Categories
স্বাস্থ্য

 করোনা ভ্যাকসিনের দ্বারপ্রান্তে বিশ্ব 

 করোনা ভ্যাকসিনের দ্বারপ্রান্তে বিশ্ব 

নভেল করোনাভাইরাস বা SARS-CoV-2 ভাইরাসের তাণ্ডবে আজ পুরো বিশ্ব বিপর্যস্ত । এ মহামারি থেকে মানবজাতিকে বাঁচাতে পারে কার্যকর ভ্যাকসিন । ভ্যাকসিন তৈরির কাজে লেগে গেছে বহু দেশের বহু কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠান । উদ্দেশ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্বের পর পৃথিবীর পৃথিবীর সামনে মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা, কোটি কোটি মানুষের প্রাণ বাঁচানো । মানুষের হাতে ভ্যাকসিন পৌঁছে দিতে হবে অল্প সময়ের মধ্যেই । বিজ্ঞানীরা এমন আশাই দেখাচ্ছেন ।

আশা পূরণ হলে সেটি হবে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুততম সফল ভ্যাকসিন । ভেঙে দেবে ইবোলো ভ্যাকসিনের রেকর্ড, যেটা পেতে সময় লেগেছিল দীর্ঘ পাঁচ বছর । যেহেতু সময় অল্প, করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরিতে বিজ্ঞানীরা আর আগের ভ্যাকসিন তৈরির পদ্ধতির ওপর ভরসা করতে পারছেন না । তারা বেছে নিচ্ছেন জিনভিত্তিক ভ্যাকসিন তৈরির পদ্ধতি । আর এর মাধ্যমেই করোনা ভ্যাকসিনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে বিশ্ব। 

 

অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন নিরাপদ ও কার্যকর 

২০ জুলাই ২০২০ যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি AstraZeneca ‘র তৈরি COVID-19 ভ্যাকসিনের প্রথম ধাপের হিউম্যান ট্রায়ালের ফল প্রকাশিত হয় আন্তর্জাতিক মেডিক্যাল জার্নাল ল্যানসেটে । এতে বলা হয়, ভ্যাকসিনটি মানবদেহে গুরুতর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখায়নি এবং শরীরে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি তৈরির পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম ।

ফলাফলে দেখা গেছে, পরীক্ষার ৫৬ ‍দিন পর্যন্ত শক্তিশালী অ্যান্টিবডি উৎপাদন ও টি-সেল রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে । দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার পর এ ফল আরও বেশি হতে পারে । 

 

করোনার প্রথম ভ্যাকসিন রাশিয়ার 

১১ আগষ্ট ২০২০ বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবহারপোযোগী একটি ভ্যাকসিনটি অনুমোদন দেয় রাশিয়া । স্থানীয়ভাবে তৈরি Sputnik-v নামের ভ্যাকসিনটি মানুষের ওপর পরীক্ষা করার পর এর ব্যবহারিক প্রয়োগের অনুমোদন দেয়া হয় । মানুষের ওপর দুই মাসেরও কম সময় পরীক্ষা চালানোর পর চূড়ান্ত পরীক্ষার আগেই অনুমোদন লাভ করে এ রুশ ভ্যাকসিন ।

অনুমোদন পাওয়ার পর ভ্যাকসিনটি নিবন্ধন করা হয় এবং এর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পথ সুগম হয় । রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে Sputnik-v ভ্যাকসিনটি তৈরি করে গামালিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজি অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজি । এর প্রাথমিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয় ১৮ জুন ২০২০ । প্রথম পর্যায়ের হিউম্যান ট্রায়ালের পর রাশিয়া জানায়, এ ভ্যাকসিন মানুষের শরীরে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে ।

এরপর দুই দফায় ভ্যাকসিনটির ট্রায়াল হয় । দুটি দলে ভাগ করে ভিন্ন ডোজে ভ্যাকসিন দেয়া হয় প্রাপ্তবয়স্ক স্বেচ্ছাসেবকদের । তারপর সরকারি হাসপাতালে তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয় । রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, প্রথম দলের সবার শরীরেই ভাইরাস মোকাবিলায় প্রতিরোধ ক্ষমতা সক্রিয় হয়েছে । কারো শরীরে টিকার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই । এ দলের স্বেচ্ছাসেবকদের ১৫ জুলাই ২০২০ হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হয় । ‍দ্বিতীয় দলকে ছাড়া হয় ২০ জুলাই ২০২০ ।

কোনো ভ্যাকসিন চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার আগে বড়সংখ্যক রোগীর ওপর এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালাতে হয়, যাকে বলে তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল । কিন্তুু সেই ধাপের আগেই রাশিয়া সরকার গামালিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ঐ ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিয়ে দেয় । তৃতীয় ধাপের চূড়ান্ত পরীক্ষার আগেই রাশিয়া তাড়াহুড়ো করে এ ভ্যাকসিন অনুমোদন দেয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে । আপত্তির মুখেই রাশিয়ার তৈরি করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের প্রথম ব্যাচের উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয় বলে ১৫ আগষ্ট ২০২০ নিশ্চিত করে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় । 

 

চীনা ভ্যাকসিনের সফলতা ও অনুমোদন   

 

২০ জুলাই ২০২০ আন্তর্জাতিক মেডিক্যাল জার্নাল ল্যানসেটে প্রকাশিত হয় চীনের Cansino Biologics‘র তৈরি  AD5-nCov ভ্যাকসিনের গবেষণা প্রতিবেদন । সেখানে বলা হয়, পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবককে দুটি দলে ভাগ করে ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ করা হয় । এ ভ্যাকসিন মানবদেহের ফ্লু জাতীয় দুর্বল একটি ভাইরাস ‍দিয়ে তৈরি করা হয়েছে । ১১ আগষ্ট ২০২০ এ ভ্যাকসিনের পেটেন্টের অনুমোদন লাভ করে Cansino Biologics । এটা চীনে অনুমোদন লাভ করা COVID-19  ভ্যাকসিনের প্রথম পেটেন্টে । 

১৪ আগষ্ট ২০২০ চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি Sonopham জানায়, কি্যনিক্যাল ট্রায়ালের প্রথম দুই ধাপে তাদের উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন অ্যান্টিবডি তৈরি করছে । এ সংক্রান্ত নিবন্ধ প্রকাশিত হয় জার্নাল অব দ্য আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনে । পরে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল শুরু হয় Sonopham ’র  এ ভ্যাকসিনের ।

Sonopham ’র ভ্যাকসিনটি ২০২০ সালের শেষ নাগাদ খুচরা বিক্রির জন্য বাজারে আসবে । এর দাম হবে ১,০০০ ইয়েন বা ১৪০ মার্কিন ডলার । ২৮ দিনের ব্যবধানে দুই ধাপে ভ্যাকসিনটি দেয়া হবে । 

   ১৭ আগষ্ট ২০২০ চীন COVID-19 ’র ভ্যাকসিন অনুমোদন দেয়, যা তৈরি করে দেশটির পিপলস লিবারেশন আর্মির (PLA) সংক্রামণ রোগ বিশেজ্ঞ চেন ওয়েইব দল। ভ্যাকসিনটির দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষায় দেখা গেছে, এটি নিরাপদ ও প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সক্ষম । 

 

অন্যান্য ভ্যাকসিন

 

১. দ্বিতীয় ধাপের সফলতার পর ২৭ জুলাই ২০২০ করোনা ভ্যাকসিন mRNA-1273’র তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শুরু করে মার্কিন ফার্মা জায়ান্ট moderna । ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অবহেলথের তত্ত্বাবধানে ৩৬,০০০ জনকে ভ্যাকসিন দেয়ার বৃহত্তর কর্মসূচি নেয় তারা । যুক্তরাষ্ট্রের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি Pfizer’র জার্মান প্রতিষ্ঠান BioNTech‘র সাথে হাত মিলিয়ে ,Moderna‘র মতোই RNA টেকনোলজিতে একটি ভ্যাকসিন তৈরি করেছে, যার নাম BNT162b1 । টিকাটিতে প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালের সাফল্যও মিলেছে । এরপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্বের ট্রায়াল শুরু করেছে তারা । খুব দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে করোনা ভ্যাকসিনের গবেষণা । আশা করা যায়, শীঘ্রই আমরা বের হয়ে আসতে পারবো এ মহামারি থেকে ।  

 

ভ্যাকসিনে বিদায় নেয়া রোগ 

 

ভ্যাকসিন বা টিকার মাধ্যমে যেকোনো রোগের প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয় মানব শরীরে । এজন্য যেকোনো সংক্রামক রোগের আক্রমণ থেকে বাঁচাতে টিকা বা ভ্যাকসিনের গুরুত্ব অপরিসীম । এ মুহূর্তে অন্তত কয়েক ডজন রোগের টিকা চালু আছে পৃথিবীতে । ভিন্ন ভিন্ন রোগ প্রতিরোধে দেয়া হচ্ছে এসব ভ্যাকসিন । কিন্তুু এসব রোগ পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হয়নি । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (   ) বলছে, টিকা দেয়ার কারণে প্রতি বছর বিশ্বে ২০-৩০ লক্ষ শিশুর প্রাণরক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ছয়টি মহাদেশীয় অঞ্চলে মধ্যে অন্তত চারটিতে যদি কোনো রোগে এক দশক সময়ের মধ্যে কেউ আক্রান্ত না হন, তাহলে ধরে নেয় হয়, সেই রোগটি দূর হয়েছে । গেল দুেই শতাব্দীতে টিকার মাধ্যমে পৃথিবী থেকে রোগ নিমূর্ল হয়েছে মাত্র দু’টি গুটি বসন্ত ও রাইন্ডরপেস্ট ।

Categories
স্বাস্থ্য

ডায়াবেটিস কি ? ডায়াবেটিস প্রতিরোধে করণীয়

বর্তমানে আমাদের সবার কাছে পরিচিত এক শব্দ হলো ডায়াবেটিস । ডায়াবেটিসের রোগী নেই এমন পরিবার খুঁজে পাওয়া দুষ্কর । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ডায়াবেটিস একটি মহামারী রোগ । 

ডায়াবেটিস কি  ?

ডায়াবেটিস কী এমন প্রশ্নের জবাবে আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন বলছে, ডায়াবেটিস এমনই একটি রোগ, যা কখনো সরে না। কিন্তুু এই রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় । ডায়াবেটিস মেলাইটাস একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা ।

যুক্তরাজ্যে প্রায় ৩.৬ মিলিয়ন মানুষের ডায়াবেটিস ধরা পড়েছে । হিসাব অণুযায়ী প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ৬ জন ই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত । আমরা যখন কার্বোহাইড্রেট বা সাধারণ শর্করাজাতীয় খাবার যেমন, ভাত, আলু, পাউরুটি, চাপাটি, মিষ্টি আলু কাঁচাকলা, চিনি ও অন্যান্য মিষ্টি জাতীয় খাবার খাই তখন তা ভেঙ্গে গ্লুকোজ পরিণত হয় ।

ডায়াবেটিসের পিছনে মূল ফ্যাক্ট হচ্ছে, শরীর পর্যাপ্ত ইনসুলিন উৎপাদন করতে না পারা । ইনসুলিন হলো একটি হরমোন, যেটি মানবদেহের অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহান্টসের বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় । এর কাজ হলো গ্লুকোজকে , মানুষের দেহের কোষগুলোয় পৌঁছে দেওয়া । শরীরের কোষগুলো এই গ্লুকোজ ব্যবহার করে শক্তি উওপাদন করে । 

মানুষের শরীরের কোষে যখন গ্লুকোজ পৌঁছায় না তখন স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যহত হয় । যখন কারও ডায়াবেটিস হয় তখন ঐ মানুষের শরীরে ইনসুলিন হরমোনের নিঃসরণ কমে যায় । তখন কোষে গ্লুকোজ পৌঁছাতে পারেনা । ফলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায় । সাধারণত প্রশ্রাবের মাধ্যমে অতিরিক্ত গ্লকোজ শরীর থেকে বের হয়ে যায় ।

এজন্য ডায়াবেটিস রোগীর ঘন ঘন প্রস্রার হয় । তৃষ্ণা বেশি লাগে । প্রচুর গ্লুকোজ বের হয়ে যায় বলে রোগী দূর্বল হয়ে পড়েন । ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহন না করলে, রক্তনালি, স্নায়ু, কিডনি, চোখ ও হৃদযন্ত্রের সমস্যাসহ নান ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দেয় । 

ডায়াবেটিসের লক্ষণসমূহঃ 

ডায়াবেটিসের সাধারণ কতগুলো লক্ষণ রয়েছে যেগুলো দেখে সহজেই চিহিৃত করা যায় ডায়াবেটিস হয়েছে কিনা । লক্ষণগুলো হলোঃ

১. ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া 

২. তৃষ্ণা বেশি লাগা 

৩. ঘন ঘন খিদে লাগা  

৪. প্রচন্ড ক্লান্তি অনুভব করা

৫. বিশেষত রাতে টয়লেটে  বেশি যাওয়া 

৬. জননাঙ্গে চুলকানি 

৭. চোখে ঝাপসা দেখা 

৮. খাওয়া সত্ত্বেও  ওজন কমে যাওয়া 

৯. শরীরের বিভিন্ন অংশের কাটাছেঁড়া বা ক্ষত সহজে না সাড়া । 

১০. হাত-পায়ে ব্যাথা বা মাঝে মাঝে অবশ হয়ে যাওয়া । 

১১. প্রদাহজনিত রোগে বারবার আক্রান্ত হওয়া । 

ডায়াবেটিসের প্রকারভেদঃ 

ডায়াবেটিস মূলত দুই ধরনের । 

১. টাইপ- 1

২. টাইপ- 2

টাইপ-1ঃ শরীর কোন ইনসুলিন উৎপাদন না করতে পারলে টাইপ-1 ডায়াবেটিস দেখা দেয় । যখন অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষগুলো নষ্ট হয়ে যায় তখন এ ধরনের ডায়াবেটিস দেখা দেয় । টাইপ-1 ডায়াবেটিস অনেকসময় বংশ পরস্পরায় চলে, যা জিনগত প্রভাবের ইঙ্গিত করে । টাইপ-1 ধরনের ডায়াবেটিস সাধারণত অল্পবয়স্ক মানুষ যেমন ৪০ বছরের আগে দেখা যায় । ইনসুলিন ইনজেকশন, খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে এবং শরীরচর্চার মাধ্যমে এর চিকিৎসা নেয়া যায় । 

টাইপ-2ঃ ডায়াবেটিস থাকা প্রতি দশজনের নয় জন ব্যাক্তির টাইপ-2 ডায়াবেটিস আছে । এই ধরনের ডায়াবেটিসকে ‘‘পরিপক্কতার সূচনার’’ ডায়াবেটিস বলা হতো । মধ্যবয়সী বা বয়স্ক মানুষের মধ্য এ ধরনের ডায়াবেটিস বেশি দেখা যায় । বর্তমান সময়ে অল্পবয়সী ব্যাক্তিদের মধ্যেও এ ধরনের ডায়াবেটিস বিস্তার লাভ করছে । টাইপ-2 ধরনের ডায়াবেটিস হলে শরীর তখনও কিছুটা ইনসুলিন উৎপাদন করতে পারে । কিন্তু তার পরিমান যথেষ্ট হয় না বা ইনসুলিন যথাযথভাবে কাজ করতে পারেনা । যাদের ওজন খুব বেশি তাদের টাইপ-2 ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি দেখা যায় । দক্ষিন এশীয়, আফ্রিকান ক্যারিবিয়ান সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে সাধারণত বেশি দেখা যায় । এর ধারা বংশগতভাবে চলতে থাকে । সেখানে সাধারণত ২৫ বছরের বেশি বয়সের মধ্যেই টাইপ-2 ডায়াবেটিস দেখা যায় । খাদ্যাভ্যাস , শরীরচর্চা, ট্যাবলেট, ইনসুলিন ইনজেকশনের মাধ্যমে টাইপ-2 ডায়াবেটিসের চিকিৎসা করা হয়।  

ডায়াবেটিস প্রতিরোধে করণীয়ঃ

১. শস্য দানাঃ  প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় শস্য দানা রাখা উচিত। কেননা শস্য দানা মানুষের শরীরের রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্তনে রাখে । ফলে ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা কমে । এক্ষেত্রে ব্রাউন রাইস কার্যকরী ভূমিকা পালন করে । 

২. গ্রিন-টিঃ  ডায়াবেটিস প্রতিরোধে গ্রিন-টি ইনসুলিন মত কাজ করে । তাই ভালো মানের গ্রিন টি বেছে নেওয়া উচিত । 

৩. বাদামঃ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রায় ২১ শত্যাংশ কমায় চীনাবাদাম , গবেষনায় এমন তথ্য পাওয়া গেছে । খাদ্য তালিকায় তাই আখরোট বা কাজুবাদাম রাখা দরকার । নিয়মিত বাদাম খাওয়ার ফলে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে ।

 ৪. লেবুঃ  লেবু ও লেবু জাতীয় ফল ডায়াবেটিস প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে । ভিটামিন ‘‘সি’’ এর অভাবে ডায়াবেটিসর ঝুঁকি রয়েছে । ভিটামিন সি এর অভাব পূরণে লেবু, কমলা, জাম্বুরা, মৌসম্বি খাওয়া যেতে পারে । এগুলো ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে ইনসুলিনের মত কাজ করে । 

৫. সবুজ শাক সবজিঃ সবুজ শাক সবজি যেমন, পালংশাক, বাঁধাকপি, শালগম, ফুলকপি, লেটুস পাতা ইত্যাদি খাবারে ক্যালরি এবং কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কম । এসব খাওয়ার ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে । 

৬. ডিমঃ উচ্চ মানের প্রোটিন সম্মত পেশি গঠনকারী খাদ্য হলো ডিম । ডিমের সাদা অংশে উচ্চমানের চর্বিহীন প্রোটিন এবং কমমাত্রায় কার্বোহাইড্রেট রয়েছে যা দুই ধরণের ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সহায়তা করে । 

৭. মাছঃ মাছে রয়েছে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি এসিড । যা ইনসুলিনের সংবেদনশীলতাকে উন্নত করতে সাহায্য করে । গ্লুকোজের ঘনত্ব কমিয়ে ডায়াবেটিস রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে । 

ডায়াবেটিসে একবার আক্রান্ত হলে, এ রোগ থেকে রেহাই পাওয়া মোটেও সহজ নয় । প্রথম প্রথম খাওয়া-দাওয়া নিয়ন্ত্রনে রাখা যায় । 

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে যা  করতে হবেঃ 

ডায়াবেটিস যদিও জেনেটিক এবং জীবন যাপনের স্টাইলের উপর নির্ভরশীল তারপরও চেষ্টা করলে রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখা সম্ভব । খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সচেতন হতে হবে । 

