হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম খন্ড-১-হুমায়ূন আহমেদ

আজকের দিনটা এত সুন্দর কেন?……..সকালবেলা জানালা খুলে আমি হতভম্ব। এ কী! আকাশ এত নীল! আকাশের তো এত নীল হবার কথা না। ভূমধ্যসাগরীয় আকাশ হলেও একটা কথা ছিল। এ হচ্ছে খাটি বঙ্গদেশীয় আকাশ, বেশিরভাগ সময় ঘোলা থাকার কথা। আমি তাকিয়ে থাকতে থাকতেই জানালার ওপাশে একটা কাক এসে বসল। কী আশ্চর্য! কাকটাকেও তো সুন্দর লাগছে। কেমন গর্বিত… Continue reading হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম খন্ড-১-হুমায়ূন আহমেদ

হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন শেষ খন্ড

বিকেল পাঁচটায় ল্যাব বন্ধ করে বাসায় ফিরবার আগে আগে গ্রাসের কামরায় উকি দিলাম। গ্লাস হাসি মুখে বলল, কিছু বলবে হামাদ। হঁ্যা, বলবো। আগেও কয়েকবার বলেছি। আজও বলবাে। ঃ তােমার নামের উচ্চারণের ব্যাপার তাে ? ওহঁ্যা। ও উচ্চারণ করতে পারি না বলেই তো একটু এলােমেলো হয়ে যায়। এতে এতাে রাগ করবার কী আছে? আমেরিকানদের জিহ্বা শক্ত।… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন শেষ খন্ড

হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন খন্ড-২৩

নাশতার পর দলবদল নিয়ে মাছ ধরতে বের হলাম। আমেরিকায় বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে চাইলে স্টেট গভর্নমেন্টের কাছ থেকে লাইসেন্স করতে হয়। লাইসেন্দের ফী পনের ডলার। লাইসেন্স করা ছিল, তারপরও বুড়ি সিমসনকে পাঁচ ডলার দিতে হল। এটা নাকি লেক রক্ষণাবেক্ষণের ফী। বড়শি ফেলে মূর্তির মত বসে থাকার কাজটি খুব আনন্দদায়ক হবে মনে করার কোন কারণ নেই—তবু… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন খন্ড-২৩

হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন খন্ড-২২

যথাসময়ে গাড়ির ছাদে নৌকা বেঁধে রওয়ানা হয়ে গেলাম। গায়ে ক্যাম্পিং-এর পোশাক-হাফ প্যান্ট এবং বস্তার মত মোটা কাপড়ের ফাপ দেয়া শার্ট, মাথায় ক্রিকেট আম্পায়ারদের টুপির মত ধবধবে সাদা টুপি। গাড়ি চলছে ঝড়ের গতিতে। বনে যাবার এই হচ্ছে নিয়ম। স্পীডিং এর জন্য পুলিশ অবশ্যই গাড়ি থামাবে, তবে যখন বুঝবে এই দল ক্যাম্পিং-এ যাচ্ছে তখন কিছু বলবে না।… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন খন্ড-২২

হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন খন্ড-২১

আমার কন্যা পাখি দেখে মােটেই উল্লসিত হলো না। ভয় পেয়ে চেঁচাতে লাগলাে। মুগ্ধ হল মেয়ের মা। সে বারবার বলতে লাগল–ও মা কী সুন্দর পাখি! ঠোট গুলাে দেখ, মনে হচ্ছে চব্বিশ ক্যারেট গােল্ডের তৈরি। সে পাখিকে পানি খেতে দিল, ময়দা গুলে দিল। পাখি কিছুই স্পর্শ করল না। একটু পরপর বলতে লাগল ‘চিকু চিকু’। ক্লাসের দেরি হয়ে… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন খন্ড-২১

হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন খন্ড-২০

ও ঐ ব্যাপার মানে? ও মনে হচ্ছে … মেয়েরা ধাধা খুব পছন্দ করে। আমি লক্ষ্য করেছি, যে-কথা সরাসরি বললেও কোন ক্ষতি নেই সেই কথাও তারা ধাধার মত বলতে চেষ্টা করে। তার ব্যথা উঠেছে। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে এটা বুঝতে আমরা দশ মিনিটের মত লাগল। যখন বুঝলাম তখন স্পাইনাল কর্ড দিয়ে হিমশীতল একটা স্রোত বুয়ে… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন খন্ড-২০

হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন খন্ড-১৯

আমার প্রফেসর মুখ গম্ভীর করে আমাকে বুঝালেন,এরা ভয়াবহ ধরনের প্রস্টিটিউট। তােমার কাছ থেকে টাকা-পয়সা নেবে কিন্তু শেষ পর্যন্ত গায়ে হাত পর্যন্ত দিতে দেবে না। পত্রপত্রিকায় এদের সম্পর্কে অনেক লেখালেখি হয়েছে। | প্রফেসরের ভাব এরকম যে গায়ে হাত দিতে দিলে তিনি রাজি হয়ে যেতেন। রাতের খাবার খেতে আমরা যে রেস্টুরেন্টে গেলাম তা হচ্ছে টপলেস রেস্টুরেন্ট। অর্থাৎ… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন খন্ড-১৯

হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন খন্ড-১৮

দেখলাম ব্যাপারটায় আয়ােজনও প্রচুর। দূজন আছে রেকর্ড কীপার, স্টপ ওয়াচ হাতে সময়ের হিসাব রাখছে। একজন আছেন নােটারী পাবিলক। যিনি সার্টিফিকেট দেবেন যে, দীর্ঘতম চুম্বনে কোন কারচুপি হয়নি। এই নােটারী পাবলিক সারাক্ষণই থাকবেন কিনা বুঝতে পারলাম না। এদের মত গুরুত্বপূর্ণ মানুষ এরকম একটা ফালতু জিনিস নিয়ে কী করে সময় নষ্ট করে বুঝতে পারলাম না। | বেন… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন খন্ড-১৮

হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন খন্ড-১৭

সে কয়েক মুহুর্ত অপেক্ষা করলাে তারপর নােভাকে চুমু খেয়ে এক বস্ত্রে বের হয়ে গেল। আমি মােটেই পাত্তা দিলাম না। যাবে কোথায়? তাকে ফিরে আসতেই হবে। আশ্চর্যের ব্যাপার সে ফিরে এল না। একদিন এবং একরাত কেটে গেল। আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। নােভা ক্রমাগত কাদছে, কিছুই খাচ্ছে না। আমি কিছুতেই তাকে শান্ত করতে পারছি না। সম্ভব… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন খন্ড-১৭

হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন খন্ড-১৬

মাঝে মাঝে এমনও হয়েছে আমেরিকান দম্পতি দুপুর রাতে তাদের বাচ্চা নিয়ে উপস্থিত। লজ্জিত গলায় বলছে, আমার বাচ্চাটা চেঁচামেচি করছে রাতে তােমার সঙ্গে ঘুমুবে। কিছুতেই শান্ত করতে পারছি না। আমরা খুবই সজ্জিত। কী করব বুঝতে পারছি না। গুলতেকিন হাসিমুখে বলল বাচ্চাকে রেখে যান। ও এর জন্যে আমি তােমাকে পে করব। ও পে করতে হবে না। রাতের… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন খন্ড-১৬