তার আসল নামটি যজ্ঞদাস। সে প্রথম যেদিন আমাদের ক্লাশে এল পণ্ডিতমশাই তার নাম শুনেই ভ্রূকুটি করে বললেন, “যজ্ঞের আবার দাস কি? যজ্ঞেশ্বর বললে তবু না হয় বুঝি।” ছেলেটি বলল, “আজ্ঞে, আমি তো নাম রাখিনি, নাম রেখেছেন খুড়োমশাই।” এই শুনে আমি একটু ফিক করে হেসে ফেলেছিলাম, তাই পণ্ডিতমশাই আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, “বানান কর যজ্ঞদাস। ”… Continue reading জগ্যিদাসের মামা – সুকুমার রায়
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
চালিয়াৎ – সুকুমার রায়
শ্যামচাঁদের বাবা কোন একটা সাহেব-অফিসে মস্ত কাজ করিতেন, তাই শ্যামচাঁদের পোষাক পরিচ্ছদে, রকম-সকমে কায়দার অন্ত ছিল না। সে যখন দেড় বিঘৎ চওড়া কলার আঁটিয়া, রঙিন ছাতা মাথায় দিয়া, নতুন জুতার মচ্মচ্ শব্দে গম্ভীর চালে ঘাড় উঁচাইয়া স্কুলে আসিত, তাহার সঙ্গে পাগড়িবাঁধা তক্মা-আঁটা চাপরাশি এক রাজ্যের বই ও টিফিনের বাক্স বহিয়া আনিত, তখন তাহাকে দেখাইত ঠিক… Continue reading চালিয়াৎ – সুকুমার রায়
সত্যি – সুকুমার রায়
ইনি কে জানো না বুঝি? ইনি নিধিরাম পাটকেল।কোন নিধিরাম? যার মিঠাইয়ের দোকান আছে? আরে দুৎ! তা কেন? নিধিরাম ময়রা নয়— প্রে—ফে—সার্ নিধিরাম! ইনি কি করেন? কি করেন আবার কি? আবিষ্কার করেন!ও বুঝছি! ঐ যে উত্তর মেরুতে যায়, যেখানে ভয়ানক ঠাণ্ডা— মানুষজন সব মরে যায়— দূর মুখ্যু! আবিষ্কার বললেই বুঝি উত্তর মেরু বুঝতে হবে, বা দেশ… Continue reading সত্যি – সুকুমার রায়
কুচ্ছিৎ প্যাঁকারু (২য় পর্ব) – হ্যান্স এন্ডারসন অনুবাদঃ বুদ্ধদেব বসু
ঘরের মধ্যে এক বুড়ি বাস করত। আর ছিল তার. পোষা বিড়াল টম, আর একটা মুরগি। পৃথিবীতে কেউ ছিল না বুড়ির, তাই বিড়ালটাকে সে ছেলে জ্ঞান করত। আর টম পুষি বুড়ির ঘুরে বেড়াত। তার লোম ধরে বেয়াড়া ধরনের ঠাট্টা করলে সে নখ দিয়ে আচড়ে দিতেও চেষ্টা করত। মুরগিটার পা দুটো আবার বড়োই ছোট্ট, বুড়ি সেজন্যে তাকে… Continue reading কুচ্ছিৎ প্যাঁকারু (২য় পর্ব) – হ্যান্স এন্ডারসন অনুবাদঃ বুদ্ধদেব বসু
কুচ্ছিৎ প্যাঁকারু – হ্যান্স এন্ডারসন অনুবাদঃ বুদ্ধদেব বসু
সারা দেশ কী অপরূপ মনে হচ্ছে! গরমের সময় গমের ক্ষেত হলুদবর্ণ হয়ে আছে, মানারাত তারার রোজা রানে লম্বা লম্বা ঠ্যাং নিয়ে ঠুক্ঠুক্ করে হেঁটে বেড়াচ্ছে আর কথা বলছে মিশরি ভাষায়-_মাদ্র কাছ থেকে তারা এ-ভাষাই রপ্ত করেছে কিনা তাই। সামনের মাঠ আর ক্ষেতের একদিক দিয়ে সবুজ বনানীর সারি চলে গেছে দিগন্ত ছুঁয়ে এ বনের মধ্যে এক… Continue reading কুচ্ছিৎ প্যাঁকারু – হ্যান্স এন্ডারসন অনুবাদঃ বুদ্ধদেব বসু