১. প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে । মসূন সাদা আটার  রুটির পরিবর্তে খেতে হবে ভূষিওয়ালা আটার রুটি । 

২. চিনি জাতীয় পানীয়, ফিজি ড্রিংকস, মিষ্টি, হোয়াইট পাস্তা , প্যষ্ট্রি ইত্যাদি এড়িয়ে চলতে হবে । 

৩. এক বেলা পেট ভরে না খেয়ে কয়েক ঘন্টা বিরতি দিয়ে অল্প অল্প করে খাওয়া দরকার । 

৪. শরীর চর্চা বা ব্যায়াম করতে হবে ।চিকিৎসকরা বলেন, সপ্তাহে আড়হি ঘন্টা ব্যায়াম করা দরকার । দ্রুত হেঁটে , সিড়ে বেয়ে উপরে ওঠে ব্যায়াম করা যেতে পারে । 

৫. ধূমপান পরিহার করাও জরুরি । কোলেস্টেরলে মাত্রা নিয়ন্ত্রনে না রাখলে হৃদ রোগের ঝুঁকি ও বেড়ে যায় । 

৬. ডায়াবেটিসের ঔষধপত্র প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী প্রত্যেকদিন যথাসময়ে গ্রহন করতে হবে ।

 

Categories
স্বাস্থ্য

ইনসুলিন কী ?এর ব্যবহার ,প্রকারভেদ,সংরক্ষণের পদ্ধতি ও সতর্কতা

ইনসুলিন কীঃ

ইনসুলিন (Insulin) হলো অগ্ন্যাশয়ের প্রধান হরমোন । এটি এক ধরনের পলিপ্যাপটাইড, যা গ্লুকোজকে রক্ত থেকে কোষের মধ্যে প্রবেশ করা নিয়ন্ত্রন করে । ইনসুলিন অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন নিঃসরণকারী কোষগুলো থেকে নিঃসৃত হয়।শরীরের পরিপাকব্যবস্থা গ্রহণকৃত খাবারে থাকা কার্বোহাইড্রেটকে ভেঙ্গে গ্লুকোজে পরিণত কমে । অগ্ন্যাশয়ে থাকা ইনসুলিন নামক হরমোন গ্লুকোজ শোষণ করতে সাহায্যে করে এবং দেহে কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাটের বিপাক পরিচালনা করে।ইনসুলিনটাইপ-১ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে , শরীর ইনসুলিন তৈরি করতে পারেনা । টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে, শরীর ইনসুলিন তৈরি করতে পারলেও তা কার্যকর ব্যবহার করতে পারে না । শরীরের ইনসুলিন ব্যতীত রক্তে শর্করা পৌঁছে দেয়ার আর কোনও উপায় নেই । 

 

ইনসুলিনের প্রকারভেদঃ

বিভিন্ন ধরনের ইনসুলিন রয়েছে । রোগীর জীবনযাপন ও ইনসুলিন ঘাটতির ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসক পাঁচ রকম ইনসুলিনের যেকোনো একটি নেওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন । যেমনঃ 

১. র‌্যাপিড অ্যাকটিং ইনসুলিনঃ এটি ১৫ মিনিটের মধ্য কাজ শুরু করে । এক ঘন্টার মধ্যে সর্বোচ্চ হয় এবং চার ঘন্টা পর্যন্ত কার্যকর থাকে 

২. শর্ট অ্যাকটিং ইনসুলিনঃ ৩০ মিনিটের মধ্যে রক্তপ্রবাহে পৌছে এটি । দুই – তিন ঘন্টার সর্বোচ্চ হয় এবং ৬ ঘন্টা পর্যন্ত কার্যকর থাকে । 

৩. ইন্টারমিডিয়েট অ্যাকটিং ইনসুলিনঃ এটি ২-৪ ঘন্টায় রক্তপ্রবাহে মিশে । ৪-১২ ঘন্টায় সর্বোচ্চ হয় এবং ১২-১৮ ঘন্টা পর্যন্ত কার্যকর থাকে । 

৪. লং অ্যাকটিং ইনসুলিনঃ এটি কয়েক ঘন্টার মধ্যেই কাজ করে এবং ২৪ ঘন্টারও বেশি সময় কার্যকর থাকে । 

৫. আল্ট্রা লং অ্যাকটিং ইনসুলিনঃ এটি ৬ ঘন্টার মধ্য রক্তপ্রবাহে পৌঁছে যায় এবং ৩৬ ঘন্টা পর্যন্ত কার্যকর থাকে । 

 

কাদের ইনসুলিন নেওয়ার প্রয়োজনঃ 

ইনসুলিন গ্রহণের নির্দিষ্ট কারণ ও নির্দেশনা রয়েছে । টাইপ-১ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসরণ হয় না যার ফলে সবসময় ইনসুলিন নিতে হয় । টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে ইনসুলিন নিঃসরণ কম হয় বা ইনসুলিন ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না । এক্ষেত্রে জীবনাচরণ পরিবর্তন ও নানা ধরণের ওষধেই নিয়ন্ত্রণ করা যায় । বিশেষ কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ইনসুলিন নেওয়ার প্রয়োজন হয় । তারা হলেন – 

১. গর্ভাবস্থায় ও শিশুকে স্তন্যপান করানোর সময় সবচেয়ে নিরাপদ হচ্ছে ইনসুলিন । গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে এবং আগে থেকে জানা ডায়াবেটিসের রোগী মা হতে চাইলে সব ওষধ বন্ধ করে ইনসুলিন গ্রহন করতে হবে । 

২. ডায়াবেটিসের রোগীদের যেকোনো অস্ত্রোপাচার এর আগে ও পরে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করা খুব জরুরি । এই পরিস্থিতিতে সাময়িক বা দীর্ঘমেয়াদী ইনসুলিন লাগতে পারে । 

৩. হার্ট অ্যাটাক,স্টোক,যক্ষ্মা,নিউমোনিয়া,ফোড়া,গ্যাংগ্রিন ইত্যাদি দ্রুত সেরে উঠতে ইনসুলিন সবচেয়ে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য । 

৪. কিডনি ও যকৃতের জটিলতা থাকলে ইনসুলিন ব্যবহার করতে হয় । জন্ডিস হলে ওষুধ বন্ধ করে ইনসুলিন দিতে হতে পারে ।

৫. টাইপ-১ ডায়াবেটিসে ওষুধ কাজ করে না ইনসুলিন নির্ভর হয়ে বেঁচে থাকতে হয় । 

৬. ওষুধ সর্বোচ্চ মাত্রায় ব্যবহার করার পরও ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকলে একে ওরাল হাইপোগ্লাইসেমিক এজেন্ট ফেইলিত্তর বলে । এ অবস্থায় ওষুধ আর কাজ করে না । তখন ইনসুলিন নেওয়ার প্রয়োজন হয় । 

৭. রক্তে শর্করা আকস্মিকভাবে অনেক বেড়ে গেলে হাসপাতালে ভর্তি করে স্যালাইনের মাধ্যমে ইনসুলিন দিতে হয় ।   

ইনসুলিন নেওয়ার আগে যা জানা দরকারঃ 

১. ইনসুলিন নিলে ওজন বেড়ে যায় । ইনসুলিন নেওয়া শুরু করলে ব্যায়াম বন্ধ করা যাবে না ।

২. ইনসুলিন নিলেও খাবার নিয়ন্ত্রন করা দরকার । খাবারের মধ্যে কম চর্বিযুক্ত খাবার রাখতে হবে । 

৩. বাড়িতে গ্লুকোমিটার রাখুন । প্রতিবার ইনসুলিন নেওয়ার আগে গ্লুকোমিটার মেপে নিন । 

৪. ইনসুলিন দেওয়ার ফলে অনেকসময় সুগার লেভেল কমে যায় । তখন লজেন্স চুষলে ভালো ফল পাওয়া        যায়। তাই বাড়িতে লজেন্স রাখুন । 

ইনসুলিন সংরক্ষণের পদ্ধতিঃ 

ইনসুলিনকে চরম তাপমাত্রায় বা চরম ঠান্ডায় রাখা হলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা কমে যায় । যত দীর্ঘসময় ঐ অবস্থায় থাকবে ইনসুলিন তত কার্যকর কম হবে । ইনসুলিন সংরক্ষণের আদর্শ শর্তাবলী গুলো হলোঃ –

১. না খোলা ইনসুলিন গুলো ফ্রিজে রাখা উচিত । 

২. একটি খোলা ভায়াল ২৮ দিনের জন্য ঘরের তাপমাত্রায় বা ফ্রিজে সংরক্ষণ  করা যেতে পারে। 

৩. ইনসুলিনের কার্ট্রিজ যেটি খোলা হয়েছে সেটি ঘরের তাপমাত্রায় রেখেও সংরক্ষণ করা যায় । সরাসরি সূর্যের আলো যাতে না লাগে এমন অবস্থায় কার্টিজ ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত ঠিক থাকে । 

৪. বাড়িতে মাটির কোন পাত্র থাকলে তার মধ্যে ইনসুলিনের নতুন কার্টিজ সংরক্ষণ করা যেতে পারে । তবে কার্টিজের গলা পর্যন্ত পানি দিয়ে রাখা যাবেনা । কেননা কোন রকম লিকেজ থাকলে পানি ঢুকে যেতে পারে । 

৫. ডিপ ফ্রিজে ইনসুলিন রাখা যাবে না কেননা এটি জর্মে গিয়ে নষ্ট হয়ে যায় । 

৬. ভেজা কাপড়ে মুড়িয়ে ইনসুলিন কার্টিজ সংরক্ষণ করা যায় । 

ইনসুলিন ব্যবহারে সতর্কতাঃ  

১. ইনসুলিন পেন শেয়ার না করাঃ 

এটি শেয়ার করে ব্যবহারের ফলে হেপাটাইটিস বা HIV এর মতো রক্তবাহিত রোগ সংক্রমনের ঝুঁকি বাড়ায় । তাই শেয়ার করে ব্যবহার করাটা অনিরাপদ।

