একটা আষাঢ়ে গল্প – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

একটা আষাঢ়ে গল্প দূর সমুদ্রের মধ্যে একটা দ্বীপ। সেখানে কেবল তাসের সাহেব, তাসের বিবি টেক্কা এবং গােলামের বাস। দুরি তিরি হইতে নহলা দহলা পর্যন্ত আরও অনেক-ঘর গৃহস্থ আছে, কিন্তু তাহারা উচ্চজাতীয় নহে।টেক্কা সাহেব গােলাম এই তিনটেই প্রধান বর্ণ; নহলা দহলারা অন্ত্যজ, তাহাদের সহিত এক পঙক্তিতে বসিবার যােগ্য নহে।কিন্তু, চমৎকার শৃঙ্খলা। কাহার কত মূল্য এবং মর্যাদা… Continue reading একটা আষাঢ়ে গল্প – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রামের সুমতি – শেষ -পর্ব– শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

রামের সুমতি – শেষ -পর্ব নারায়ণী রান্নাঘরের বারান্দায় চুপ করিয়া বসিয়া শুনিতে লাগিলেন। দিগম্বরী কৌতূহলী হইয়া মাঝে মাঝে বেড়ার ফাঁক দিয়া দেখিতেছিলেন। খানিক পরে বড় মেয়ের কাছ উঠিয়া আসিয়া হাসি চাপিয়া ফিসফিস করিয়া বলিতে লাগিলেন, আহা, বাছার কি বুদ্ধি! উনি আবার ভাল তরকারি রেঁধে খাবেন! একটা পেতলের হাঁড়িতে প্রায় এক কাঠা চাল গলায় গলায় তুলে… Continue reading রামের সুমতি – শেষ -পর্ব– শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

রামের সুমতি – পর্ব -৪ – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

সে কাণ্ডটা সংক্ষেপে এই,—গ্রামের স্কুলে জমিদারদের একটি ছেলে পড়িত। আজ টিফিনের সময় তাহার সহিত রামের তর্ক বাধিল। বিষয়টা জটিল, তাই মীমাংসা না হইয়া মারামারি হইয়া গেল। জমিদারদের ছেলে বলিয়াছিল, শাস্ত্রে লেখা আছে, শ্মশানকালী রক্ষাকালীর চেয়ে অধিক জাগ্রত। কেননা, শ্মশানকালীর জিভ বড়! রাম প্রতিবাদ করিয়া বলিল, না, শ্মশানকালীর জিভ একটু চওড়া বটে, কিন্তু অত বড়ও নয়,… Continue reading রামের সুমতি – পর্ব -৪ – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

রামের সুমতি – পর্ব -৩ – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

রাম তাহা দেখিয়াই আসিয়াছিল, আর দ্বিরুক্তি না করিয়া খানিকটা দুধ খাইয়া মুড়ি ও নাড়ু কোঁচড়ে ঢালিয়া লইয়া পুকুরধারে গাছতলায় গিয়া বসিল। তাহার আহারে প্রবৃত্তি চলিয়া গিয়াছিল। বৌদি উপোস করিয়া আছে। সে অন্যমনস্ক হইয়া মুড়ি চিবাইতে চিবাইতে ভাবিতে লাগিল, তাহার মুনি-ঋষিদের মত কোন একটা মন্ত্র জানা থাকিলে এইখানে বসিয়াই সে বৌদির পেট ভরাইয়া দিত। কিন্তু, মন্ত্র… Continue reading রামের সুমতি – পর্ব -৩ – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

রামের সুমতি – পর্ব -২ – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

নারায়ণী চোখ মুছিয়া বলিলেন, সকল মানুষকে ভগবান একরকম গড়েন না। ও একটু দুষ্টু বলেই আমি যার তার কথা চুপ করে সহ্য করি, কিন্তু আদর দেবার খোঁটা লোকে দেয় কি ব’লে? তারা কি চায়, ওকে আমি কেটে নদীর জলে ভাসিয়ে দিয়ে আসি? তা হলেই বোধ করি, তাদের মনস্কামনা পূর্ণ হ্য়। বলিয়া কোনরূপ উত্তরের প্রতীক্ষামাত্র না করিয়া… Continue reading রামের সুমতি – পর্ব -২ – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

