গল্প নয়, সত্য ঘটনা।……………..যাঁর মুখে আমার এ-গল্প শোনা, তাঁদের পরিবারবর্গ কর্ম উপলক্ষ্যে পূর্ব-আফ্রিকার নাইরোবি শহরে অনেক দিন থেকে বাস করছিলেন। ও-দেশের নানাগল্প আমি বন্ধুটির মুখে সেদিন বসে বসে শুনছিলাম। সকাল বেলা, পাহাড়ি পথে একা বেড়াতে বার হয়েছি, একখানা জিপ-গাড়ি দেখি স্টেশন থেকে বেরিয়ে আসছে, আমার বন্ধু প্রণববাবু গাড়িটি চালাচ্ছেন। অনেক দিন দেখিনি প্রণববাবুকে, তিনি কবে… Continue reading টান – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
হলুদ আলোটি – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
অদ্ভুত এক আলোর ভিতরে ঘুম ভাঙে মনোরমার। রোজকার আলো নয়। পাকা যজ্ঞিডুমুর ভাঙলে যেমন রং তেমন এক আলো। মনোরমার পায়ের দিককার জানালার ধারে ডুমুর ফল রোজ এসে ঠোঁটে ভাঙে বুলবুলি। সেই রংটাই এখন পৃথিবীময় ছড়িয়ে গেছে এই বৈশাখের বিকেলে। শানুর থুতনিতে ঘাম, নাকের নীচে ঘাম, বুকে গলায় মুক্তোফল ফুটে আছে ঘামের। বড্ড ঘামে মেয়েটা। কোমরের… Continue reading হলুদ আলোটি – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
দুর্মতি – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
নিশ্চিন্তপুর গ্রামের প্রান্তে হরিচরণ রায়ের ছোটো একখানা কোঠাবাড়ি ছিল। সংসারে থাকিবার মধ্যে তাহার স্ত্রী আর এক ছেলে। হরিচরণ রায়ের বয়স বছর ত্রিশেক, স্ত্রীর বয়স একুশ-বাইশ। হরিচরণ রায়ের লেখাপড়া এমন বিশেষ কিছুই জানা ছিল না, তাহার উপর নিতান্তই পাড়াগেঁয়ে মানুষ; কাজেই কোথাও না যাইয়া তিনি বাড়ি বসিয়া পৈতৃক আমলের সামান্য একটু জমিজমার খাজনা সাধিতেন। কচু কুমড়া… Continue reading দুর্মতি – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ডুবুরি – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
আঁচিয়ে এসে ঘরে ঢুকতেই থমকে গেল টুনু। বাঁশের মাচার ওপর বিছানায় মাথা গুঁজে মা কাঁদছে। একটু আগে তাদের খেতে দিয়ে মা পুকুরে গিয়েছিলেন স্নান করতে। এখনও মা’র শাড়িটা ভেজা। মাটির মেঝেটা শাড়ির জলে অনেকটা ভিজে গিয়ে কাদা–কাদা হয়ে গিয়েছে। সেই কাদা মা’র হাঁটুর কাছে আর গোঁড়ালিতে লেগে আছে। মেজেতে বসে উঁচু হয়ে ময়লা কাঁথা আর… Continue reading ডুবুরি – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
বারীন ভৌমিকের ব্যারাম – সত্যজিৎ রায়
কন্ডাকটরের নির্দেশমতো ডি কামরায় ঢুকে বারীন ভৌমিক তাঁর সুটকেসটা সিটের নীচে ঢুকিয়ে দিলেন। ওটা পথে খোলার দরকার হবে না। ছোট ব্যাগটা হাতের কাছে রাখা দরকার। চিরুনি, বুরুশ, টুথব্রাশ, দাড়ি কামানোর সরঞ্জাম, ট্রেনে পড়ার জন্য হ্যাডলি চেজের বই–সবই রয়েছে ওই ব্যাগে আর আছে থ্রোট পিলস। ঠাণ্ডা ঘরে ঠাণ্ডা লেগে গলা বসে গেলে কাল গান খুলবে না।… Continue reading বারীন ভৌমিকের ব্যারাম – সত্যজিৎ রায়
গণৎকার তারিণীখুড়ো – সত্যজিৎ রায়
