কাবুলিওয়ালা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমার পাঁচ বছর বয়সের ছোটো মেয়ে মিনি এক দণ্ড কথা না কহিয়া থাকিতে পারে না। পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করিয়া ভাষা শিক্ষা করিতে সে কেবল একটি বৎসর কাল ব্যয় করিয়াছিল, তাহার পর হইতে যতক্ষণ সে জাগিয়া থাকে এক মুহূর্ত মৌর্নভাবে নষ্ট করে না। তাহার মা অনেক সময় ধমক দিয়া তাহার মুখ বন্ধ করিয়া দেয়, কিন্তু আমি তাহা… Continue reading কাবুলিওয়ালা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিলাসী – শেষ -পর্ব – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

চলিলাম বলিতেছি, কেননা আমিও বরাবর সঙ্গে ছিলাম, কিন্তু কোথায় আমার মধ্যে একটুখানি দুর্বলতা ছিল, আমি তাহার গায়ে হাত দিতে পারি নাই। বরঞ্চ কেমন যেন কান্না পাইতে লাগিল। সে যে অত্যন্ত অন্যায় করিয়াছে এবং তাহাকে গ্রামের বাহির করাই উচিত বটে, কিন্তু এটাই যে আমরা ভাল কাজ করিতেছি, সেও কিছুতে মনে করিলাম না। কিন্তু আমার কথা যাক।আপনারা… Continue reading বিলাসী – শেষ -পর্ব – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

বিলাসী – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

পাকা দুই ক্রোশ পথ হাঁটিয়া স্কুলে বিদ্যা অর্জন করিতে যাই। আমি একা নই—দশ-বারোজন। যাহাদেরই বাটী পল্লীগ্রামে, তাহাদেরই ছেলেদের শতকরা আশি জনকে এমনি করিয়া বিদ্যালাভ করিতে হয়। ইহাতে লাভের অঙ্কে শেষ পর্যন্ত একেবারে শূন্য না পড়িলেও, যাহা পড়ে, তাহার হিসাব করিবার পক্ষে এই কয়টা কথা চিন্তা করিয়া দেখিলেই যথেষ্ট হইবে যে, যে ছেলেদের সকাল আটটার মধ্যে… Continue reading বিলাসী – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

মহেশ – শেষ -পর্ব – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

গফুর হাত বাড়াইয়া গ্রহণ করিয়া তেমনি নিঃশব্দে বসিয়া রহিল। যে দুইজন লোক সঙ্গে আসিয়াছিল তাহারা গরুর দড়ি খুলিবার উদ্যোগ করিতেই কিন্তু সে অকস্মাৎ সোজা উঠিয়া দাঁড়াইয়া উদ্ধতকণ্ঠে বলিয়া উঠিল, দড়িতে হাত দিয়ো না বলচি – খবরদার বলচি, ভাল হবে না। তাহারা চমকিয়া গেল। বুড়া আশ্চর্য্য হইয়া কহিল, কেন? গফুর তেমনি রাফিয়া জবাব দিল, কেন আবার… Continue reading মহেশ – শেষ -পর্ব – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

মহেশ – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

গ্রামের নাম কাশীপুর। গ্রাম ছোট, জমিদার আরও ছোট, তবু দাপটে তাঁর প্রজারা টুঁ শব্দটি করিতে পারে না – এমনই প্রতাপ।ছোট ছেলের জন্মতিথি পূজা। পূজা সারিয়া তর্করত্ন দ্বিপ্রহর বেলায় বাটি ফিরিতেছিলেন। বৈশাখ শেষ হইয়া আসে, কিন্তু মেঘের ছায়াটুকু কোথাও নাই, অনাবৃষ্টির আকাশ হইতে যেন আগুন ঝরিয়া পড়িতেছে।সম্মুখের দিগন্তজোড়া মাঠখানা জ্বলিয়া পুড়িয়া ফুটিফাটা হইয়া আছে, আর সেই… Continue reading মহেশ – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