চাষী বউ – মোহাম্মদ নাসির আলী
অনেক কাল আগে এক দেশে বাস করত গরীব এক চাষী। নিজের বলতে জমি-জিরাত কিছুই তার ছিল না। সারাদিন ধরে পরের জমি চাষ করে যা কিছু পাওয়া যেত তাই দিয়ে চলত চাষীর সংসার। সংসার বলতে ছিল সে নিজে আর তার বউ।একদিন জমি চাষ করতে মাঠে গিয়ে একটা আজব ঘটনা ঘটল। একটা ক্ষেত চষে সে প্রায় শেষ… Continue reading চাষী বউ – মোহাম্মদ নাসির আলী
পালোয়ান – সুকুমার রায়
তাহার আসল নামটি যে কি ছিল, তাহা ভুলিয়াই গিয়াছি— কারণ আমরা সকলেই তাহাকে “পালোয়ান” বলিয়া ডাকিতাম। এমনকি মাস্টারমহাশয়েরাও পর্যন্ত তাহাকে “পালোয়ান” বলিতেন। কবে কেমন করিয়া তাহার এরূপ নামকরণ হইল, তাহা মনে নাই; কিন্তু নামটি যে তাহাকে বেশ মানাইয়াছিল, একথা স্কুল সুদ্ধ সকলেই একবাক্যে স্বীকার করিত। প্রথমত, তাহার চেহারাটি ছিল একটু অতিরিক্ত রকমের হৃষ্টপুষ্ট। মোটা সোটা… Continue reading পালোয়ান – সুকুমার রায়
মন্টুর মাস্টার – শিবরাম চক্রবর্তী
বি. এ. পাশ করে বসে আছে মিহির, কি করবে কিছুই স্থির নেই। এমন সময়ে দৈনিক আনন্দবাজারে একটা বিজ্ঞাপন দেখল কর্মখালির। কোনো বনেদী গৃহস্থের একমাত্র পুত্রের জন্য একজন বি. এ. পাশ গৃহশিক্ষক চাই–আহার ও বাসস্থান দেওয়া হইবেক, তাছাড়া বেতন মাসিক ত্রিশ টাকা। বিজ্ঞাপনটা পড়েই লাফিয়ে উঠল মিহির, এই রকমই একটা সুযোগ খুঁজছিল সে…খাওয়া থাকাটা অমনিই হবে,… Continue reading মন্টুর মাস্টার – শিবরাম চক্রবর্তী
হাসির গল্প – সুকুমার রায়
আমাদের পোস্টাপিসের বড়বাবুর বেজায় গল্প করিবার সখ। যেখানে সেখানে সভায় আসরে নিমন্ত্রণে, তিনি তাঁহার গল্পের ভাণ্ডার খুলিয়া বসেন। দুঃখের বিষয়, তাঁর ভাণ্ডার অতি সামান্য— কতগুলি বাঁধা গল্প, তাহাই তিনি ঘুরিয়া ফিরিয়া সব জায়গায় চালাইয়া দেন। কিন্তু একই গল্প বারবার শুনিতে লোকের ভাল লাগিতে কেন? বড়বাবুর গল্প শুনিয়া আর লোকের হাসি পায় না। কিন্তু তবু বড়বাবুর… Continue reading হাসির গল্প – সুকুমার রায়
ডিটেকটিভ – সুকুমার রায়
জলধরের মামা পুলিশের চাকরি করেন, আর তার পিশেমশাই লেখেন ডিটেকটিভ উপন্যাস। সেইজন্য জলধরের বিশ্বাস যে, চোর-ডাকাত জাল-জুয়াচোর জব্দ করবার সব রকম সঙ্কেত সে যেমন জানে এমনি তার মামা আর পিশেমশাই ছাড়া কেউ জানে না। কারও বাড়িতে চুরি-টুরি হলে জলধর সকলের আগে সেখানে হাজির হয়। আর, কে চুরি করল, কি করে চুরি হল, সে থাকলে এমন… Continue reading ডিটেকটিভ – সুকুমার রায়