রামের সুমতি – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

এক রামলালের বয়স কম ছিল, কিন্তু দুষ্টুবুদ্ধি কম ছিল না। গ্রামের লোকে তাহাকে ভয় করিত। অত্যাচার যে তাহার কখন কোন্‌ দিক দিয়া কিভাবে দেখা দিবে, সে কথা কাহারও অনুমান করিবার জো ছিল না। তাহার বৈমাত্র বড়ভাই শ্যামলালকেও ঠিক শান্ত-প্রকৃতির লোক বলা চলে না, কিন্তু, সে লঘু অপরাধে গুরুদণ্ড করিত না। গ্রামের জমিদারী কাছারিতে সে কাজ… Continue reading রামের সুমতি – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

সম্পত্তি সমর্পণ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বৃন্দাবন কুণ্ড মহাক্রুদ্ধ হইয়া আসিয়া তাহার বাপকে কহিল, “আমি এখনই চলিলাম।” বাপ যজ্ঞনাথ কুণ্ড কহিলেন, “বেটা অকৃতজ্ঞ, ছেলেবেলা হইতে তোকে খাওয়াইতে পরাইতে যে ব্যয় হইয়াছে তাহার পরিশোধ করিবার নাম নাই, আবার তেজ দেখো না।” যজ্ঞনাথের ঘরে যেরূপ অশনবসনের প্রথা তাহাতে খুব যে বেশি ব্যয় হইয়াছে তাহা নহে। প্রাচীন কালের ঋষিরা আহার এবং পরিচ্ছদ সম্বন্ধে অসম্ভব… Continue reading সম্পত্তি সমর্পণ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

একটি তুলসী গাছের কাহিনি – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্

ধনুকের মতাে বাঁকা কংক্রিটের পুলটির পরেই বাড়িটা। দোতলা, উঁচু এবং প্রকাণ্ড বাড়ি। তবে রাস্তা থেকেই সরাসরি দণ্ডায়মান। এদেশে ফুটপাত নাই বলে বাড়িটারও একটু জমি ছাড়ার ভদ্রতার বালাই নাই। তবে সেটা কিন্তু বাইরের চেহারা। কারণ, পেছনে অনেক জায়গা। প্রথমত প্রশস্ত উঠোন। তারপর পায়খানা-গােসলখানার পরে আম-জাম-কাঠাল গাছে ভরা জঙ্গলের মতাে জায়গা। সেখানে কড়া সূর্যালােকে ও সূর্যাস্তের স্লান… Continue reading একটি তুলসী গাছের কাহিনি – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্

উনিশ শ’ একাত্তর – ইমদাদুল হক মিলন

একদিন দুপুর বেলা দীনুর মন খুব খারাপ হয়ে গেল। একাত্তর সালের কথা। বর্ষাকাল ছিল সেদিন, টানা দশ দিন পর দীনুদের ছোট্ট মফস্বল শহরে দুপুরের দিকে রোদ উঠেছে। এক দিন ছিল বৃষ্টি। ঘোর বৃষ্টি। সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। আকাশ ছিল পোড়া মাটির চুলোর মতো। থেকে থেকে মেঘ ডেকেছে, বিদ্যুৎ চমকেছে। আর বৃষ্টি। কেমন বৃষ্টি। শহরের চারদিকে… Continue reading উনিশ শ’ একাত্তর – ইমদাদুল হক মিলন

ছুটি – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বালকদিগের সর্দার ফটিক চক্রবর্তীর মাথায় চট করিয়া একটা নূতন ভাবোদয় হইল; নদীর ধারে একটা প্রকাণ্ড শালকাষ্ঠ মাস্তুলে রূপান্তরিত হইবার প্রতীক্ষায় পড়িয়া ছিল; স্থির হইল, সেটা সকলে মিলিয়া গড়াইয়া লইয়া যাইবে।যে ব্যক্তির কাঠ আবশ্যক-কালে তাহার যে কতখানি বিস্ময় বিরক্তি এবং অসুবিধা বোধ হইবে, তাহাই উপলব্ধি করিয়া বালকেরা এ প্রস্তাবে সম্পূর্ণ অনুমোদন করিল। কোমর বাঁধিয়া সকলেই যখন… Continue reading ছুটি – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর