কানাইয়ের কথা (৩য় পর্ব) – সত্যজিৎ রায়

তারপর থেকে গোপালের বাড়িতে আর কেউ আসেনি।আজ কানাই আর সবুর সইতে না পেরে কিশোরকে বলল, হ্যাঁ ভাই, সেই জাদুপান্না না সরাতে পারলে তো আর চলছে না। একবার একটু ভেবে বলল দেখি তোমার বাবা একা কখন থাকেন, তার কাছাকাছি যাবার সুযোগটা কখন পাওয়া যায়? কিশোর বলল, জাদুপান্না নিলেই যে সব গোল মিটে যাবে তেমন ভেবো না।… Continue reading কানাইয়ের কথা (৩য় পর্ব) – সত্যজিৎ রায়

কানাইয়ের কথা (২য় পর্ব) – সত্যজিৎ রায়

আমাদের রাজা বড় সর্বনেশে। বুড়ো এদিক-ওদিক সন্দেহের দৃষ্টি দিল। তারপর গলা নামিয়ে বলল, এ রাজা পিশাচ। পেয়াদারা বল্লমের খোঁচা মেরে তাঁতিদের দিয়ে কাপড় বোনায়। যারা বোনে না তাদের শূলে চড়ায়। রূপসার কাপড় বিদেশ থেকে সদাগর এসে কিনে নিয়ে যায়। যা টাকা আসে তার চার ভাগের তিন ভাগ যায় রাজকোষে। তাঁতিরা সব একজোটে রাজাকে হটিয়ে তার… Continue reading কানাইয়ের কথা (২য় পর্ব) – সত্যজিৎ রায়

কানাইয়ের কথা – সত্যজিৎ রায়

নসু কবরেজ প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে বলরামের নাড়ি ধরে বসে রইলেন। শিয়রের কাছে দাঁড়িয়ে বলরামের সতেরো বছরের ছেলে কানাই কবরেজের দিকে একদৃষ্টে চেয়ে আছে। আজ দশদিন হল তার বাপের অসুখ। কোনও কিছু খাবারে তার রুচি নেই; একটানা দশদিন না খেয়ে সে শুকিয়ে গেছে, তার চোখ কোটরে বসে গেছে, তার সর্বাঙ্গ ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। তিন ক্রোশ… Continue reading কানাইয়ের কথা – সত্যজিৎ রায়

চীনে পটকা – সুকুমার রায়

আমাদের রামপদ একদিন এক হাঁড়ি মিহিদানা লইয়া স্কুলে আসিল! টিফিনের ছুটি হওয়ামাত্র আমরা সকলেই মহা উৎসাহে সেগুলি ভাগ করিয়া খাইলাম। খাইল না কেবল ‘পাগলা দাশু’।পাগলা দাশু যে মিহিদানা খাইতে ভালোবাসে না, তা নয়। কিন্তু, রামপদকে সে একেবারেই পছন্দ করিত না- দুজনের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া চলিত! আমরা রামপদকে বলিলাম, “দাশুকে কিছু দে!” রামপদ বলিল, “কি রে… Continue reading চীনে পটকা – সুকুমার রায়

শীত বসন্ত (২য় পর্ব) – দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

বসন্ত মুনির কাছে গেল। গিয়া বলিল,-“বাবা, আমি গজমোতির আর সোনার কমল আনিব, ত্রিশূলটা দাও।” মুনির ত্রিশূল দিলেন।মুনির পায়ে প্রণাম করিয়া, ত্রিশূল হাতে বসন্ত শিমুল গাছের কাছে গেলেন। গিয়া দেখিল, শিমুল গাছে কাপড়-চোপড়, শিমুল গাছে রাজমুকুট। বসন্ত বলিলেন,-“হে বৃ, যদি সত্যকারের বৃ হও, তোমার কাপড়- আজ যায় কাল যায়, বসন্ত মুনির বনে থাকেন। পৃথিবীর খবর বসন্তের… Continue reading শীত বসন্ত (২য় পর্ব) – দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

