নির্বাচিত প্রবন্ধ – আবুল ফজল-বুদ্ধির মুক্তি 

বুদ্ধির মুক্তি  ইংরেজী ১৯২৬ সাল। তখন ঢাকায় একটি ঢেউ উঠেছিল। চিন্তার ক্ষেত্রে, ভাবের ক্ষেত্রে, আদর্শের ক্ষেত্রে এই ঢেউ বেশ নাড়া দিয়েছিল তখনকার মুসলিম তরুণদের মনে। জিজ্ঞাসু ও কিছুটা সচেতন প্রবীণরাও এই ঢেউয়ের ধাক্কা এড়াতে পারেননি। দেশ, ধর্ম, সমাজ ও সাহিত্য সম্বন্ধে গতানুগতিক চিন্ত াধারা বাদ দিয়ে একটু নূতন করে, পরীক্ষা ও বিচারের দৃষ্টি দিয়ে দেখার… Continue reading নির্বাচিত প্রবন্ধ – আবুল ফজল-বুদ্ধির মুক্তি 

সেসব দিনের কথা- মনিকা শকুন্তলা

সেসব দিনের কথা মনিকা শকুন্তলা তখন ধানের শীষেও সুখ খুঁজে পেতাম কচি সবুজ গাছে একটু পরশ বোলাতাম আমায় উদাস করে দমকা হাওয়ার টানে মধুর ঘ্রাণে মাতাল হতাম সেই সুধা পানে।   আমি চেয়ে চেয়ে আজীবন কাটালাম তবু গ্রামীণ জনপদে এই মন হারালাম এখনো হৃদয় আমার নেচে নেচে যায় মায়াঘেরা ছবিআঁকা বসুবাড়ীর গাঁয়।   এখনো কি… Continue reading সেসব দিনের কথা- মনিকা শকুন্তলা

বিচারক – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় – স্থির দৃষ্টিতে ছবিখানির দিকে

বিচারক – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ০৭. স্থির দৃষ্টিতে ছবিখানির দিকে ক. স্থির দৃষ্টিতে ছবিখানির দিকে তাকিয়ে ছিলেন জ্ঞানেন্দ্রনাথ। ক্ষীণতম ভাষার স্পন্দন তাতে থাকলে তাকে শুনবার চেষ্টা করছিলেন, ইঙ্গিত থাকলে বুঝতে চেষ্টা করছিলেন। সুমতির মিষ্ট কোমল প্রতিমূর্তির মধ্যে কোথাও ফুটে রয়েছে অসন্তোষ অভিযোগের ছায়া? —তুমি আজ কোর্টের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলে? জ্ঞানেন্দ্রনাথ ফিরে তাকালেন। চা নিয়ে সুরমা… Continue reading বিচারক – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় – স্থির দৃষ্টিতে ছবিখানির দিকে

বিচারক – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় – জ্ঞানেন্দ্রনাথ ফিরে এলেন

বিচারক – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ০৬. জ্ঞানেন্দ্রনাথ ফিরে এলেন ক. জ্ঞানেন্দ্রনাথ ফিরে এলেন সম্পূর্ণরূপে আচ্ছন্নের মত অবস্থায়। দুদিন পর। মামলার শেষ দিন। সব শেষ করে বাড়ি ফিরলেন। পৃথিবীর সবকিছু তার দৃষ্টি মন-চৈতন্যের গোচর থেকে সরে গেছে। কোনো কিছু নেই। চোখের সম্মুখে ভাসছে আসামির মূর্তি। কানের মধ্যে বাজছে দুই পক্ষের উকিলের যুক্তি। মনের মধ্যে রয়েছে সমস্ত ঘটনাগুলির… Continue reading বিচারক – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় – জ্ঞানেন্দ্রনাথ ফিরে এলেন

বিচারক – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় – খাস কামরায় এসে

বিচারক – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ০৫. খাস কামরায় এসে ক. খাস কামরায় এসে ইজিচেয়ারে শুয়ে পড়লেন জ্ঞানেন্দ্রবাবু। শরীর আজ অত্যন্ত অবসন্ন। কালকের রাত্রি জাগরণের ক্লান্তির ফলে সারা দেহখানা ভারী হয়ে রয়েছে। মাথা ঝিমঝিম করছে। নিজের কপালে হাত বুলিয়ে চোখ বুজে শুয়ে রইলেন। তিনি। আরদালি টেবিল পেতে দিয়ে গেল। মৃদু শব্দে চোখ বুজেই অনুমান করলেন তিনি। চোখ… Continue reading বিচারক – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় – খাস কামরায় এসে

বিচারক – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়-ডকের মধ্যে আসামি দাঁড়িয়ে

বিচারক – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ০৪. ডকের মধ্যে আসামি দাঁড়িয়ে ক. পরের দিন। ডকের মধ্যে আসামি দাঁড়িয়ে ছিল ঠিক সেই এক ভঙ্গিতে। বয়স অনুমান করা যায়: না, তবে পরিণত যৌবনের সবল স্বাস্থ্যের চিহ্ন সর্বদেহে। শুধু আহারের পুষ্টিতে নধর কোমল দেহ নয়, উপযুক্ত আহার এবং পরিশ্রমে প্রতিটি পেশির সুদৃঢ় ছন্দে ছন্দে গড়ে উঠেছে দেহখানি। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দেখে… Continue reading বিচারক – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়-ডকের মধ্যে আসামি দাঁড়িয়ে

বিচারক – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়- সুরমা ঘরের জানালার সামনে

বিচারক – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ০৩. সুরমা ঘরের জানালার সামনে ক. সুরমা ঘরের জানালার সামনে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন, আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবছিলেন অতীত-কথা। সুমতির কথা। আশ্চর্য সুমতি। যত মধু তত কটু। যত কোমল তত উগ্ৰ তীব্ৰ। যত অমৃত তত বিষ। অমৃত তার ভাগ্যে জোটে নি, সে পেয়েছিল বিষ। সে বিষ আগুন হয়ে জ্বলেছিল। সুমতির পুড়ে… Continue reading বিচারক – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়- সুরমা ঘরের জানালার সামনে

বিচারক – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় – ডিভাইন জাস্টিস

বিচারক – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ০২. ডিভাইন জাস্টিস ক. ডিভাইন জাস্টিস! অবিনাশবাবু কথাটা যেন অভিপ্ৰায়মূলকভাবেই ব্যবহার করেছেন। কথাটা জ্ঞানবাবু নিজেই বোধ করি অন্যের অপেক্ষা বেশি ব্যবহার করেন। স্কুল প্রমাণ প্রয়োগ যেখানে একমাত্র অবলম্বন, মানুষ যতক্ষণ স্বাৰ্থান্ধতায় মিথ্যা বলতে দ্বিধা করে না, ততক্ষণ ডিভাইন জাস্টিস বোধহয় অসম্ভব। সরল সহজ সভ্যতাবঞ্চিত মানুষ মিথ্যা বললে সে-মিথ্যাকে চেনা যায়, কিন্তু… Continue reading বিচারক – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় – ডিভাইন জাস্টিস

বিচারক – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় -আদালতে দায়রা মামলা চলছিল

বিচারক – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ০১. আদালতে দায়রা মামলা চলছিল ক. আদালতে দায়রা মামলা চলছিল। মামলার সবে প্রারম্ভ। মফস্বলের দায়রা আদালত। পশ্চিম বাঙলার পশ্চিমদিকের ছোট একটি জেলা। জেলাটি সাধারণত শান্ত! খুনখারাবি দাঙ্গা-হাঙ্গামা সচরাচর বড় একটা হয় না। মধ্যে মধ্যে যে দু-চারটে। দাঙ্গা বা মাথা-ফাটাফাটি হয় সে এই কৃষিপ্রধান অঞ্চলটিতে চাষবাস নিয়ে গণ্ডগোল থেকে পাকিয়ে ওঠে। কখনও… Continue reading বিচারক – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় -আদালতে দায়রা মামলা চলছিল

আত্মকথা – আবুল মনসুর আহমদ- উকালতি জীবন

আত্মকথা – আবুল মনসুর আহমদ উকালতি জীবন  উকালতি জীবন ১. শুরুতে নৈরাশ্য ১৯২৯ সালের নভেম্বর মাসে উকালতির সনদ লই ময়মনসিংহ জজকোর্টে প্র্যাকটিস করিবার জন্য। কিন্তু কলিকাতার সাংবাদিক জীবন গুটাইয়া আসিতে-আসিতে ১৯৩০ সালের জানুয়ারি হইয়া যায়। পঁচাশি টাকা মাহিয়ানার সাংবাদিকতা ছাড়িয়া উকালতি ধরিতে সাধ্যমত সাবধানতা অবলম্বন করিয়াছিলাম। বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজন যারা উকালতি করিতেছিলেন, চিঠি-পত্র লিখিয়া আগে… Continue reading আত্মকথা – আবুল মনসুর আহমদ- উকালতি জীবন