২. ভুল পদ্ধতিতে ইনসুলিন ইনজেকশনঃ 

ইনসুলিন পেশীর বেশি গভীরে প্রবেশ করানো হলে বেশি বেদনাদায়ক হয় । ইনজেকশন নেওয়ার স্থানগুলো হলো, নাভি থেকে চার আঙ্গুল দূরে, ঊরুর বাইরের অংশ, পাছা, নিতম্বের উপরের অংশ, কোমর এবং বাহুর বাইরের অংশ ।

৩. খুব বেশি মাত্রায় ইনসুলিন ইনজেকশনঃ

রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করার জন্য খুব বেশি মাত্রায় ইনসুলিন নেওয়ার ফলে রক্তে বেশি মাত্রায় ইনসুলিন থেকে যেতে পারে । ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা খুব কম হলে শরীর তার নিয়মিত ক্রিয়াগুলো চালানোর জন্য যথেষ্ট জ্বালানি পায় না । শরীর এতটা ক্ষুদার্ত হয়ে যায় যে তা কাজ করা বন্ধ করে দিতে থাকে । 

৪.মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ পরীক্ষা করাঃ 

ইনসুলিন ব্যবহার করার আগে সবর্দা মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ পরীক্ষা করতে হবে । মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া ইনসুলিন ব্যবহার করা যাবে না । 

 

ইনসুলিন সম্বন্ধে কিছু কথা জেনে নিন

 

Categories
স্বাস্থ্য

সংক্রামক ব্যাধি কী ও কেন

সারা পৃথিবীতে প্রতিনিয়তই মানুষ নানা ধরণের সংক্রামক ব্যাধির মুখোমুখি হচ্ছে । কিছু সময় এসব রোগের কারণ এবং প্রতিকারেও মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে এবং বিশেষজ্ঞদেরও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় । ২০১৯ সালের ডিসেম্বর চীনের উহানে প্রথমে শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বপ্রান্তে। এতে প্রতিনিয়ত মৃতের সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও ।

সংক্রামক ব্যাধি কী

সংক্রামক ব্যাধি কী 

মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের অণুজীর বাস করে । এগুলোর মধ্যে কোনো কোনোটি শরীরের জন্য বেশ উপকারী, কোনটি উপকারী না হলেও ক্ষতিকারক নয়, কোনোটি আবার বিশেষ কোনো অবস্থায় বা কোনো বিশেষ কারণে শরীরের জন্য ক্ষতিকারক হয়ে ওঠে এবং মানুষকে অসুস্থ করে তোলে । অণুজীব দ্বারা সংক্রমিত রোগগুলোকেই সংক্রমক রোগ বলা হয় । সংক্রমণের ইংরেজি পরিভাষা হলো  infection । সংক্রামক রোগ আবার ছোঁয়াচে রোগ নামেও পরিচিত । সংক্রমণ বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ সংঘটক (infections agent) যেমন – ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ফাঙ্গাস, পরজীবী (প্যারাসাইট), ভিরয়েড (viroid), প্রিয়ন (prion), নেমাটোডা (বিভিন্ন প্রকার কৃমি), পিঁপড়া, আথোঁপোডা (যেমন- উকুন, মাছি) এবং বিভিন্ন প্রকার ছত্রাক দ্বারা সংগঠিত হয় । 

লক্ষণ ও উপসর্গ

সংক্রমণের উপসর্গ রোগের ধরনের উপর নির্ভর করে । সংক্রমণের কিছু লক্ষণ সাধারণত পুরো শরীরকে প্রভাবিত করে যেমন- ক্লান্তি,ক্ষুধা হ্রাস, ওজন হ্রাস, জ্বর, রাতে ঘাম, ঠাণ্ডা ও ব্যাথা । অনেক ক্ষেত্রে চামড়ার দাগ, কাশি ইত্যাদিও হতে পারে ।

 সংক্রামক রোগ বিস্তার 

সংক্রামক রোগ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ উভয় মাধ্যমেই বিস্তার লাভ করতে পারে । 

প্রত্যক্ষ মাধ্যমে 

১. মানুষ থেকে মানুষ: এক্ষেত্রে সংক্রমিত ব্যত্তির সান্নিধ্যে ব্যাকটেরিয়ার, ভাইরাস বা অন্য কোনো জীবাণু সরাসরি সুস্থ মানুষের শরীরে অনুপ্রবেশ করে থাকে । সংক্রমিত ব্যক্তির, হাঁচি, কাশি, স্পর্শ বা চুমুর মাধ্যমে সুস্থ ব্যক্তি সংক্রমিত হতে পারে । 

২.জীবজন্ত্ত থেকে মানুষে  : সংক্রমিত কোনো জন্ত্ত এমনকি পোষা প্রাণীর কামড় অথবা আঁচড় থেকে এ রোগ বিস্তার লাভ করে থাকে । পোষা জন্ত্তর মল-মূত্র পরিষ্কার করতে গিয়েও সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে । 

৩.মা থেকে নবজাতক : গর্ভবতী মা-এর  থেকে নবজাতক আক্রান্ত হতে পারে । কখনো গর্ভফুলের মাধ্যমে কখনো বা প্রসবের সময় জরায়ুর মুখ থেকে নবজাতকের শরীরে জীবণু প্রবেশ করার ঝুঁকি থাকে ।

পরোক্ষ মাধ্যম 

কোনো কোনো রোগের জীবাণু দূষিত খাদ্য বা পানির মাধ্যমে অথবা দূষিত বাতাস বা পরিবেশস্থ দূষিত কোনো মাধ্যমের সাহায্য মানুষের শরীরে প্রবেশ করে । কোনো কোনো জীবাণু জীবন্ত কোনো মাধ্যম ছাড়া জড় পর্দাথকে নির্ভর করে বেশ কিছু সময় টিকে থাকতে পারে । সেক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে জীবাণুগুলো মানুষের শরীরে প্রবেশ করার আশঙ্কা দেখা দেয়। যেমন- ফ্লু’তে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিস সুস্থ কেউ ব্যবহার করলে সে সংক্রমিত হতে পারে ।

বাংলাদেশে যত সংক্রামক রোগ 

‘সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নিমূল) আইন, ২০১৮’ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২৩ টি সংক্রামক রোগের নাম উল্লেখ করা হয় । সেগুলো হলো- ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর, ফাইলেরিয়াসিস, ডেঙ্গু, ইনফ্লুয়েঞ্জা, এভিয়ান ফ্লু, নিপাহ, অ্যানথ্রাক্স, মার্স-কভ (MERS-COV), জলাতঙ্ক, জাপানিস এনসেফালাইটিস, ডায়রিয়া, যক্ষা, শ্বাসনালির সংক্রমণ, এইচআইভি, ভাইরাল হেপাটাইটিস, টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য রোগসমূহ, টাইফয়েড, খাদ্যে বিষক্রিয়া, মেনিনজাইটিস, ইবোলা, জিকা এবং চিকুনগুনিয়া । 

সংক্রামক ব্যাধির তালিকায় 

Covid – 19 

১১ মার্চ ২০২০ বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থা (who) করোনাভাইরাসের ফলে সৃষ্ট covid-19কে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করে । who কর্তৃক মহামারি ঘোষণার পর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ১৮ মার্চ ২০২০ বাংলাদেশে একে সংক্রামক ব্যাধি হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট জারি করতে নির্দেশ দেয় । ১৯ মার্চ ২০২০ সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ,নিয়ন্ত্রণ ও নিমূল) আইন, ২০১৮ এর ধারা ৪(ভ)-এ বর্ণিত ক্ষমতাবলে সরকার নভেল করোনাভঅইরাসকে (কোভিড-১৯) সংক্রামক ব্যাধির তালিকাভুক্ত করে । ২৩ মার্চ ২০২০ গেজেট জারি করা হয় । গেজেটে ৮ মার্চ ২০২০ থেকে বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের তারিখ কার্যকর করা হয়। সংক্রামক ব্যাধির তালিকায় যুক্ত হওয়া এ ভাইরাস সংক্রামক ঠেকাতে সরকারি নির্দেশনা কেউ উপেক্ষা করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য করে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইনের অধীনে তাকে শাস্তি দেয়া যাবে ।

Categories
স্বাস্থ্য

স্মৃতিশক্তি ও বুদ্ধি বাড়ানোর জন্য বেশ কিছু উপায়

মানুষ হলো সৃষ্টির সেরা জীব।কারন তার স্মৃতিশক্তি ও বুদ্ধি। আর এগুলোর বিকাশ কিভাবে করা যায় জানি কি? 