রসগোল্লা – সৈয়দ মুজতবা আলী

আমার এক বন্ধু প্রায়ই ইউরোপ-আমেরিকায় যান। এতই বেশি যাওয়া আসা করেন যে তার সঙ্গে কোথাও দেখা হলে বলবার উপায় নেই, তিনি বিদেশে যাচ্ছেন না ফিরে আসছেন।ঝান্ডুদা ব্যবসায়ী লোক। তিনি নেমেছেন ইতালির ভেনিস বন্দরে জাহাজ থেকে। চুঙ্গিঘরের যাবতীয় প্রশ্নের সদুত্তর দিয়ে শেষটায় লিখেছেন, এক টিন ভ্যাকুয়াম প্যান্ড মিষ্টান্ন। মূল্য দশ টাকা। ঝান্ডুদার বাক্স-পেঁটরায় এত সব জাত-বেজাত… Continue reading রসগোল্লা – সৈয়দ মুজতবা আলী

লালসালু – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

শ্রাবণের শেষাশেষি একদিন। হাওয়া-শূন্য শুদ্ধতায় বিস্তৃত ধানখেত নিথর। কোথাও একটু কম্পন নেই। আকাশে মেঘ নেই।এমন দিনে লোকেরা ধানখেতে নৌকা নিয়ে বেরোয়। ডিঙিতে দুজন করে, সঙ্গে কোচ-জুতি। ধানখেতে নিঃশব্দতা, কোথাও একটা কাক আর্তনাদ করে উঠলে মনে হয় আকাশটা বুঝি চটের মতো চিরে গেল। অতি সন্তর্পণে ধানের ফাকে ফাকে তারা নৌকা চালায়। ঢেউ হয় না, শব্দ হয়… Continue reading লালসালু – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

দুরন্ত পথিক – কাজী নজরুল ইসলাম

সে চলিতেছিল দুর্গম কাঁটাভরা পথ দিয়া। পথ চলিতে চলিতে সে একবার পিছনে ফিরিয়া দেখিল, লক্ষ আঁখির অনিমিখ দৃষ্টি তাহার দিকে চাহিয়া আছে। সে দৃষ্টিতে আশা-উন্মাদনার যে ভাস্বর জ্যোতি ঠিকরাইয়া পড়িতেছিল, তাহাই ঐ দুরন্ত পথিকের বক্ষ এক মাদকতাভরা গৌরবে ভরপুর করিয়া দিল। সে প্রাণভরা তৃপ্তির হাসি হাসিয়া বলিল- ‘হাঁ ভাই! তোমাদের এমন শক্তিভরা দৃষ্টি পেলে কোথায়?’… Continue reading দুরন্ত পথিক – কাজী নজরুল ইসলাম

নতুনদা – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

দাঁড় বাধিয়া পাল খাটাইয়া ঠিক হইয়া বসিয়াছি। অনেক বিলম্বে ইন্দ্রের নতুনদা আসিয়া ঘাটে পোঁছিলেন। চাঁদের আলোতে তাহাকে দেখিয়া ভয় পাইয়া গেলাম। কলকাতার বাবু অর্থাৎ ভয়ংকর বাবু। সিষ্কের মোজা, চ্কচকে পাম্প–সু, আগাগোড়া ওভারকোটে মোড়া, গলায় গলাবন্ধ, হাতে দস্তানা, মাথায় টুপি, পশ্চিমের শীতের বিরুদ্ধে তাহার সতর্কতার অন্ত নাই। আমাদের সাধের ডিঙিটাকে তিনি অত্যন্ত যাচ্ছেতাই বলিয়া কঠোর মত… Continue reading নতুনদা – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

সুভা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মেয়েটির নাম যখন সুভাষিণী রাখা হইয়াছিল তখন কে জানিত সে বােবা হইবে। তাহার দুটি বড় বােনকে সুকেশিনী ও সুহাসিনী নাম দেওয়া হইয়াছিল, তাই মিলের অনুরােধে তাহার বাপ ছােটো মেয়েটির নাম সুভাষিণী রাখে। এখন সকলে তাহাকে সংক্ষেপে সুভা বলে।দস্তুরমতাে অনুসন্ধান ও অর্থব্যয়ে বড়াে দুটি মেয়ের বিবাহ হইয়া গেছে, এখন ছােটোটি পিতামাতার নীরব হৃদয়ভারের মতাে বিরাজ করিতেছে।… Continue reading সুভা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর