হুমায়ন আহমেদ এর যখন নামিবে আঁধার পর্ব-৭

 দুইজনেই আমার দুই ফুট দূরে, আমার ডানদিকে তাকায়ে থাকত। আমি কোনাে প্রশ্ন করলে সেই দিকে তাকিয়েই উত্তর দিত । এই কাজ কেন করত জিজ্ঞেস করেন নাই ? করেছি। একবার না, অনেকবার করেছি। তাদের জবাব কী ?  তারা নাকি দুইজন বাবা দেখে। একটা বাবা খারাপ, একটা ভালাে। তারা তাকিয়ে থাকে ভালাে বাবার দিকে।  আপনি তাহলে তাদের কাছে… Continue reading হুমায়ন আহমেদ এর যখন নামিবে আঁধার পর্ব-৭

হুমায়ন আহমেদ এর যখন নামিবে আঁধার পর্ব-৬

এই ঘটনা শুধু যে আমার জীবনে ঘটেছে তা না। অচেনা অজানা মানুষের সাথেও ঘটেছে। অনেক ফকির মিসকিনও দুই ভাইয়ের সঙ্গে চা খেয়েছে।  এই বিষয়টা স্কিজোফ্রেনিয়ার রােগীদের ক্ষেত্রে কখনাে ঘটে না। তারা কারও সঙ্গে মেশে না। আলাদা থাকে। তাদের বাস্তবতা আলাদা বলেই সাধারণ বাস্তবতার মানুষদের সঙ্গে মিশতে পারে না।  ‘সন্ধান চাই’ হ্যান্ডবিল ছাপা হয়েছে। হ্যান্ডবিলে ঠিকানা… Continue reading হুমায়ন আহমেদ এর যখন নামিবে আঁধার পর্ব-৬

হুমায়ন আহমেদ এর যখন নামিবে আঁধার পর্ব-৫

ছক্কা-বক্কা দুই ভাই পরিবার নিয়ে ফাঁকা বাড়িতে ফিরে এল । আবার তাদের দু’জনকে ছেলে কোলে নিয়ে হাঁটাহাঁটি করতে দেখা গেল। বাবার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না, এতে তাদের দুঃখিত বা চিন্তিত মনে হলাে না। মল্লিক পরিবারের সব কর্মকাণ্ড আগের মতােই চলতে লাগল। বক্কার ছােট ছেলের আকিকার । দিন ধার্য হলাে । আকিকা হলাে। জসুকে আকিকার মাংস… Continue reading হুমায়ন আহমেদ এর যখন নামিবে আঁধার পর্ব-৫

হুমায়ন আহমেদ এর যখন নামিবে আঁধার পর্ব-৪

মল্লিক সাহেব তিক্ত গলায় বললেন, ওদেরও নাই। নাই-এ নাই-এ কাটাকাটি। আরেক কাপ চা খাব, যদি আপনার তকলিফ না হয়।   আমার তকলিফ হবে না। আপনি আরাম করে চা খাচ্ছেন দেখে ভালাে লাগছে।  মল্লিক সাহেব বললেন, আপনার বসার ঘরের সােফায় আমি যদি শুয়ে থাকি তাহলে সমস্যা হবে ?   মিসির আলি বললেন, কোনাে সমস্যা হবে না। তবে… Continue reading হুমায়ন আহমেদ এর যখন নামিবে আঁধার পর্ব-৪

হুমায়ন আহমেদ এর যখন নামিবে আঁধার পর্ব-৩

আপনি কি নিশ্চিত যে, এরাই টাকা চুরি করেছে ? অবশ্যই। কাগজ কলম আনেন লিখে দেই । চুরিটা কে করেছে ? বড়জন, না ছােটজন ?  দুই ভাই একসঙ্গে মিলে করেছে। এরা যা করে একসঙ্গে করে। এখন শাস্তিও একসঙ্গে হবে। থাক ন্যাংটা হয়ে । | মিসির আলি বিনীতভাবে বললেন, ভাই সাহেব, এক কাপ চা আমার সঙ্গে খান।… Continue reading হুমায়ন আহমেদ এর যখন নামিবে আঁধার পর্ব-৩

