রবিনসন ক্রুশো – ড্যানিয়েল ডিফো

রবিনসন ক্রুশো ইয়র্ক শহরে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের ছেলে। ওর বাবা ওকে লেখাপড়া শিখিয়েছেন এবং ওর বাবার ইচ্ছে ছিল আইন পাস করে সে ওকালতি করুক। কিন্তু রবিনের কেমন যেন একটা ঝোঁক ছিল মাথায় এবং তা ছেলেবেলা থেকেই-তা হলো, দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ানো। বিশেষ করে তা যদি সমুদ্রযাত্রা হয় তবে তো কথাই নেই। বড় হয়ে তাই সে তার… Continue reading রবিনসন ক্রুশো – ড্যানিয়েল ডিফো

রিপভ্যান উইংকল – ফখরুজ্জামান চৌধুরী

হাডসন নদীর ওপর দিয়ে জাহাজে করে যারা গেছে তাদের সবারই দৃষ্টি কেড়েছে ক্যাটসাকিল পাহাড়গুলো। নদীর পশ্চিম দিকে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে এ পাহাড়শ্রেণি।এসব রূপকথার পাহাড়ের নিচে আছে এক গ্রাম। অনেক বছর আগে সে গ্রামে বাস করত একজন লোক; নাম তার রিপভ্যান। উইংকল পরিবারের সদস্য বলে রিপভ্যান উইংকল নামেই সবার কাছে ছিল তার পরিচয়।গ্রামের সবাই তাকে খুব… Continue reading রিপভ্যান উইংকল – ফখরুজ্জামান চৌধুরী

একরাত্রি – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সুরবালার সঙ্গে একত্রে পাঠশালায় গিয়াছি, এবং বউ-বউ খেলিয়াছি। তাহাদের বাড়িতে গেলে সুরবালার মা আমাকে বড়ো যত্ন করিতেন এবং আমাদের দুইজনকে একত্র করিয়া আপনা-আপনি বলাবলি করিতেন, “আহা, দুটিতে বেশ মানায় ।” ছোটো ছিলাম, কিন্তু কথাটার অর্থ একরকম বুঝিতে পারিতাম সুরবালার প্রতি যে সর্বসাধারণের অপেক্ষা আমার কিছু বিশেষ দাবি ছিল, সে ধারণা আমার মনে বদ্ধমূল হইয়া গিয়াছিল।… Continue reading একরাত্রি – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

পরের ধনে পোদ্দারী – জসীম উদ্দীন

আগে মৌলবি সাহেবের ঘন ঘন দাওয়াত আসিত । তালেব এলেমের (ছাত্রদের) কাঁধে কেতাব কোরান দিয়া বড়ই জাকজমকের সঙ্গে মৌলবি সাহেব দাওয়াত খাইতে যাইতেন। কিন্তু এখন খারাপ দিন পড়িয়াছে । লােকে বড় মৌলবি সাহেবের খোঁজ করে না।অনেক দিন পরে দূরের একটা গ্রাম হইতে মৌলবি সাহেব দাওয়াত পাইলেন । বর্ষার দিন। পানির ভিতর হইতে নৌকাকানা মৌলবি সাহেব… Continue reading পরের ধনে পোদ্দারী – জসীম উদ্দীন

ছেলেধরা – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

সেবার দেশময় রটে গেল যে, তিনটি শিশু বলি না দিলে রূপনারায়ণের উপর রেলের পুল কিছুতেই বাঁধা যাচ্ছে না। দু’টি ছেলেকে জ্যান্ত থামের নীচে পোঁতা হয়ে গেছে, বাকী শুধু একটি। একটি সংগ্রহ হলেই পুল তৈরী হয়ে যায়। শোনা গেল, রেল-কোম্পানির নিযুক্ত ছেলেধরারা শহরে ও গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্চে। তারা কখন এবং কোথায় এসে হাজির হবে, কেউ বলতে… Continue reading ছেলেধরা – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

