তারপর.. – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

এক যে রাজা; তার ভারি গল্প শোনার শখ। কিন্তু তা থাকলে কি হয়, রাজামশাইকে কেউ গল্প শুনিয়ে খুশি করতে পারে না।…….রাজামশাই বললেন, ‘যে আমাকে গল্প শুনিয়ে খুশি করতে পারবে, তাকে আমার অর্ধেক রাজ্য দিব, না পারলে কান কেটে নিব’। তা শুনে দেশ বিদেশের কত ভারি ভারি নামজাদা গল্পওয়ালা কোমর বেঁধে গোঁফে তা দিয়ে গল্পের ঝুড়ি… Continue reading তারপর.. – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

হাওয়া বন্দুক – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

দিন যায়। থাকে কথা।…….মণিকার দিন যায়। কিন্তু কীভাবে যায় কেউ কি তা জানে? তার সুখের ধারণাও খুব বড় নয় দুঃখের ধারণাও নয় বড়। ছোট সুখ, ছোেট দুঃখে দিন তার কেটে যেত। বুকের মধ্যে প্রজাপতির মতো উড়ন্ত একটুখানি সুখ, বা ছোট্ট কাঁটার মতো একটু দুঃখ—এ তো থাকবেই। নইলে বেঁচে যে আছে তা বুঝবে কেমন করে মণিকা!… Continue reading হাওয়া বন্দুক – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

পেঁপেসেদ্ধ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

যারা টিফিনে পেঁপেসেদ্ধ খায় আমি তাদের খুবই শ্রদ্ধা করি।…………কেন মশাই, যারা পেঁপেসেদ্ধ খায় তাদের শ্রদ্ধা করার কী আছে?……….যারা এভারেস্টে ওঠে, বানজি জাম্প দেয় বা ট্রাপিজের খেলা দেখায় তাদের প্রতি কি আমাদের শ্রদ্ধা হয় না? আমি যা পারি না তা আর একজন যখন অনায়াসে পারে তখন শ্রদ্ধাকে। ঠেকানো মুশকিল। আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে আপনি পেঁপেসেদ্ধ… Continue reading পেঁপেসেদ্ধ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

কালো ছড়ি – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

মুরারিবাবু প্রতিদিনের মতো মর্নিংওয়াকে বেরিয়েছিলেন। ডাক্তারের পরামর্শ, এ বয়সে রোজ ভোরবেলা অন্তত একঘণ্টা হাঁটাচলা করলে হার্টের অবস্থা ভালো থাকে। আঁকাবাঁকা গলিতে হাঁটতে হাঁটতে বড় রাস্তায়। তারপর কিছুদূর হাঁটলেই একটা পার্ক। বার দুই-তিন পার্কটা চক্কর দিয়ে মুরারিবাবু একটা বেঞ্চে কিছুক্ষণ বসে জিরিয়ে নেন। তারপর ধীরেসুস্থে বাড়ি ফেরেন। একদিন পার্কে চক্কর দিয়ে তিনি জিরিয়ে নেওয়ার জন্য একটা… Continue reading কালো ছড়ি – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

পান্তাবুড়ির কথা – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

এক যে ছিল পান্তাবুড়ি, সে পান্তাভাত খেতে বড্ড ভালোবাসত।….এক চোর এসে রোজ পান্তাবুড়ির পান্তাভাত খেয়ে যায়, তাই বুড়ি লাঠি ভর দিয়ে রাজার কাছে নালিশ করতে চলল।…পান্তাবুড়ি পুকুর ধার দিয়ে যাচ্ছিল। একটা শিঙিমাছ তাকে দেখতে পেয়ে বললে,‘ পান্তাবুড়ি, কোথায় যাচ্ছ?’ পান্তাবুড়ি বললে, ‘চোরে আমার পান্তাভাত খেয়ে যায়, তাই রাজার কাছে নালিশ করতে যাচ্ছি!’ শিঙিমাছ বললে, ‘ফিরে… Continue reading পান্তাবুড়ির কথা – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

জাদুকর – হুমায়ূন আহমেদ

আজ হাফ ইয়ারলি পরীক্ষার অংক খাতা দিয়েছে।….বাবলু পেয়েছে সাড়ে আট। শুধু তাই নয়, খাতার উপর লাল পেনসিল দিয়ে ধীরেন স্যার বড় বড় করে লিখে দিয়েছেন, গরু। কী সর্বনাশ!..বাবলু খাতা উল্টে রাখল। যাতে গরু লেখাটা কারো চোখে না পড়ে। কিন্তু ধীরেন স্যার মেঘস্বরে বললেন, এই, বেঞ্চির উপর উঠে দাঁড়া। বাবুল বেঞ্চির উপর উঠে দাঁড়াল। তোর অংক… Continue reading জাদুকর – হুমায়ূন আহমেদ

বোকা কুমিরের কথা – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

কুমির আর শিয়াল মিলে চাষ করতে গেল। কিসের চাষ করবে? আলুর চাষ। আলু হয় মাটির নীচে। তার গাছ থাকে মাটির উপরে, তা দিয়ে কোনো কাজ হয় না। বোকা কুমির সে কথা জানতো না। সে ভাবলে বুঝি আলু তার গাছের ফল। তাই সে শিয়ালকে ঠকাবার জন্য বললে, ‘গাছের আগার দিক কিন্ত আমার, আর গোড়ার দিক তোমার।’……………….শুনে… Continue reading বোকা কুমিরের কথা – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

খোশগল্প – সৈয়দ মুজতবা আলী

যখন-তখন লোকে বলে, গল্প বলো। এ বাবদে স্বৰ্গত ক্ষিতিমোহন সেনের একাধিক রসাল উত্তর আছে। তিনি বাঙাল উচ্চারণে তখন বলতেন, ঘর লেপ্যা মুছা, আতুড়ঘর বানাইয়া, মা ষষ্ঠীর গেছে বাচ্যা চাইলেই তো আর বাচ্যা পয়দা হয় না। নয় মাস দশ দিন সময় লাগে। অর্থাৎ গল্পের সময় এলে তবে গল্প বেরুবে। ইহুদিদের গল্প এর চেয়ে একটু ভালো। কেন,… Continue reading খোশগল্প – সৈয়দ মুজতবা আলী

লিফট – তারাপদ রায়

স্মৃতি থেকে উদ্ধার করছি, এই পঙ্‌ক্তি দুটি হয়তো একটু এদিক-ওদিক হতে পারে তবে কবিতাটি নিশ্চয় কবি গোলাম মোস্তাফার, দেখে শুনে বুঝিলাম করি তালিকা, সবচেয়ে ভাল মোর ছোট শ্যালিকা। আমার নিজের বিয়ে হয়েছে দুই দশকেরও আগে, প্রায় দুই যুগই বলা যায়। এতদিন পরে তালিকা প্রণয়ন করে ছোট্ট শ্যালিকাকে সর্বশ্রেষ্ঠ ঘোষণা করার আমার আর কোনও প্রয়োজন নেই।… Continue reading লিফট – তারাপদ রায়

আখের ফল – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

শিয়াল পণ্ডিত আখ খেতে বড় ভালবাসে, তাই সে রোজ আখ ক্ষেতে যায়। একদিন সে আখের ক্ষেতে ঢুকে একটি ভিমরুলের চাক দেখতে পেল। ভিমরুলের চাক সে আগে কখনো দেখেনি, সে মনে করল ওটা বুঝি আখের ফল। শিয়াল কিনা পণ্ডিত মানুষ, তাই সে আখকে বলে ‘ইক্ষু’, ক্ষেতকে বলে ‘ক্ষেত্র’, লাঠিকে বলে ‘দণ্ড’,।…ভিমরুলের চাক দেখে সে বললে, ‘আহা… Continue reading আখের ফল – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী