্ঞাপনে দেখি লাইফবয়… Continue reading বন্দুক-মানব – হুমায়ূন আহমেদ

মহিম সান্যালের ঘটনা – সত্যজিৎ রায়

তারিণীখুড়ো তাকিয়াটা বুকের কাছে টেনে নিয়ে বললেন, চমকালের কথা তো তোদের বলেছি, তাই না?………..হ্যাঁ হ্যাঁ, বলল ন্যাপলা। সেই ম্যাজিশিয়ান তো? যাঁর আপনি ম্যানেজার ছিলেন?…..হ্যাঁ। কিন্তু আরেকজন জাদুকর আছেন–অবিশ্যি যখনকার কথা বলছি তখন তিনি রিটায়ার করেছেন–যাঁর আমি সেক্রেটারি ছিলাম। রিটায়ার করলে আবার সেক্রেটারির কী দরকার? বলল ন্যাপলা।……..তাঁর ক্ষেত্রে দরকার ছিল। সেটা ব্যাপারটা শুনলেই বুঝতে পারবি।……….তা হলে… Continue reading মহিম সান্যালের ঘটনা – সত্যজিৎ রায়

দ্রবময়ীর কাশীবাস – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

দু-দিন থেকে জিনিসপত্র গুছোনো চলল। পাড়ার মধ্যে আছে মাত্র তিনঘর প্রতিবেশী—কারো সঙ্গে কারো কথাবার্তা নেই। পাড়ার চারিধারে বনজঙ্গল, পিটুলিগাছ, তেঁতুলগাছ, বাঁশঝাড়, বহু পুরোনো আম-কাঁঠালের বাগান। দ্রব ঠাকরুনের বাড়ির চারিধার বনে বনে নিবিড়, সূর্যের আলো কস্মিনকালে ঢোকে না, তার ওপর বাড়ির সামনে একটা ডোবা, বর্ষার জলে টইটম্বুর, দিনরাত ‘ষাঁকো’ ‘ষাঁওকো’ ব্যাঙের একঘেয়ে ডাক, দিনেরাতে মশার বিনবিনুনি।… Continue reading দ্রবময়ীর কাশীবাস – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

বুড়ো হাজরা কথা কয় – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

সকালবেলা পাঁচুদাসী বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল।…….সারাদিন নৌকো বেয়েছে মাঝি, সন্ধ্যায় বনগাঁ ইস্টিশানে এসে পৌঁছায়। কতদূরে যেতে হবে তা সে জানত না। কত জলকচুরির দামের ওপর পানকৌড়ি বসে থাকা, ঝিরঝিরে-হাওয়ায়-দোলা বাঁশবনের তলা দিয়ে দিয়ে নৌকো বেয়ে আসা; জলকচুরির নীল ফুলের শোভায় গলুসি-বদ্দিপুরের চর আলো করে রেখেছে; কত বন্যে-বুড়োর গাছে গাছে ঠাণ্ডা নদীজলের আমেজে বকের দল, পানকৌড়ির দল… Continue reading বুড়ো হাজরা কথা কয় – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

উইলের খেয়াল – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

দেশ থেকে রবিবারে ফিরছিলাম কলকাতায়। সন্ধ্যার আর বেশি দেরি নেই, একটু আগে থেকেই প্ল্যাটফর্মে আলো জ্বেলেছে, শীতও খুব বেশি। এদিকে এমন একটা কামরায় উঠে বসেছি, যেখানে দ্বিতীয় ব্যক্তি নেই যার সঙ্গে একটু গল্পগুজব করি। আবার যার-তার সঙ্গে গল্প করেও আনন্দ হয় না। আমার দরের কোনো লোকের সঙ্গে গল্পে করে কোনো সুখ পাইনে, কারণ তারা যে-কথা… Continue reading উইলের খেয়াল – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

অপরিচিতা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আজ আমার বয়স সাতাশ মাত্র। এ জীবনটা না দৈর্ঘ্যের হিসাবে বড়ো, না গুণের হিসাবে। তবু ইহার একটু বিশেষ মূল্য আছে। ইহা সেই ফুলের মতো যাহার বুকের উপরে ভ্রমর আসিয়া বসিয়াছিল, এবং সেই পদক্ষেপের ইতিহাস তাহার জীবনের মাঝখানে ফলের মতো গুটি ধরিয়া উঠিয়াছে।…………..সেই ইতিহাসটুকু আকারে ছোটো, তাহাকে ছোটো করিয়াই লিখিব। ছোটোকে যাঁহারা সামান্য বলিয়া ভুল করেন… Continue reading অপরিচিতা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর