চশমা হারালে তার এ রকম হয়। মাঝে মাঝে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। নিজেকে এত অসহায় লাগে ! মনে হয় অচেনা অজানা দেশের হাজার হাজার মানুষের মাঝখানে সে হারিয়ে গেছে। চোখে দেখতে পাচ্ছে না, কথা বলতে পারছে না। শুধু বুঝতে পারে অসংখ্য মানুষ তাকে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে। সে যেমন ওদের দেখতে পাচ্ছে না, ওরাও তাকে দেখতে… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-১২
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-১১
খুব সুন্দর লাগছিল। এখনাে চোখে ভাসে। ‘ছেলেটাকে সুন্দর লাগছিল বলেই আমাকে সুন্দর লাগবে এমন তাে কোন কথা নেই। ‘তর্ক করবে না। যা করতে বলছি করবে। ‘আচ্ছা, আমি উঠি এখন?” ‘না, বােস আরাে খনিকক্ষণ। কোন কথা বলার দরকার নেই। চুপচাপ বসে থাক। তারা দু‘জনই চুপচাপ বসে রইল। কেয়ার বােনের ছােট মেয়েটি ছাদে এসে গম্ভীর গলায় বলল,… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-১১
হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-১০
সে কিছুতেই বুঝতে পারছে না কেয়ার মন এত খারাপ কেন? উঁচু দালানের ছাদ ভাল লাগে না। সব সময় এক ধরনের অস্বস্তি লেগে থাকে। মনে হয় পৃথিবী থেকে অনেক দূরে ছাদে উঠবার মুখে সিঁড়িটা ভাঙা। কেয়া বলল, আমার হাত ধর। সিঁড়ি ভাঙা। জাহেদ হাত ধরল। কত সহজ, কত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে সে এই মেয়েটির হাত ধরতে… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-১০
হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-৯
জাহেদ বলল, আপা গয়নাটা এনে রেখেছে কি–না জানেন দুলাভাই? ‘কোন গয়না?” ‘ঐ যে মা’র গলার একটা হার। পালিশ করতে দিয়েছিল। “ও আচ্ছা – হ্যাঁ – একটা ঝামেলা হয়ে গেছে, বুঝলে? বিরাট ঝামেলা। জাহেদ হতভম্ব গলায় বলল, কি ঝামেলা? ‘দোকানই উঠে গেছে। হিন্দু দোকান ছিল, মনে হয় কাউকে কিছু না জানিয়ে ইন্ডিয়া চলে গেছে। ইন্ডিয়া… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-৯
হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-৮
কেয়ার নানি মৃত্যুশয্যায়। তিনি নাতনীর বিয়ে দেখে যেতে চাচ্ছেন আর কেয়ার আপা–দুলাভাইও কেয়াকে আর পুষতে পারবেন না বলে ঘােষণা দিয়েছেন। ‘ওরা কি দেখে তােমার কাছে বিয়ে দিচ্ছে – তােমার আছে কি? জাহেদ কিছু বলল না। মনােয়ারা বললেন – বউ নিয়ে কোথায় উঠবে ? জাহেদ বলল, এখনাে কিছু ঠিক করিনি। ‘তােমার কি কোথাও ওঠার জায়গা… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-৮
হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-৭
‘কখন বাসায় ফিরবে সেটা বলতে পারবেন? ‘উহু। * জাহিরের মন খারাপ হয়ে গেল। আজ বাসের স্ট্রাইক। সে কলাবাগান থেকে গুলশান পর্যন্ত এসেছে অনেক যন্ত্রণা করে। কিছু হেঁটে, কিছু শেয়ারের রিকশায়, কিছুটা টেম্পােতে। সুযােগ বুঝে টেম্পাের ভাড়া করে দিয়েছে দুগুণ। তার পকেটে এখন সাতটা টাকা আছে। এই সাত টাকায় কলাবাগান ফিরে যাওয়াই সমস্যা। তা ছাড়া প্রচণ্ড… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-৭
হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-৬
ইয়াজউদ্দিন সাহেব বললেন, কেয়ার সঙ্গেও কি তােমার পরিচয় আছে ? ‘হ্যাঁ, পরিচয় আছে। খুব ভাল মেয়ে। গম্ভীর হয়ে থাকে, কিন্তু মাঝে মাঝে এমন হাসির কথা বলে !‘ ‘প্রাইভেট টিউশনি সম্বল করে একটা ছেলে বিয়ে করে ফেলতে চাচ্ছে – তােমার কাছে কি হাস্যকর মনে হচ্ছে না?” ‘জহিরের কোন উপায় নেই, বাবা। ওকে প্রাইভেট টিউশনি করে… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-৬
হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-৫
শুভ্র জবাব দিল না। হাসল। ইয়াজউদ্দিন সাহেব আগ্রহ নিয়ে ছেলের হাসি দেখলেন। শুভ্র’র হাসি সুন্দর। দেখতে ভাল লাগে। সব শিশুর হাসি সুন্দর। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে হাসির সৌন্দর্য নষ্ট হতে থাকে। শুভ’র হয়নি। রেহানা চা নিয়ে এসেছে। চা আনতে তাঁর দেরি হবার কারণ বােঝা যাচ্ছে – শুধু চা আসে নি। আয়ােজন দেখে মনে হচ্ছে সকালের… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-৫
হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-৪
‘উনার এক ভাগ্নি আছে। ডাক নাম শাপলা – মেয়েটা খুব সুন্দর, টিভিতে গান গায়। বি গ্রেডের শিল্পী। নাটকও করে। ও লেভেল পাস করে ইউনিভার্সিটিতে ঢুকেছে। পালিটিক্যাল সায়েন্সে পড়ে। থার্ড ইয়ার। গায়ের রঙ শুভ্রের মত না হলেও ফর্সা। তুমি কি মেয়েটাকে দেখবে? ‘আমি দেখব কেন?” | ‘তােমার পছন্দ হলে শুভ্রের জন্যে আমি মেয়ের মামা জাভেদ… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-৪
হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-৩
আধঘণ্টা পর বিছানায় যেতে হয়। তিনি আধঘণ্টা পার করার জন্যে অপেক্ষা। করছেন। তার ঘুম এসে গেছে। চোখের পাতা ভারী হয়ে এসেছে। কয়েকবার হাই উঠেছে। তিনি দেখলেন রেহানা ট্রেতে করে চা নিয়ে শুভ্রের ঘরে ঢুকছে। ইয়াজউদ্দিন সাহেবের ভ্রু কুঞ্চিত হল। দুপুর রাতে সে ছেলেকে চা বানিয়ে খাওয়াচ্ছে কেন? অন্ধ ভালবাসার ফল কখনাে মঙ্গলময় হয় না।… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা মেঘের ছায়া খন্ড-৩