পদ্মা নদীর মাঝি পর্ব : ১০ কুবেরের পরিচয় এতক্ষণে ওরা পাইয়া গিয়াছে, সর্দার বলিয়া আর মানিবে না, বন্ধুর মতো সমানভাবে কথা কহিবে। কুবের বড়ো বিমর্ষ হইয়া যায়। কত বড়ো পদটা হোসেন মিয়া তাহাকে দিয়া গিয়াছে, ইতিমধ্যে সে তার পদমর্যাদা হারাইয়া বসিল! প্রথম প্রথম ওরা যখন খাতির করিয়া ভাব জমাইবার চেষ্টা করিয়াছিল তখন একটু দূরত্ব বজায়… Continue reading পদ্মা নদীর মাঝি পর্ব : ১০ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
পদ্মা নদীর মাঝি পর্ব : ৯ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
পদ্মা নদীর মাঝি পর্ব : ৯ বাজারে টিনের চালার নীচে যেখানে তরিতরকারির দোকান বসে সেইখানে যাত্রার আসর বসিয়াছে, লোক জমিয়াছে ঢের। কুবের একপাশে বসিয়া পড়িল। পানবিড়ির দোকান ছাড়া এতরাত্রে পসরা সাজাইয়া কেহ নাই, রূপ-কন্যারাও যাত্রা শুনিতে আসিয়াছে। পেশাদার দল নয়, আলু-বেচা তেল-বেচা মানুষের শখের দল, অনেকে হয়তো পড়িতেও জানে না, একে ওকে দিয়া পড়াইয়া শুনিয়া… Continue reading পদ্মা নদীর মাঝি পর্ব : ৯ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
পদ্মা নদীর মাঝি পর্ব : ৮ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
পদ্মা নদীর মাঝি পর্ব : ৮ সেদিন রাত্রে গোপির পায়ের যন্ত্রণা খুব বাড়িয়া গেল। তাহাকে নূতন ঘরে আনা হইয়াছিল, সারারাত সে ছটফট করিয়া গোঙাইয়া কাটাইয়া দিল। মালা জাগিয়া বসিয়া রহিল তাহার শিয়রে। কুবেরও অনেক রাত অবধি জাগিয়া রহিল। তারপর সে ঘুমাইয়া পড়িল বটে কিন্তু ভালো ঘুম হইল না। শেষ রাত্রে উঠিয়া বসিয়া সে ডাকিল, গোপির… Continue reading পদ্মা নদীর মাঝি পর্ব : ৮ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
পদ্মা নদীর মাঝি পর্ব : ৭ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
পদ্মা নদীর মাঝি পর্ব : ৭ পয়সা কুড়াইয়া কুবের উঠিল, সঙ্গে উঠিল রাসু। কী বিনয় রাসুর, কী সব তোষামোদে কথা! পথ চলিতে চলিতে রাসু নানা কথা বলে। এবার সে একটা ব্যাবসা আরম্ভ করিবে – ব্যাবসা ছাড়া পয়সা নাই মানুষের, একটা সে দোকান দিবে দেবীগঞ্জে। কীসের দোকান এখনও সে তা ঠিক করে নাই, ভাবিয়া চিন্তিয়া একটা… Continue reading পদ্মা নদীর মাঝি পর্ব : ৭ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
পদ্মা নদীর মাঝি পর্ব : ৬ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
পদ্মা নদীর মাঝি পর্ব : ৬ চরডাঙ্গা পৌঁছিয়া দেখা গেল সমস্ত গ্রাম জলমগ্ন, কোথাও একহাত একটু শুকনো জমি নাই। ঘরে ঘরে স্রোতহীন কর্দমাক্ত জলরাশি থমথম করিতেছে। কুবেরের শ্বশুরবাড়ির সকলে আশ্রয লইয়াছে বড়ো ঘরের চালার তলে কাঠের ছোটো স্থায়ী মাচাটুকুতে।দুটি গোরু ও বাছুবের জন্য তিনটি সুপারিগাছের মধ্যে মোটা বাঁশেব ত্রিকোণ মাচা বাঁধা হইয়াছে, বাড়ির পোষা কুকুরটিও… Continue reading পদ্মা নদীর মাঝি পর্ব : ৬ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
পদ্মা নদীর মাঝি পর্ব : ৫ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
