এই ভদ্রলোকের বাঁ পাশে যিনি আছেন তাঁর মুখ ঘামে চটচট করছে। মনে হচ্ছে এইমাত্র তিনি ক্রসফায়ারিং সেরে এলেন। ভদ্রলোকের নাম দেয়া গোল ঘািমবাবু। তৃতীয় ব্যক্তির নাম ঘািমবাবুর সঙ্গে মিল রেখে দিলাম হামবাবু। তাঁর মুখভর্তি হামের মতো দানা। মাঝখানের জনের নাম এই মুহুর্তে দিতে পারছি না। তাকে মধ্যমণি নামেই চালাবো। হামবাবুর হাতে একটা টেলিফোন সেট। টেলিফোন… Continue reading হলুদ হিমু কালো র্যাব পর্ব:০২ হুমায়ূন আহমেদ
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
হলুদ হিমু কালো র্যাব পর্ব:০১ হুমায়ূন আহমেদ
গল্প শুরু করছি।শুরুতেই আমার অবস্থানটা বলে নেই। আমি রাজমণি ঈশা খাঁ হোটেলের সামনের ফুটপাতে বসে আছি। সময় সন্ধ্যা। হাতে ঘড়ি নেই বলে নিখুঁত সময় বলতে পারছি না। রাস্তার হলুদ বাতি জ্বলে উঠেছে। আকাশে এখনো নীল নীল আলো। আমার কোলে একটা বই। বইটার নাম চেঙ্গিস খান। লেখকের নাম ভাসিলি ইয়ান। আমার হাতে প্লাস্টিক কাপে এককাপ কফি।… Continue reading হলুদ হিমু কালো র্যাব পর্ব:০১ হুমায়ূন আহমেদ
হিমুর বাবার কথামালা শেষ – পর্ব হুমায়ূন আহমেদ
এটা শুধু হিন্দু মেয়ে না, সবার জন্যে প্রযোজ্য। এবং তোমার জন্যে বিশেষভাবে প্রযোজ্য। মায়া যখন হাতছানি দিবে তখন তোমাকে রক্ষা করার জন্যে কেউ থাকবে না। মায়ার্কে মায়া বলে চিনতে হবে। এই চেনাই আসল চেনা।প্রসঙ্গক্রমে তোমাকে আরেকটি শ্লোক বলি। শ্লোকটি রচনা করেছেন চাণক্য মুনির পুত্র। তার জন্মস্থান তক্ষশিলা। তিনি ছিলেন মহারাজা চন্দ্রগুপ্তের পরামর্শদাতা। যাই হোক, শ্লোকটা… Continue reading হিমুর বাবার কথামালা শেষ – পর্ব হুমায়ূন আহমেদ
হিমুর বাবার কথামালা পর্ব – ৩ হুমায়ূন আহমেদ
হিমুকে মহাপুরুষ বানানো এই কারণেই আমার জন্যে সহজ একটা কাজ হয়েছে। কারণ একটাই মহাপুরুষের কোনো ধারণা আমাদের নেই। হিমু নিতান্তই ঘরোয়া এক ছেলে। যে শুটকির সঙ্গে বেগুনের তরকারি দিয়ে আগ্রহের সঙ্গে পেট ভর্তি করে ভাত খাবে। ভাত খাবার পর তর্জনিতে চুন লাগিয়ে পান খাবে। পানের পিক ফেলবে। সম্প্রতি হিমুকে নিয়ে ছোট্ট একটা ঝামেলায় পড়েছি। ঝামেলাটা… Continue reading হিমুর বাবার কথামালা পর্ব – ৩ হুমায়ূন আহমেদ
হিমুর বাবার কথামালা পর্ব – ২ হুমায়ূন আহমেদ
আমি আমার জীবনে পোশাককে কখনই গুরুত্বপূর্ণ মনে করি নি। ইস্ত্রিবিহীন কুঁচকানো শার্ট তার সঙ্গে স্পঞ্জের স্যান্ডেল পরে বড় কোনো অনুষ্ঠানে যেতে কখনই সমস্যা বোধ করি নি। তবে একবার মহাবিপদে পড়েছিলাম। সেই বিপদ নিয়ে ঢাকা ক্লাবের ম্যাগাজিনের রমনা সুবর্ণ জয়ন্তী সংখ্যায় একটা লেখা লিখেছিলাম। লেখাটি আমি আমার অনুমতিক্রমে আবার ছাপছি। কারণ মহাপুরুষ গড়ার কারিগরের পোশাক নির্বাচনের… Continue reading হিমুর বাবার কথামালা পর্ব – ২ হুমায়ূন আহমেদ
হিমুর বাবার কথামালা পর্ব – ১ হুমায়ূন আহমেদ
উৎসর্গ মধ্যরাতে যাদের সঙ্গে হিমুর দেখা হয়, বইটি তাদের জন্যে। ভূমিকা বারো হাত কাঁকুড়ের তেরো হাত বিচি গ্রহণ করা যায়। বিচিটা নাকি আড়াআড়ি থাকে। পনেরো হাত বিচি গ্রহণ করার কোনোই কারণ নেই। হিমুর বাবার কথামালা চল্লিশ পৃষ্ঠার একটি বই। এখানে দুই পৃষ্ঠার ভূমিকার অর্থ বারো হাত কাঁকুড়ের পনেরো হাত বিচি। এ ধরনের বইয়ের ধারণা অমির… Continue reading হিমুর বাবার কথামালা পর্ব – ১ হুমায়ূন আহমেদ
হিমু এবং একটি রাশিয়ান পরী শেষ:পর্ব হুমায়ূন আহমেদ
আমল দুলতে দুলতে বললে, (যে কোনো কথা বলার সময় সে ধর্মগ্রন্থ পড়ার সময় যে দুলুনিতে মানুষ দুলে, সেই ভাবে দুলে।) ট্রেইন এক লাইনে চলে। লাইন বদল করা ট্রেইনের পক্ষে সম্ভব না। মানুষ ট্রেইনের মত এক লাইনে চলে। তবে বিশেষ ঘটনার পর নতুন লাইন পাওয়া যায়।আপনিতো পীর ফকিরের মত কথা বলা শুরু করেছেন।চিন্তা ভাবনা করে কথা… Continue reading হিমু এবং একটি রাশিয়ান পরী শেষ:পর্ব হুমায়ূন আহমেদ
হিমু এবং একটি রাশিয়ান পরী পর্ব:১০ হুমায়ূন আহমেদ
এলিতা বলল, তোমার অসুস্থ অবস্থায় একটা ছবি আছে। ছবিটা প্রিন্ট করে তোমাকে দেখাব। ছবি দেখে সঙ্গে সঙ্গে তোমার চোখে পানি আসবে। তানিজা মেয়েটি তার মা’কে নিয়ে তোমাকে দেখতে এসেছিল।সে তোমাকে হলি জমজম ওয়াটার খাওয়াবে। বোতলে করে সে হলি ওয়াটার নিয়ে এসেছে। চামচে করে তোমার মুখে মেয়েটা পানি ধরেছে সেই পানি তোমার গাল বেয়ে নিচে নামছে।… Continue reading হিমু এবং একটি রাশিয়ান পরী পর্ব:১০ হুমায়ূন আহমেদ
হিমু এবং একটি রাশিয়ান পরী পর্ব:০৯ হুমায়ূন আহমেদ
তোমার সঙ্গেতো ব্যাগ নেই। আমার ধারণা ক্যামেরার সঙ্গে তোমার হ্যান্ডব্যাগও ছিনতাইকারী নিয়ে গেছে। সে এখন মলমপাটি হয়ে গেছে। স্প্রে মেরে পথচারীকে অন্ধ করে টাকা পয়সা নিয়ে যাচ্ছে।এলিতা কঠিন চোখে আমার দিকে তাকাচ্ছে। ডাগর আঁখির কারণে চোখে কাঠিন্য আসছে না।আমরা ধোঁয়া বাবার আস্তানায় সন্ধ্যা মেলানোর আগে আগে পৌঁছলাম। প্রচুর দর্শনার্থী বাবার জন্যে অপেক্ষা করছে। তবে আমরা… Continue reading হিমু এবং একটি রাশিয়ান পরী পর্ব:০৯ হুমায়ূন আহমেদ
হিমু এবং একটি রাশিয়ান পরী পর্ব:০৮ হুমায়ূন আহমেদ
আমার শেষ কথাতে কাজ হল। তানিজার মা টেলিফোন করে তানিজার বাবাকে আনলেন। এই ভদ্রলোক মেয়ে হারানোর কথা কিছুই জানতেন না। সব শুনে তার হার্ট এ্যাটাকের মত হল। বুকে হাত দিয়ে বিড় বিড় করে বললেন, শাহানা আমার বুকে ব্যথা করছে। আমার বুকে ব্যথা করছে।শাহানা কাঁদো কাঁদো গলায় বললেন, কাগজে কি লিখতে হবে বলুন। আমরা লিখে দিচ্ছি।… Continue reading হিমু এবং একটি রাশিয়ান পরী পর্ব:০৮ হুমায়ূন আহমেদ