ডাকিনীতলার বুড়ো যখ – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

আমাদের বাড়ির পিছনে একটা বাগান, তারপর ধূ-ধূ মাঠ। মাঠের মধ্যিখানে ছিল একটা বটগাছ। গাঁয়ের লোক বলত ডাকিনীতলা।…..ডাকিনীতলা, তার মানে ওই ধূধু তেপান্তরের একলা দাঁড়ানো বটগাছটার দিকে দুপুরবেলা তাকিয়ে থাকতুম যদি ডাকিনীটাকে দেখতে পাওয়া যায়। রোদ্দুর চনমন করত মাঠে। জন নেই, মানুষ নেই। খাঁ-খাঁ চারদিক। কথায় বলে, ঠিকঠাক দুকুর বেলা, ভূতপেরেতে মারে ঢেলা। দুপুরবেলায় ভূতপ্রেত-ডাকিনীরা পাড়াগাঁয়ের… Continue reading ডাকিনীতলার বুড়ো যখ – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

সিঁদুরচরণ – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

সিঁদুরচরণ আজ দশ-বারো বছর মালিপোতায় বাস করছে বটে কিন্তু ওর বাড়ি এখানে নয়। সেদিন রায়েদের চণ্ডীমণ্ডপে সিঁদুরচরণ কোথা থেকে এসেছে তা নিয়ে কথা হচ্ছিল। বৃদ্ধ ভট্টাচার্য মশায় তামাক টানতে টানতে বললেন—”কে, সিঁদুরচরণ? ওর বাড়ি ছিল কোথায় কেউ জানে না, তবে এখানে আসবার আগে ও খাবরাপোতায় প্রায় দশ বছর ছিল। তার আগে অন্য গাঁয়ে ছিল শুনিচি,… Continue reading সিঁদুরচরণ – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

রাতের আলাপ – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

রাত দশটা বাজলেই আমাদের পাড়ায় লোডশেডিং হবেই হবে। কাজেই রাতের সাখাওয়া শেষ করে মাদুর আর বালিশ নিয়ে খোলা ছাদে গিয়ে শুই। ঘুমটা আরামেই হয়।.এ রাতে ছাদে শুতে গিয়ে চমকে উঠলুম। ছাদের কার্নিশের কাছে কালো এক মূর্তি। সারা পাড়া আঁধারকালো। নিশুতি রাতে শুনশান নিরিবিলি ছাদে কালো হয়ে কেউ দাঁড়িয়ে থাকাটা কাজের কথা নয়, বাড়ির মালিক যখন… Continue reading রাতের আলাপ – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

ছায়াছবি – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

এক বন্ধুর মুখে এ-গল্প শোনা। আমার বন্ধুটি অনেক দেশ বেড়িয়েছেন, লোক হিসেবে অমায়িক, রসিক ও শিক্ষিত। কলকাতাতেই থাকেন।……যখন তাঁর সঙ্গে আমার দেখা হয় তখন গল্পে-গল্পে অনেক সময় সারারাত কেটে যায়। প্রকৃতপক্ষে ঠিক মনের মতন লোক পাওয়া বড়ো দুষ্কর। অনেক কষ্টে একজন হয়তো মেলে। অধিকাংশ লোকের সঙ্গে আমাদের আলাপ হয়, সে সম্পূর্ণ মৌখিক। তাদের সঙ্গে আমাদের… Continue reading ছায়াছবি – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

সত্যি ভূত মিথ্যে ভূত – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

সেদিন সন্ধ্যায় ঝিরঝিরিয়ে বৃষ্টি ঝরছে! টেবিলবাতির আলোয় জম্পেশ করে একখানা গল্প লেখার জন্য কলম বাগিয়ে ধরেছি, এমনসময় কলিংবেল বাজল। বাজল বলা ভুল, বাজতে লাগল।..লেখার মুড নষ্ট হলে সব লিখিয়েই খাপ্পা হন। খাপ্পা হয়ে উঠে গেলুম। কলিংবেল একবার বাজানোই যথেষ্ট। অন্তত এই কথাটা বলেও মনের ঝাল ঝাড়ব, আগন্তুক যেই হোক না কেন। দরজা খুলে দেখি, ঢ্যাঙা… Continue reading সত্যি ভূত মিথ্যে ভূত – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

