হুমায়ুন আহমেদ -রুমালী -(পর্ব-১২)

মা বললেন, সর্বনাশ, আমাকে থাকতেই হবে। বকু কিছু মনে রাখতে পারে । আমাকেই সব মনে রাখতে হবে।  আসুন তা হলে। দেরি করবেন না।’ মা বললেন, দেরি হবে না। এখনই আসছি।  সােহরাব চাচা ঘর থেকে বের হতেই মা বললেন, বকু চুল আচড়ে চট করে কপালে একটা টিপ দিয়ে নে ।।  আমি বললাম, আমিতাে শুটিং এ যাচ্ছি… Continue reading হুমায়ুন আহমেদ -রুমালী -(পর্ব-১২)

হুমায়ুন আহমেদ -রুমালী -(পর্ব-১১)

তার একটা লাইন খুব ভাল করে কাটা যাতে মা কিছুতেই  সেই লাইনের পাঠোদ্ধার করতে না পারেন। মা জানবেন না কী লেখা হয়েছিল, ছটফট করতে থাকবেন। আমি লিখেছি— দলকলস মধু আজ ভােমরার যত ফুল থেকে মধু খেয়েছি। দুপুরের দিকে একা একা হাঁটছিলাম তখন সেলিম ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হল। খুব চমৎকার একজন মানুষ । হ্যান্ডসাম, বুদ্ধিমান। আমরা দু’জন অনেক… Continue reading হুমায়ুন আহমেদ -রুমালী -(পর্ব-১১)

হুমায়ুন আহমেদ -রুমালী -(পর্ব-১০)

কারাে এই ক্ষমতা, কারাে সেই ক্ষমতা। সব বােগাস । আর মানুষের স্বভাব এরকম যে সে আসল জিনিস বিশ্বাস করে না । বােগাস জিনিস বিশ্বাস করে।‘  ‘চাচা ঐ মহিলার কাছে কি আপনি আমাকে নিয়ে যাবেন ? ‘কেন ?  ‘গ্রামের অল্পবয়েসী একটা মেয়ে কোন কৌশলে মানুষকে ধােকা দেয় এটা আমার দেখার শখ ?’  সােহরাব চাচা বালতি হাতে… Continue reading হুমায়ুন আহমেদ -রুমালী -(পর্ব-১০)

হুমায়ুন আহমেদ -রুমালী -(পর্ব-৯)

‘তাের মনের ভেতর কী আছে?  ‘তােমাকেতাে মা আমি বলব না। আর যদি মনের ভুলে কোনদিন বলে ফেলি তুমি গলা টিপে আমাকে মেরে ফেলবে । আমি এখনি মরতে চাই না। আরাে কিছুদিন বেঁচে থাকতে চাই মা দেখ দেখ জীবন বাবুর চিল । আকাশে উড়ছে।’  জীবন বাবুর চিল মানে ?  কবি জীবনানন্দ দাশের চিল—সােনালী ডানার চিল !… Continue reading হুমায়ুন আহমেদ -রুমালী -(পর্ব-৯)

হুমায়ুন আহমেদ -রুমালী -(পর্ব-৮)

‘আমি মঈন স্যারের কাছে গিয়েছিলাম একটা চাকরির জন্য। উনি বিখ্যাত মানুষ—উনার কত জানাশুনা, উনি একটু বলে দিলেই আমার একটা ব্যবস্থা হয়ে যায় । এই আশায় যাওয়া । উনি বললেন—– আমার সঙ্গে দুর্গাপুরে চল। চলে এসেছি।‘  ‘ভাল করেছেন।‘ ‘না, খুব ভাল করি নি। এক কাপড়ে চলে এসেছি।‘ ‘এক কাপড়ে এলেন কেন ?  ‘স্যারকে চাকরির কথা বলতেই… Continue reading হুমায়ুন আহমেদ -রুমালী -(পর্ব-৮)

হুমায়ুন আহমেদ -রুমালী -(পর্ব-৭)

আমি উড়নায় চোখ মুছলাম।  যাও রেস্ট হাউসে চলে যাও। বিশ্রাম কর। গল্পের বই-টই পড়। আজ তােমার কোন কাজ হবে না। আর শােন মেয়ে একটা কথা বলি——কিছু না পারলেই কেঁদে ফেলতে হবে এটা ঠিক না। তুমি তােমার এক জীবনে দেখবে অনেক কিছুই পারছ না। প্রতিবারই যদি কাঁদতে থাক তাহলে তােমার জীবন যাবে কাঁদতে কাঁদতে । এটা… Continue reading হুমায়ুন আহমেদ -রুমালী -(পর্ব-৭)

হুমায়ুন আহমেদ -রুমালী -(পর্ব-৬)

রুমালী নাম আমার বাবা রেখেছিলেন। ভাল কথা মনে করেছ। তােমার বাবা প্রসঙ্গে একটা কথা বলি। কথাটা তােমার বাবা প্রসঙ্গে না— তােমার মা প্রসঙ্গে। তুমি বাবার কথা বলায় মনে পড়ল । বলুন। ‘তােমার মা সবচে অপছন্দের কাজ যেটা করেন সেটা হচ্ছে দুঃখের কাঁদুনী শুরু করেন । তােমার মা‘র কাছ থেকে এই পর্যন্ত তিনবার আমি শুনেছি তােমার বাবা… Continue reading হুমায়ুন আহমেদ -রুমালী -(পর্ব-৬)

অয়োময় – হুমায়ূন আহমেদ

বদরুল আলম সাহেব তারাবীর নামাজ পড়তে যাবেন–কি মনে করে যেন বাংলা ঘরে উঁকি দিলেন। ঘর অন্ধকার। অথচ তিনি সন্ধ্যাবেলায় মাগরেবের নামাজে দাঁড়াবার আগেই বলেছিলেন বাংলা ঘরে যেন বাতি দেয়া হয়। এরা কেউ কথা শোনে না। রাগে তাঁর শরীর কাঁপতে লাগল। ইদানীং তাঁর এই সমস্যা হয়েছে, রেগে গেলে শরীর কাঁপে। বাংলা ঘরে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা অসম্ভব… Continue reading অয়োময় – হুমায়ূন আহমেদ

হুমায়ুন আহমেদ -রুমালী -(পর্ব-৫)

কড়া রােদ উঠেছে। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ। সকালবেলা ঠান্ডা থাকে । কুয়াশা কুয়াশা ভাব থাকে । এগারােটার দিকে ঝাঝালাে রােদ উঠে যায়। এমন দে যে চোখ জ্বালা করতে থাকে।  ‘মা শুটিং কি শেষ হয়ে গেছে ?  জ্বি না— আজ সারাদিনই শুটিং হবে।‘ ‘ঐ যন্ত্রটা কী?‘  ‘এর নাম ক্রেন ট্ৰলী। ক্যামেরা ক্রেন টুলীতে বসিয়ে উপুর নিচ করা… Continue reading হুমায়ুন আহমেদ -রুমালী -(পর্ব-৫)

হুমায়ুন আহমেদ -রুমালী -(পর্ব-৪)

‘সেটা আমি বলতে পারব না। অভিনয় প্রতিভা কার কেমন তা জানি না, বুঝিও না। আমি হলাম যােগানদার ! যার যা লাগবে আমাকে বলবে আমি উপস্থিত করব।’  আপনাকে যা আনতে বলা হবে নিয়ে আসবেন ?’ তুমি বললে আনব না। তবে ডিরেক্টর সাহেব বললে জোগাড় করব।’ উনি যা বলবেন তাই এনে দেবেন?’ ‘এনে দেব। ফিল্ম লাইনের প্রডাকশন… Continue reading হুমায়ুন আহমেদ -রুমালী -(পর্ব-৪)