 

সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপনের জন্য শরীরিক ও মানসিক সুস্থতার কোন বিকল্প নেই। মানুষ হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার সৃষ্ট সেই জীব যে কিনা সমস্ত জীবের মধ্য শ্রেষ্ঠ। আর এই শ্রেষ্ঠত্বের কারন হলো মানুষের বেধা, বুদ্ধি, জ্ঞান ও স্মৃতিশক্তি  । মানুষের পক্ষেই সম্ভব হয়েছে বিধার সৃষ্টিকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করে পৃথিবীতে নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে  । প্রতি মূহুর্তে এগিয়ে যাচ্ছে পৃথিবী আর উন্নত হচ্ছে সভ্যতা ।স্মৃতিশক্তি

একজন স্বাভাবিক মানুষের শরীরের শক্তি বা সৌন্দর্য একটা বয়সের পর কমে যেতে থাকে, এবং এক সময়ে তা একেবারেই কমে যায়। কিন্তু মস্তিষ্কের ক্ষমতা শারীরিক ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী, এবং এই শক্তি ব্যবহার করে অনেক বেশি কিছু অর্জন করা যায়। 

 

স্মৃতিশক্তি ও বুদ্ধি বাড়ানোর জন্য বেশ কিছু উপায় রয়েছে । এগুলো চর্চার মাধ্যমে আমাদের চিন্তা শক্তি ও মেধার বিকাশ ঘটানো সম্ভব। এই উপায়গুলো হলো –

 

 

১/ শারীরিক অনুশীলন :

মস্তিষ্ক দীর্ঘদিন সচল রাখার জন্য এবং বুদ্ধি ও মেধার বৃদ্ধির জন্য প্রতিদিন শারীরিক অনুশীলনের কোন বিকল্প নেই।   শারীরিক অনুশীলনের ফলে মস্তিষ্কের রক্তপ্রবাহ বেড়ে যায় এবং নার্ভ সেল উৎপাদন বজায় রাখে। এমনকি ছয় মিনিটের শারীরিক অনুশীলনও মানুষের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। শারীরিক কসরত, যোগব্যায়াম সব রকম ব্যায়ামই  স্মৃতি শক্তি বাড়ানোর জন্য ভালো। শারীরিক অনুশীলন

২/ যথাপোযুক্ত খাবার :

স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে খাবার অন্যতম । মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে খাদ্য খুবই প্রয়োজনীয়। মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতাকে বৃদ্ধি করতে সঠিক খাবার খাওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। কারণ, আমরা সারা দিনে যা খাই তার মাত্র ২০ শতাংশ শর্করা ও শক্তি আমাদের মস্তিষ্কে প্রবেশ করে। কাজেই মস্তিষ্কের সঠিক সঞ্চালন নির্ভর করে গ্লুকোজের মাত্রার উপর। এই মাত্রার ঘাটতি হলেই দেখা দেয় নানান সমস্যা। তাই মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাকে বৃদ্ধি করতে নিয়মমাফিক এবং স্বাস্থ্যকর খাবার অত্যন্ত প্রয়োজন। যেমন – 

★ কলা ও নানা রকমের দেশীয় ফল কেতে হবে। কারন এতে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন বি, যা নার্ভ ইমপালস্ ট্রান্সমিশনে সাহায্য করে এবং ব্রেনকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে ও স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। 

★মাছ মাথা ও মাছের তেল। কারন মাছের তেল ব্রেন সেল গঠন করে এবং মস্তিষ্কের প্রদাহ কমায় ও মস্তিষ্ককে রক্ষা করে। এছাড়া, মাছের তেলে ওমেগা-৩ পাওয়া যায়, যা ব্রেনের জন্য উপকারী।

★ মাংসের কলিজা স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে।  মাংসের কলিজায় থাকে আয়রন ও ভিটামিন বি, যা মস্তিষ্কের জন্য উপকারী। ★বিভিন্ন  রকম সবুজ শাকসবজি, পালং শাক, বিভিন্ন ফল, সামুদ্রিক মাছ, বাদাম, তেলের বীজ, বিনস ইত্যাদি মস্তিষ্কের জন্য উপকারী।

★দুধ ও ডিম তে একটি আদর্শ খাবার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য।এতে ব্রেনের কার্যকারীতা বাড়ে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ে।    

★মানুষের দেহের পরিপাকতন্ত্রে একশো ট্রিলিয়নেরও বেশি অণুজীব বসবাস করে। এরা আপনার মস্তিষ্কের সঙ্গেও সংযোগ রক্ষা করে।

মগজের সুস্থতার জন্য এই অণুজীবগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা খুব জরুরি।

আসলে, পাকস্থলীকে অনেক সময় ‘দ্বিতীয় মগজ’ বলে ডাকা হয়।

 

৩/ পর্যাপ্ত ঘুম প্রয়োজন  :

শারীরিক সুস্থতার সাথে সাথে মানসিক সুস্থতার জন্যও প্রতিদিন ৭/৮ ঘন্টা ঘুম খুব দরকার।এতে ব্রেন বিশ্রাম পায় এবং পরবর্তী দিনের জন্য নিজেকে রেডি করে। তাই প্রর্যাপ্ত ঘুম আবশ্যক। তবে ঘুমাতে যাবার আগে নতুন কিছু করার চেষ্টা করা যেতে পারে এবং সারাদিন যা যা করেছেন তা মনে করেও স্মৃতিশক্তি বাড়ানো যেতে পারে।

পর্যাপ্ত ঘুম প্রয়োজন 

 

৪/ ভিন্নপথ অনুসরণ : 

 

একই কাজ একই উপায়ে বার বার করা হলে তাতে এক রকম একঘেয়েমি চলে আসে। আর এই এক ঘেয়েমি দূর করতে একই কাজ যা রোজ করা হয় তার বাঝে কিছু বৈচিত্র্য আনার মাধ্যমেও মেধার বিকাশ ও স্মৃতিশক্তি বাড়ানো যায়। যেমন – রোজ আমরা যে পথ দিয়ে স্কুল, কলেজ বা অফিসে যাওয়া আশা করি তা না করে ভিন্ন পথ অবলম্বন করার মাধ্যমেও স্মৃতিশক্তি বাড়ানো সম্ভব। স্মৃতিশক্তি বারানোর জনয় এই পদ্ধতিটি পরীক্ষিত ও কার্যকর।      

 

৫/ নতুন কিছু শেখার চেষ্টা :

 

নতুন কিছু শেখার চেষ্টা একটি মানুষের স্মৃতি বাড়াতে অনেকাংশেই সহায়তা করে। নতুন যে কোন শিখা মানুষকে একদিকে যেমন সৃজনশীল করে অন্য দিকে বুদ্ধির যথার্থ প্রয়োগের মাধ্যমে মস্তিষ্কের প্রসারতা বাড়ায়। এতে করে স্মৃতিশক্তিও বাড়ে।

এছাড়া যে কোন রকম মানসিক চাপ এড়িয়ে চলা। মানসিক চাপ বাড়লে স্মৃতিশক্তি কমতে শুরু করে। বন্ধু ও পরিচিতজনের সংখ্যা বাড়ানো এবং তাদের সঙ্গে  গঠনমূলক সুন্দর সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তুলার মাধ্যমেও স্মৃতিশক্তির বিকাশ সম্ভব।

 

৬/ এক সঙ্গে অনেক কাজ না করা :

 

এক সঙ্গে অনেক  কাজ করার প্লেন করলে ব্রেনের উপর অতিরিক্ত চাপ পরে। এতে করে স্মৃতিশক্তিও বিক্ষিপ্ত হয়ে যায়।

    

  বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, মাল্টিটাস্ক বাস্তবে মানুষকে ধীর করে দেয়। এতে মনোযোগ বিক্ষিপ্ততা তৈরি হয়, যা সৃষ্টিশীলতার তুলনায় সমস্যাই বেশি তৈরি করে।

 

কম্পিউটারে অপ্রয়োজনীয় তথ্য ডিলিট দেবার মত  মানুষেরও অপ্রয়োজনীয় তথ্য ও কথা মাথা থেকে বাদ দেয়া উচিত। নতুন কিছু শেখা ও আবিষ্কার করা বা নতুন কিছু চিন্তা করা বুদ্ধিভিত্তিক খেলায় অংশ নেয়াও মস্তিষ্ককে কর্মক্ষম রাখার আরেকটি ভালো উপায়।  যেমন নতুন ভাষা শিখা, নতুন কিছু রান্না শেখা, নতুন কোন ক্রিয়েটিভ কাজে অংশ নেয়া ইত্যাদি।  

ঔ গায়না এমন মানুষ দেখাই যাবে না। গান মস্তিষ্কের উপর দারুন ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফলে মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং তার সাথে বাড়ে স্মৃতিশক্তিও। গান যে মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করতে পারে তার প্রমাণ রয়েছে। 

গানের সুরের প্রভাবে পুরো মস্তিষ্ক সক্রিয় হয়ে উঠে। এর ফলে মস্তিষ্ক গানের স্মৃতি ধরে রাখে দীর্ঘদিন। গান মানুষের মানসিক অবসাদ ও ঠোকাতে পারে।তাই আমাদের মস্তিষ্কের প্রশান্তির জন্য সুরের মূর্চ্ছনার প্রয়োজন।    

 

৮/ মস্তিষ্ককে রিলাক্স করা :

 

দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অবসাদ ও উদ্বেগ মস্তিষ্কের জন্য খুবই খারাপ। এতে করে ব্রেণের উপর এক ধরনের চাপ পরে। তাই কাজের ফাঁকে অবসর সময় বেড় করা খুবই প্রয়োজন। অবসর নেয়ার মাধ্যমে মস্তিস্ককে  রিলাক্স দেয়া যেমন হয় অন্য দিকে এটি আমাদের স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও সহায়তা করে। যোগব্যায়াম বা মাইন্ডফুলনেস চর্চার মাধ্যমেও মস্তিষ্ককে রিলাক্স করা যায়।  

 

৯/ বেশি বেশি হাঁটা চলা করা : 

গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে বেশি হাঁটা চলা করলে স্মৃতি শক্তি বাড়ে। যেমন ধরুন কোন শব্দ বা বাক্য মনে থাকে না বা কোন পড়া মনেই থাকছে না, সেক্ষেত্রে হেঁটে হেঁটে পড়লে সেটা মনে থাকে।আবার অনেক সময় পড়তে পড়তে একঘেয়েমি চলে আসে। কোন কিছুই মনে থাকে না।সেক্ষেত্রে একটু বািরে থেকে ঘুরে এসে আবার শুরু করলে ঔ পড়া তারাতাড়ি মুখস্ত হয় এবং অনেকদিন মনেও থাকে।হাঁটা চলা করা     

 

১০/ মেডিটেশন করা : 

মিডিটেশন একদিকে যেমন আমাদের স্মৃতিশক্তি বাড়ায় তেমনি আমারদের লক্ষ্য নির্ধারনেও সহায়তা করে। প্রতিদিন আমাদের ব্রেনে ৬০,০০০ হাজারের উপরে চিন্তা আসে আর কোনটাতেই আমরা কিছু সময়ের জন্য ফোকাস করি না।কারন আমাদের ব্রেন বিক্ষিপ্ত থাকে এবং কোনটাতে ফোকাস করবে তা বুঝে উঠতে পারে না।

মেডিটেশন করা

সেক্ষেত্রে লক্ষ্য নির্ধারণ ও স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর আর এক উপায় হল মেডিটেশন। এর ফলে আমাদের মনের চিন্তার চাপ অনেকটাই কমে যায়। মেডিটেশন করলে যেকোনো কাজেই মনোযোগ বাড়ে এবং ব্রেনের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ফলে কোনো কিছু মনে রাখার বা মনে করার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হয় না। প্রতিদিন নিয়মমাফিক সকালে ঘুম থেকে উঠে ও রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে কমপক্ষে ১৫ /২০ মিনিট মেডিটেশন করলেই যথেষ্ট । চোখ বন্ধ করে লম্বা শ্বাস নিয়ে মনকে শান্ত করার চেষ্টা করুন। এক সপ্তাহের মধ্যে  এর সুফল পাওয়া যায় এবং এটা একটা অভ্যাসে পরিনত হয়।

 

আসলে মানুষের জীবনের সাফল্যের জন্য মস্তিষ্ককে ঠিকভাবে ব্যবহার করাই সবচেয়ে জরুরী। মনে রাখতে পারা এবং প্রয়োজনের সময়ে মাথা খাটাতে পারা হতে পারে আপনার সাফল্যের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। স্মৃতিশক্তি মানুষের একটও বড় সম্বল এবং এটি ব্যাতিত মানুষ জড় পদার্থের সমান। বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের স্মৃতিশক্তি কমে আবার অল্প বয়সেও কমতে পারে। তাই উপরে উল্লেখিত নিয়মগুলো যথাযথ পালনের মাধ্যমে স্মৃতিশক্তি ও মেধার সঠিক বিকাশ সম্ভব। 

 

লিখেছেন –

ত্রোপা চক্রবর্তী

 

Categories
স্বাস্থ্য

তরমুজের উপকারিতা, অপকারিতা এবং খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি কী?

 গরমে পানির বিকল্প হলো তরমুজ এবং এটি কিডনি ও ক্যান্সার রোধে সহায়ক।আসুন বিস্তারিত জেনে নেই তরমুজ

প্রচন্ড গরমে তরমুজ খুবই আরামদায়ক ফল শরীরের জন্য।এতে পানির পরিমান বেশি। ফলে শরীরকে ডিহাইড্রশন থেকে রক্ষা করে। তরমুজ অতি পরিচিত একটি গ্রীষ্মকালীন ফল। এতে শতকরা প্রায় ৯২ ভাগই পানি। এতে প্রচুর ভিটামিন- এ রয়েছ। তরমুজে যে পটাশিয়াম রয়েছে  তা ফ্লুইড ও মিনারেলসের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে। এতে প্রচুর ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে।

নিম্নে তরমুজের কিছু উপকারিতার কথা তুলে ধরা হলো :

ওজন কমানে সহায়তা করে :

তরমুজে ফ্যাট একেবারেই নেই বরং গবেষণায় দেখা গেছে যে, তরমুজ মানুষের শরীরের চর্বি কমাতে সাহায্য করে।

ক্যান্সার প্রতিরোধ করে :

তরমুজ ক্যান্সার প্রতিরোধেও সহায়ক। তরমুজ খেলে প্রোস্টেট ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার, ফুসফুসের ক্যান্সার ও ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায়। 

হার্টকে সুস্থ রাখে :

তরমুজ এতটাই উপকারী যে সিজনাল ফল হিসাবে গরমের সময় প্রতিদিন অন্তত একটুকরা হলেও তরমুজ খাওয়া উচিত। এটি শরীর থেকে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলকে দূর করে। এতে করে হার্ট সুস্থ থাকে এবং হার্টের রোগ হবার সম্ভাবনা কমে।

চোখ ভালো রাখে :

তরমুজে রয়েছে বেটাক্যারোটিন যা আমাদের দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক। বেটাক্যারোটিন  রাতকানা রোগ দূর করতে কার্যকরী।

পানি শূন্যতা দূর করে :

তরমুজের প্রায় শতকরা ৯২ ভাগ পানি। ফলে এটা আমাদের শরীরে পানির চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। আমাদের শরীরকে ডিহাইড্রেট করতে তরমুজ খুবই উপকার। প্রচন্ড গরমে হিট স্ট্রোক রোধেও সহায়তা করে। 

উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়ক :

তরমুজে রয়েছে সিট্রোলিন, যা উচ্চ রক্তচাপ কনাতে খুবই কার্যকর। 

কিডনির সমস্যা দূর করে :

তরমুজে পটাসিয়ামের মাত্রা অনেক কম। আর এই জন্যই এটা কিডনি রোগীদের খাবার উপযুক্ত। কারন পটাসিয়াম বেশি খাবার ডাক্তার কিডনি রোগীদের খেতে নিষেধ করে থাকেন।

হাড়ের সুস্বাস্থ্যে সহায়ক :

তারমুজে রয়েছে ভিটামিন-সি। যা আমাদের হাড়ের ছোট ছোট সমস্যা দূর করে হাড়ের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখে। তরমুজ খেলে হাড়ের চিড় ধরার সমস্যা দূর হয় এবং হাড়ের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।   

মাড়ির জন্য উপকারী :

মাড়ির বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে তারমুক খুবই উপকার। তটমুজে রয়েছে ভিটামিন- সি।এটি মাড়ি দিয়ে রক্ত পরা বা মাড়ি ফোলার সমস্যা দূর করে। এমনকি মুখের ভিতরে ব্যাকটেরিয়া ও মাড়িতে রোগ জীবাণুর সংক্রমণ দূর করে।     

 

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি :

তরমুজে রয়েছে ভিটামিন-এ ও বি। এগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট গঠনে সহায়তা করে। এতে করে রক্তে শ্বেত রক্ত কনিকা গঠিত হয় এবং নানা ধরনের রোগের সংক্রামন রোধ করে।

 

অনেক পুষ্টিগুন সম্পূর্ণ তরমুজের কিছু অপকারিতাও রয়েছে।সেগুলো হলো :

 

১/ একজন মানুষ তার প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তরমুজ খেলে ডায়রিয়া, খাবারে অরুচি ও বমি বমি ভাব হতে পারে। তাই পরিমান মত খাওয়াই ভালো।

 

২/ তরমুজ কেটে একদিনেই খেয়ে নেয়া উচিত।ফ্রিজে রেখে ২/৩ দিন ধরে খাওয়া উচিত না।

 

৩/ নারীদের মাসিকের সময় এবং গর্ভবতূ নারীদের তরমুজ এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

 

৪/ জ্বর, সর্দি, পেটের সমস্যায় তরমুজ না খাওয়াই ভালো। খালি পেটে তরমুজ না খাওয়াই উচিত।

 

৫/ অ্যাজমা রোগীদের তরমুজ না খাওয়াই ভালো। কিডনি রোগীদের ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া তরমুজ খাওয়া ঠিক না।    

 

তরমুজ একটা রসালো ফল। এটিতে আমাদের শরীরের জন্য অপরিহার্য প্রয়োজনীয় উপাদান গুলি রয়েছে। এটি আমাদের শরীরের বিভিন্ন হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে শরীরকে সুস্থ ও সতেজ রাখতে সহায়তা করে।তাই গরমের দিনে তরমুজ আমাদের সবারঔ পরিমিত পরিমিত খাওয়া উচিত।

 

লিখেছেন –

ত্রোপা চক্রবর্তী 

 

Categories
স্বাস্থ্য

শিশুর পেটে গ্যাস ! কারন,লক্ষণ ও করনীয়

শিশুদের পেটে গ্যাস হয়?আসুন জেনে নেই গ্যাস হলে কিভাবে বুঝবো এবং এর থেকে প্রতিকারের উপায় কি? শিশুদের পেটে গ্যাস

একটি শিশু তার নিজের ইচ্ছা মত ঘুমায় ও ঘুম থেকে জেগে উঠে। শিশুরা দিনে প্রায় ১৮ থেকে ২০ ঘন্টা ঘুমায়। কখনও কখনও প্রথম তিন চার মাস শিশুটি বেশি কান্নাকাটি করতে পারে। এর প্রধান কারন হলো পেটে গ্যাসের সমস্যা। একজন প্রাপ্ত বয়স্কের মত একটি শিশুরও গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। শিশুরা সাধারণত সংবেদনশীল হয়ে থাকে এবং বড়দের মত তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বড়দের চাইতে অনেক কম। তারা খুব সহজেই নানা রকম জীবাণু, ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয়।