শীত বসন্ত – দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

এক রাজার দুই রাণী, সুয়োরাণী আর দুয়োরাণী। সুয়োরাণী যে, নুনটুকু ঊন হইতেই নখের আগায় আঁচড় কাটিয়া, ঘর-কান্নায় ভাগ বাঁটিয়া সতীনকে একপাশ করিয়া দেয়। দুঃখে দুয়োরাণীর দিন কাটে।সুয়োরাণীর ছেলে-পিলে হয় না। দুয়োরাণীর দুই ছেলে,-শীত আর বসন্ত। আহা, ছেলে নিয়া দুয়োরাণীর যে যন্ত্রনা!-রাজার রাজপুত্র, সৎমায়ের গঞ্জনা খাইতে-খাইতে দিন যায়! একদিন নদীর ঘাটে স্নান করিতে গিয়া সুয়োরাণী দুয়োরাণীকে… Continue reading শীত বসন্ত – দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

পেটুক – সুকুমার রায়

“হরিপদ! ও হরিপদ!” হরিপদর আর সাড়াই নেই! সবাই মিলে এত চ্যাঁচাচ্ছে, হরিপদ আর সাড়াই দেয় না। কেন, হরিপদ কালা নাকি? কানে কম শোনে বুঝি? না, কম শুনবে কেন—বেশ দিব্যি পরিষ্কার শুনতে পায়। তবে হরিপদ কি বাড়ি নেই? তা কেন? হরিপদর মুখ ভরা ক্ষীরের লাডু, ফেলতেও পারে না, গিলতেও পারে না। কথা বলবে কি করে? আবার… Continue reading পেটুক – সুকুমার রায়

মেঠো ইঁদুর ও শহুরে ইঁদুর – লিও টলস্টয়

লিও টলস্টয় রুশ সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক; এমনকি তাকে বিশ্ব সাহিত্যেরও অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জ্ঞানার্জনে অসীম আগ্রহী; অদম্য অনুসন্ধিৎসু, অফুরন্ত জীবনীশক্তির অধিকারী ও কর্মোদ্যমী এই বিখ্যাত মানুষটির জন্ম ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দের ৯ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার টুলা প্রদেশে। টলস্টয়ের পুরো নাম কাউন্ট লেভ নিকোলায়েভিচ টলস্টয়।তিনি মানুষের মধ্যে জীবনবোধ, মনুষ্যত্ববোধ, নীতিবোধ জাগ্রত করতে চেয়েছিলেন। টলস্টয়… Continue reading মেঠো ইঁদুর ও শহুরে ইঁদুর – লিও টলস্টয়

কিন্নরদল (২য় পর্ব) – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

গায়িকার চোখে-মুখে কী ভক্তিপূর্ণ তন্ময়তার শোভা ফুটে উঠল গানখানা গাইতে গাইতে—শান্তি একটা গন্ধরাজ আর টগরের মালা গেঁথে এনেছিল বৌদিদিকে পরাবে বলে—গান গাইবার সময়ে সে আবার সেটা বৌয়ের গলায় আলগোছে পরিয়ে দিল—সেই জ্যোৎস্নায় সাদা সুগন্ধি ফুলের মালা গলায় রূপসী বৌয়ের মুখে ভজন শুনতে শুনতে মন্টুর মায়ের মনে হলো এই মেয়েটিই সেই মীরাবাই, অনেককাল পরে পৃথিবীতে আবার… Continue reading কিন্নরদল (২য় পর্ব) – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

কিন্নরদল – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

পাড়ায় ছ’সাত ঘর ব্রাহ্মণের বাস মোটে। সকলের অবস্থাই খারাপ। পরস্পরকে ঠকিয়ে পরস্পরের কাছে ধার-ধোর করে এরা দিন গুজরান করে। অবিশ্যি কেউ কাউকে খুব ঠকাতে পারে না, কারণ সবাই বেশ হুঁশিয়ার। গরিব বলেই এরা বেশি কুচুটে ও হিংসুক, কেউ কারো ভালো দেখতে পারে না বা কেউ কাউকে বিশ্বাসও করে না।আগেই বলেছি, সকলের অবস্থা খারাপ এবং খানিকটা… Continue reading কিন্নরদল – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়