তারিণীখুড়োর এক ভাইপো এক চা কোম্পানিতে ভাল কাজ করে, সে খুড়োকে এক টিন স্পেশাল কোয়ালিটির চা দিয়েছে। খুড়ো টিনটা আমার হাতে চালান দিয়ে বললেন, এটা খোলাবার ব্যবস্থা কর; আজ তোদের চা না খেয়ে এইটে খাব। বৈশাখ মাসের এক রবিবারের সন্ধে। দুপুরের দিকে কালবৈশাখী হয়ে গেছে, এখন সব শান্ত। আমাদের ঘরে খুড়োর শ্রোতারা সব জমায়েত হয়েছে,… Continue reading গণৎকার তারিণীখুড়ো – সত্যজিৎ রায়
খুঁটি দেবতা – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ঘোষপাড়ার দোলের মেলায় যাইবার পথে গঙ্গার ধারে মঠটা পড়ে।…মঠ বলিলে ভুল বলা হয়। ঠিক মঠ বলিতে যাহা বুঝায়, সে-ধরনের কিছু নয়। ছোটো খড়ের খান চার-পাঁচ ঘর মাঠের মধ্যে। একধারে একটা বড়ো তেঁতুল গাছ। গঙ্গার একটা ছোটো খাল মাঠের মধ্যে, খানিকটা ঢুকিয়া শুকাইয়া মজিয়া গিয়াছে। জোয়ারের সময়ে তবুও খালটা কানায়-কানায় ভরিয়া ওঠে। ঠিক সেইসময়ে জেলেরা দোয়াড়ি… Continue reading খুঁটি দেবতা – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সহদেববাবুর পোট্রেট – সত্যজিৎ রায়
যেটার আগে নাম ছিল ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, সেই মিরজা গালিব স্ট্রিটে ল্যাজারাসের নিলামের দোকানে প্রতি রবিবার সকালে সহদেববাবুকে দেখা যেতে শুরু করেছে মাস তিনেক হল। প্রথম অবস্থায় লোকাল ট্রেনে হেঁয়ালির বই, গোপাল ভাঁড়ের বই, খনার বচনের বই, পাঁচালির বই, এইসব বিক্রি করে, তারপর সাত বছর ধরে নানারকম দালালির কাজ করে কমিশনের টাকা জমিয়ে সেই টাকায়… Continue reading সহদেববাবুর পোট্রেট – সত্যজিৎ রায়
ঘড়ি রহস্য – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
কর্নেল মাহমুদুল হাসানের প্রিয় পরিচারক আব্দুল মাজেদের দু’দিন থেকে সামান্য সর্দিজ্বর। পাড়ার ডাক্তার তারেক হাসান সাহেব তাকে দেখতে এসেছিলেন প্রচুর আশ্বাস দিয়ে এবং লম্বা-চওড়া প্রেসক্রিপশন লিখে তিনি আড্ডার মেজাজে বসলেন। দেশের হালচাল নিয়ে কিছুক্ষণ বকবক করে গেলেন। তারপর হঠাৎ মুচকি হেসে বললেন, “আচ্ছা কর্নেল সায়েব, আপনি তো বিখ্যাত রহস্যভেদী। এ যাবৎ বিস্তর জটিল রহস্য ফাস… Continue reading ঘড়ি রহস্য – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
সুভাষিণী (শেষ পর্ব) – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
বদমাশ, জুয়াড়ি, জোচ্চোর, মিথ্যেবাদী বলে পল্লকে সবাই চিনত। তবু রুচিরা যে কী করে ওর প্রেমে পড়ল কে জানে! শান্ত, শিষ্ট, ভারি ভালো মেয়ে। ক্লাসের ফার্স্ট গার্ল। তবু পল্লুর প্রেমে পাগল হয়ে প্রেগন্যান্ট হয়ে পড়ল। কেলেঙ্কারির একশেষ। পল্ল দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছিল। রুচিরার বাবা পল্লর সঙ্গে বোঝাপড়া করতে গিয়ে গুণ্ডাদের হাতে মার খেয়ে এলেন। পুলিশ অবধি… Continue reading সুভাষিণী (শেষ পর্ব) – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়