শিশুদের পেটে গ্যাস হবার লক্ষণ :

বড়দের মত শিশুরা যেহেতু মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে না তাই জ্বর, সর্দি, কাশি হলে বোঝা যায় কিন্তু পেটের সমস্যা হলে বাচ্চারা পা টান টান করে কান্না করে, পেট শক্ত হয়ে যায়, খাওয়ার পর কান্না করে, অতিরিক্ত নড়াচড়া, পা ভাজ করে পেটের কাছে নয়ে আসে, খুব মোচড়ায় ইত্যাদি লক্ষণ শিশুরা প্রকাশ করতে থাকে তবে এতে চিন্তিত  হবার কিছু নেই। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই পরে তবে শিশুটি সাময়িক কষ্ট পায়। 

শিশুদের পেটে কিভাবে গ্যাস হয় :

আমরা হয়তো অনেক বাবা মা বিশেষ করে প্রথমবার  সদ্য জন্ম নেয়া সন্তানের বাবা মা হয়তো অনেক কিছুই বুঝতে পারি না। কিভাবে একটি শিশুর পেটে গ্যাস হয় আসুন জেনে নেই-

★ শিশুদের প্রধান খাবারই হলো দুধ। তারা মায়ের দুধ বা প্রক্রিয়া করা দুধই সাধারণত খেয়ে থাকে। এতে প্রোটিন এবং ফ্যাটের হজম করা থেকে স্বাভাবিক ভাবে গ্যাস তৈরি হয়।

★শিশুরা বেশি কান্নাকাটি করলেও তাদের পেটে হাওয়া ঠুকে যায়।  এর পরিণতিতেও গ্যাস তৈরী হতে পারে, যার ফলে একটি জটিল চক্র তৈরি হয়।

★ মা তার খাবারে যা যা গ্রহন করেন শিশুও স্তন্য দুধের মাধ্যমে তা গ্রহন করে থাকেন। কিছু কিছু খাবার যদি মা খান তবে শিশুর পেটে গ্যাস হবার সম্ভাবনা থাকে।যেমন — কফি, বাদাম, ঘি, মাখন, পনির, মশলা জাতীয় খাবার ইত্যাদি। 

★ শিশুকে বেশি খাবার খাওয়ানো হলেও তা তার হজমশক্তিকে প্রভাবিত করবে এবং গ্যাসের সৃষ্টি করতে পারে।

★ বাচ্চার বয়স ৬ মাস হলে তাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করাতে হবে।পানি না খাওয়ালে  তার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হবে এবং পেটে গ্যাসও জমবে।  

শিশুর পেটে গ্যাস হলে করণীয় :

১/ শিশু যদি বোতল দিয়ে দুধ কায় তবে দুধ খাওয়ানোর সময় বোতলটি উঁচু করে ধরতে হবে।নিপলটি যাতে দুধে পূর্ণ থাকে কারন নিপলে দুধ না থাকলে বাচ্চা নিপলটি টান দিলে দুধের সাথে সাথে বাতাসও বাচ্চার পেটে যায়। 

২/ শিশুর খিদে বেশি লাগার আগেই তাকে খাওয়াতে হবে কারন বেশি খিদে লাগলে সে বেশি বেশি ঢেক গিলে এতে বাতাস পেটে যায় আর বেশি খিদে লাগলে কান্নাকাটিও বেশি করে এতে করেও বাতাস পেটে ঢুকে।

৩/ শিশুকে দুধ খাওয়ানোর সময় তার উপরিভাগ উঁচু করে ধরতে হবে। যাতে দুধ সরাসরি ও সহজেই তার পেটে যায়।  

৪/ শিশুটিকে চিত করে শুিয়ে তার ২ পা ২ হাত দিয়ে ধরে সাইকেলিং এর মত ঘুরাতে হবে । এটা দিনে ৩/৪ বার করলে পেটে গ্যাস হবার সম্ভাবনা কম হয়।

৫/ শিশুটিকে  খাওয়ার সময় বার বার তাকে কোলে নিয়ে ঢেকুর তোলার জব্য চেষ্টা করতে হবে। এতে পেটে বাতাস থাকলে বেড়িয়ে যায়। 

উপরের পদ্ধতিগুলোর মাধ্যমে গ্যাসের সমস্যা কমানো সম্ভব না হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। পেটে গ্যাসের সমস্যার সাথে সাথে যদি বমি, ডায়রিয়া ও জ্বর দেখা যায় তবে অবশ্যই ডাক্তার দেখিয়ে পরামর্শ নিতে হবে।    

মনে রাখতে হবে, একটি সুস্থ শিশু কান্নাকাটি কম করে এবংসুস্থ শিশুই একটি সুস্থ জাতির ভবিষ্যৎ। 

 

লিখেছেন –

ত্রোপা চক্রবর্তী 

 

 

Categories
স্বাস্থ্য

আসুন জেনে নেই তীব্র গরমে কিভাবে শিশুকে সুস্থ রাখা যায়

একটি ঋতুর শুরুতে আর শেষ কম বেশি সবারই শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয়। আমরা বড়রাই জ্বর ঠান্ডা কাশি সহ নানা রকমের রোগে আক্রান্ত হই।আর শিশুদের প্রতিরোধ ক্ষমতা যেহেতু দূর্বল, স্বাভাবিকভাবেই তারা খুব দ্রুত অসুস্থ হয়ে যায়।সাধারণত শিশুর খাবার, পানি, কাপড় চোপড়, শিশুর রুমের তাপমাত্রা ও মশা থেকে শিশুকে রক্ষার বিষয়ে একটু সচেতন হলেই গরমে শিশুর যত্ন নেয়া সহজ হয়ে যায় ।শীত, গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষা কাল সব ঋতুতেই বাচ্চাদের যত্নের প্রয়োজন হয়।

গরমে শিশুর যত্ন নেবার উপায়

তবে অন্যান্য সময়ের তুলনায় গরম কাল শিশুদের জন্য বেশি কষ্টকর হয়ে ওঠে। এ সময়ে শিশুদের নানা অসুখ-বিসুখ হতে পারে। তাই গরমের শুরু থেকেই শিশুদের খাবার ও তারা যে পরিবেশে আছে সেই পরিবেশটার প্রতি যত্মবান হলে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা থেকে শিশুদের রক্ষা করা যায়।

 

নিম্ন গরমে কি করে সঠিক উপায়ে শিশুদের যত্ন নেয়া যায় সে বিষয়ে আলোকপাত করা হলো :

 

★ অতিরিক্ত গরমে বাচ্চাদের ঘামাচি বা লাল লাল দানার মত ফুসফুড়ি হয়ে থাকে। তাই এই সময় বাচ্চাদের পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।  নিয়মিত গোসল ও পরিষ্কার জামা পরাতে হবে। ফুসকুড়ির জায়গাগুলোয় বেবি পাউডার লাগাতে পারেন। এতে চুলকানি কিছুটা কমে যাবে।

 

★ ঘেমে গেলেই বা ডায়পার ভিজে গেলেই সেটা খুলে নরম কাপড় দিয়ে মুছে পাউডার লাগিয়ে দিতে হবে। ভিজা ডায়পার বেশিক্ষণ শিশুকে পরিয়ে রাখা ঠিক নয় এতে ফুসকুড়ির মত হতে পারে এবং ঘাঁও হয়ে যেতে পারে।সেই ক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

 

★অতিরিক্ত গরমে ঘেমে শিশুর ঠান্ডা লাগতে পারে। তাই গরমে শিশুদের ঠান্ডার সমস্যা দেখা যায়। শিশু ঘেমে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তার শরীর মুছে দিয়ে কাপড় বদলে দিতে হবে। গরমে শিশুকে নিয়মিত গোসল করাতে হবে।

 

★ ঠান্ডা লেগে শিশুর গলায় মামস ফুলে যেতে পারে। এমন কিছু হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

 

★  অতিরিক্ত গরমে চুলের ত্বকে খুশকি বা ঘামাচি বের হয়। তাই গরমের শুরুতেই শিশুর চুল ছেঁটে ছোট করে দিতে হবে। এতে চুলের গোড়া ঘেমে গেলেও তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়।

 

★ শিশুকে বার বার পানি খাওয়াতে হবে।কারন পানি কম খেলে প্রস্রাবের সমস্যা হবার সম্ভাবনা থাকে। 

 

★ সময় মশা, মাছি, পিঁপড়া ইত্যাদি পোকামাকড়ের প্রকোপ দেখা যায়। এগুলো শিশুর অসুস্থতার কারণ হতে পারে। ঘরকে পোকামাকড় মুক্ত রাখতে হবে।

 

★ গরমে শিশুদের খাদ্য তালিকায় হালকা, পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য খাবার রাখতে হবে। আর অবশ্যই বাড়িতে রান্না করা খাবারই খাওয়াতে হবে।

 

★ শিশুদের নরম খাবার খাওয়ানোই ভালো। দুধ শিশুদের জন্য আদর্শ খাবার। এই সবয় মাছ মাংস কম কম খাওয়ানোই ভালো।

 

★ শিশুকে ঠাণ্ডা রাখার জন্য ঘরে যেন প্রচুর আলো-বাতাস ঢুকতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। তাই বলে এসিতে নয় আবার খুব বন্ধ ঘরে রাখলেও শিশু অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। 

 

উপরে উল্লেখ্যিত উপায়ে একটি শিশুর  যত্ন নেয়া উচিত। তবে তীব্র গরমেও শিশুটি থাকবে সুস্থ ও প্রানবন্ত।

 

লিখেছেন –

ত্রোপা চক্রবর্তী 

Categories
স্বাস্থ্য

শিশুদের দিনে কত ঘন্টা ঘুমানো উচিত আমরা জানি কি?

শিশুর বিকাশে কোন ৪ টি খাবার জরুরি এবং ঘুমের প্রয়োজনীয়তা কি? শিশুদের দিনে কত ঘন্টা ঘুমানো উচিত আমরা জানি কি? শিশুদের

শারীরিক সুস্থতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ঘুম।প্রতিদিন প্রাপ্ত বয়স্কদের ৬/৭ ঘন্টা আর ছোট বাচচ্চাদের ৮/১০ ঘন্টা অবশ্যই ঘুমানো উচিত। ঘুমের মধ্যেই ছেলেদের শরীরের বৃদ্ধি হয় এবং মস্তিষ্কের সঠিক গঠন হয়। তাই পরিপূর্ণ ঘুম খুবই প্রয়োজনীয় সবার জন্য।    

যে খাবারে শিশুদের সঠিক শারীরিক বৃদ্ধি হয় এবং ঘুমও ভালো হয় সেগুলো হলো —-

দুধ :

দুধ শিশুদের জন্য খুবই উপকারী ও আদর্শ খাদ্য। দুধ শিশুদের শুধু শারীরিক বৃদ্ধিতেই নয় ভালো ঘুমের জন্যও উপকার। দুধের মধ্যে রয়েছে ট্রিপটোফিন নামক অ্যামাইনো এসিড। এটি ঘুম ভালো হতে সাহায্য করে। সাধারণত ঘুমের আগে বাচ্চাদের দুধ দেয়া উচিত।এতে ঘুম ভালো হয়।  

কলা :

কলা খুবই উপকারী একটা ফল। শিশুদের জন্য তো অবশ্যই বড়দের জন্যও কলা খুবই উপকারী।কলায় রয়েছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম। যা শিশুদের হাড় গঠনে সহায়তা করে,  ম্যাগনেসিয়াম পেশীকে শিথিল করে। ঘুম তৈরির হরমোন, যেমন- মেলাটোনিন, সেরেটোনিন ইত্যাদি বাড়ায়।ফলে শিশুদের রোজ অন্তত একটা করে হলেও কলা খাওয়ানো উচিত। এতে তাদের ঘুমও খুব ভালো হবে । 

পালংশাক : 

পালংশাকের মধ্যেও রয়েছে ট্রিপটোফেন।যা শিশুদের শারীরিক গঠনে যেমন সহায়তা করে তেমনি শিশুদের ঘুমের জন্যও উপকারী । 

ওয়ালনাট :

ওয়ালনাট হলো এক প্রকার বাদাম, যা দেখতে অনেকটা মানুষের মস্তিষ্কের মত। এর মধ্যে রয়েছে ভালো মানের ট্রাইপোফেন। ভালো ফলাফলের জন্য ঘুমানোর আগে শিশুদের ওয়ালনাট খাওয়ানো যেতে পারে। 

শিশুদের বৃদ্ধিতে ঘুম খুবই জরুরি একটি বিষয়। একটি ভালো ঘুম শিশুকে মনোযোগী হতে সাহায্য করে। উপরে উল্লেখ্য চার রকমের খাবার শিশুদের ভালো ঘুম ও ভালো শারীরিক এনং মানসিক বিকাসে উপযোগী। 

 

নিম্নে একেবারে সদ্যজাত শিশু থেকে ১২ মাসের শিশুটি  দিনে কত ঘন্টা ঘুমানো জরুরি তা চার্টাকারে  দেওয়া হলো : 

 

 

বয়স ঘুমানোর সময় ঘন্টা  কারন
নবজাতক – দুই মাস প্রায় সারাদিন বা যে কোন সময়  প্রায় ১৮ – ২০

কম বেশি হতে পারে

নবজাতকেরা যত বেশি ঘুমাবে ততই তাদের শরীরের জন্য ভালো। 
দুই – চার মাস দিনের কম করে তিনবার আর রাতে প্রায় ৯/১০ ঘন্টা প্রায় ১২ – ১৪

১/২ ঘন্টা কম বেশি হতে পারে

এই পরিমান ঘুম তাকে শারীরিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে 
চার – ছয় মাস  দিনে অন্তত দুই বা তিন বার আর রাতে ৮/১০ ঘন্টা  প্রায় ১২ – ১৪

১/২ ঘন্টা কম বেশি হতে পারে

বাচ্চা যদি এই সময় পর্যন্ত ঘুমায় তবে বুঝতে হবে শিশুটি সুস্।  
ছয় – নয় মাস দিন দুই বার এবং রাতে প্রায় ৮/১০ ঘন্টা প্রায় ১২ – ১৪

১/২ ঘন্টা কম বেশি হতে পারে

এই বয়সে এই ঘুম খুবই দরকার তার মানসিক ও শারীরিক বিকাসে 
নয় – বারো মাস দিনে দুইবার অবশ্যই আর রাতে ৮/১০ ঘন্টা প্রায় ১২ ঘন্টা

১/২ ঘন্টা কম বেশি হতে পারে। 

১২ মাসের শিশুরটি যদি দিনে ১২ ঘন্টা ঘুমায় বা তারচেয়ে বেশি ঘুমায় তা মোটেও চিন্তার বিষয় নয়।বরং এটাই স্বাভাবিক।এটা তার বিকাস ঠিক রাখবে।

একটি শিশুর পরিপূর্ণ ঘুম ও খাবার  তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিকাসে ও সুস্থ থাকতে অনেকাংশেই সাহায্য করে। শিশুটির ঘুম ঠিক থাকা মানে সে সুস্থ। তাই শিশুর খাবার ও  ঘুমের প্রতি আমাদের যত্নবান ও সচেতন হওয়া উচিত।

 

 

লিখেছেন –

ত্রোপা চক্রবর্তী 

 

 

    

Categories
স্বাস্থ্য

দই আমাদের শরীরের জন্য কতটা উপকারী তা আমরা জানি কি? 

দই অতি পরিচিত,  সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর একটি খাবার।দই বড় ছোট সকলের কাছেই খুব প্রিয়।দইয়ে বেশ কিছু উপকারী উপাদান আছে।দই আমাদের হাতের কাছে যে কোন মিষ্টির দোকানে বা যে কোন কনফেকশনারির দোকানে পাওয়া যায়।এছাড়াবাড়িতেই আমরা খুব সহজেই দই তৈরি করে নিতে পারি। ডায়বেটি, হার্ট অ্যাটা, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি রোগের হাত থেকে বাঁচতে দইয়ের বিকল্প নাই।দই খাওয়ার উপকারিতা

দই যে সকল উপাদান রয়েছে সেগুলো হলো, ভিটামিন বি ৫, আয়োডিন, জিংক, পটাশিয়াম, ফসফরা, রিবোফ্লোবিন আর রয়েছে উপকারী ব্যাকটেরিয়া যা আমাদের শরীরের জন্য খুব উপকার। 

   

★নিম্নে দই খাওয়ার উপকারিতা গুলো দেয়া হলো: 

১/ পেট গরম হলে বা গ্যাসের সমস্যা হলে দই দিয়ে ঘোল তৈরি করে খেলে উপকার পাওয়া যায়। 

২/ দই পেটের ভিতরের ঘা সারাতে খুবই উপকার। 

৩/ দই ত্বকে লাগালে ত্বক হয় মসৃন ও উজ্জ্ব। 

৪/ টক দই চুলে দিলে খুশকি দূর হয় আর চুলও হয় মসৃন।  

৫/ অনেকেই আছেন দূধ খেতে পারেন না গ্যাসের সমস্যা হয়  তারা বিকল্প হিসাবে দই বিশেষ করে টক দইটা খেতে পারেন। 

৬/ দইয়ে যে উপকারী ব্যাকটেরিয়া আছে তা হজমে সহায়তা করে। 

৭/ দই ভিটামিন ও প্রোটিন সমৃদ্ধ যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় আর শরীর সুস্থ রাখে। 

৮/ আমেরিকার হার্ট অ্যাসসিয়েশনের গবেষকদের  মতে  টক দই খেলে উচ্চ রক্তচাপ কমে। এতে রয়েছে পটাশিয়াম যা রক্ত চাপ কমায়। 

৯/ প্রতিদিন দই কেলে হাড়ের গঠন ভালো হয় কারন দইয়ে যে ক্যালসিয়াম থাকে তা হাড় গঠনে সহায়ক।

১০/ টক দই আমাদের দেহের চর্বি কমাতে সহায়তা করে।

১১/ এক দই মানসিক চাপ ও অ্যাংজাইটি কমাতে সহায়তা করে।

১২/ দইয়ে রয়েছে ফসফরাস ও ক্যালসিয়াম যা আমাদের হাড়ের  সাথে সাথে দাঁতেরও অনেক উপকার করে। 

  

★ দই খাওয়ার কিছু সর্কতাও আছে। সেগুলো হলো :

  • দই বেশি খাওয়া ঠিক না পেটের সমস্যা হবার সম্ভাবনা থাকে।
  • বেশি পুরানো দই খাওয়াও উচিত না। কারন এতে ব্যাকটেরিয়াল ফুড পয়জন ও ফাঙ্গাল ফুড পয়জন হবার সম্ভাবনা থাকে।
  • যাদের ঠান্ডার ধাত আছে তারা রাতে দই না খাওয়াই ভালো।

 

আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অবশ্যই টক দই রাখা উচিত।দইয়ে রয়েছে মিনারেল যা শরীরের আদ্রতা ধরে রাখে আর শরীরকে করে সতেজ। 

 

BY

ত্রোপা চক্রবর্তী