পদ্মা নদীর মাঝি পর্ব : ৫ ভোরে আগে ঘুম ভাঙিল হোসেনের। কুবেরকে সেই ডাকিয়া তুলিল, চোখ মেলিয়াই কুবেরেব কেন যে হঠাৎ এক অকারণ ত্রাসে মন ভবিযা গেল! কী হইয়াছে? বিপদ কীসের? হ, কাল রাত্রে সে হোসেন মিয়ার পয়সা চুরি করিযাছিল। একদফা চোখ মিটমিট করিয়া আশ্বস্ত হইল। হোসেন মিয়াকে খাতির করিয়া বলিল, যান নাকি মিয়া বাই?… Continue reading পদ্মা নদীর মাঝি পর্ব : ৫ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
পদ্মা নদীর মাঝি পর্ব : ৪ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
পদ্মা নদীর মাঝি পর্ব : ৪ সিধুর মতলব কুবের ঠিক বুঝিতে পারে না। কোঁচটি সে ঘরের মধ্যে কোনায় দাঁড় করাইয়া রাখিয়া আসে। বিকালে বৃষ্টি বন্ধ হইয়া গুমোট করিয়া আছে; আকাশে বিশেষ মেঘ নাই বটে কিন্তু কখন যে মেঘ ঘনাইয়া আসিয়া মুষলধারে বৃষ্টি নামিবে বলা যায় না। রাসুকে পীতম তাহার বাড়ি লইয়া গিয়াছে। এখন হয়তো আবার… Continue reading পদ্মা নদীর মাঝি পর্ব : ৪ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
পদ্মা নদীর মাঝি পর্ব : ৩ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
পদ্মা নদীর মাঝি পর্ব : ৩ নদীতীরে নৌকায় তাহদের কাজ ছিল। খাওয়া দাওয়ার পর নৌকা লইয়া তাহারা সোনাখালির মেলায় যাইবে। সঙ্গে ছেলেমেয়েরা থাকিবে, কেতুপুর ও আশেপাশের গ্রাম হইতে এমন যাত্রীও পাওয়ার সম্ভাবনা আছে যাহারা ভাড়া দিয়া মেলায় যাইবে। নৌকাটা একটু সাফ করিয়া একটা অস্থায়ী হোগলার ছই খাটাইয়া দেওয়া দরকার। নৌকার ছোটো পালটি মেরামত করিবার জন্য… Continue reading পদ্মা নদীর মাঝি পর্ব : ৩ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
পদ্মা নদীর মাঝি পর্ব : ২ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
পদ্মা নদীর মাঝি পর্ব : ২ পদ্মা ও পদ্মার খালগুলি ইহাদের অধিকাংশের উপজীবিকা। কেহ মাছ ধরে, কেহ মাঝিগিরি করে। কুবেরের মতো কেহ জাল ফেলিয়া বেড়ায় খাস পদ্মার বুকে, কুঁড়োজাল লইয়া কেহ খালে দিন কাটায়। নৌকার যাহারা মাঝি, যাত্রী লইয়া মাল বোঝাই দিয়া পদ্মায় তাহারা সুদীর্ঘ পাড়ি জমায়, এ গাঁয়ের মানুষকে ও গাঁয়ে পৌঁছাইয়া দেয়। এ… Continue reading পদ্মা নদীর মাঝি পর্ব : ২ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
পদ্মা নদীর মাঝি পর্ব : ১ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
পদ্মা নদীর মাঝি পর্ব : ১ বর্ষার মাঝামাঝি। পদ্মায় ইলিশ মাছ ধরার মরসুম চলিয়াছে।দিবারাত্রি কোন সময়েই মাছ ধরবার কামাই নাই।সন্ধ্যার সময় জাহাজঘাটে দাঁড়াইলে দেখা যায় নদীর বুকে শত শত আলো অনির্বাণ জোনাকির মত ঘুরিয়া বেড়াইতেছে।জেলে-নৌকার আলো ওগুলি।সমস্ত রাত্রি আলোগুলি এমনিভাবে নদীবক্ষের রহস্যময় ম্লান অন্ধকারে দুর্বোধ্য সঙ্কেতের মত সঞ্চালিত হয়।এক সময় মাঝরাত্রি পার হইয়া যায়।শহরে, গ্রামে,… Continue reading পদ্মা নদীর মাঝি পর্ব : ১ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়