কাঞ্চনমালা আর কাঁকনমালা

অনেক দিন আগের কথা। এক দেশে ছিল এক রাজা। রাজার একটাই পুত্র। রাজপুত্রের সঙ্গে সেই রাজ্যের রাখাল ছেলের খুব ভাব। দুই বন্ধু পরস্পরকে খুব ভালোবাসে। রাখাল মাঠে গরু চরায়, রাজপুত্র গাছতলায় বসে তার জন্য অপেক্ষা করে। নিঝুম দুপুরে রাখাল বাঁশি বাজায়। রাজপুত্র তার বন্ধু রাখালের গলা জড়িয়ে বসে সেই সুর শোনে। বন্ধুর জন্য বাঁশি বাজিয়ে… Continue reading কাঞ্চনমালা আর কাঁকনমালা

বঙ্কুবাবুর বন্ধু – সত্যজিৎ রায়

বঙ্কুবাবুকে বুকে কেউ কোনওদিন রাগতে দেখেনি। সত্যি বলতে কি, তিনি রাগলে যে কীরকম ব্যাপারটা হবে, কী যে বলবেন বা করবেন তিনি, সেটা আন্দাজ করা ভারী শক্ত।..অথচ রাগবার যে কারণ ঘটে না তা মোটেই নয়। আজ বাইশ বছর তিনি কাঁকুড়গাছি প্রাইমারি ইস্কুলে ভূগোল বা বাংলা পড়িয়ে আসছেন; এর মধ্যে কত ছাত্র এল-গেল, কিন্তু বন্ধুবাবুর পিছনে লম্বা-ব্ল্যাকবোর্ডে… Continue reading বঙ্কুবাবুর বন্ধু – সত্যজিৎ রায়

এক ছিল জোলা – রুহুল আমিন বাবুল

জঙ্গলবাড়ি নামে এক রাজ্য ছিল। সে রাজ্যের এক পাশে বাস করত এক জোলা আর তার বউ। জোলা ছিল বোকার হদ্দ আর কুঁড়ের একশেষ। রাতে ঘুম আর দিনের বেলায় টো-টো করে ঘুরে বেড়ানোই ছিল তার কাজ। এ ছাড়া আর কোনো কাজই সে করত না। সংসার চলত জোলার বউয়ের রোজগারে। একদিন খাবার খেতে বসে জোলার বউ বলল,… Continue reading এক ছিল জোলা – রুহুল আমিন বাবুল

বুলু – অজিত কুমার গুহ

সেদিনের কথা আমার এখনো খুব মনে পড়ে। ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ঘটনা। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তিনদিন থাকার পরই আমাদের কয়েকজনকে বদলি করা হলো দিনাজপুর কারাগারে। তোমরা সবাই জানো কিনা বলতে পারিনে, সরকারি কর্মচারীর মতো সরকারি কয়েদিরও বদলি আছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আমাদের অবস্থানটা কর্তৃপক্ষের কোনো অজানা কারণে মনঃপূত নয়, তাই আমাদের যেতে হবে সুদূর উত্তরবঙ্গে… Continue reading বুলু – অজিত কুমার গুহ

ব্যাঙের সমুদ্র দেখা – সুকুমার রায়

(জাপানী গল্প) গ্রামের ধারে কবেকার পুরান এক পাতকুয়োর ফাটলের মধ্যে কোলাব্যাং তার পরিবার নিয়ে থাকত। গ্রামের মেয়েরা সেখানে জল তুলতে এসে যেসব কথাবার্তা বলত কোলাব্যাং তার ছেলেদের সেইসব কথা বুঝিয়ে দিত—আর ছেলেরা ভাবত ‘ইস্‌! বাবা কত জানে!’ একদিন সেই মেয়েরা সমুদ্রের কথা বলতে লাগল। ব্যাঙের ছানারা জিজ্ঞাসা করল—”হ্যাঁ বাবা! সমুদ্র কাকে বলে?” ব্যাং খানিক ভেবে… Continue reading ব্যাঙের সমুদ্র দেখা – সুকুমার রায়