রুন দারুণ বিরক্ত হল।একজন লোক আগ্রহ করে নিতে চাইছে, কিন্তু মেয়ে যাবে না। এর মানে কী?কতরকমের মজার ব্যবস্থা আছে। সারারাত জেগে সার্কাস-টার্কাস দেখবে, তা না, অ্যানি মুখ গোজ করে আছে।কেন যাবে না, অ্যানি? আমার ভালো লাগে না। ভালো না লাগার কী আছে এখানে। বললাম তো আমার কোথাও যেতে ইচ্ছা করছে না। সার্কাস দেখতে তোমার ভালো… Continue reading অমানুষ পর্ব – ৫ হুমায়ূন আহমেদ
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
অমানুষ পর্ব – ৪ হুমায়ূন আহমেদ
অ্যানি সারা পথে চুপচাপ বসে ছিল। একটা কথা জানবার জন্যে তার খুব ইচ্ছা করছিল। লোকটির হাতে এরকম একটা লম্বা কাটা দাগ কোত্থেকে হল? দুহাতেই গভীর দাগ। যেন কেউ একটা ধারালো কিছু দিয়ে কবজির নিচ থেকে দুটি হাত কেটে ফেলতে চেষ্টা করেছিল। অ্যানি শেষ পর্যন্ত জিজ্ঞেসই করে ফেলল, মিঃ জামশেদ, আমি কি একটা কথা জিজ্ঞেস করতে… Continue reading অমানুষ পর্ব – ৪ হুমায়ূন আহমেদ
অমানুষ পর্ব – ৩ হুমায়ূন আহমেদ
রুন অবাক হয়ে বিদেশী লোকটির দিকে তাকাল। লম্বা। রোগা। একটু যেন কুঁজো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মাথার চুল সাদা-কালো, ঘাড় পর্যন্ত নেমে এসেছে। পরনে কালো রঙের একটি জ্যাকেট, জ্যাকেটের মাঝখানের বোতামটি নেই তবে জ্যাকেট এবং ট্রাইজার দুটিই বেশ পরিষ্কার। রুন কঠিন স্বরে বলল, তুমি তো ইতালিয়ান নও।না। ভিকি বলল, ইতালিয়ান না হলেও চমৎকার ইতালিয়ান বলতে পারে।রুন… Continue reading অমানুষ পর্ব – ৩ হুমায়ূন আহমেদ
অমানুষ পর্ব – ২ হুমায়ূন আহমেদ
মুভিহল অন্ধকার হতেই এতরা চাচা তার কোমর জড়িয়ে ধরলেন। অ্যানি স্তম্ভিত হয়ে লক্ষ করল মাঝে মাঝে সেই হাত নিচে নেমে যাচ্ছে। এইসব কথা কাকে বলবে সে? মাকে? মা নিশ্চয়ই উলটো তার ওপর রাগ করবেন। কারণ এতরা চাচাকে মা খুব পছন্দ করেন। এটাও অ্যানির ভালো লাগে না। এতরা চাচা সময়ে অসময়ে আসে বাড়িতে। মা তাকে নিয়ে… Continue reading অমানুষ পর্ব – ২ হুমায়ূন আহমেদ
অমানুষ পর্ব – ১ হুমায়ূন আহমেদ
মেয়েটির মধ্যে কিছু-একটা আছে যা পুরুষদের অভিভূত করে দেয়। রূপের বাইরে অন্যকিছু।অসামান্য রূপসী মেয়েদেরকেও প্রায় সময়ই বেশ সাধারণ মনে হয়। এই মেয়েটি সেরকম নয়। এবং সে নিজেও তা জানে।মেয়েটির চোখ দুটি ছোট ছোট এবং বিশেষত্বহীন। গালের হাড় উঁচু হয়ে আছে। ছোট্ট কপাল কিন্তু তবু কী অদ্ভুত দেখতে! কী মোহময়ী! তার পরনে সাধারণ কালো রঙের একটি… Continue reading অমানুষ পর্ব – ১ হুমায়ূন আহমেদ
হরতন ইশকাপন শেষ – পর্ব হুমায়ূন আহমেদ
আজমল সাহেব বললেন, কাজের মেয়ে খুন করে টাকা-পয়সা, গয়নাগাটি নিয়ে পালিয়ে যায়। বিশাল ইতিহাস। আরেকদিন বলব। আপনাকে বলতে কোনো বাধা নেই রে ভাই। আপনি আমার আপনা লোক। পুলিশ টাকা খাওয়ার জন্যে কী যে করেছে বললে বিশ্বাস হবে না। পুলিশ আসামি করেছিল রাবেয়াকে।রাবেয়া কে? রেবুর ভালো নাম রাবেয়া। ঘটনার পরে আমরা রেবুর নাম চেঞ্জ করে ফেলি–তার… Continue reading হরতন ইশকাপন শেষ – পর্ব হুমায়ূন আহমেদ
হরতন ইশকাপন পর্ব – ৯ হুমায়ূন আহমেদ
আঁখিতারা বাসায় ফিরেছে। তার গলায় দুটা তাবিজ। মিসির আলি কাকরাইল মসজিদের সামনের ফুটপাতের দোকান থেকে তাবিজ দুটা কিনেছেন। আঁখিতারা খুবই আগ্রহের সঙ্গে গলায় তাবিজ পরে ঘুরছে। তাকে দেখে মনে হচ্ছে, সে অনেক দিন পর বাবার বাড়িতে ফিরে আনন্দে আত্মহারা। মেয়েটাের আনন্দ দেখে মিসির আলির ভালো লাগছে।আঁখিতারা বলল, বড় বাবা, চা বানায়ে দিব? মিসির আলি বললেন,… Continue reading হরতন ইশকাপন পর্ব – ৯ হুমায়ূন আহমেদ
হরতন ইশকাপন পর্ব – ৮ হুমায়ূন আহমেদ
রেবু আজ শাড়ি পরে আসে নি। সালোয়ার-কামিজ পরেছে। পোশাকের জন্যই হয়তো তাকে কিশোরীদের মতো লাগছে। শাড়ি না পরার কারণে তার মধ্যে এখন তরুণী ভাব একেবারেই নেই। শাড়ি অদ্ভুত একটা পোশাক। ছেলেদের এমন কোনো পোশাক নেই। যা পরলে একটা কিশোরকে যুবক মনে হবে। মিসির আলির মনে হলো শাড়ি নিয়ে গবেষণা হওয়া দরকার। বারো-তেরো হাত লম্বা একটা… Continue reading হরতন ইশকাপন পর্ব – ৮ হুমায়ূন আহমেদ
হরতন ইশকাপন পর্ব – ৭ হুমায়ূন আহমেদ
স্যার, আমি ডাক্তার না। কিন্তু আমার কিছু ক্ষমতা আছে। আমি কিছু কিছু জিনিস আগে আগে বুঝতে পারি। আমি মৃত্যুর গন্ধ পাই। আপনাকে তো স্যার আগেও বলেছি আমার কিছু বিশেষ ক্ষমতা আছে। মৃত্যুর গন্ধ কেমন আপনাকে একটু ব্যাখ্যা করি।কোনো ব্যাখ্যা করতে হবে না। তুমি মেয়েটকে হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করে।এক কাপ চা খেয়ে নেই। স্যার? পাঁচ মিনিট… Continue reading হরতন ইশকাপন পর্ব – ৭ হুমায়ূন আহমেদ
হরতন ইশকাপন পর্ব – ৬ হুমায়ূন আহমেদ
হুজুরে কেবলা শব্দ করে হাসলেন। হাসি থামিয়ে বললেন, জনাব আমি ভালো আছি। আপনি ইচ্ছা করলে আমার সামনে সিগারেট খেতে পারেন। আমি এমন কোনো ব্যক্তি না যে আমার সামনে সিগারেট খাওয়া যাবে না। যদিও এই অভ্যাস স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। মিসির আলি সামান্য চমকালেন। হুজুরে কেবলা এমন ভঙ্গিতে কথা বলেছেন যাতে মনে হতে পারে তিনি থট রিডিং… Continue reading হরতন ইশকাপন পর্ব – ৬ হুমায়ূন আহমেদ