আমাদের ছেলেবেলায় পাড়াগাঁয়ের প্রাইমারি স্কুলকে বলা হতো পাঠশালা আর ক্লাসকে বলা হতো শ্ৰেণী। সব পাঠশালায় ক্লাস ফোর পর্যন্ত থাকবে তার মানে নেই। আমি যে পাঠশালায় পড়তুম সেখানে ছিল শিশুশ্রেণী, প্রথম শ্রেণী আর দ্বিতীয় শ্রেণী। শিক্ষক মোটে একজন। তাকে বয়স্করা বলতেন নিসিং পণ্ডিত। আমরা বলতুম পণ্ডিতমশাই। নিসিং পণ্ডিতের এক দাদা ছিলেন। তাঁর নাম গিরিজাবাবু, আড়ালে আমরা… Continue reading ছুটির ঘণ্টা – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
চোর-পুলিশ – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
এ যেন সুকুমার রায়ের ছিল রুমাল, হয়ে গেল বেড়াল, সেইরকম। ছিল তাল গাছ, হয়ে গেল বেড়াল। দুদে দারোগা বঙ্কুবাবু তো তাজ্জব। শুধু তাজ্জব নন, রীতিমতো হতবাক। থমকে দাঁড়িয়ে গেলেন কেষ্টনগরের পুতুলটি হয়ে। আসছিলেন কেকরাডিহি থেকে একটা তদন্ত সেরে। দুদিন আগে সেখানে দুদলে খুব মারপিট-রক্তারক্তি হয়ে গেছে। তদন্ত সারতে সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল। সঙ্গের দুজন বন্দুকধারী সেপাইকে… Continue reading চোর-পুলিশ – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
মধুসুন্দরী দেবীর আবির্ভাব – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সেদিন হাতে কোন কাজকর্ম ছিল না, সন্ধ্যার পর্বে মাঠ হইতে ফুটবল খেলা দেখিয়া ধর্মতলা দিয়া ফিরিতেছিলাম। মোহনবাগান হারিয়া যাওয়াতে মনও প্রফুল্ল ছিল না—কি আর করি, ধর্মতলার মোড়ের কাছেই মট্ লেনে (নম্বরটা মনে নাই তবে কাড়িটা চিনি) তারানাথ জ্যোতিষীর বাড়ি গেলাম। তারানাথ একাই ছিল। আমায় বলিল—এস, এস হে, দেখা নেই বহুকাল, কি ব্যাপার? কিছুক্ষণ গল্পগুজবের পরে… Continue reading মধুসুন্দরী দেবীর আবির্ভাব – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ভূতের পা – হুমায়ূন আহমেদ
আমরা তখন কুমিল্লায় থাকি। বাবা পুলিশের ডিএসপি। আমাদের বাসা ঠাকুরপাড়ায়। এক রাতের কথা। গভীর উৎকণ্ঠায় সবাই জেগে বসে আছি। মা জায়নামাজে তসবি পড়ে যাচ্ছেন। আমরা দোতলার বারান্দায়। গাড়ির শব্দ কানে এলেই চমকে উঠছি। আমাদের এই শংকিত প্রতীক্ষার কারণ আমার বাবা। তিনি পুলিশ ফোর্স নিয়ে গেছেন হোমনায়। সেখানে এর আগের দিন একজন এএসআই এবং দুজন পুলিশ… Continue reading ভূতের পা – হুমায়ূন আহমেদ
পাথর – হুমায়ূন আহমেদ
চিত্রা মা, চা-টা উপরে দিয়ে আয়তাে।’ চিত্ৰা বারান্দায় বসে নখ কাটছিল। বাঁ হাতের কড়ে আঙ্গুলের একটা নখ ভেঙ্গেছে, ভাঙ্গা নখ রিপেয়ার করা সহজ ব্যাপার না । তার সমস্ত মনযােগ সে ১৭ নখে । নখটা এমনভাবে কাটতে হবে যেন ভাঙ্গাটা চোখে না পড়ে। চিত্রা মা’র দিকে না তাকিয়েই বলল, দেখছ না মা একটা কাজ করছি। সুরমা… Continue reading পাথর – হুমায়ূন আহমেদ
অবাক জলপান – সুকুমার রায়
পাত্রগণ : পথিক । ঝুড়িওয়ালা । প্রথম বৃদ্ধ । দ্বিতীয় বৃদ্ধ । ছোকরা । খোকা । মামা । প্রথম দৃশ্য রাজপথ ছাতা মাথায় এক পথিকের প্রবেশ, পিঠে লাঠির আগায় লোট-বাঁধা পুঁটলি, উস্কোখুস্কো চুল, শ্রান্ত চেহারা .. পথিক: নাঃ একটু জল না পেলে আর চলছে না। সেই সকাল থেকে হেঁটে আসছি, এখনও প্রায় এক ঘণ্টার পথ… Continue reading অবাক জলপান – সুকুমার রায়
শ্যামখুড়োর কুটির – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
সেই যারা বাংলা মুল্লুকের পাড়াগাঁয়ে রাতবিরেতের অন্ধকারে নিরিবিলি জায়গায় আলো জ্বেলে কীসব খুঁজে বেড়ায়, এই মার্কিন মুল্লুকেও এসেও তাদের দেখা পেয়ে যাব ভাবতেও পারিনি।….তফাতটা শুধু দেখলুম ভাষার। সেই একইরকম তিনটে আলো নিয়ে তিনটি ছায়ামূর্তি জলার ধারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। নাকি স্বরে একজন বলল, এখানেই তো থাকার কথা। গেল কোথায়? অন্যজন বলল,–ভালো করে খুঁজে দ্যাখ না। তৃতীয়জন… Continue reading শ্যামখুড়োর কুটির – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
গাঁয়ের পাঠশালার বুড়ো পণ্ডিতমশাই – সৈয়দ মুজতবা আলী
গাঁয়ের পাঠশালার বুড়ো পণ্ডিতমশাই হাই তুললেই তুড়ি দিয়ে করুণ কণ্ঠে বলতেন, ‘রাধে গো, ব্রজসুন্দরী, পার করে, পার করো।’ বড় হয়ে মেলা হিন্দী উর্দু পড়েছি, নানা দেশের নানা লোকের সঙ্গে আলাপচারি হয়েছে কিন্তু পার করো, পার করো বলে ঠাকুরদেবতাকে স্মরণ করতে কাউকে শুনিনি। শতদ্রু, বিপাশা, ইরাবতী, চন্দ্রভাগা, বিতস্তা পার হয়ে এতদিন বাদে তত্ত্বটা বুঝতে পারলুম। নামগুলো… Continue reading গাঁয়ের পাঠশালার বুড়ো পণ্ডিতমশাই – সৈয়দ মুজতবা আলী
পদ্মপাতার জল – হুমায়ূন আহমেদ
আমাদের পাশের বাসায় থাকত নাদু দিলুরা। তারাও আমাদেরই মতোই অল্পআয়ের বাবা-মার পুত্রকন্যা। সবাই একসঙ্গে ধুলোমাটিতে গড়াগড়ি করে বড় হচ্ছি। ওমা একদিন শুনি, ওরা বড়লোক হয়ে। গেছে। দেখতে দেখতে ওদের কাপড়চোপড় পালটে গেল। কথাবার্তার ধরন ধারণও বদলে গেল। এখন আর ওরা দাঁড়িয়াবান্দা কিংবা চি-বুড়ি খেলার জন্যে আমাদের কাছে আসে না। ঈদ উপলক্ষে ওরা নতুন কাপড় তো… Continue reading পদ্মপাতার জল – হুমায়ূন আহমেদ
অশরীরী – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
নানারকম অদ্ভুত গল্প হচ্ছিল সেদিন আমাদের লিচুতলার আড্ডায়। কিন্তু সে সব নিতান্ত পানlসে গোছের ভুতের গল্প। পাড়াগাঁয়ের বাঁশবাগানের আমবাগানের গেঁয়ো ভুত। সাদা কাপড় পরে রাত্রে দাঁড়িয়ে থাকে‚ ওসব অনেক শোনা আছে। ওর বেশি আর কেউ কিছু বলতে পারলে না। এমন সময় শরৎ চক্রবর্তী আড্ডায় ঢুকলেন। তিনি আবগারী বিভাগে বহুদিন কাজ করে অবসর গ্রহণ করেছেন। ষাটের… Continue reading অশরীরী – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়