হুমায়ন আহমেদ এর যখন নামিবে আঁধার পর্ব-২

সময় পাচ্ছেন না কথাটা ঠিক না। তার হাতে কোনাে কাজ নেই। তিনি প্রচুর বই পড়ছেন। বই পড়া কাজের মধ্যে পড়ে না। বই পড়া হলাে বিনােদন ।  মিসির আলির ঘুমুতে যাওয়ার কোনাে ঠিকঠিকানা নেই। জসুর আবার এই বিষয়ে ঘড়ি ধরা স্বভাব। রাতের খাবারের পর থেকে সে হাই তুলতে থাকে। হাই তুলতে তুলতে বাড়িওয়ালার বাড়িতে (দোতলায়) টিভি… Continue reading হুমায়ন আহমেদ এর যখন নামিবে আঁধার পর্ব-২

হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস দরজার ওপাশে খন্ড-১০

এর মধ্যেই একটা ফাঁকা জায়গায় রফিক দুটা গর্ত খুঁড়ে বিরস মুখে বসে আছে । সে একা না, তার সঙ্গে আরো লোকজন আছে । লোকজন তাকে বিরক্ত করে মারছে ।প্রশ্নে প্রশ্নে ব্যতিব্যস্ত করে ফেলছে-  ‘এইখানে বিষয় কি ভাইজান? লাশ পুঁতা হবে?                               … Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস দরজার ওপাশে খন্ড-১০

হুমায়ন আহমেদ এর যখন নামিবে আঁধার পর্ব-১

গত তিন রাতেই ঘটনাটা ঘটেছে। অতি তুচ্ছ ব্যাপার। একে ‘ঘটনা’ বলে গুরুত্বপূর্ণ করা ঠিক না। তারপরেও মিসির আলি তাঁর নােটবুকে লিখলেন  বিগত তিন রজনীতেই একটি ঘটনার পুনরাবৃত্তি হইয়াছে। রাত্রি তিনটা দশ মিনিটে আমার ঘুম ভাঙ্গিয়াছে। ইহার কারণ  অনুসন্ধান করিয়া পাইতেছি না । মিসির আলির নােটবইটা চামড়ায় বাঁধানাে। দেখে মনে হবে প্রাচীন কোনাে বই। বইয়ের মলাটে… Continue reading হুমায়ন আহমেদ এর যখন নামিবে আঁধার পর্ব-১

হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস দরজার ওপাশে খন্ড-৯

‘কাজকর্ম জানি যে করব? কাগজে কলমে এক প্লাস্টিক কোম্পানির এ্যাডভাইজার । মাসে দশ হাজার টাকা দিয়ে যায় । তাও আমার কাছে না–বাবার কাছে’। ‘তুই প্লাস্টিক কোম্পানির এ্যাডভাইজার? কি এ্যাডভাইজ করব? আমি প্লাস্টিকের জানি কি? সকালবেলা ওদের গাড়ি এসে নিয়ে যায় । আমার একটা ঘর আছে, ঐখানে বসে তিন চার কাপ কফি খাই, চলে আসি ।… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস দরজার ওপাশে খন্ড-৯

হুমায়ূন আহমেদের লেখা সে আসে ধীরে শেষ খন্ড

পৃথিবীর সবচে’ সুখী মানুষের মতাে আমি ঘুমালাম। ঘুম ভাঙার পরেও বিছানায় উঠে বসলাম না। ছােটবেলার মতাে চোখ বন্ধ করে মটকা মেরে পড়ে রইলাম। আমার বিছানার পাশে বসে থাকা লােকটা এখনাে আছে। তাকে এখনাে চিনতে পারছি না। তবে চিনে ফেলব। সমস্যা হচ্ছে তাকে চিনতে ইচ্ছা হচ্ছে না।   হিমু সাহেব। জি। মনে হচ্ছে আপনার ঘুম ভেঙেছে।… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা সে আসে ধীরে শেষ খন্ড