বিভ্রম – হুমায়ূন আহমেদ

মিলির হঠাৎ মনে হলো তার সামনে বসে থাকা যুবকটা বিরাট চোর। এ রকম মনে করার কোনো কারণ নেই। তারা দুজন চাইনিজ রেস্টুরেন্টে এসেছে। কোনার দিকের একটা টেবিল তাদের জন্যেই বুক করা। মিলির বড় খালা সব ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তিনি চাইনিজ রেস্টুরেন্টের মালিকের সঙ্গেও কথা বলে রেখেছেন— কোনার দিকের একটা টেবিল দেবেন। বেয়ারারা যেন ঘনঘন বিরক্ত… Continue reading বিভ্রম – হুমায়ূন আহমেদ

হাওয়া-বাতাস – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

সোমবার পুজোর সময় আমার মামাবাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে হিমালয়ে ভ্রমণে গেলে বাড়ি পাহারার দায়িত্ব পড়েছিল আমার কাঁধে। অবশ্য আমি একা নই, বাড়ির পুরোনো কাজের লোক রামলালও ছিল। লোকটা রাঁধুনি হিসেবে খাসা। দুজনে মনের আনন্দে যথেচ্ছ খেতুম আর ক্যারাম পিটতুম। শুধু রাতের বেলাটা– সে কথা বলতেই এই গল্প। বাড়িটা শহরতলি এলাকায়। একেবারে সুনসান নির্জন আর গাছপালা,… Continue reading হাওয়া-বাতাস – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

ভূতে-মানুষে – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

একালের লেখকদের এই এক ঝামেলা। পুজোসংখ্যা পত্র-পত্রিকা বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকেই সম্পাদকমশাইদের তাগিদ শুরু হয়ে যায়, পরের বছর পুজোসংখ্যার জন্য জানুয়ারির মধ্যেই লেখা চাই। সেবার জানুয়ারি পেরিয়ে মার্চ মাস এসে গেল। কিন্তু আমার কলম যেন অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট করে বসল। আসলে মগজ একেবারে খালি। লেখা বেরুতে চায় না। প্রায় হাল ছেড়ে দিয়েছিলুম। কিন্তু গোদের ওপর… Continue reading ভূতে-মানুষে – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

তারিণী মাঝি – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

তারিণী মাঝির অভ্যাস মাথা হেঁট করিয়া চলা। অস্বাভাবিক দীর্ঘ তারিণী ঘরের দরজায়, গাছের ডালে, সাধারণ চালাঘরে বহুবার মাথায় বহু ঘা খাইয়া ঠেকিয়া শিখিয়াছে। কিন্তু নদীতে যখন সে খেয়া দেয়, তখন সে খাড়া সোজা। তালগাছের ডোঙার উপর দাঁড়াইয়া সুদীর্ঘ লগির খোঁচা মারিয়া যাত্রী-বোঝাই ডোঙাকে ওপার হইতে এপারে লইয়া আসিয়া সে থামে। আষাঢ় মাস। অম্বুবাচী উপলক্ষে ফেরত… Continue reading তারিণী মাঝি – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

কর্তার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

বর্ধমান জেলার ধনী ও বনিয়াদি জমিদার বাবু হৃষীকেশ রায় তাঁহার জ্যেষ্ঠ পুত্র হেমন্তকে বাড়ি হইতে দূর করিয়া দিয়াছিলেন। ইহার কারণ সে তাঁহার মনোনীতা পাত্রীকে উপেক্ষা করিয়া একটি আই-এ পাস করা মেয়েকে নিজে পছন্দ করিয়া বিবাহ করিয়াছিল। ভয় নাই, ইহা পিতৃতরাষপীড়িত হেমন্তের দুর্দশার করুণ কাহিনী নয়। হেমন্তকে শেষ পর্যন্ত অর্থাভাবে স্ত্রী-পুত্রকে পথে বসাইয়া উদ্বন্ধনে প্রাণত্যাগ করিতে… Continue reading কর্তার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়